শিরোনাম
একমাত্র মুসলিম দেশের পারমাণবিক শক্তিধর হয়ে ওঠার ২৭ বছর আজ
বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৯টি দেশের কাছে রয়েছে ইতিহাসের সব থেকে বিধ্বংসী ও ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র। এটি এতই ভয়াবহ যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নির্মূল করে দিতে পারে একটি পুরো শহরকে। শুধু নির্মূলই নয়, কয়েক বছর ধরে এর আশপাশের এলাকাসহ ছড়িয়ে পড়তে পারে রেডিয়েশন যা প্রাণীর জীবিত থাকা কিংবা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
১৯০০ শতকের ৪০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর একে একে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশ এই অস্ত্রের সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারলেও, এ তালিকায় ছিল না কেনো মুসলিম দেশের নাম। তবে ১৯৯৮ সালের আজকের এই দিনে প্রথম কোনো মুসলিম দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রধারীর তালিকায় নাম লেখায় পাকিস্তান।
তবে এই পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। যেমন ছিল পদে পদে বাধা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সংকট, তেমনি ছিল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ভয়।
আরও পড়ুন: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ালো সোশ্যাল মিডিয়া তদারকি
মূলত পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রের স্বপ্ন দেখা শুরু করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয়ের পর। পরাজয় ঘটলেও যুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে মেনে নিতে পারেনি দেশটি। এমনটিই জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম।
ডনের খবরে বল হয়, ১৯৭১ সালের ট্রমা থেকে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি একটি সহজ প্রতিশ্রুতির ওপর নির্মিত হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, দেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যে কোনও আগ্রাসনকে অকল্পনীয় করে তোলা।
এরপর বহু চেষ্টার ফল হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারলেও পাকিস্তান পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভাবনাকে দায়ী করা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বাধ্য হয় এই বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে। মূলত ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো ভারত পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। তবে পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে ১৯৯৮ সালের ১১ মে আবার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।
এরপর ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মাথায় নিয়ে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে মাত্র ১৭ দিন পর অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের ২৮ মে বেলুচিস্তানের চাগাই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান। ইতিহাসে সপ্তম দেশ এবং প্রথম মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে এ সক্ষমতায় নাম লেখায় দেশটি।
দিনটিকে "ইয়ুম-ই-তাকবীর" হিসেবে ঘোষণা করে ইসলামাবাদ। আজও ১৯৯৮ সালে ঐতিহাসিক পারমাণবিক পরীক্ষার ২৭তম বার্ষিকী স্মরণে পুরো পাকিস্তানে পালিত হচ্ছে দিনটি।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম বলছে, দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তারা এই অনুষ্ঠানের ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করিয়ে দেবেন, যেখানে ১৯৯৮ সালের ১১ মে ভারত তার পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু
স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। আজ (মঙ্গলবার) থেকে স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ।
তিনি জানান, শুরুতে স্টারলিংক দুটি প্যাকেজ দিয়ে শুরু করছে- স্টার্লিংক রেসিডেন্স এবং রেসিডেন্স লাইট। মাসিক খরচ একটিতে ৬০০০ টাকা, অপরটিতে ৪২০০। সেটাপ ও যন্ত্রপাতির জন্য এককালীন খরচ হবে ৪৭ হাজার টাকা।
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী জানান, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এর মাধ্যমে আনলিমিটেড ডাটা পাওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (২০মে) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু
স্যাটেলাইট-ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে।
সোমবার (১৯ মে) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয় এবং মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব স্টারলিংকের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার বিকেলে স্টারলিংকের প্রতিনিধিরা ফোন কলে বিষয়টি তাকে অবহিত করেন এবং পরদিন সকালে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেওয়া হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে স্টারলিংক দুটি প্যাকেজ নিয়ে বাংলাদেশে সেবা চালু করছে— ‘স্টারলিংক রেসিডেন্স’ এবং ‘রেসিডেন্স লাইট’। মাসিক খরচ যথাক্রমে ৬ হাজার এবং ৪ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেবাটি ব্যবহার করতে হলে এককালীন ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সেটআপ যন্ত্রপাতি কিনতে হবে। এই সেবায় নির্ধারিত কোনো ডেটা বা গতি সীমা নেই, ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, 'আজ থেকেই বাংলাদেশের গ্রাহকরা স্টারলিংকের সেবা অর্ডার করতে পারবেন। এতে করে প্রধান উপদেষ্টার ৯০ দিনের মধ্যে যাত্রা শুরুর প্রত্যাশা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলো।'
তিনি আরও বলেন, যদিও খরচ তুলনামূলক বেশি, তবুও এটি বাংলাদেশের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য উচ্চমানের এবং নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার একটি টেকসই সমাধান হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে এখনো ফাইবার সংযোগ বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছেনি, সেসব জায়গায় এনজিও, ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তারা এই সেবা থেকে উপকৃত হবেন।
প্রধান উপদেষ্টা এই সফল উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর মাধ্যমে স্টারলিংক দক্ষিণ এশিয়ার একটি নতুন বাজারে প্রবেশ করল। এতে দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে গেল।
২৯ মার্চ দুপুরে অন্ধকার হয়ে যাবে পৃথিবী
ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি মাসেই পৃথিবীতে সূর্যগ্রহণ হবে। জানা গেছে, আগামী ২৯ মার্চ সূর্যগ্রহণের প্রভাবে পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যাবে। ওইদিন ভর দুপুরে এই ঘটনা ঘটবে।
এটি একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ হবে। ওইদিন ভর দুপুরে পৃথিবীতে কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার নেমে আসবে। কিন্তু গ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।
এই গ্রহণ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টা ৫১ মিনিটে শুরু হবে এবং সন্ধ্যা ৬ টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
এটি একটি বলয়াকার সূর্যগ্রহণ হবে, যার অর্থ সূর্যের কেবলমাত্র একটি অংশ চাঁদ দ্বারা আবৃত থাকবে। এই গ্রহণ চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে ঘটবে।
এই সূর্যগ্রহণ অনেক দেশে আংশিকভাবে দৃশ্যমান হবে। এটি বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং কিছু আফ্রিকান অঞ্চলে দৃশ্যমান হওয়ার কথা জানা গেছে।
ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের পরিবর্তে কমিউনিটি নোটস চালু করছে মেটা
ডেস্ক রিপোর্ট: তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। এতদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস-এর কনটেন্ট যাচাই করতে তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থার উপর নির্ভর করত প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবার ‘কমিউনিটি নোটস’ নামে নতুন একটি ফিচার চালু করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই তথ্য যাচাই করে নোট সংযুক্ত করতে পারবেন।
১৭ মার্চ ২০২৫ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই ফিচার চালু করা হবে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ ব্যবহারকারী এতে অংশ নিতে পারবেন। তবে নোট যুক্ত করার সুযোগ পাবেন শুধুমাত্র ১৮ বছরের বেশি বয়সী ও অন্তত ছয় মাসের পুরনো অ্যাকাউন্টধারীরা।
‘কমিউনিটি নোটস’ কীভাবে কাজ করবে?
- নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারী কোনো পোস্টের সত্যতা যাচাই করে সেখানে ব্যাখ্যা বা নোট সংযুক্ত করতে পারবেন। - ফ্যাক্ট-চেকারদের পরিবর্তে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন। - পোস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে এই নোটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। - ব্যবহারকারীরা পোস্টের তথ্য নিয়ে মতামত বা ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। - মেটার বিশেষ অ্যালগরিদম এই নোটগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করবে।
এই ফিচারটি মূলত এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার)-এর ২০২১ সালে চালু হওয়া ‘কমিউনিটি নোটস’-এর অনুরূপ।
কেন মেটা ফ্যাক্ট-চেকিং পদ্ধতি বদলাচ্ছে?
মেটার মতে, তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্ট-চেকিং পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার অভাব এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। মেটার বিশ্বাস, এটি বেশি কার্যকর এবং দ্রুত তথ্য যাচাই করতে সক্ষম হবে।
এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব
- ব্যবহারকারীরা বেশি স্বাধীনতা পাবেন, নিজেরাই তথ্য যাচাই করতে পারবেন। - ভুয়া তথ্য দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। - এক্স-এর মতো আরও স্বচ্ছ ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
- রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। - কোনো ভুল তথ্য অনেক ব্যবহারকারী সমর্থন করলে সেটি বৈধ বলে মনে হতে পারে। - অপব্যবহার ঠেকাতে মেটাকে কঠোর পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য