ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে স্থবির সাত কলেজের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৬ মে, ২০২৫ ১৬:৩৭
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে স্থবির সাত কলেজের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং মাউশির টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। ২০১৭ সালে ঢাবিতে অধিভুক্তির পর থেকে প্রায়ই নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কলেজ সমূহের শিক্ষার্থীরা। রুটিন অনুযায়ী ক্লাস না হওয়া, সময়মতো পরিক্ষা না হওয়া, নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার না থাকা, পরিক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়,  স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় না থাকা সহ আরো অনেক অভিযোগ ছিলো শিক্ষার্থীদের।

মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা বা যথাসময়ে পরিক্ষা আয়োজন, পরিক্ষার ফলাফল সমন্বয়সহ আরো নানা দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন। মিছিল, মিটিং, সভা, সেমিনার, সমাবেশ, অবরোধ, ব্লকেডসহ আরো নানা উপায়ে রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

সর্বশেষ, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিগত কয়েকমাস যাবৎ সাত কলেজকে নিয়ে আলাদাভাবে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করলে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।  পরবর্তীতে তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে আন্দোলন শিথিল করে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত বছরের ২৯শে ডিসেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজকে সভাপতি করে চার মাস মেয়াদী চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়ন করার।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিমউদ্দিন খান।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আন্দোলন সংগ্রাম শেষে সরকারের এ ধরণের উদ্যোগে অনেকটা খুশী হয়েছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সাত কলেজের সংকট নিরসণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মর্যাদার স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, মাউশি, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিটের সাংবাদিকদের সাথে সুদীর্ঘ আলাপ আলোচনা করে উক্ত কমিটি। ধাপে ধাপে আলোচনা শেষে প্রত্যেকটি কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন কমিটির সদস্যবৃন্দ।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ই মার্চ সাত কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ৪ ঘন্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনা শেষে সাত কলেজের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঠিক করা হয়— ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’।

গত এপ্রিল মাসের মধ্যে এ কমিটির কাজ সমাপ্ত করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মে মাসের প্রথমার্ধ সমাপ্ত হওয়ার পরেও তা প্রকাশ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নেতৃত্বাধীন উক্ত কমিটি।

সুদীর্ঘ চার মাসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা না পাওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়োগসহ অধ্যাদেশ জারি না করা হলে ফের আন্দোলন দানা বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন অনুমোদন ও ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি মিটিং হওয়ার কথা থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না। ইউজিসি আইনে যেহেতু এ ধরণের প্রশাসন অনুমোদনের সুযোগ নেই, সেহেতু সংস্থাটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হয়ে আছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউজিসি।

এদিকে দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের শুধু আশ্বাস দিয়ে কাজ না করার অভিযোগ তুলেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী যাকারিয়া বারী সাগর।

সাগর বলেন, “সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের পর, বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুরোনো সংকটের সমাধান দিতে এবং সেশনজট নিরসন করতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির যাবতীয় কর্মকাণ্ড শুরু থেকেই দেখভাল করছে ইউজিসি। তাদের সকল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ছিল। সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি চার মাসের মধ্যেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো, রূপরেখা তৈরি করে রেখেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল হওয়ায় অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউজিসির পরামর্শ অনুযায়ী ঢাবি সিন্ডিকেট সভায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন পাস হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যায়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কোনও এক অদৃশ্য ছায়ায় আটকে আছে সেই ফাইল।”

দাবি আদায়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাচ্ছি না। এমতাবস্থায় আমরা পড়ার টেবিল ছেড়ে পুনরায় রাজপথে এসেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ আদায় করব।”

এ নিয়ে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের আরেক মুখপাত্র ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন, “মাননীয় পরিকল্পনা উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি অর্থ উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমাধান করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। আশা করি, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমস্যা সমাধান হলে বিশ্ববিদ্যালেয়র অধ্যাদেশ দ্রুতই আদায় করে নিতে পারবো। এতোদিন ধাপে ধাপে কাজগুলো গুছিয়ে আনার জন্য আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেইনি। কিন্তু আমাদের নিয়ে খেলাধুলার সুযোগ কাউকে দেব না। আমরা সম্মান করতে জানি, আর সম্মানের মূল্য ঠিক সেভাবেই চাই। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যদি জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী প্রশাসন অনুমোদন না করে, তাহলে আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।”

অপরদিকে, বিগগত ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তির আবেদন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২৬শে জানুয়ারি (রোববার) রাতভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলাকালীন সংঘর্ষের  জেরে পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল ও সম্মানজনক পৃথকীকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যার ফলে স্থগিত হয়ে পড়ে সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রম। স্থগিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সাত কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেন ৩৩ হাজার ১০১ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।
অধিভুক্তি বাতিলের ঘোষণার পর থেকে কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় আছে সাত কলেজ।

উল্লেখ্য, শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে রাতারাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিলো।  কলেজসমূহ হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

এস এম মঈন উদ্দীন

       

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর টিমের জরুরী সংবাদ সম্মেলন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৬ মে, ২০২৫ ১৩:৪৭
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর টিমের জরুরী সংবাদ সম্মেলন

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের জন্য গঠিত হতে যাওয়া অন্তবর্তীকালীন প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদনের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কালক্ষেপণের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কর্মসূচি জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা। 

আজ শুক্রবার (১৬ই মে) সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর টিমের অর্গানাইজিং উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। 
জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার (১৭ মে) বিকাল ৪টায় ইডেন মহিলা কলেজের ১নং গেইটে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করার অভিপ্রায়ে, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও অধিভুক্তি বাতিলের পরবর্তী অন্তবর্তীকালীন প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদনে কর্তৃপক্ষের কালক্ষেপণের বিষয়ে  প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কর্মসূচি সবার কাছে তুলে ধরতে জরুরি ভিত্তিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নবীনদের বরণ করলো রাজশাহী কলেজ জব প্রিপারেশন ক্লাব

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১৩ মে, ২০২৫ ১৫:১৮
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    নবীনদের বরণ করলো রাজশাহী কলেজ জব প্রিপারেশন ক্লাব

    'স্বপ্ন দেখেছি যখন জব প্রিপারেশন ক্লাবেই হবে পূরণ' অঙ্গিরাকে সামনে রেখে রাজশাহী কলেজ জব প্রিপারেশন ক্লাবের (আরসিজেপিসি) নবাগত নবীন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়েছে। 

    মঙ্গলবার (১৩ মে) সকাল ১০ টায় রাজশাহী কলেজের মিলনায়তনে রাজশাহী কলেজ জব প্রিপারেশন ক্লাবের
    উদ্যোগে এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাজশাহী কলেজ জব প্রিপারেশন ক্লাবের (আরসিজেপিসি) সভাপতি মাহমুদ আল ফারাবি সেলিম ও কার্যনির্বাহী সদস্য মোছাঃ কুইন রাণী। 

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী বলেন, যারা এই জব প্রিপারেশন ক্লাবের (আরসিজেপিসি) সদস্য হয়ে আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছে তাদের জন্য এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। রাজশাহী কলেজ নিয়ে আমাদের যে গর্ব তার মূলে রয়েছে এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা। সেই ধারাবাহিকতায় এই জব প্রিপারেশন ক্লাব।

    তিনি বলেন, আমরা যারা শিক্ষকতায় থেকে তোমাদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, আমরা  চাই তোমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণ করে রাজশাহী কলেজের মুখ উজ্জ্বল করবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে তোমরা নিজেদের প্রমাণ করবে। যারা প্রশাসন বা শিক্ষাসহ অন্য ক্যাডার শাখায় কাজ করার স্বপ্ন দেখছো তারা আজ থেকেই চেষ্টা শুরু করবে। পরিশেষে তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে এইরকম কার্যক্রম কলেজের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে।

     
    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ সেরাজ উদ্দীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, উক্ত সংগঠনের আহ্বায়ক ও দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রফেসর জনাব মোঃ ফারুক হোসেন।

    নবীন সদস্যদের বক্তব্যে মনিকা বলেন, পড়াশোনা শেষ করে সফল হওয়ার একরাশ স্বপ্ন নিয়ে এই কলেজে ভর্তি হয়েছি। তবে শুরুটা কিভাবে করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ভবিষ্যতে এই সংগঠনের হাত ধরে আমি আমার স্বপ্নকে পূর্ণতা দান করতে চাই। 

    আরেক সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, আমি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই ক্লাবে এসেছি। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে এই ক্লাবের মাধ্যমে তিনি তার  স্বপ্নকে ছুঁতে চান।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে কোর্স প্ল্যান তুলে দেয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
     

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাজশাহী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৪র্থ বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১২ মে, ২০২৫ ২০:৫৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    রাজশাহী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৪র্থ বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত

    রাজশাহী কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সম্মান ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১২ মে ) বেলা ১২ টায় রাজশাহী কলেজের মিলনায়তনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর  মোঃ তায়েজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী। 

    এ সময় প্রফেসর মু. যহুর আলী উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা শিক্ষার্জন করে ভবিষ্যতে শিক্ষক, উকিল, রাজনীতিবিদসহ অন্যান্য যেকোনো কর্মে নিয়োজিত হবে। তবে যে পেশাতেই নিয়োজিত থাকো তাতে যেন তোমরা সৎ থাকতে পারো। 

    এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ভবিষ্যতে জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শকে ধরে রাখে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী,  শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ সেরাজ উদ্দীন। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলীসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। 

    অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শেষে ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ রুহুল আমিন ও সুলতানা পারভীন রুকুর সঞ্চালনায় পুষ্পস্তবকের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ  করে নেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর ৪৮ তম ব্যাচেট শিক্ষার্থীরা।

    অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ জাকি মুজাহিদ। বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করেন ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত। এছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিদায়ী মুহূর্তে তাদের এই ক্যাম্পাসে অনার্স জীবনের স্মৃতিচারণ নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বক্তব্য পর্ব শেষে অতিথিবৃন্দরা স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

    মধ্যাহ্নভোজের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ-গান-আবৃত্তির ছন্দে সমাপনী মুহুর্তকে চিরস্মরণীয় করে প্রিয় ক্যাম্পাস কে বিদায় জানায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসে আবারও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা : নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৪ মে, ২০২৫ ২০:৫৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসে আবারও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা : নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

    রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসে কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছে। পরপর এমন চুরির ঘটনায় ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কে প্রশাসনের ব্যর্থতা বলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। 

    রবিবার (৪ মে) ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ভবনে ( সি-ব্লক) ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির বিষয়টি ছাত্রাবাসের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের মোঃ রায়হান সরকার। তিনি ছাত্রাবাসের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ভবনের ( সি-ব্লক) ১০৬ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, গতকাল রাতে ল্যাপটপ ব্যবহারের পর প্রতিদিনের ন্যায় তিনি ল্যাপটপ যথাস্থানে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার ল্যাপটপটি সেই স্থানে নেই। পরবর্তীতে বিষয় স্যারদের অবগত করা হলে সিসিটিভির মাধ্যমে দেখা যায় একজন বহিরাগত ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ তার রুমে ঢুকে ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছে। 

    তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, যারা গেটম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন তারা একটু গভীর রাত হলেই বাসায় চলে যান এবং দেখা যায় ভোর পর্যন্ত কোনো গেটম্যান থাকে না এমনকি এর আগেও এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানান যাতে তার এই চুরির বিষয়ে আশানুরূপ একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা যেন আরো জোরদার করা হয়।

    এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ও হোস্টেল প্রশাসন বারবার তার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত হোস্টেল থেকে ল্যাপটপ চুরি, টাকা চুরির ঘটনা তুচ্ছ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাদের  কোন মাথা ব্যথাই নেই, নেই কোন জবাবদিহি! এভাবে আর কত????

    তিনি আরো অভিযোগ করেন,  ছাত্রাবাসে নেই পর্যাপ্ত গেটম্যান, নেই কোন শৃঙ্খলা। হোস্টেল থেকে ল্যাপটপ চুরি, ফোনচুরি, হওয়ার পরেও সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নেই??

    রাজশাহী কলেজের হোস্টেলে অনেক গরীব মানুষের সন্তানরা লেখাপড়া করে এবং ল্যাপটপ দিয়ে তারা অনলাইনে কাজ করে সাময়িক কিছু টাকা ইনকাম করে তা দিয়ে পড়ালেখার খরচ বহন করে। কিন্তু এভাবে বারবার তাদের জিনিসগুলো চুরি হয়ে গেলে এর ভর্তুকি  কি কলেজ প্রশাসন দেবে?? 

    তিনি আরো বলেন, এইবার যদি কলেজ প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ না নেয়, তাহলে প্রয়োজনে আমরা সাধারণ ছাত্রদেরকে নিয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হব।

    রাজশাহী কলেজ শাখার ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কে নিয়ে থানায় জিডি করেছেন এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চুরির বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

    এ বিষয়ে ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক আবু জাফর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা যেভাবে রাখতে চাই সেভাবে তো ছাত্ররা মানতে চায়না। আমরা বলি যে হোস্টেলের গেইট রাত ১২ টা থেকে ভোর অবধি বন্ধ রাখব, স্টুডেন্টরা এটা  মানেনা ,তারা যেকোনো সময় যাতায়াত করে। 

    তিনি বলেন,  কয়েকমাস আগে চুরি হয়েছিলো সি ব্লকে । এর জন্য বারান্দায় যে তিনটা গেইট আছে সেগুলোতে তালা লাগানোর ব্যবস্থা করা হলো। সব স্টুডেন্টদের চাবি দেওয়া হলো। ছয়মাস হয়নি বারান্দার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে। তার ফলেই এরকম হচ্ছে বলে মনে করি। 

    উল্লেখ্য গত ২১ ডিসেম্বর ছাত্রাবাসের একই ভবনের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু রায়হানের ল্যাপটপ চুরির হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন পার হলেও তার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।

     

    মন্তব্য
    সর্বশেষ সংবাদ
      সর্বাধিক পঠিত