শিরোনাম
মায়ের চোখের সামনে ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যু
নোয়াখালীর সেনবাগ বাজারে ট্রাক চাপায় মো.মুজাক্কির নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৪ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সেনবাগ বাজারের সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুজাক্কির নরসিংদী জেলার দুলালপুর গ্রামের ফকির বাড়ির মো.আকরামের ছেলে। আকরাম দম্পতি বর্তমানে সেনবাগের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল।
নিহতের বাবা আকরাম জানান, মুজাক্কির একটু চঞ্চল ছিল। দুপুরের সে তার মায়ের সাথে সেনবাগ বাজারে যান। ওই সময় মায়ের হাত ধরে রাস্তার একপাশে হাঁটছিল। হঠাৎ মায়ের হাত ছেড়ে দৌড় দেয় ছেলেটি। তাৎক্ষণিক দ্রুত ছুটে আসা একটি ট্রাক সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পিষে ফেলে দেড় বছরের শিশুটিকে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় শিশু মুজাক্কির।
আরও পড়ুন
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন ট্রাকসহ চালককে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাকসহ চালককে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুরে এনসিপি নেতা সিফাত
ড. ইউনূসকে পদত্যাগ করালে বিপ্লবী সরকার গঠন করবে ছাত্র-জনতা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মেহরাব সিফাত বলেছেন, আমরা চব্বিশের ছাত্র-জনতা ড. ইউনূসের উপরে যে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি, তা পূরণ করতে সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাও যদি বৈদেশিক চক্রের কোনো ষড়যন্ত্রের কারণে ঘরোয়া কোনো চাপের মধ্যে তাকে পদত্যাগ করানোও হয়, ইতিহাসের পাতায় তা লেখা থাকবে। কিন্তু তার থেকেও সবচেয়ে বড় ইতিহাস আবার এই বাংলার মাটিতে একবারে বিপ্লবী সরকার গঠন করবে ছাত্র-জনতা।
শুক্রবার (২৩ মে) রাত ১০ টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট তালুকদার ডিজিটাল প্লাজায় অনুষ্ঠিত এনসিপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেহরাব সিফাত বলেন, ড. ইউনূসকে জোর করে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হলে ছাত্র-জনতাকে সেই দায় নিতে হবে। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা গঠন করে নতুনের রাজত্ব কায়েম করে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে তারপরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এ দেশকে ছাড়বে ছাত্র-জনতা।
তিনি বলেন, চব্বিশের রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করা শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার আত্মা ড. ইউনূসের কাছে সমর্পণ করেছে এবং তাদের প্রতিজ্ঞাও ড. ইউনূসের কাছে আছে। সে যদি আমাদের জন্য নতুন বন্দোবস্ত, সমাজ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু না করে দিয়েই চলে যায়, তাহলে জুলাইয়ের প্রতি তার এই বেইমানি আমরা সহ্য করবো না।
আপনারা কেউ ঘরে ফিরে যাবেন না মন্তব্য করে মেহরাব সিফাত ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘মনে করবেন না যে দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়ার দরকার। যেহেতু ১৭ বছরের আওয়ামী জাহিলিয়াতির সময় একটি কেন্দ্রীয় ডাকে নিপীড়িত সকলে রাজপথে নেমেছিলেন। কিন্তু এবারের আন্দোলন ভাঙা নয়, গড়ার আন্দোলন। এবারের আন্দোলনে আমাদের নতুন ব্যবস্থা গড়ে দেখাতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সকল গোষ্ঠীকে একতাবদ্ধ হতে হবে।’
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আহত ও শহীদদের বিচার ব্যবস্থা এখনো শুরু হয় নাই। বিচারের আগ পর্যন্ত এই হত্যার প্রশ্নে, রক্তের প্রশ্নে ছাত্র-জনতা ও আওয়ামী লীগ ব্যতীত সকল দলকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। যাদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী, টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, দোকানে দোকানে গিয়ে ডাকাতি-ছিনতাই ও মানুষকে জোর জবরদস্তি হুকুম দেওয়ার বৈশিষ্ট্য নাই সেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী জনতাকে একত্রিত থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে যেকোনো দলকে স্বাগতম। কিন্তু অবশ্যই চব্বিশের ছাত্র-জনতা ও আন্দোলনকে অস্বীকার করে কোন ধরনের রাজনৈতিক, কোনো ধরনের বন্দোবস্ত করা চলবে না। যদি ঘোষণাপত্র করতে হয় তবে এটাই হবে নতুন ঘোষণাপত্র। সারাদেশে আন্দোলনকারীদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বন্দোবস্ত করতে হবে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম যত জনগণ আছে প্রত্যেকটি জনগণকে সেই নতুন বন্দোবস্তের আওতায় আনতে হবে এবং আপামর ক্ষমতা থাকবে জনগণের কাছে, ক্ষমতার কাছে না।’
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিসি) সদস্য আজগর শেখের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মাদারীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ, সদস্যসচিব মাসুম বিল্লাহ, এনসিসির রাজৈর উপজেলার সদস্য মহাসিন ফকির, জাবের হাওলাদার, রাজৈর উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা আফরান জামিসহ জেলা ও উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিসির বিভিন্ন নেতাকর্মী।
টিকটকের মাধ্যমে প্রেম
বিয়ের দাবিতে প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে প্রেমিকা
নড়াইলের লোহাগড়ায় সৌদি আরব প্রবাসী প্রেমিক আশিকুর রহমান সাব্বিরকে (২৫) বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক কলেজছাত্রী। শুক্রবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে ওই কলেজছাত্রী অনশন শুরু করেন।
এদিকে কলেজছাত্রী বাড়িতে এসে বিয়ের দাবি নিয়ে অনশনে বসলে সাব্বিরের বাবা হায়দার আলি মেয়েটির সাথে দুর্ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়দের বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মেয়েটি স্থানীয় একটি কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোটাকোল ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে আশিকুর রহমান সাব্বিরের সঙ্গে ৭ মাসে আগে টিকটকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ওই কলেজছাত্রীর। সাব্বির মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলতে থাকেন। দুইজনের ফোনে কথাবার্তার একপর্যায়ে মোবাইলে আপত্তিকর ছবি লেনদেন করা হয়। আপত্তিকর ওই ছবি দিয়ে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন সাব্বির। এরপর মেয়েটি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তার ভাইয়ের ফোনে ও ওই ছবি পাঠিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করতে গেলে পরিবারের লোক বুঝিয়ে রাখে। আজ সকাল ৮টার দিকে মেয়েটি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
আরও পড়ুন
ওই কলেজছাত্রী বলেন, আমি যেহেতু এ বাড়িতে এসেছি। আমি আর যাব না। এ বাড়িতে থাকব। আমি এখানে বিষ খাব, গলায় দড়ি নেব। মরে যাব। তাও বাড়ি থেকে যাব না।
তিনি বলেন, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার পর সাব্বিরের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাব্বির আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েছে। সে আমাকে পাসপোর্ট করে বিদেশ নিয়ে যাবে বলেছে। তার সাথে ভিডিও কলে কয়েকবার কথা হয়েছে। আমার কাছ থেকে আপত্তিকর ছবি নিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে এখন। ওই ছবি আমার স্বজনদের নিকট দিয়েছে। আমার মরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর মরলে এই বাড়িতেই মরব।
অভিযুক্ত সাব্বিরের বাবা হায়দার মোল্যা বলেন, মেয়েটির সঙ্গে আমার ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই। যে সব ছবি দেখাচ্ছে ওগুলো এডিট করা।
তবে সাব্বিরের মা বলেন, সম্পর্ক আছে। মেয়েটি আমার ছেলের কাছ থেকে ১ লাখ টাকাও নিয়েছে।
কোটাকোল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ছেলেটির বাবাকে মেয়েটিকে মেনে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলেছি। কিন্তু আমাকে তারা গুরুত্ব দেয়নি।
লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কপোতাক্ষ নদ থেকে বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা
খুলনার কয়রায় কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুই ড্রেজার মালিক কে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২১ মে) দুপুর ২টায় কপোতাক্ষ নদের পাড়ে মদিনাবাস লঞ্চঘাটে এ আদলত পরিচালনা করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম রুলী বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কয়রা থানার এস আই তনয় কুমার, ও ইউএনও অফিসের পেশকার মো. রিপন আল মামুন।
জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ থেকে গোবরা গ্রামে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস সেখানে উপস্থিত হন। ড্রেজার মালিকরা ইউএনওর উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে ট্রলার নিয়ে মদিনাবাদ লঞ্চঘাটে আসেন। পরবর্তীতে নির্বাহী অফিসার সেখানে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজার মালিক মদিনাবাদ গ্রামের ইউনুচ গাজীর ছেলে লিটন গাজীকে ১৫ হাজার টাকা ও মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ‘একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দুই বালু ব্যবসায়ী ট্রলার নিয়ে মদিনাবাদ লঞ্চঘাটে চলে আসে।পরবর্তীতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।এবং দুজনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।আগামীতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত
বিতর্কিত সুপারিশমালা বাতিলের দাবিতে সাতক্ষীরায় সচেতন নারী সমাজের মানববন্ধন
- নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের কুরআন সুন্নাহ বিরোধী প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে
- যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে
বুধবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সচেতন নারী সমাজের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সচেতন নারী সমাজ সাতক্ষীরার আহ্বায়ক গুলশানারা কামিনির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ফজিলা খাতুনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নারী নেত্রী জয়নব পারভিন, নুরুন নেছা ইতি, রাজিয়া সুলতানা, ফতেমা খাতুন, রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনে জমা দেয়া যেসব প্রস্তাবনা সরাসরি কুরআনের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নারী কমিশনের এই সংস্কার প্রস্তাব প্রমাণ করে, এটা পতিত ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পক্ষের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের দলিল। কাজেই এ প্রস্তাবনা শুধু বাতিলই নয়, পুরো ‘নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন’ বাতিল করতে হবে।
আরও পড়ুন
বক্তারা আরও বলেন, কমিশনের বেশ কিছু সুপারিশ বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে রাষ্ট্রের দ্বান্দ্বিক অবস্থান তৈরি করবে। “সমাজ বনাম রাষ্ট্র”এবং “ধর্ম বনাম নারী”কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এ কন্ট্রোভার্সিয়েল প্রতিবেদন। কমিশনের প্রস্তাবিত প্রতিবেদনের পাতায় পাতায় ধর্মকে নারী বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশের সকল সচেতন নারী সমাজ প্রস্তাবিত এ সুপারিশকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ জন্য বক্তারা এই প্রস্তাবনা বাতিলের পাশাপাশি পুরো কমিশন বাতিলের জোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ১৭ টি অধ্যায়ে ৪৩৩ টি সুপারিশ সম্বলিত ৩০০ পৃষ্ঠারও অধিক এ সংস্কার প্রতিবেদন পড়ে মনে হয়েছে যে, নারী সমতা, নারী উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নের মুখরোচক শব্দ দিয়ে তারা এদেশের নারী সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চায়। নারীদেরকে পুরুষের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। কমিশনের প্রস্তবনাগুলো জাতিকে চূড়ান্ত বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়ার সূদুর প্রসারী একটি উদ্যোগ। এই কমিশনে সমাজের সকল শ্রেণি পেশার নারীদের প্রতিনিধিত্ব ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়নি।
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের জমা দেওয়া ১০টির মতো প্রস্তাবনা সরাসরি কুরআনের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন সংস্কার করে সব ধর্মের জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার ও ভরণপোষণে নারী—পুরুষের কথিত সমান অধিকার থাকবে। স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করতে পারবে। যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করারও প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট যে, দেশ ও ইসলামের স্বার্থে এবং নারীদের স্বার্থে এ কমিশন বাতিল করতে হবে। কারণ, দেশের মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ কমিশন দাঁড়িয়েছে। তারা পরিবার ও সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করছে।’ বক্তারা আরও বলেন, ইসলামবিরোধী নারী কমিশনের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে—তারা পবিত্র কুরআনকে টার্গেট করে কাজ করে যাচ্ছে। নাস্তিকতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য দেশকে অস্থিতিশীল বানানোর পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। অতএব গোটা কমিশনকেই বাতিল করতে হবে। এদের মধ্যে নাস্তিক্যবাদের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে।
বক্তারা নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় আপত্তিকরভাবে ধর্মীয় বিধিবিধান, বিশেষ করে ইসলামী উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইনকে নারীর প্রতি বৈষম্যের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে; এই প্রস্তাবনা বাতিলের পাশাপাশি পুরো কমিশন বাতিলের দাবি জানান।
বক্তারা সকল পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় স্কলারদের নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ কমিটি গঠন করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নারী সংস্কার নীতিমালা প্রনয়নের জোর দাবি জানান।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য