ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার,ছাত্রদল নেতাদের উদ্বেগ প্রকাশ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৩
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার,ছাত্রদল নেতাদের উদ্বেগ প্রকাশ

ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টারের দেখা পাওয়া যায়। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও,হঠাৎ এই পোস্টারটি নজরে আসলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

গত ০৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিদ্যুৎ-এর খুঁটিতে রঙিন পোস্টার সাঁটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পোস্টারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি রয়েছে। নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা। ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সদস্য মামুন সরকার বলেন, "আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ছাত্রদলের সক্রিয় কমিটি না থাকায় আমাদের সাংগঠনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ছাত্রদলের জন্য লজ্জার নয়, বরং দায়িত্বশীলদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ছাত্রদল রাজপথের সংগঠন-কিন্তু বর্তমান কমিটি সক্রিয় না থাকায় এবং ছাত্রদলের সম্মেলন হওয়ার পরও কমিটি না দেওয়ায় আজকের এই পরিস্থিতি দেখতে হচ্ছে। অতএব, অবিলম্বে শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে ছাত্রদলের অস্তিত্ব রক্ষায়, ক্যাম্পাসের অধিকার ফিরিয়ে আনতে।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ ফরাজী বলেন, "২০২১ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি হয়। বর্তমান কমিটি চার বছরের অধিক আগে গঠিত হয়েছিল। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কর্মী সম্মেলন হয়। কর্মী সম্মেলন ছয় মাসের অধিক সময় হয়েছে কিন্তু নতুন কমিটি হয়নি যার ফলে নেতৃত্বের চেইন অফ কমান্ড ভেংগে গেছে। নতুন কমিটি গঠনের জন্য ছাত্রদল কয়েকটা গ্রুপে বিভক্ত। এর ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ছাত্রদলের  বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এই দু:সাহস শক্ত হাতে দমন করা হবে ইনশাআল্লাহ।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বলেন, "তাদের (ছাত্রলীগের) কার্যক্রমতো দেখিনা। হঠাৎ করে কে লাগিয়েছে সেটিতো জানিনা। তাছাড়া আমাদের ছাত্রদলেরও একটিভিটিস তেমন নেই। আর নতুন কমিটি হচ্ছেনা এটিও একটা বিষয়। আমরা সংগঠিত হয়ে অনেক কিছুই করতে পারছিনা।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ বলেন, "আজ যখন সিংগাড়া হাউসের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন খবর আসে পোস্টার সাটানোর বিষয়ে তৎক্ষনাৎ ঐ স্পটে আমরা যাই। কিন্তু নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কাউকে পাইনি। বর্তমান দায়িত্বে থাকা আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের অনুপস্থিতিতে আমরাও যেন ক্যাম্পাসে অভিভাবকশূন্য অনুভব করি হয়তো এই সুযোগেই  নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এই সাহস করেছে। কর্মী সম্মেলনের আগে যেভাবে আমরা কমিটির বর্তমান দায়িত্বে থাকা ভাইদের পেতাম এখন সবার সাথে সবার কিছুটা গ্যাপ তৈরী হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এমন কাজ করার সাহসও যদি করে তবে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। আপনারা জানেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি করার লক্ষ্যে ২১ মে ২০২৫ কর্মী সম্মেলন হয়। ক্যাম্পাসে যারা নতুন ভর্তি হয়েছে বিশেষ করে শেষ দুইটা ব্যাচ তাদের সাথে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দেশ নিয়ে তারেক রহমানের ভাবনাগুলো বুঝিয়েছি তাদের অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে কিন্তু বলছে যেহেতু কর্মী সম্মেলন হয়ে গেছে তাই নতুন কমিটি হলে এক্টিভ হবো যারাই নেতৃত্বে আসবে তাদের সাথে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবীনদের সহ আমাদের প্রত্যাশা  ক্যাম্পাস কমিটি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম ও কেন্দ্রীয় সংসদ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে 'দেশ নিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের পরিকল্পনা' বাস্তবায়নে আমাদের ও নবীন শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগ করে দিবে।"

কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম লিডার শাকির আহমেদ বলেন, "কমিটির গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা এখন নির্বাচনমুখী। মাঝখানে আমাদের এক সপ্তাহের মতো সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে আমরা শীগ্রই কমিটি দিব ইনশাল্লাহ। চেষ্টা করতেছি আমরা নির্বাচনের আগেই কমিটি করে ফেলবো।"

এছাড়া খুঁটিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, "দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনাতো ঘটাতেই পারে। আমরা সজাগ আছি। আমরা ছাত্রদল যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবো।"

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, "কমিটি দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার কারণে কমিটিটা পাবলিশড করা হচ্ছেনা। তবে এইখানে কমিটির দরকার আছে। যারা এইখানে আছে তারা বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই কমিটি দিয়ে দিব।"

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    আজ জকসু নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু সকাল ৯টায়

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৫
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    আজ জকসু নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু সকাল ৯টায়

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


    এর আগে দুই দফা পেছানোর পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে ওই দিন ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পুনরায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।


    বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট প্রদানকারী শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। ভোট প্রদান শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে।


    নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই শুধু ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করা যাবে না।

    এদিকে জকসুর ভোট গণনায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ওএমআর মেশিনে অসঙ্গতি রয়েছে দাবি করে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান।


     জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে বুথ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে ৬টি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      হাদিকে ‘জংলি পোলা’ বলে আখ্যা ইবি শিক্ষকের, বহিষ্কার দাবি শিবির সেক্রেটারির

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০:৩
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      হাদিকে ‘জংলি পোলা’ বলে আখ্যা ইবি শিক্ষকের, বহিষ্কার দাবি শিবির সেক্রেটারির
      ছবি: সংগৃহীত

      ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবি শাখার ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেছেন, পরিসংখ্যান বিভাগের একজন শিক্ষক, উনি শিক্ষা ছুটিতে সম্ভবত বাইরে আছে। উনি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে হাদী ভাইকে ‘জঙ্গী পোলা’ বলেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রশাসন প্রয়োজনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে সেই কুলাঙ্গার শিক্ষককে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। না হলে এই জুলাই যোদ্ধারা আবারও গর্জে উঠবে। আপনাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করতে বাধ্য হবে। 

      শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) শহিদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

       

      ইউসুব আলী বলেন, ডেইলি স্টারের অফিস ভাঙচুর করার কারণে কিছু মানুষ সুশীলতা দেখাচ্ছে। যখন আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? যখন হাদী ভাইয়ের মাথায় গুলি করা হয়েছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?এখন সুশীলগিরি দেখাতে এসেছেন? ভণ্ডামি করবেন না। ভণ্ডামি করলে বাংলার জনতা আপনাদের পিঠের চামড়া রাখবে না।’

      এসময় তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কিছু কিছু মানুষ দেখেছি তারা গিটার বাজিয়ে হাদী ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করার চেষ্টা করছে। হাদী ভাই মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। সুতরাং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করার জন্য ইসলামের বাইরে কোনো কালচার কায়েম করার চেষ্টা করবেন না।

      আমাদের রক্ত এখনও গরম। আমরা আমাদের মাথা ঠান্ডা রেখে কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা করব। আমরা কোনো ফাঁদে পা দেব না। আমরা শান্ত-শিষ্টভাবে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা আমাদের সামনের দিনের কর্মসূচি পালন করব এবং হাদীদের খুনিদের বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না ইনশাআল্লাহ।’

      এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শাখা ছাত্রদল,শাখা ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

       

      প্রসঙ্গত, আলতাফ রাসেল ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে তিনি (শিক্ষক) বলেন, “আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুরের সময় বললেন ১৫ বছরের শাসনের ক্ষোভ। ৩২ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সময়ও তাই বললেন। আজ প্রথম আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে, এখন কি বলবেন? ওসমান হাদির মতো একটা জংলী পুলার জন্য এত আবেগ তুললে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এখনো যারা আক্রান্ত হয় নাই, ভাবছেন বেঁচে গেছেন? না, ধীরে ধীরে সবাই আক্রান্ত হবেন। প্রথম আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি এই পত্রিকার অনেক কিছুর সাথে দ্বিমত করলেও সংবাদ মাধ্যমে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম। এই গণমাধ্যম টিকিয়ে রাখতে হবে।”

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ইবিতে 'মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়ন ভাবনা' শীর্ষক সেমিনার

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৪৮
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ইবিতে 'মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়ন ভাবনা' শীর্ষক সেমিনার

        ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইইআর) এর আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গগন হরকরা গ্যালারীতে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

        আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নবীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসেবে  কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। সেমিনারে কামিল, ফাজিল, আলিম ও দাখিল মাদরাসাসমূহের সম্মানিত প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপাল, সুপার ও সহকারী সুপাররা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দাওয়াহ্ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. ছ. ম. তরীকুল ইসলাম।

        প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (BMTTI) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদুল হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ সেকান্দার আলী। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন মাদরাসার অধ্যাপকের উপস্থিত ছিলেন। 

        সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপক দাওয়াহ্ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. ছ. ম. তরীকুল ইসলাম বলেন, মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ কারিকুলাম, যেখানে আরবী ও ইসলামী বিষয়ের প্রাধান্য থাকবে; যোগ্য ও আদর্শবান শিক্ষক নিয়োগ; তথ্যপ্রযুক্তি ও সমসাময়িক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন; আরবী ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। পাশাপাশি মাদরাসার ডিগ্রিগুলো আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচিত করা জরুরি।

        আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পূর্বে মাদরাসা শিক্ষাকে বিভিন্ন ভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে। সবাই সম্মিলিত ভাবে কীভাবে মাদরাসা শিক্ষাকে আরো বেশি যুগোপযোগী আধুনিকায়ন করে সমাজের মানুষের কাছে যথাযোগ্য শিক্ষাক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা যায় এবং এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলিম নেতৃত্ব উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ।

        প্রধান আলোচক বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, ‘আমরা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে এ দেশের প্রধান শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই কারণ এটি পরীক্ষিত সত্য যে এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ,অর্থনীতি, মূলনীতি ও সম্প্রীতি সবকিছু নির্ভর করছে একদল সৎ যোগ্য খোদাভীরু আমানতদার মানুষদের ওপর। আর এরকম মানুষ তৈরি করার কারিগর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে এবং এই শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষ তৈরি করতে পারে না।’

        উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এ দেশ থেকে ২৮ কোটি টাকা পাচার হয়েছে তার মধ্যে একজন ও কোনো আলেম জড়িত নেই কারণ যাদের মধ্যে আল্লাহর জ্ঞান রয়েছে তারা দুর্নীতি করতে পারে না। তারা আল্লাহর কাছে ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না আর কাউকে ভয়ও পায় না।

         

        সেমিনারের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা দু'টি ধারায় বিভক্ত—একটা হলো বোর্ডের আওতায় যে মাদ্রাসাগুলো আছে আর একটা হলো ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় যে মাদ্রাসাগুলো আছে। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে যদি কাজ করতে হয় তাহলে দু'টি অংশকে একত্রে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

        এসময় তিনি মাদরাসা শিক্ষায় অনাগ্রহের জায়গা গুলো তুলে ধরেন। মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে এই এমন সেমিনার গুরুত্ব আলোচনা করেন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          হাদি'র দ্রুত সুস্থতা কামনায় ইবি পরিবারের দোয়া

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৪৩
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          হাদি'র দ্রুত সুস্থতা কামনায় ইবি পরিবারের দোয়া

          ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সাংসদ পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর)  জোহর নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

          দোয়া মাহফিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। 

          দোয়া অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ‘ওসমান হাদির কথাবার্তা খুবই স্পষ্ট, তিনি ইতিহাস সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। হাদি পূর্বের নেতাদের খুবই শ্রদ্ধা করেন। তিনি জুলাই বিপ্লব কে লালন করে এমন দশজন ছাত্রের মধ্যে একজন। গণবিপ্লবের সময় ঢাকার রাজপথে আমাদেরও ছবি আছে। আমরাও কখন হামলার শিকার হতে পারি সেটা জানা নেই। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

          এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘হাদি বাংলাদেশের বিবেক। তিনি স্পষ্টভাবে সত্য কথা বলেন। তার নিজের বলতে কিছু নেই। তিনি দেশের জন্য নিবেদিত। তিনি ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যেখানে জুলাই বিল্পবের চেতনা থাকবে। হাদি অন্যান্য দলকে বলেছেন কাউকে স্বৈরাচারের দোসর, ভারতের তাবেদার হতে দিবেন না। তার একফোঁটা রক্ত আমাদের চেতনায় ধারণ করবো। এই সমাজের জন্য বেগম জিয়াকে যেমন প্রয়োজন তেমনি যুব সমাজের জন্য হাদিকে খুব প্রয়োজন। হাদি আমাদের সবার, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের না।’

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত