শিরোনাম
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কনক্লেভ ২০২৫-এ যবিপ্রবির এনএএমই ল্যাবের ন্যানো ইউরিয়া প্রদর্শনী
টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যানো-বায়ো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি বিষয়ক গবেষকরা। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার আমারি হোটেলে অনুষ্ঠিত "বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কনক্লেভ ২০২৫"-এ দেশ-বিদেশের কৃষিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং শিল্পপ্রতিনিধিদের সামনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ল্যাবরেটরি অফ ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (এনএএমই ল্যাব) তাদের উদ্ভাবিত ন্যানো-বায়ো সার ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে।
২৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রদর্শনীর মূল অংশে এনএএমই ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান "ন্যানো-বায়ো ফার্টিলাইজার: টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ" শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, "ন্যানো-ইউরিয়া, ন্যানো-জিংক এবং ন্যানো-ভিটামিন সমৃদ্ধ সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে, যা পরিবেশের জন্য উপকারী।"
এ সময় সেখানে এনএএমই ল্যাবের উদ্ভাবিত বিভিন্ন ন্যানো পন্যও প্রদর্শন করা হয়। এনএএমই ল্যাবের স্টলে প্রদর্শিত হয়, ন্যানো-ইউরিয়া, ন্যানো-জিংক সমৃদ্ধ সার এবং ন্যানো-ক্যারিয়ার ভিত্তিক কীটনাশক।
আরও পড়ুন
এগ্রো কনক্লেভ আয়োজন নিয়ে গবেষক ও ন্যানো ইউরিয়ার উদ্ভাবক ড. খান জানান, "এ ধরনের আয়োজন শিল্পখাতের সঙ্গে গবেষণার সেতুবন্ধন তৈরি করে। আমাদের উদ্ভাবন কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি।"
লাইটক্যাসল পার্টনার্সের আয়োজনে এই সম্মেলনে আলোচনায় উঠে আসে,জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষিপ্রযুক্তি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ন্যানো-বায়ো সার ও জৈব কৌশলের ভূমিকা সহ কৃষির বিভিন্ন দিক। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কনক্লেভ-এর মতো আয়োজন গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে কৃষির টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে ববি শিক্ষার্থীদের ৮২ দফা দাবি পেশ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে ৮২ দফা দাবি পেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের দপ্তরে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২১টি দীর্ঘমেয়াদী, ৪১টি স্বল্পমেয়াদী এবং ২০টি শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের দাবি রয়েছে।
গত ১৯ মে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা নিজেদের দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে সেই দাবিগুলোকে সমন্বয় করে মোট ৮২টি দাবি উপাচার্যের কাছে পেশ করা হয়।
আরও পড়ুন
শিক্ষার্থীরা জানাই, বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে একাধিকবার সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে সদ্যবিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের সময়কালে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনায় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, "আমাদের টানা ৩০ দিনের আন্দোলনের ফসল এই নতুন উপাচার্য। আমরা সার্বিক বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি এবং এর গুরুত্ব বুঝিয়েছি। তবে এই প্রস্তাবনায় কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।"
গুচ্ছের ফল পুনঃনিরীক্ষণে ৩৫১ জনের আবেদন
দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছভুক্ত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন নেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ছিল গত শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ফল পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন ৩৫১ জন শিক্ষার্থী।
মাভাবিপ্রবি উপাচার্য এবং গুচ্ছ ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ জানিয়েছেন, ফল পুনঃনিরীক্ষার জন্য মোট ৩৫১টি আবেদন জমা পড়েছে। আজ রবিবার থেকেই ওএমআর শিট (উত্তরপত্র) দেখা শুরু হয়েছে। আজ উত্তরপত্র দেখা শেষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্যরা মিটিংয়ে বসবেন। এরপর ফলাফলের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
পরীক্ষার খাতায় বিভিন্ন ত্রুটির কারণে গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ৩৯ জন, ‘বি’ ইউনিটের ১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটের ৬ জনের খাতা বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৫ এপ্রিল, ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২ মে এবং ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা ৯ মে অনুষ্ঠিত হয়। এটি গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চমবারের ভর্তি পরীক্ষা। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আলাদাভাবে পরীক্ষা দিতে না হয়।
আরও পড়ুন
‘এ’ ইউনিটে পাসের হার ৪৫.৭৪ শতাংশ, ‘বি’ ইউনিটে ৪৬.৭৯ শতাংশ এবং ‘সি’ ইউনিটে ৬৩.৩৫ শতাংশ।
গুচ্ছের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে ৫৭ হাজার ৪২৫ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৩১ হাজার ৬৪১ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ১৩ হাজার ৬৬০ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
উল্লেখ্য, ‘সি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২৮ এপ্রিল, ‘বি’ ইউনিটের ফল ৫ মে এবং ‘এ’ ইউনিটের ফল ১৩ মে। প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির দেওয়া তথ্যমতে, পুনঃনিরীক্ষার ফলে কোনো শিক্ষার্থীর ফল অগ্রগতি হলে আবেদনকারী শিক্ষার্থী তার ২ হাজার টাকা ফেরত পাবে।
রাবিপ্রবিতে জিএসটি সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
রাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের "সি" ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম দিনের ভর্তি পরীক্ষায় রাবিপ্রবি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা ৫৩৩ জন এবং অনুপস্থিতির সংখ্যা ৪৪ জন। উপস্থিতির হার ৯২.৩৭ শতাংশ।
পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল দশ ঘটিকার সময় রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে গুচ্ছ "সি" ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রশাসন ও পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় তিনি সকলকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে উপাচার্য ড. মোঃ আতিয়ার রহমান কেন্দ্রের কক্ষসমূহ পরিদর্শন করেন। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন উপাচার্য।
এসময় উপাচার্য বলেন, আজকে যারা পরীক্ষার্থী এসেছে তারা শুধু ছাত্র না আমাদের সামনের দিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অংশীদার। তাই তাদের জন্য ক্যাম্পাসে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা মিলে একটি চমৎকার ছাত্রবান্ধব ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছি।
এছাড়াও,শিক্ষার্থীদের দেশকে বিনির্মাণের দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য রাবিপ্রবিয়ানরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে পরীক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে রাবিপ্রবিয়ানরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দূরদূরান্ত থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে প্রথম দিনের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় সুন্দর একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করে রাবিপ্রবি প্রশাসন।
অটোরিকশাচালক বাবা সন্তান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষায় হলেন প্রথম
রাবি প্রতিনিধি:
অভাবের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও হার মানেননি। অটোরিকশাচালক বাবার ঘাম আর নিজের অদম্য পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তিতে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য সাফল্যের গল্প।
বলছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষ 'বি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার মাস্টার নজির আহমেদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাতুল ইসলাম আবদুল্লাহ'র কথা।
বাবা মোস্তাক আহমেদ একজন অটোরিকশা চালক। দিনরাত পরিশ্রম করে পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করেন তিনি। মা রহিমা আক্তার একজন গৃহিণী। পরিবারের দিন কাটে অভাব-অনটনে। জীবনের এতো না পাওয়ার মধ্যেও সন্তানের স্বপ্ন পূরণে কোনো ছাড় দেননি তারা। জীবনের এমন পর্যায়ে আশির্বাদ হয়ে এসেছে একটি সুসংবাদ। একমাত্র ছেলে আরাফাতুল ইসলাম আবদুল্লাহ'র সাফল্যে প্রশংসায় ভাসছে পুরো গ্ৰাম।
এসএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৫০, আর এইচএসসিতে জিপিএ ৫। এরপর 'বি' ইউনিটে এককভাবে সর্বোচ্চ নম্বর ৭৭.৫০ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করছেন তিনি। পরিবারের ক্ষুদ্র আয়ের মধ্যেই করেছেন পড়ালেখা। হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠলেও পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্ৰহ আরাফাতে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে সাফল্য এনে দিয়েছে।
নিজের অনুভূতি ব্যাক্ত করে আরাফাতুল ইসলাম বলেন, "ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খুব একটা জানতাম না। পরে সেকেন্ড ইয়ারে উঠে কলেজের শিক্ষক এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানি। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো।"
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, "নামাজ, খাওয়া আর ঘুম ছাড়া পুরো সময়টা আমি পড়াশোনাতেই থাকতাম। প্রতিদিন নিয়ম করে ১২-১৩ ঘন্টা পড়ালেখা করতাম। এইচএসসির সময় থেকেই পাঠ্যবইগুলো ভালোভাবে পড়ে রেখেছিলাম। তাই ভর্তি পরীক্ষার আগে খুব একটা চাপ অনুভব করিনি।"
পরীক্ষায় ছেলের প্রথম হওয়ার খবরে আবেগ আপ্লুত বাবা মোস্তাক আহমেদ বলেন, "আমি একজন দরিদ্র মানুষ, আমার ছেলে এতো বড় একটা জায়গায় পড়তে পারবে এটা আমার কাছে খুব আনন্দের। আমার ছেলে অনেক কষ্ট করেছে। আমি শুধু চেয়েছি ও মানুষ হোক। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতে ও আরো ভালো করবে।"
প্রতিভা, প্রবল আগ্ৰহ আর পরিশ্রমের সামনে দারিদ্র্য কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না। নিজের চেষ্টা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের লাখো দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন আরাফাতুল ইসলাম আবদুল্লাহ।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য