ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শীতের স্নিগ্ধতায় মোহময় নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

অনলাইন ডেস্ক
১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২১:১১
অনলাইন ডেস্ক
শীতের স্নিগ্ধতায় মোহময় নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস
ছবি : সংগৃহীত

শরৎ পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। ভোরের শিশিরে কণা আর সাদা কাশফুলের রং এখন ম্লান ধূসরতায় মাখা। শীতের আগমনী সুরে ঘন কুয়াশায় আবরণে বিলীন হয় ভোরের সোনালি রোদ– এ যেন আসন্ন শীতের বার্তা। ভোর থেকে সকাল অব্দি কুয়াশার চাদরে আবৃত থাকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। ১০১ একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাস যেন তার পূর্ণ মহিমা প্রকাশের জন্য নিজেই সেজে উঠেছে শীতের সাজে। গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে শীত আসে ভিন্নরকম এক মুগ্ধতা ও স্নেহ আবহ নিয়ে।

প্রশাসনিক ভবনের চূড়া থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবন আর সুবিশাল কেন্দ্রীয় মাঠ– সর্বত্রই যেন কুয়াশার স্নিগ্ধ স্পর্শ।মনে হয় প্রকৃতি যেন তার ধোঁয়াটে তুলি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এক বিরাট ক্যানভাসে সযত্নে এঁকে দিয়েছে। এমন শীতশীত সকালে ক্যাম্পাসের চায়ের টঙগুলোতে বাড়ে ভিড়; গরম চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার অনুভূতি তখন আলাদা এক প্রশান্তি এনে দেয়। কেউ মগ্ন হয় ছবি তোলে কেউবা নির্জন পথে হাঁটে, আর সবাই নীরব মুগ্ধতায় উপভোগ করে এই নিস্তব্ধ, মায়াবী সৌন্দর্য।

ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে এখন ফুটে উঠেছে গাঁদা, বাগানবিলাস, ডালিয়া, কাঞ্চনসহ শীতের নানা রঙের ফুল। সকালে ক্যাম্পাসে পা রাখতেই তাই চোখে পড়ে এক ভিন্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। গোলচত্বর, সেন্ট্রাল ফিল্ড, শান্তিনিকেতন থেকে শুরু করে ময়না দ্বীপ ও নীলদিঘীর পাড়; শীতের এই নান্দনিক সাজ যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের সবখানে ডেকে আনে। কুয়াশাঘেরা এই সকালের আবেশ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মনেও এনেছে এক গভীর প্রশান্তি। শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়ে জানাচ্ছেন, এই কুয়াশায় মোড়ানো নোবিপ্রবি যেন আগের রৌদ্রস্নাত ক্যাম্পাসের চেয়েও অনেক বেশি স্নিগ্ধ, সুন্দর ও শান্তিময়। সকালে হাঁটা বা শরীরচর্চার সময় পাখির কিচিরমিচির মনকে ভরে দেয় এক অনাবিল প্রফুল্লতায়।

হেমন্তের এই ঋতুতে, বিকালের সোনালি রোদ যেন ছড়িয়ে দেয় এক ভিন্নরকম উষ্ণতা। এই উষ্ণতা আসন্ন শীতের আবহের সাথে মিশে তৈরি করে এক বিশেষ স্নিগ্ধ আবেশ। বিকেল গড়িয়ে সূর্যাস্ত, তৈরি হয় এক মনোরম, মায়াময় দৃশ্য। তবে সূর্যাস্তের সময় মনে জাগে এক অজানা অপূর্ণতার অনুভূতি। যা যেন অপূর্ণ শীতেরই প্রতিচ্ছবি। আসছে, তবে কবে আসবে তা জানা নেই; আভাস দিচ্ছে, তবে তা কেবলই অনিশ্চয়তা। সম্ভবত এই কারণেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হেমন্তের নীরবতা ও অপূর্ণতার ভাবটি ফুটিয়ে তুলে লিখেছেন:

“হেমন্ত-ঋতু, তব শান্তি-মুখ নিরুদ্দেশ
নাই কথা, নাইক গান, নাই বসন্তের লেশ।
নিঃশব্দ চরণ ফেলে ধীরে ধীরে চল
তব নয়নে নিদ্রাহারা সন্ধ্যার জল।”

কিছুদিন পরই আসবে পূর্ণ শীতকাল। তখন পরিযায়ী পাখির কলরব, শীতকালীন উৎসব আর প্রকৃতির নান্দনিকতায় নোবিপ্রবি সেজে উঠবে আরও মনোমুগ্ধকর রূপে, আরও বর্ণিল আভায়। এমন এক আনন্দময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন নোবিপ্রবিয়ানরা।

লেখক: মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম, শিক্ষার্থী, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মিশরে চালু হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘর, কী আছে সেখানে

    অনলাইন ডেস্ক
    ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৫৯
    অনলাইন ডেস্ক
    মিশরে চালু হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘর, কী আছে সেখানে

    প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি- মিশরের 'দ্যা গ্রেট পিরামিড অফ খুফুর' কাছেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে 'দ্যা গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম বা জিইএম'-এর। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর বলা হচ্ছে, যেখানে এক লাখেরও বেশি প্রত্নসামগ্রী রাখা হয়েছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। 

    প্রাক-রাজবংশীয় সময়ে থেকে গ্রীক ও রোমান যুগ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার বছরের ইতিহাস সেখানে ঠাঁই পেয়েছে। বিখ্যাত মিশরবিদরা বলছেন, এই জাদুঘর চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে অন্য দেশে থাকা মিশরের প্রত্নসামগ্রী ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হবে। এর মধ্যে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা ‘রোসেট্টা স্টোন’ও রয়েছে।

    দ্য গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম সবচেয়ে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হলো প্রাচীন মিশরের বালক সম্রাট তুতেনখামুনের অক্ষত সমাধি থেকে পাওয়া পুরো সংগ্রহের একসঙ্গে প্রদর্শন। ব্রিটিশ মিশরবিদ হাওয়ার্ড কার্টার এটি আবিষ্কারের পর এই প্রথম এটি প্রদর্শিত হচ্ছে।

    এই পুরো সংগ্রহের মধ্যে আছে তুতেনখামুনের দর্শনীয় সোনার মুখোশ, সিংহাসন ও রথসহ মূল্যবান সব সামগ্রী।

    আন্তর্জাতিক মিশরবিদ সমিতির সভাপতি এবং গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সাবেক প্রধান ড. তারেক তওফিক বলেন, ‘কিভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে হয়েছে। কারণ সমাধিটি ১৯২২ সালে আবিষ্কারের পর এর সাড়ে ৫ হাজার সামগ্রীর মধ্যে ১ হাজার ৮০০র বেশি প্রদর্শন করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমার ধারণায় ছিলো পুরো সমাধি সংগ্রহ প্রদর্শন। অর্থাৎ কিছুই আর গুদামে বা অন্য জাদুঘরে থাকবে না। যাতে শত বছর আগে হাওয়ার্ড কার্টার যেভাবে পেয়েছিলেন আপনি সেভাবেই তা দেখতে পারেন।’

    প্রায় ১২০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি করা এই জাদুঘর বছরে অন্তত আশি লাখ দর্শনার্থী দেখতে পারবেন। এটি মিশরের পর্যটনকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তুতেনখামুনের প্রদর্শনী আর খুফুর সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নৌকা বাদ দিয়ে গ্যালারীর বেশিরভাগ সামগ্রী গত বছর থেকেই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা আছে।

    নতুন তৈরি হওয়া জাদুঘর প্রায় ৫ লাখ বর্গমিটারের, যা ৭০টি ফুটবল মাঠের সমান। দেয়ালে খোদাই করা হয়েছে প্রাচীন মিশরীয় লিপি। অ্যালাবাস্টার পাথরের ত্রিভুজাকার নকশা আর প্র্রবেশদ্বারে করা হয়েছে পিরামিড আকৃতির।

    এই জাদুঘরে আছে ৩২০০ বছরের পুরনো পুরোনো ও ১১ মিটার লম্বা মূর্তিটি সবচেয়ে বিখ্যাত ফারাও (সম্রাট) রামেসিস দ্য গ্রেটের। এটি ২০০৬ সালে কায়রো রেল স্টেশনের কাছ থেকে নতুন জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছিলো।

    বিশাল সিড়ির কাছে প্রাচীন রাজা রাণীদের মূর্তি এবং উপরের তলায় বিশাল জানালা থেকে দেখা যাবে গিজা পিরামিড।

    নতুন এই জাদুঘরটির প্রস্তাব করা হয়েছিলো ১৯৯২ সালে। আর নির্মাণ শুরু হয় ২০০৫ সালে। ধারনা করা হয় যে এটি নির্মাণ শেষ করতে পিরামিড নির্মাণের মতো সময় লেগেছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      শ্যামাপূজা ও দীপাবলি আজ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:১১
      অনলাইন ডেস্ক
      শ্যামাপূজা ও দীপাবলি আজ

      হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা আজ। এটি কালীপূজা নামেও পরিচিত। একই সঙ্গে আজ উদযাপিত হবে শুভ দীপাবলি উৎসব।

      কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি অনুষ্ঠিত হয়। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক।

      দেশের হিন্দু সম্প্রদায় আজ উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শ্যামাপূজা উদযাপন করবে। রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর পূজা আয়োজিত হবে। প্রসাদ বিতরণ, আরতি, ধর্মীয় সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা প্রভৃতি কর্মসূচিও রয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যায় মন্দির, মণ্ডপ ও হিন্দুদের ঘরে ঘরে দীপাবলি উদযাপনের জন্য প্রদীপ প্রজ্বালন করা হবে।

      ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, সবুজবাগ থানাধীন শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিঁও ঠাকুর মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান, তাঁতিবাজার, শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে শ্যামাপূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

      কালীপূজার দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্বালন করে স্বর্গীয় মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনকে স্মরণ করে। একে বলা হয় দীপাবলি।

      সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশানে বরদেশ্বরী কালী পূজা ও দীপাবলি উৎসবের অনুষ্ঠানমালায় আজ রাতে পূজা, অঞ্জলি প্রদান, পশু বলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে নারীরা

        অনলাইন ডেস্ক
        ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১:২৬
        অনলাইন ডেস্ক
        কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে নারীরা

        দ্রুত বেড়ে ওঠা জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটালাইজেশনের বিস্তারে নারী ও পুরুষ উভয়েই চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে নারীরা এর প্রভাব বেশি ভোগ করবেন। এটি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য আরও বাড়াতে পারে। জাতিসংঘের নীতিবিষয়ক এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

        বাংলার বদ্বীপ সৃষ্টি হলো কীভাবে?

        জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিকবিষয়ক দপ্তরের (ডিইএসএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী নারীদের হাতে থাকা চাকরির ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে বা বড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ২১ দশমিক ১ শতাংশ।

        এ ঝুঁকির মূল কারণ, কাঠামোগত বৈষম্য, প্রযুক্তিতে লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত ও ডিজিটাল উপকরণে নারীদের অসম প্রবেশাধিকার।

        প্রতিবেদনে বলা হয়Ñ উচ্চ ও উচ্চমধ্যম আয়ের দেশগুলোয় এ প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে। কারণ, এসব দেশে নারীরা মূলত অফিস সহকারী, শিক্ষা ও জনপ্রশাসনের মতো খাতে বেশি কাজ করেন। এসব খাতে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

        এ প্রবণতা নতুন নয়। ডিজিটাল রূপান্তরের আগের ধাপগুলোতেও একই রকম চিত্র দেখা গেছে। তখন যেসব প্রযুক্তি মূলত রুটিন বা হাতের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করত, সেসবও নারীদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলেছিল।

        ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ লাখ নারী তাঁদের প্রশাসনিক সহায়তা (যেমন অফিস সহকারী, রিসেপশনিস্ট, ডেটা এন্ট্রি ক্লার্ক, ক্যালেন্ডার বা ফাইল ম্যানেজমেন্টের কাজ) কিংবা অ্যাসেম্বলি লাইনের চাকরি হারান। একই সময় পুরুষের এমন চাকরি হারানোর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ।

        জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ ‘চাকরি হারানো এখন অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।’ এতে আরও বলা হয়Ñ ‘আগের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিগুলো মূলত স্বল্প দক্ষ কাজকে প্রভাবিত করেছিল। কিন্তু জেনারেটিভ এআই বিভিন্ন দক্ষতার স্তরের কাজকে স্বয়ংক্রিয় করে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে।’

        চাকরি হারানোর ঝুঁকির এ সমস্যাকে আরও জটিল করছে প্রযুক্তি খাতে নারীদের স্বল্প উপস্থিতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে নারীদের কম অংশগ্রহণ ‘লিঙ্গবৈষম্যকে আরও গভীর করতে পারে।’ ৭৩টি দেশের একটি নমুনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এক-তৃতীয়াংশের কম।

        নারীদের অংশগ্রহণের এ ব্যবধান শুধু বর্তমান চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতের জন্যও উদ্বেগজনক। কারণ, পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এআই ব্যবস্থাগুলো ‘চাকরির নিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বৈষম্যকে স্থায়ী এবং আরও তীব্র করতে পারে’ বলে সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

        এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি খাতে কর্মীদের মধ্যে বৈচিত্র্য বাড়ানো সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান না হলেও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি পক্ষপাতপূর্ণ প্রযুক্তির ঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম।

        তবে ঝুঁকির পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশন নারীদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করছে। যেমন দূর থেকে বা অনলাইনে কাজ করা ও গিগ ইকোনমির (স্বল্পমেয়াদি কাজের মাধ্যমে উপার্জন) মতো নতুন কর্মপদ্ধতি নারীদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করছে, যাতে তাঁরা সময়ের কড়াকড়ি বা পরিবারের দায়িত্বের মতো প্রচলিত বাধাগুলো এড়িয়ে কাজ করতে পারেন।

        জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ ‘ডিজিটালাইজেশন আরও নমনীয় ও উদ্ভাবনী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নারীদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়নের পথ খুলে দিতে পারে।’

        উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অনেক নারী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্সের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। তবে এখনও এক স্থায়ী ‘ডিজিটাল লিঙ্গ ব্যবধান’ অনেক নারীকে এ সুযোগ থেকে দূরে রাখছে।

        এ ঝুঁকি মোকাবিলা ও সুযোগ কাজে লাগাতে জাতিসংঘ সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা নারীদের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা বাড়িয়ে, ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং প্রযুক্তি খাতে নারীদের কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ডিজিটাল লিঙ্গ ব্যবধান দূর করার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস

          অনলাইন ডেস্ক
          ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৪৫
          অনলাইন ডেস্ক
          বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস

          আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৫। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরতেই ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে এই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘It Might Be Gloves. It’s Always Hand Hygiene’। অর্থ্যাৎ ‘পরিষ্কার হাত, নিরাপদ জীবন’, ‘সংক্রমণ রোধে নিয়মিত হাত ধোয়া একটি শক্তিশালী অভ্যাস’। এর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, গ্লাভস বা অন্য কোনো সুরক্ষা উপকরণ হাত ধোয়ার বিকল্প নয়; বরং হাত পরিচ্ছন্নতাই সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

          হাত ধোয়া হতে পারে ছোট অভ্যাস, কিন্তু এটি বড় সুরক্ষা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত ধোয়া একটি সাধারণ অথচ কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। পরিষ্কার পানি ও সাবান ব্যবহার করে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুলে জীবাণুর সংক্রমণ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

          বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত হাত ধোয়া ডায়রিয়াজনিত রোগ ৪০% পর্যন্ত এবংশ্বাসকষ্টজনিত রোগ ২০% পর্যন্ত কমাতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই অভ্যাস গড়ে তুললে শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতি ৫৭% পর্যন্ত হ্রাস করা যায়।

          ঋতুভিত্তিক সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধে হাত ধোয়া কার্যকর। বৃষ্টি, শীত কিংবা গরম; ঋতু পরিবর্তনের সময় নানা সংক্রমণ বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাত ধোয়া এসব ঋতুভিত্তিক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মুখ বা চোখে হাত দেওয়ার আগে হাত ধোয়া ফ্লু বা জ্বর ভাইরাস ছড়ানো কমায়। টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অপরিহার্য। হাত ধোয়া ময়লা হাত থেকে চোখে জীবাণু সংক্রমণ রোধে সহায়ক। নিয়মিত হাত ধোয়া ক্লাসরুমে সংক্রমণ কমায় এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

          সঠিকভাবে হাত ধোয়ার নির্দেশনা: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া উচিত। খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর, হাঁচি-কাশির পর এবং বাইরে থেকে ফিরে এসে হাত ধোয়া প্রয়োজন। পানি না থাকলে ৬০% অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। গ্লাভস ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি।

          বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুরা ছোটবেলা থেকেই হাত ধোয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত না হলে পরবর্তী জীবনে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা কমে যায়। স্কুলে মজার খেলা, পোস্টার বা ইন্টার‌্যাকটিভ কার্যক্রমের মাধ্যমে হাত ধোয়া শেখানো হলে তারা সহজে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত