শিরোনাম
আইফোনের সঙ্গে অ্যানড্রয়েড ফোনের তুলনা কতটা সঠিক?
স্মার্টফোনের দুনিয়ায় সবচেয়ে পুরোনো এবং অমীমাংসিত বিতর্কের নাম ‘আইফোন বনাম অ্যানড্রয়েড’। কোন অপারেটিং সিস্টেমের ফোন বেশি শক্তিশালী— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রযুক্তিপ্রেমীরা প্রায়ই দ্বারস্থ হন বিভিন্ন পারফরম্যান্স পরিমাপক পদ্ধতি বা ‘বেঞ্চমার্ক’-এর। এর মধ্যে ‘আনটুটু’ (AnTuTu) অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে সম্প্রতি গ্যাজেট বিশ্লেষকদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বেঞ্চমার্ক স্কোর দিয়ে আইফোন ও অ্যানড্রয়েডের সরাসরি তুলনা করা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়।
কারিগরি কাঠামোর ভিন্নতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইফোন এবং অ্যানড্রয়েড ফোনের কার্যপদ্ধতি বা ব্যাক-এন্ড প্রযুক্তি সম্পূর্ণ আলাদা। আনটুটু বেঞ্চমার্ক যখন কোনো আইফোনের রেটিং নির্ধারণ করে, তখন তারা ‘মেটাল এপিআই’ (Metal API) ব্যবহার করে।
অন্যদিকে, অ্যানড্রয়েড ফোনের পারফরম্যান্স যাচাইয়ে ব্যবহার করা হয় ‘ভলক্যান এপিআই’ (Vulkan API)। যেহেতু দুই ধরনের ফোনের জন্য আলাদা আলাদা মানদণ্ড বা নিয়ম অনুসরণ করা হয়, তাই প্রাপ্ত ফলাফল বা স্কোরের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা স্কোর দেখে একটিকে অন্যটির চেয়ে সেরা মনে করলেও, কারিগরি দিক থেকে সেই তুলনা অর্থহীন।
বাস্তব জীবন বনাম বেঞ্চমার্ক স্কোর
বেঞ্চমার্ক পরীক্ষার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো— এর ফলাফল ব্যবহারকারীর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সব সময় মেলে না। ফোনের প্রসেসর ল্যাবে কতটা ভালো কাজ করছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিনের ব্যবহারে (যেমন: অ্যাপ খোলা, গেমিং বা মাল্টিটাস্কিং) ফোনটি কেমন সাড়া দিচ্ছে। আনটুটু স্কোর অনেক সময় কৃত্রিমভাবে বেশি দেখানোর সুযোগ থাকে, যা সাধারণ ব্যবহারের সময় অনুভূত হয় না।
স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট
আনটুটু বেঞ্চমার্কের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। গুগলের প্লে-স্টোরে এই অ্যাপটি বর্তমানে সরাসরি পাওয়া যায় না। থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে ডাউনলোড করে এই পরীক্ষা চালাতে হয়। ফলে এর ফলাফল কতটা নিরপেক্ষ এবং যুক্তিগ্রাহ্য, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক গ্যাজেট বিশ্লেষক।
দুই ভিন্ন গ্রহের প্রযুক্তির মধ্যে কেবল একটি নম্বর বা স্কোরের ভিত্তিতে লড়াই চালানো ঠিক নয়। আইফোন এবং অ্যানড্রয়েড— উভয়েরই নিজস্ব শক্তি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন কেনার ক্ষেত্রে কেবল বেঞ্চমার্ক স্কোরের ওপর নির্ভর না করে অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা, হার্ডওয়্যার এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ঝিনাইদহে পলো দিয়ে মাছ ধরার মহা-উৎসব
বিলের জলে নেমে পলো দিয়ে (মাছ ধরার ফাঁদ) মাছ ধরতে নেমেছেন মৎস্য শিকারিরা। শৈল, মাগুর, রুই, কাতলা, মিনার কার্প, গজার, বোয়াল, মিনার কার্প, টাকিসহ নানারকম মাছ শিকার করছেন তাঁরা। বিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ শৌখিন মৎস্য শিকারিদের এই মাছ ধরার উৎসব দেখতে ভিড় করেছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোপিনাথপুর বাওড়ের পাশে বিলের মধ্যে এমন মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যায়। শনিবার ছিলো বিলে মাছ ধরার মহা-উৎসব।
মাছ ধরার এই উৎসবের আয়োজন করেন কামরুজ্জামান নাসির, নজরুল ইসলাম,ওমর মন্ডল,নাসির মন্ডল, রবিউল ইসলাম, আসলাম মন্ডল, অমল কুমার দেবনাথসহ স্থানীয়রা। তাঁরা জানান, আজ এখানে বিভিন্ন প্রকারের মাছ সহ দুই কেজি ওজনের মিনার কার্প মাছ পাওয়া গেছে। গ্রামবাংলার এই মাছ ধরার উৎসবে নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ শখ করে পলো দিয়ে মাছ শিকারে নামেন। শৌখিন মৎস্য শিকারিদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।
স্থানীয় কামাল হোসেন জানান, পলো দিয়ে মাছ শিকার এ অঞ্চলের অনেক পুরোনো ঐতিহ্য। বিলে মাছ শিকার করতে আসা কয়েকজন মৎস্য শিকারি বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর অতি বৃষ্টি হওয়ায় বিলে দেশীয় মাছ ধরতে পেরেছেন। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ দেশীয় মাছ উৎপাদিত হয় বিলাঞ্চলে। প্রতিবছর মাছ ধরার জন্য তাঁরা এ সময়টা অপেক্ষা করেন।
সদর উপজেলা মৎস্য অফিসার গোলাম সারোয়ার বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিলের মাছকে টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ বিশ্ব কেক দিবস
অনেকের প্রিয় খাবার কেক। জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকীসহ যে কোনো পারিবারিক উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ এই কেক। তবে, অনেকে হয়তো জানেন না কেক নিয়েও একটি দিবস আছে। আজ সেই দিন। আজ ২৬ নভেম্বর কেক দিবস।
কেকের ইতিহাস খুব প্রাচীন। প্রথম কেকটি প্রাচীন গ্রিস বা মিশরে তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। প্রথম কেকগুলো ভারী ও সমতল ছিল। বাদাম ও মধু দিয়ে বানানো কেকগুলো খাবারের শেষে খাওয়া হতো। পরবর্তীতে প্রাচীন রোমানরা এই মিষ্টি খাবারের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে। যা ক্রিমি এবং সমৃদ্ধ ছিল। যাইহোক, সারা বিশ্বের অনেক সংস্কৃতির মতো কেকটি প্রায়ই দেবতাদের জন্য সংরক্ষণ করা হতো এবং শ্রদ্ধা, ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে উপাসনালয়ে দেওয়া হতো।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে ইংরেজি শব্দ কেক সংযুক্ত করা হয়। গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় অভাবের মধ্যে বসবাসকারী লাখ লাখ মার্কিনিদের সহজ, সস্তা খাবার সরবরাহের প্রয়োজন ছিল। তখন বাক্সযুক্ত কেকের জন্ম হয়। এই ধারণাটি দারুণ ফলদায়ক হয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গৃহিণী তাদের জীবনকে আরও সহজ করত এটিকে উপায় হিসেবে গ্রহণ করে।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিম ইউরোপে জন্মদিন উদযাপনে কেকের ব্যবহার শুরু হয়। তখন কেকের সঙ্গে মোমবাতি জ্বালানোর রীতিও চালু হয়।
কেক সবাই ভালোবাসে। এই সুস্বাদু ডেজার্টটি তৈরি করা, খাওয়া বা ভাগ করে নেওয়া যাই হোক না কেন- আজকের দিনটি কেকপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি দিন। কেক দিবস উদযাপনের সর্বোত্তম উপায় হলো পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে কেক খাওয়া। এজন্য বিভিন্ন ধরণের কেক খাওয়া যেতে পারে।
কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বেকারিতে যান এবং তাদের পছন্দের কেক খেতে পারেন। তা হতে পারে দারুচিনি কফি কেক, পাউন্ড কেক, বান্ডট কেক বা স্ট্রবেরি শর্টকেক।
শীতের স্নিগ্ধতায় মোহময় নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস
শরৎ পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। ভোরের শিশিরে কণা আর সাদা কাশফুলের রং এখন ম্লান ধূসরতায় মাখা। শীতের আগমনী সুরে ঘন কুয়াশায় আবরণে বিলীন হয় ভোরের সোনালি রোদ– এ যেন আসন্ন শীতের বার্তা। ভোর থেকে সকাল অব্দি কুয়াশার চাদরে আবৃত থাকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। ১০১ একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাস যেন তার পূর্ণ মহিমা প্রকাশের জন্য নিজেই সেজে উঠেছে শীতের সাজে। গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে শীত আসে ভিন্নরকম এক মুগ্ধতা ও স্নেহ আবহ নিয়ে।
প্রশাসনিক ভবনের চূড়া থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবন আর সুবিশাল কেন্দ্রীয় মাঠ– সর্বত্রই যেন কুয়াশার স্নিগ্ধ স্পর্শ।মনে হয় প্রকৃতি যেন তার ধোঁয়াটে তুলি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এক বিরাট ক্যানভাসে সযত্নে এঁকে দিয়েছে। এমন শীতশীত সকালে ক্যাম্পাসের চায়ের টঙগুলোতে বাড়ে ভিড়; গরম চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার অনুভূতি তখন আলাদা এক প্রশান্তি এনে দেয়। কেউ মগ্ন হয় ছবি তোলে কেউবা নির্জন পথে হাঁটে, আর সবাই নীরব মুগ্ধতায় উপভোগ করে এই নিস্তব্ধ, মায়াবী সৌন্দর্য।
ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে এখন ফুটে উঠেছে গাঁদা, বাগানবিলাস, ডালিয়া, কাঞ্চনসহ শীতের নানা রঙের ফুল। সকালে ক্যাম্পাসে পা রাখতেই তাই চোখে পড়ে এক ভিন্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। গোলচত্বর, সেন্ট্রাল ফিল্ড, শান্তিনিকেতন থেকে শুরু করে ময়না দ্বীপ ও নীলদিঘীর পাড়; শীতের এই নান্দনিক সাজ যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের সবখানে ডেকে আনে। কুয়াশাঘেরা এই সকালের আবেশ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মনেও এনেছে এক গভীর প্রশান্তি। শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়ে জানাচ্ছেন, এই কুয়াশায় মোড়ানো নোবিপ্রবি যেন আগের রৌদ্রস্নাত ক্যাম্পাসের চেয়েও অনেক বেশি স্নিগ্ধ, সুন্দর ও শান্তিময়। সকালে হাঁটা বা শরীরচর্চার সময় পাখির কিচিরমিচির মনকে ভরে দেয় এক অনাবিল প্রফুল্লতায়।
হেমন্তের এই ঋতুতে, বিকালের সোনালি রোদ যেন ছড়িয়ে দেয় এক ভিন্নরকম উষ্ণতা। এই উষ্ণতা আসন্ন শীতের আবহের সাথে মিশে তৈরি করে এক বিশেষ স্নিগ্ধ আবেশ। বিকেল গড়িয়ে সূর্যাস্ত, তৈরি হয় এক মনোরম, মায়াময় দৃশ্য। তবে সূর্যাস্তের সময় মনে জাগে এক অজানা অপূর্ণতার অনুভূতি। যা যেন অপূর্ণ শীতেরই প্রতিচ্ছবি। আসছে, তবে কবে আসবে তা জানা নেই; আভাস দিচ্ছে, তবে তা কেবলই অনিশ্চয়তা। সম্ভবত এই কারণেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হেমন্তের নীরবতা ও অপূর্ণতার ভাবটি ফুটিয়ে তুলে লিখেছেন:
“হেমন্ত-ঋতু, তব শান্তি-মুখ নিরুদ্দেশ
নাই কথা, নাইক গান, নাই বসন্তের লেশ।
নিঃশব্দ চরণ ফেলে ধীরে ধীরে চল
তব নয়নে নিদ্রাহারা সন্ধ্যার জল।”
কিছুদিন পরই আসবে পূর্ণ শীতকাল। তখন পরিযায়ী পাখির কলরব, শীতকালীন উৎসব আর প্রকৃতির নান্দনিকতায় নোবিপ্রবি সেজে উঠবে আরও মনোমুগ্ধকর রূপে, আরও বর্ণিল আভায়। এমন এক আনন্দময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন নোবিপ্রবিয়ানরা।
লেখক: মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম, শিক্ষার্থী, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মিশরে চালু হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘর, কী আছে সেখানে
প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি- মিশরের 'দ্যা গ্রেট পিরামিড অফ খুফুর' কাছেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে 'দ্যা গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম বা জিইএম'-এর। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর বলা হচ্ছে, যেখানে এক লাখেরও বেশি প্রত্নসামগ্রী রাখা হয়েছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
প্রাক-রাজবংশীয় সময়ে থেকে গ্রীক ও রোমান যুগ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার বছরের ইতিহাস সেখানে ঠাঁই পেয়েছে। বিখ্যাত মিশরবিদরা বলছেন, এই জাদুঘর চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে অন্য দেশে থাকা মিশরের প্রত্নসামগ্রী ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হবে। এর মধ্যে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা ‘রোসেট্টা স্টোন’ও রয়েছে।
দ্য গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম সবচেয়ে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হলো প্রাচীন মিশরের বালক সম্রাট তুতেনখামুনের অক্ষত সমাধি থেকে পাওয়া পুরো সংগ্রহের একসঙ্গে প্রদর্শন। ব্রিটিশ মিশরবিদ হাওয়ার্ড কার্টার এটি আবিষ্কারের পর এই প্রথম এটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
এই পুরো সংগ্রহের মধ্যে আছে তুতেনখামুনের দর্শনীয় সোনার মুখোশ, সিংহাসন ও রথসহ মূল্যবান সব সামগ্রী।
আন্তর্জাতিক মিশরবিদ সমিতির সভাপতি এবং গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সাবেক প্রধান ড. তারেক তওফিক বলেন, ‘কিভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে হয়েছে। কারণ সমাধিটি ১৯২২ সালে আবিষ্কারের পর এর সাড়ে ৫ হাজার সামগ্রীর মধ্যে ১ হাজার ৮০০র বেশি প্রদর্শন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার ধারণায় ছিলো পুরো সমাধি সংগ্রহ প্রদর্শন। অর্থাৎ কিছুই আর গুদামে বা অন্য জাদুঘরে থাকবে না। যাতে শত বছর আগে হাওয়ার্ড কার্টার যেভাবে পেয়েছিলেন আপনি সেভাবেই তা দেখতে পারেন।’
প্রায় ১২০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি করা এই জাদুঘর বছরে অন্তত আশি লাখ দর্শনার্থী দেখতে পারবেন। এটি মিশরের পর্যটনকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তুতেনখামুনের প্রদর্শনী আর খুফুর সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নৌকা বাদ দিয়ে গ্যালারীর বেশিরভাগ সামগ্রী গত বছর থেকেই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা আছে।
নতুন তৈরি হওয়া জাদুঘর প্রায় ৫ লাখ বর্গমিটারের, যা ৭০টি ফুটবল মাঠের সমান। দেয়ালে খোদাই করা হয়েছে প্রাচীন মিশরীয় লিপি। অ্যালাবাস্টার পাথরের ত্রিভুজাকার নকশা আর প্র্রবেশদ্বারে করা হয়েছে পিরামিড আকৃতির।
এই জাদুঘরে আছে ৩২০০ বছরের পুরনো পুরোনো ও ১১ মিটার লম্বা মূর্তিটি সবচেয়ে বিখ্যাত ফারাও (সম্রাট) রামেসিস দ্য গ্রেটের। এটি ২০০৬ সালে কায়রো রেল স্টেশনের কাছ থেকে নতুন জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছিলো।
বিশাল সিড়ির কাছে প্রাচীন রাজা রাণীদের মূর্তি এবং উপরের তলায় বিশাল জানালা থেকে দেখা যাবে গিজা পিরামিড।
নতুন এই জাদুঘরটির প্রস্তাব করা হয়েছিলো ১৯৯২ সালে। আর নির্মাণ শুরু হয় ২০০৫ সালে। ধারনা করা হয় যে এটি নির্মাণ শেষ করতে পিরামিড নির্মাণের মতো সময় লেগেছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য