শিরোনাম
বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশ শুরু, নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল
লাখো তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে বিএনপির তিন সংগঠনের তারুণ্যের সমাবেশে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকাল ৩টা ৩৭মিনিটে এই সমাবেশ শুরু হয়।
এর আগে সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
ঢাকা, ফরিদপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সমন্বয়ে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এ সমাবেশ।
বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নেতাকর্মীদের স্লোগান ও পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে নয়াপল্টন। মঞ্চে চলে গান ও দলীয় সংগীত পরিবেশন।
এদিকে ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা, সিলেট, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের নয়াপল্টনে আসতে দেখা গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিপরীত পাশের সড়কে এই মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনের আশপাশ এলাকায় টানানো হয়েছে মাইক।
নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে এবং মাথায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা বেঁধে সমাবেশে আসেছেন। তারা বিভিন্ন স্লোগানে সমাবেশ প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তুলেছেন।
এদিকে নয়াপল্টন এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পদচারণা ও স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে নয়াপল্টন। নেতা-কর্মীদের জমায়েত ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। নয়াপল্টন এলাকা হয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
আজকের সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটিরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত আছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত থেকে খালাস, কে এই এটিএম আজহারুল ইসলাম
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় মুক্তি পেয়ে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বের হন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারুল ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। তার খালাসের রায়ের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান ঘটলো।
কে এই এটিএম আজহারুল ইসলাম?
আবু তোরাব মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম যিনি এটিএম আজহারুল ইসলাম নামেই পরিচিত, তিনি ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বাতাসিওন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ডাঃ নাজির হোসেন আহমেদ। পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ. পাশ করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা, ইংরেজি এবং উর্দু ভাষায় তার দক্ষতা রয়েছে।
আরও পড়ুন
এটিএম আজহার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি দৈনিক সংগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, তিনি মারুফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, রংপুরের আল-আমিন ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান, তামিরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সদস্য, বদরগঞ্জ উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান, এবং বদরগঞ্জ ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, এটিএম আজহার ১৯৯৬ সালের জুন মাসে রংপুর-২ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। এরপর ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি রংপুর-২ আসনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন এবং ১৭ হাজার ৭৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি রংপুর-২ আসন (বদরগঞ্জ এবং তারাগঞ্জ) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৬ হাজার ৫৮৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার পর আজহার দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পান এবং ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন আজহার। ২০১২ সালের ২২ আগস্ট তিনিও একই অভিযোগের মামলায় মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। তখন থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে রংপুরে সংঘটিত গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ মোট ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে। সে রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই তিনি রিভিউ আবেদন করেন, যেখানে ১৪টি যুক্তি তুলে ধরা হয়।
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তার আপিল শুনানির অনুমতি দেন। এরপর নিয়মিত আপিলের শুনানি শেষে ২৭ মে আদালত রায় ঘোষণা করেন, যেখানে তাকে সকল অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। ২৮ মে মুক্তি পেয়ে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বের হন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটলো।
আমি এখন স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক : আজহার
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পাওয়ার পর কারামুক্ত হয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর জনসমক্ষে এলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। এসময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। আমি এখন স্বাধীন দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক।’
বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হন। হাসপাতাল গেটেই তাকে অভ্যর্থনা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। এরপর শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত এক জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি আবেগঘন বক্তব্য দেন।
সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ১৪ বছর পর আমি আজ ছাড়া পেলাম। আমি এখন মুক্ত। আমি এখন স্বাধীন, আলহামদুলিল্লাহ। আমি এখন স্বাধীন দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক। আল্লাহ যদি তৌফিক দেন, অবশ্যই বাকি জীবন আপনাদের সাথেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘এই মুক্তি শুধু আমার নয়, এটি একটি দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল। একটি অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সত্য চিরকাল চাপা থাকে না। আজ সেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সর্বপ্রথম আদালতকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তবে এটা সত্য যে, এতোদিন দেশে ন্যায়বিচার ছিল না। বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে। আমাদের অনেক ভাইকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা দীর্ঘ সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারা সঠিক তথ্য-উপাত্ত, দলিল ও যুক্তি উপস্থাপন করে প্রমাণ করেছেন, এই মামলায় কোনো ভিত্তি ছিল না। আল্লাহর রহমতে আমি আজ মুক্ত, কিন্তু যারা নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন, তাদের আর ফেরানো যাবে না।’
৩৬ জুলাইয়ের ‘মহাবিপ্লব’ ও ৫ আগস্টের পতন প্রসঙ্গে জামায়াতের সাবেক এই আমির বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই ৩৬ জুলাইয়ের মহাবিপ্লবীদের। যাদের রক্ত, ঘাম আর আন্দোলনের ফসল আজকের এই মুক্তি। তাদের কারণেই ৫ আগস্ট দেশের জনগণ একটি অত্যাচারী স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা ১৫ বছর ধরে রাজপথে নিজেদের রক্ত ঢেলে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়েছেন, তাদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করি। এই রক্ত কখনো বৃথা যাবে না। এই আত্মত্যাগই বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য আলোর পথ দেখাবে।’
আগামী দিনে জনগণের সঙ্গে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি জানি, এই মুক্তির দায়িত্ব আমার ওপর আরও অনেক বড় দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। আমি কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দেন, তবে জীবনসায়াহ্ন পর্যন্ত জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও ইসলামি মূল্যবোধের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাব। আমি আপনাদের সঙ্গেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।”
রাজপথে পুনরায় শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, ‘আমরা কখনও অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি, করবোও না। আমাদের আন্দোলন থেমে নেই, থামবেও না। আজ থেকে আবার নতুনভাবে পথচলা শুরু হলো।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, এনআইডি ব্লক
দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব (সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত) গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
আদালতে দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তানভীরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে আবেদনে আরও বলা হয়, তানভীর যেকোনো সময় দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে যেতে পারেন। ফলে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ করা এবং এনআইডি ব্লক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
কেন নিজের ওপর গুলি চালাতে বলেছিলেন শেখ হাসিনা
২০২৪ সালের ৫আগস্ট চারিদিকে উত্তাল ছাত্রজনতার আন্দোলনে কি হতে চলেছে কেউ কিচ্ছু জানে না। তবে ছাত্রজনতা এটুকু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিজয় ছাড়া তাদের পিছু ওঠার সুযোগ নেই। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলাবেড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে রাস্তায় নেমে আসে লাখো জনতা। সবার গন্তব্য একটাই গণভবন। ঢেউের মত যখন মানুষজন রাস্তায় নেমে আসে তখন আর আওয়ামী লীগ সরকারের টিকে থাকার কোন পথ ছিল না। সব ফেলে দ্রুত ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পেছনে এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছিল—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক শুনানিতে।
গত ২৫ মে রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি জানান, ৫ আগস্ট সকালে গণভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৈঠকে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন সেনাবাহিনীর পারফরম্যান্স নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্যের জবাবে জানান, পুলিশের সক্ষমতা শেষ প্রান্তে, গোলাবারুদ ফুরিয়ে এসেছে এবং বাহিনী ক্লান্ত। তখন সামরিক কর্মকর্তারা তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, এ সময় শেখ হাসিনা ক্ষোভে বলেন, “তাহলে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো এবং গণভবনেই কবর দাও।”
পরে তাকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে পুনরায় পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। ছোট বোন শেখ রেহানা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, এমনকি একপর্যায়ে তার পা জড়িয়ে ধরেন। এরপর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে কথা বলেন।
তাদের পক্ষ থেকে জয়কে বলা হয়, “মায়ের জীবন রক্ষার একমাত্র উপায় এখনই পদত্যাগ।” এই কথার প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা পদত্যাগে রাজি হন এবং সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।
এই ঘটনাগুলো শুনানিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে আসে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য