শিরোনাম
ঈদযাত্রায় বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজ (১৬ মে) থেকে শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বাস মালিকদের সংগঠন বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে ও পরবর্তী দিনের টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে আজ থেকে। ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই অগ্রিম টিকিট বিক্রি।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই টিকিট সংগ্রহ করে আলহামদুলিল্লাহ লিখে টিকিটের ছবিসহ পোস্ট দিয়েছে। এরমধ্যে মোহাম্মদ ইমরান লিখেছেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, ঈদের টিকিট পেয়ে গেলাম।' তিনি সংগ্রহ করেছে ঢাকা-রংপুর রুটের ৩ জুনের বাসের টিকিট।
এরআগে গত ১৪ মে বিকেলে ঈদ উপলক্ষ্যে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কথা জানান বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ। তিনি জানান, যাত্রীরা ১৬ মে থেকে বাসের টিকিট অনলাইন ও সরাসরি কাউন্টারে— দু’ভাবেই কিনতে পারবেন। তবে কিছু পরিবহন সংস্থা শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমেই টিকিট সরবরাহ করবে।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাকেশ বলেন, বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাই অনুসরণ করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। এবং এ বিষয়ে সব পরিবহন মালিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসি বাসের ভাড়া নিয়ে আগের ঈদে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায়, এবার সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রাকেশ বলেন, যেহেতু এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না, তাই পরিবহন মালিকেরা তাদের সেবার মান অনুসারে ভাড়া নির্ধারণ করেন। তবে এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এসি বাসের ভাড়া যেন যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে থাকে।
মাহফুজ ভাইয়ের সঙ্গে যা ঘটল, তাতে হতাশ হয়েছি : উপদেষ্টা আসিফ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ নিয়ে তিনি বলেন, কয়েক ঘণ্টা আগে মাহফুজ ভাইয়ের সঙ্গে যা ঘটল, তাতে হতাশ হয়েছি। ভাই তো চাইলেই পারতেন, ‘এটা আমার মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়’ বলে এড়িয়ে যেতে।
বুধবার (১৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমাদের নিজস্ব দায়িত্ব আছে সরকারে। মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব ছাড়াও অতিরিক্ত অনেক দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তারপরও, ছাত্রদের যেকোনো সমস্যা, আন্দোলনের সমাধান কিংবা যৌক্তিক দাবি আদায়ে সবসময় সচেষ্ট থাকার চেষ্টা করি। অন্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়েও মাঝে মাঝে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করি এবং সমঝোতার চেষ্টা করি।’
তিনি আরও লিখেন, ‘আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিষয়টিও আমার অফিসিয়াল দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। কিন্তু দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে উদ্যোগ নিয়েছি।’
এর আগে বুধবার (১৪ মে) রাত ১০টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় পানির বোতল ছুঁড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। এমন সময় কথা শেষ না করেই সেই জায়গা থেকে চলে যান তিনি।
জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠারও আগে: শিশির মনির
সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠারও আগে থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করছে- এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আইনজীবী শিশির মনির।
বুধবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি মন্তব্য করেন।
শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৪১ সালে। তখন থেকেই তাদের দলীয় প্রতীক হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা। আর বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭২ সালে। কাজেই সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠারও আগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে রাজনীতি করছে জামায়াতে ইসলামী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের অন্যতম বড় একটি দল। সব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এবং সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে কয়টি সংসদ বসেছে সঠিকভাবে যে কয়টা নির্বাচন হয়েছে, সব নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এমপি-মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশন একটা নিবন্ধন ইস্যু করে।পরে হাইকোর্ট নিবন্ধনটি বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছিলাম। আপিল মামলা আজকে শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে আগামী ১ জুন এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
জামায়াতের এই আইনজীবী আরও বলেন, আজকে আমরা আদালতকে বলেছি জামায়াতের রেজিস্ট্রেশন এবং কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট বাতিল করার মাধ্যমে বিচার বিভাগ রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। যারা এই মামলার শুনানি শেষে নিবন্ধন বাতিল করেছেন, তারা মূলত বাংলাদেশের উচ্চ আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন।
সীমান্ত দিয়ে ১৬ জনকে পুশইন করল বিএসএফ
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ১৬ জনকে পুশইন করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বুধবার সকালে কানাইঘাট উপজেলার আটগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়।
পরে সকাল ৮টার দিকে ১৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল তাদের আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ৬ জন নারী ও ২ জন শিশু। তাদের বয়স আনুমানিক ৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা কোন পথে ভারতে গিয়েছিলেন, কিভাবে সেখানে বসবাস করছিলেন, এসব তথ্য প্রাথমিকভাবে যাচাই করছে বিজিবি।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানান, ভারতীয় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার করেছে। তারই অংশ হিসেবে সকালে আটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে এই ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি যাদের পুশইন করা হয়েছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দর আশপাশের দেশগুলোর অর্থনীতির জন্যও হৃৎপিণ্ডস্বরূপ : প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, আশপাশের দেশগুলোর অর্থনীতির জন্যও হৃৎপিণ্ডস্বরূপ। এই বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেলে নেপাল, ভুটান এমনকি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যও (সেভেন সিস্টার্স) লাভবান হবে।
বুধবার (১৪ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৫ নম্বর ইয়ার্ড পরিদর্শনের সময় বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বন্দর কেবল বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড নয়, বরং তা হয়ে উঠতে পারে এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। তাই নেপাল, ভুটান কিংবা সেভেন সিস্টার্স— সবার জন্য এটি একটাই হৃৎপিণ্ড। নেপালের তো সমুদ্রবন্দর নেই, আমাদের এই হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে তাদের চলতে হবে। আমরা সেই সংযোগ তৈরি করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হৃৎপিণ্ডে যুক্ত হলে শুধু তারা নয়, আমরাও উপকৃত হবো। এটি কোনো দয়াদাক্ষিণ্য নয়, পারস্পরিক লাভের বিষয়। যারা এই সংযোগ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই সবাই মিলে এই বন্দর থেকে শক্তি গ্রহণ করুক, যেনো অর্থনীতির গতি বাড়ে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে নিজের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘এই বন্দর আমার জন্য অপরিচিত কিছু নয়। ছোটবেলায় এখানে বড় হয়েছি, ছাত্রাবস্থায়ও এসেছি জাহাজ দেখতে। তখন দেখতাম, জাহাজ থেকে শ্রমিকেরা কাঁধে করে মাল তুলছে। পরে ক্রেন এলো। সেই পর্যায় পেরিয়ে আজকের আধুনিক বন্দরে রূপ নিয়েছে চট্টগ্রাম।’
তবে বন্দরের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সবকিছু পাল্টে গেলেও বন্দরের পরিবর্তন কেন এত ধীরগতি? এটা নতুন প্রশ্ন নয়। চট্টগ্রামবাসী হিসেবে অনেকবার এই ভোগান্তি দেখেছি। রাস্তায় যানজট, ট্রাক ঠাসা, মাল খালাসে বিলম্ব, ট্রেন মিস— এসব সমস্যা পুরনো। এসব ভেবে আগেও লেখালেখি করেছি, এবার দায়িত্বে এসে শুরু থেকেই নজর দিচ্ছি, কীভাবে বন্দরের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়।’
বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরই হলো আমাদের ভরসার জায়গা। এটিকে উপেক্ষা করে দেশের অর্থনীতির নতুন অধ্যায়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এই পথ খুলে দিলে অর্থনীতির পথও খুলে যাবে। না খুললে যত চেষ্টা করি, উন্নতির স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।’
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য