ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি তরুণদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি তরুণদের

তরুণদের আত্মত্যাগ ও যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের নবযাত্রা সূচিত হয়েছে। অথচ তামাকের মরণছোবলে আজ প্রতিনিয়ত তরুণরাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাই নবগঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের জোর দাবি জানিয়েছে তরুণরা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নটরডেম কলেজে নারী মৈত্রী ও নটরডেম কলেজ সোশিও -ইকোনোমিক ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি’ শীর্ষক যুব সমাবেশে তরুণরা এই দাবি জানায়। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নটরডেম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ও সোশিও-ইকোনোমিক ক্লাবের মডারেটর ফারজানা হোসেন।

সমাবেশে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ২ লাখ মানুষের, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জনেরও বেশি। তামাক ব্যবহারের ফলে বছরে প্রায় ৩৯.২ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে কার্যত একটি ‘তামাক মহামারী’তে রূপ দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত অধ্যাদেশে  ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞার আওতায় নিকোটিন পাউচ এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় ঘোষিত অন্য কোনো নিকোটিন দ্রব্য, তা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের পাশাপাশি সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে; ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস—এর ব্যবহার, উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান সরকারের নির্দেশনার শর্তাধীন করা হয়েছে; ‘পাবলিক প্লেস’ ও ‘পাবলিক পরিবহণ’-এর সংজ্ঞা ও অধিক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে; বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে; এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

ফারজানা হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটিকে আইনে পরিণত না করা হলে এর প্রভাব সীমিতই থেকে যাবে।’

জনস্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখে অনুমোদিত অধ্যাদেশটিকে কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনে রূপান্তর করতে নবনির্বাচিত সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘তামাক খাত থেকে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও তামাক ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং অকালমৃত্যুর কারণে দেশে ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই ক্ষতি হ্রাস এবং মৃত্যু রোধের লক্ষ্যেই অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর টেকসই বাস্তবায়নের জন্য সংসদে পাস হওয়া অত্যাবশ্যক।’

তরুণদের পক্ষ থেকে মো. সাব্বির ফরাজী বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু আমাদের মতো তরুণরাই। কারণ একজন তরুণকে একবার তামাক ধরাতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সে তামাকজাত দ্রব্যের ভোক্তা হিসেবে থাকবে। এমন প্রেক্ষাপটে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি অনুমোদন করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার দায়িত্ব নবনির্বাচিত সরকারের। কেননা রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে অঙ্গীকারও করেছিলো। তাই একটি তামাকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে নবগঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাস করে আইনে পরিণত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

দিনব্যাপী আয়োজিত এই যুব সমাবেশে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাবি ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রপ মশা নিধন কর্মসূচি

    জেলা প্রতিনিধি
    ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫৮
    জেলা প্রতিনিধি
    রাবি ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রপ মশা নিধন কর্মসূচি

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক স্প্রে করা হয়ছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ।


    সম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে মশার প্রকোপ বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব কমাতে এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে এই কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।


    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী একাধিক টিমে ভাগ হয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, প্যারিস রোডের বিভিন্ন ড্রেন ও নর্দমায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে।


    ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন বলেন, এই কর্মসূচির পাশাপাশি যদি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয় তাহলে আরও ভালো হবে এবং ড্রেন পরিষ্কার ও পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করলে মশা নিধন আরও কার্যকর হবে। সব মিলিয়ে, রাকসুর এই উদ্যোগ আমরা সাধুবাদ জানাই।


    রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ক্যাম্পাসকে স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


    তিনি আরও বলেন রাকসুর এই মশা নিধন কর্মসূচি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা আমাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করছি এই উদ্যোগের মাধ্যমে মশার উপদ্রব কিছু হলেও কমবে।


    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর সহকারী পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাসুমা ইসরাত মুমু ও কার্যনির্বাহী সদস্য ইমজিয়াউল হক  ।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার,ছাত্রদল নেতাদের উদ্বেগ প্রকাশ

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৩
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার,ছাত্রদল নেতাদের উদ্বেগ প্রকাশ

      ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টারের দেখা পাওয়া যায়। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও,হঠাৎ এই পোস্টারটি নজরে আসলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

      গত ০৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিদ্যুৎ-এর খুঁটিতে রঙিন পোস্টার সাঁটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পোস্টারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি রয়েছে। নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

      এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা। ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সদস্য মামুন সরকার বলেন, "আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ছাত্রদলের সক্রিয় কমিটি না থাকায় আমাদের সাংগঠনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ছাত্রদলের জন্য লজ্জার নয়, বরং দায়িত্বশীলদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ছাত্রদল রাজপথের সংগঠন-কিন্তু বর্তমান কমিটি সক্রিয় না থাকায় এবং ছাত্রদলের সম্মেলন হওয়ার পরও কমিটি না দেওয়ায় আজকের এই পরিস্থিতি দেখতে হচ্ছে। অতএব, অবিলম্বে শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে ছাত্রদলের অস্তিত্ব রক্ষায়, ক্যাম্পাসের অধিকার ফিরিয়ে আনতে।"

      বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ ফরাজী বলেন, "২০২১ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি হয়। বর্তমান কমিটি চার বছরের অধিক আগে গঠিত হয়েছিল। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কর্মী সম্মেলন হয়। কর্মী সম্মেলন ছয় মাসের অধিক সময় হয়েছে কিন্তু নতুন কমিটি হয়নি যার ফলে নেতৃত্বের চেইন অফ কমান্ড ভেংগে গেছে। নতুন কমিটি গঠনের জন্য ছাত্রদল কয়েকটা গ্রুপে বিভক্ত। এর ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ছাত্রদলের  বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এই দু:সাহস শক্ত হাতে দমন করা হবে ইনশাআল্লাহ।"

      বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বলেন, "তাদের (ছাত্রলীগের) কার্যক্রমতো দেখিনা। হঠাৎ করে কে লাগিয়েছে সেটিতো জানিনা। তাছাড়া আমাদের ছাত্রদলেরও একটিভিটিস তেমন নেই। আর নতুন কমিটি হচ্ছেনা এটিও একটা বিষয়। আমরা সংগঠিত হয়ে অনেক কিছুই করতে পারছিনা।"

      বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ বলেন, "আজ যখন সিংগাড়া হাউসের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন খবর আসে পোস্টার সাটানোর বিষয়ে তৎক্ষনাৎ ঐ স্পটে আমরা যাই। কিন্তু নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কাউকে পাইনি। বর্তমান দায়িত্বে থাকা আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের অনুপস্থিতিতে আমরাও যেন ক্যাম্পাসে অভিভাবকশূন্য অনুভব করি হয়তো এই সুযোগেই  নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এই সাহস করেছে। কর্মী সম্মেলনের আগে যেভাবে আমরা কমিটির বর্তমান দায়িত্বে থাকা ভাইদের পেতাম এখন সবার সাথে সবার কিছুটা গ্যাপ তৈরী হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এমন কাজ করার সাহসও যদি করে তবে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। আপনারা জানেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি করার লক্ষ্যে ২১ মে ২০২৫ কর্মী সম্মেলন হয়। ক্যাম্পাসে যারা নতুন ভর্তি হয়েছে বিশেষ করে শেষ দুইটা ব্যাচ তাদের সাথে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দেশ নিয়ে তারেক রহমানের ভাবনাগুলো বুঝিয়েছি তাদের অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে কিন্তু বলছে যেহেতু কর্মী সম্মেলন হয়ে গেছে তাই নতুন কমিটি হলে এক্টিভ হবো যারাই নেতৃত্বে আসবে তাদের সাথে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবীনদের সহ আমাদের প্রত্যাশা  ক্যাম্পাস কমিটি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম ও কেন্দ্রীয় সংসদ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে 'দেশ নিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের পরিকল্পনা' বাস্তবায়নে আমাদের ও নবীন শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগ করে দিবে।"

      কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম লিডার শাকির আহমেদ বলেন, "কমিটির গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা এখন নির্বাচনমুখী। মাঝখানে আমাদের এক সপ্তাহের মতো সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে আমরা শীগ্রই কমিটি দিব ইনশাল্লাহ। চেষ্টা করতেছি আমরা নির্বাচনের আগেই কমিটি করে ফেলবো।"

      এছাড়া খুঁটিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, "দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনাতো ঘটাতেই পারে। আমরা সজাগ আছি। আমরা ছাত্রদল যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবো।"

      কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, "কমিটি দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার কারণে কমিটিটা পাবলিশড করা হচ্ছেনা। তবে এইখানে কমিটির দরকার আছে। যারা এইখানে আছে তারা বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই কমিটি দিয়ে দিব।"

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        আজ জকসু নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু সকাল ৯টায়

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৫
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        আজ জকসু নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু সকাল ৯টায়

        জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


        এর আগে দুই দফা পেছানোর পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে ওই দিন ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পুনরায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।


        বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট প্রদানকারী শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। ভোট প্রদান শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে।


        নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই শুধু ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করা যাবে না।

        এদিকে জকসুর ভোট গণনায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ওএমআর মেশিনে অসঙ্গতি রয়েছে দাবি করে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান।


         জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে বুথ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে ৬টি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          হাদিকে ‘জংলি পোলা’ বলে আখ্যা ইবি শিক্ষকের, বহিষ্কার দাবি শিবির সেক্রেটারির

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০:৩
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          হাদিকে ‘জংলি পোলা’ বলে আখ্যা ইবি শিক্ষকের, বহিষ্কার দাবি শিবির সেক্রেটারির
          ছবি: সংগৃহীত

          ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবি শাখার ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেছেন, পরিসংখ্যান বিভাগের একজন শিক্ষক, উনি শিক্ষা ছুটিতে সম্ভবত বাইরে আছে। উনি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে হাদী ভাইকে ‘জঙ্গী পোলা’ বলেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রশাসন প্রয়োজনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে সেই কুলাঙ্গার শিক্ষককে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। না হলে এই জুলাই যোদ্ধারা আবারও গর্জে উঠবে। আপনাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করতে বাধ্য হবে। 

          শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) শহিদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

           

          ইউসুব আলী বলেন, ডেইলি স্টারের অফিস ভাঙচুর করার কারণে কিছু মানুষ সুশীলতা দেখাচ্ছে। যখন আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? যখন হাদী ভাইয়ের মাথায় গুলি করা হয়েছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?এখন সুশীলগিরি দেখাতে এসেছেন? ভণ্ডামি করবেন না। ভণ্ডামি করলে বাংলার জনতা আপনাদের পিঠের চামড়া রাখবে না।’

          এসময় তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কিছু কিছু মানুষ দেখেছি তারা গিটার বাজিয়ে হাদী ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করার চেষ্টা করছে। হাদী ভাই মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। সুতরাং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করার জন্য ইসলামের বাইরে কোনো কালচার কায়েম করার চেষ্টা করবেন না।

          আমাদের রক্ত এখনও গরম। আমরা আমাদের মাথা ঠান্ডা রেখে কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা করব। আমরা কোনো ফাঁদে পা দেব না। আমরা শান্ত-শিষ্টভাবে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা আমাদের সামনের দিনের কর্মসূচি পালন করব এবং হাদীদের খুনিদের বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না ইনশাআল্লাহ।’

          এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শাখা ছাত্রদল,শাখা ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

           

          প্রসঙ্গত, আলতাফ রাসেল ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে তিনি (শিক্ষক) বলেন, “আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুরের সময় বললেন ১৫ বছরের শাসনের ক্ষোভ। ৩২ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সময়ও তাই বললেন। আজ প্রথম আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে, এখন কি বলবেন? ওসমান হাদির মতো একটা জংলী পুলার জন্য এত আবেগ তুললে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এখনো যারা আক্রান্ত হয় নাই, ভাবছেন বেঁচে গেছেন? না, ধীরে ধীরে সবাই আক্রান্ত হবেন। প্রথম আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি এই পত্রিকার অনেক কিছুর সাথে দ্বিমত করলেও সংবাদ মাধ্যমে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম। এই গণমাধ্যম টিকিয়ে রাখতে হবে।”

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত