শিরোনাম
সান্ডা খাওয়া হালাল নাকি হারাম? যা বলছে ইসলাম
সান্ডা খাওয়া নিয়ে ইসলামে যা বলা হয়েছে
সান্ডা, দব এবং গুইসাপ—এই তিনটি প্রাণী দেখতে প্রায় কাছাকাছি হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলোর প্রকৃতি ও শরিয়াহ-সংক্রান্ত বিধান ভিন্ন। নিচে প্রতিটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো:
সান্ডা ও দব
সান্ডা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে, বিশেষ করে বাংলাদেশে দেখা যায়। এটি এক ধরনের সরীসৃপ, যা দেখতে গুইসাপের মতো। এটি উভচর ও সরীসৃপ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। দব সাধারণত আরব অঞ্চলের মরুভূমিতে দেখা যায়। সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে সাহাবিগণ এটি আহার করেছিলেন। যদিও রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তা খাননি, তবে নিষেধও করেননি। তিনি বলেছিলেন, এটি আমার অঞ্চলের খাবার নয়, তাই আমি আগ্রহ বোধ করি না। তবে তোমরা চাইলে খেতে পারো। (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)
অধিকাংশ ইসলামি স্কলারদের মতে এটি হালাল, তবে হানাফি মাজহাবে এটি খাওয়া মাকরুহে তাহরিমি। আরবরা সাধারণত এই দব খেয়ে থাকে।
ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এতে মতভেদ রয়েছে—
হানাফি মাজহাবে: দব খাওয়াকে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বলা হয়েছে, যদিও হারাম নয়।
মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব: এই মাজহাবগুলোর অধিকাংশ আলেম দব খাওয়াকে বৈধ মনে করেন।
গুইসাপ
গুইসাপ দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল পরিচিত একটি সরীসৃপ। এটি স্থল ও জল উভয় পরিবেশে বিচরণ করে এবং বড় আকৃতির হয়ে থাকে। শরিয়াহ মতে, বিশেষ করে হানাফি মাজহাবে গুইসাপ খাওয়ার অনুমতি নেই। এটি নাপাক, অপবিত্র ও মানুষের স্বাভাবিক রুচির পরিপন্থী প্রাণী হিসেবে বিবেচিত।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তা আহার হালাল করা হয়েছে। (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত : ৯৬)
হাদিস : রাসুল (সা.) বলেন, সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল। (তিরমিজি: ৬৯, আবু দাউদ: ৮৩)
এই আয়াত ও হাদিস মাছ জাতীয় প্রাণীর ব্যাপারে প্রযোজ্য হলেও, সরীসৃপ বা উভচর প্রাণীর ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান রয়েছে।
ফিকহবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি
হানাফি মাজহাব
উভচর ও সরীসৃপ প্রাণী—যেমন সাপ, কচ্ছপ, গুইসাপ ও দব—খাওয়া নিষিদ্ধ।
দলিল: আল-হিদায়া, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, আল-মাবসুত, বাদায়েউস সানায়ে প্রভৃতি কিতাবে এসব প্রাণীকে ‘অপবিত্র ও রুচিবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যান্য মাজহাব
মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী দব হালাল হলেও, অধিকাংশ সরীসৃপ প্রাণী নাজায়েজ।
বাংলাদেশের ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
ইসলামিক ফাউন্ডেশন: সহীহ বুখারির অনুবাদে দব খাওয়ার হাদীস উল্লেখ করে বলা হয়, রাসুল (সা.) নিষেধ করেননি। তাই এটি হারাম নয়।
দারুল ইফতা বাংলাদেশ: একটি ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে—দব খাওয়া হানাফি মতে মাকরুহ, হারাম নয়। তবে যারা অন্য মাজহাব অনুসরণ করেন, তাদের জন্য এটি হালাল।
সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমানদের জন্য হালাল-হারাম জেনে খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সান্ডা ও গুইসাপ: এগুলো স্পষ্টভাবে হারাম বা অপছন্দনীয়; তাই এড়িয়ে চলা জরুরি।
দব: যাদের ফিকহ মতে এটি বৈধ, তারা খেতে পারেন। আর যাদের মতে মাকরুহ বা নিষিদ্ধ, তাদের জন্য পরিহার করাই উত্তম।
১৫ বছরের নিচে কেউ হজে যেতে পারবে না
আগামী বছরের হজে যেতে ইচ্ছুক মানুষদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ আসন্ন হজে যেতে পারবেন না। সৌদি সরকারের হজ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বুধবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল ফারুকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সৌদি আরব হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে ২০২৫ সালের হজ মৌসুমে পবিত্র হজ পালনে আগ্রহীদের সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৫ বছর নির্ধারণ করেছে, যা হজযাত্রীর পাসপোর্টের জন্ম তারিখ থেকে ধরা হবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে নিবন্ধিত হজযাত্রী, হজ এজেন্সি এবং হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা ফলো করতে হবে।
১৫ বছর বয়সী নিবন্ধিত শিশু হজযাত্রী ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিশু হজযাত্রীর সঙ্গে যাওয়া অভিভাবক হজযাত্রীর পরিবর্তে প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করা যাবে।
উপসচিব মামুন আল ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি সরকারের নির্দেশনা আমাদের ফলো করতে হয়। ১৫ বছরের উপরে কেউ যদি হজে যেতে চায় তাকে অবশ্যই প্রাক নিবন্ধন, নিবন্ধন করে যেতে হবে। আর তার নিচে তো যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
পবিত্র শবে বরাত আজ
ডেস্ক রিপোর্ট: সারাদেশে আজ (শুক্রবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার সরকারি ছুটি থাকবে।
এই রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদগুলোতে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ, মিলাদ মাহফিলসহ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।
শবে বরাত উপলক্ষ্যে আজ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ, দোয়া, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা ও করণীয় বিষয়ে ওয়াজ করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষ্যে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
জাবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৬
ডেস্ক রিপোর্ট: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের জীববিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩১ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। যার মধ্যে ১৭ হাজার ৬৬৪ জন ছাত্র এবং ১৪ হাজার চারজন ছাত্রী।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘ডি' ইউনিটে ছাত্রী আবেদনকারী ছিল ৪৭ হাজার ৬৯২ জন, পাস করেছে ১৭ হাজার ৬৬৪ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশ। ছাত্র আবেদনকারী ছিল ৩৯ হাজার ৭৬ জন, পাস করেছে ১৪ হাজার চারজন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৭০।
এবার 'ডি' ইউনিটভুক্ত জীববিজ্ঞান অনুষদে ছাত্রীদের আসন সংখ্যা ১৫৫টি এবং ছাত্রদের আসন সংখ্যা ১৫৫টি। এরমধ্যে ছাত্রীদের পরীক্ষায় প্রায় ৪৭ হাজার ৬৯২ জন পরীক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। উপস্থিত ছিলেন ৩৯ হাজার ৯৬৮ জন ভর্তিচ্ছু।
অন্যদিকে ছাত্রদের পরীক্ষায় প্রায় ৩৯ হাজার ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। এরমধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩৩ হাজার ৭১২ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। সে হিসেবে ভর্তিচ্ছু ছাত্রীদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৮৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। ছাত্রদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৮৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বসন্তের আগমনী বার্তায় আলপনায় সাজছে রাজশাহী কলেজ
মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম: "ঋতুরাজ বসন্ত মানেই প্রকৃতিতে প্রাণবন্ততার নতুন ছোঁয়া, রঙিন ফুলের হাসি, শীতের তীব্রতা শেষে প্রকৃতির মাঝে ঠান্ডা-গরমের সোনালী মিশ্রণ"-পুষ্পিত সৌরভে এভাবেই ঋতুরাজ বসন্ত তার আগমনের বার্তা নিয়ে প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়ছে।
ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির রঙ বেরঙের বাহারি ফুলের পাশাপাশি রং তুলির আঁচড়ে সেজে উঠেছে দেশসেরা বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজ।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রজনীকান্ত সেন মঞ্চের সামনে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন বিভাগের ২৫ জন শিক্ষার্থী, যারা আগামী দুই দিন ধরে কলেজ প্রাঙ্গণকে বসন্তের রঙে রাঙিয়ে তুলবেন।
অগ্নীবীণা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ফাহমিদা আক্তার রেখা এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর মূল কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা. রাবেয়া খাতুন। তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন অগ্নিবীণা পরিষদের শিক্ষক উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হরেক রকমের রং-তুলির ছোঁয়া লাগেছে ক্যাম্পাসের মাটিতে। লাল, নীল, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙের তুলিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন আলপনা । কলেজের রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর, স্বাধীনতা চত্বর, হাজী মোহাম্মদ মহসিন ভবনের সামনের রাস্তা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনের অংশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঙালী ও লোকশিল্পের অন্যতম অংশ আলপনায় শোভা পাচ্ছে ।
অগ্নিবীণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোছা. রাবেয়া খাতুন বলেন, প্রতিবছর অগ্নীবীণার সদস্যরা বসন্তকে বরণ করতে এই আয়োজন করে। সারা বছর আমরা এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি। রাজশাহী কলেজের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তুলতে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে চাই।
অগ্নিবীণা পরিষদের উপদেষ্টা ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: ইকবাল হোসেন বলেন, এটা তাদের বার্ষিক একটি কার্যক্রম। তারা প্রতিবছরই এইভাবে কাজ করে যেতে চায়। যদি কোনো অর্থায়ন বা ফান্ড তাদের পরিষদকে সহযোগীতা করেন তাহলে তাদের এই পরিষদ আরও অনেক ভালোভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
এ বছর কলেজের দেয়াল ও বিভিন্ন স্থান সেজেছে বর্ণিল চিত্রকর্মে। কোথাও ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার বসন্ত উৎসব, কোথাও রয়েছে বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তিদের প্রতিচ্ছবি। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলপনা। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ কলেজের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস নিয়ে এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেকেই ছবি তুলে স্মৃতি সংরক্ষণ করছেন, কেউবা বসন্তের এই উৎসবকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য