শিরোনাম
খুবিতে নজরুল উৎসব-২০২৫ অনুষ্ঠিত
'২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা কত গভীর ও শক্তিশালী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ ২৩ মে (শুক্রবার) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘নজরুল উৎসব-২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান ও সাহিত্য প্রতিটি প্রজন্মের জন্যই প্রাসঙ্গিক। তাঁর সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তরুণ সমাজ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ ও যুব সমাজের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা ও সঙ্গীত। তবে নজরুলকে শুধু দ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর সাহিত্যিক বৈচিত্র্য ও গভীরতা অবমূল্যায়িত হয়। তিনি ছিলেন প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি ও সাম্যের কবি- একই সঙ্গে মানবতার কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য যুগে যুগে চর্চিত হয়েছে এবং তা আজও অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, একুশে পদকপ্রাপ্ত আবৃত্তিকার ভাস্বর বন্দোপাধ্যায় ও খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ। মুখ্য আলোচক হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতের উপর প্রাঞ্জল আলোচনা করেন বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ দুলাল হোসেন।
নজরুল উৎসব-২০২৫ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাতের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মাহমুদ আলম। অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী প্রদীপ মহন্ত ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ভার্ঘব বন্দোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত- সকল প্রজন্মের জন্যই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিনাশী অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সৃষ্টিশীল কবিতা ও সংগীত যুগে যুগে তরুণদের জাগ্রত করেছে, জুগিয়েছে সাহস ও সংগ্রামের প্রেরণা। নজরুল বিশ্বাস করতেন, তরুণ সমাজ নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। এই সমাজে যতদিন শোষণ-নিপীড়ন থাকবে, ততদিন নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার প্রয়োজন থাকবেই। নজরুল কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নন- তিনি সমগ্র মানবজাতির।
বক্তারা আরও বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা কত গভীর ও শক্তিশালী, তা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর আদর্শ, স্বপ্ন ও মূল্যবোধ যেন আগামীর সমাজকে আলোয় উদ্ভাসিত করে- এই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সভা সঞ্চালনা করেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সেলিম পারভেজ ও প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী খায়রুন নাহার। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অতিথি শিল্পীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জবি শিক্ষার্থী ধ্রুব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। জানা যায় ওই শিক্ষার্থীর নাম এ আর ধ্রুব। তিনি রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (১৬ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে।
আজ শুক্রবার (২৩ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি জানান।
ধর্মান্তরিত হওয়ার পর এখন তার নাম আব্দুর রহমান ধ্রুব। তিনি ঢাকা দায়রা জজ থেকে হলফনামার মাধ্যমে তার নাম পরিবর্তন করেছেন।
হলফনামাতে তিনি ঘোষণা করেছেন 'আমি জন্ম সূত্রে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং আমি আইনতঃ যে কোন হলফ করার উপযুক্ত বটে। আমি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক। আমি আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে সক্ষম ও ক্ষমতাবান।আমি জাতীতে হিন্দু ধর্মালম্বি ছিলাম। যদিও হিন্দু গোত্রে আমার জন্ম হইয়াছে কিন্তু আমি স্কুলে অধ্যায়ণকাল থেকেই আমার হিন্দু ধর্মের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয় এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। আমি হিন্দু পরিবারের সন্তান হইয়াও আমার অনেক মুসলমান বন্ধু-বান্ধবের সহিত অধিক উঠা বসা এবং চলাফেরা ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অব্যাহত যাতায়াত চলতে থাকে বিধায় হিন্দু ধর্মের সহিত আমার কিছুটা দুরত্ব তৈরী হয়। হিন্দু ধর্মের নিয়মকানুন আমার নিকট ভাল লাগে না। আমি ইসলামী বই-পুস্তক ও হিন্দু ধর্মাবলীরবই পুস্তক পড়ে অনেক ভেবে চিন্তে দেখেছি যে, ইসলাম ধর্ম হল একটি পূর্ণাঙ্গ ইহকাল ও পরকালের ধর্ম ইসলাম ধর্মের মধ্যে পার্থিব শান্তি ও কল্যাণ রয়েছে।'
আরও পড়ুন
ধ্রুব নিজের দীর্ঘ আত্মঅনুসন্ধান ও মানসিক সংগ্রামের কথা শেয়ার করে জানান, তিনি ঢাকা দায়রা জজ আদালত থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সংবিধানসম্মত অধিকার বলেও তিনি জানিয়েছেন। সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, 'যারা সত্য খুঁজছেন, আমি শুধু বলব—একবার কুরআন পড়ুন খোলা মন নিয়ে। সত্য চাইলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পথ দেখাবেন। আমি সেই পথেই শান্তি পেয়েছি।'
ধ্রুব জানান, 'বহুদিন ধরে তিনি মানসিক বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন এবং জীবনের নানা সংকটে পড়েছিলেন। সেই সময়গুলোতে তিনি একাধিকবার জীবনের আশা হারিয়ে ফেললেও, প্রতিবারই এক অদৃশ্য শক্তি তাকে রক্ষা করেছে বলে জানান তিনি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করতে শুরু করেন, যার উত্তর তিনি খুঁজে পান ইসলাম ধর্মে।
তিনি আরও বলেন, আমি একসময় বহু দেব-দেবীতে বিশ্বাস করতাম, কিন্তু গভীরভাবে শান্তি খুঁজে পাইনি। কুরআন পড়েই আমি প্রথম সেই প্রশ্নগুলোর জবাব পেয়েছি—কেন জন্মেছি, জীবনের উদ্দেশ্য কী?'
নিজের পরিবার ও পরিচিতজনদের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম করা পোস্টটিতে ধ্রুব বলেন, 'আমি জানি, সবাই এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেবে না। তবে আমি চাই, আপনারা অন্তত একবার কুরআন পড়ুন—তর্কের জন্য নয়, সত্য জানার জন্য।'
চেম্বারে আপত্তিকর অবস্থায় আটক রাবির শিক্ষক-ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার
আপত্তিকর অবস্থায় নিজ চেম্বারে আটকের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ও একই বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রীকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন।
এর আগে, গত ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের একাডেমিক সভার সিদ্ধান্তমতে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ও ছাত্রীকে বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য বলেন, ’তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রী বিভাগের কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না বলে সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা অধিকতর তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১১ মে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের ৩০৭ নম্বর কক্ষ থেকে ওই শিক্ষক এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরের (এমবিএ) এক ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিক ও দুই শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন
পরে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ওই শিক্ষক দাবি করেন, ভিডিও প্রকাশ না করার জন্য দুজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক, একজন সাবেক সহসমন্বয়ক ও একজন ছাত্র ৩ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে ওই ছাত্রীও একই দাবি করেন। একই দিন সংবাদ সম্মেলন করে সাজ্জাদ হোসেন সজীব ও সিরাজুল ইসলাম সুমন নামের দুই সাংবাদিক দাবি করেন, তারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন।
যদিও অভিযোগ ওঠার পর তাঁরা চাকরি হারিয়েছেন। সজীব কালবেলা ও সুমন খবরের কাগজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন। দুজনকেই প্রতিষ্ঠান দুটি অব্যাহতি দিয়েছে। সুমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সহসভাপতি ও সজীব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগ সামনে আসার পর সংগঠন থেকেও তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ওই শিক্ষক বাদী হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে গত ২০ মে নগরের মতিহার থানায় সাবেক সহসমন্বয়ক, দুই সাংবাদিকসহ চার শিক্ষার্থীর নামে মামলা করেন। দুই সাংবাদিক ছাড়া অভিযুক্ত অন্য দুজন হলেন—আইবিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আতাউল্লাহ এবং আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব। টাকা দেওয়া নিয়ে শিক্ষক হেদায়েত উল্লাহ ও নাজমুস সাকিবের একটি কল রেকর্ডও ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ২১ মে ওই শিক্ষক ও ছাত্রীকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অভিযুক্ত ছাত্রী-শিক্ষক এবং চাঁদা গ্রহণকারী চার শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি করেন। পরদিনই সিন্ডিকেট সভায় শাস্তি পেলেন অভিযুক্ত শিক্ষক-ছাত্রী।
কোম্পানীগঞ্জে একরাতে ২ বাড়িতে ডাকাতি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একরাতে ২ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে এ উপজেলায় ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী উপজেলার বেশ কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি হয়।
শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরের দিকে দুই বাড়িতে ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম। এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের আজাদ ড্রাইভারের বাড়ি ও ৮নম্বর ওয়ার্ডের লাহারি বাড়িতে এ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আজাদ ড্রাইভারের নতুন বাড়ির বিল্ডিংয়ের লোহার দরজার লক ভেঙ্গে ৮-৯ জন মুখোশধারী ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে অস্ত্র ভয় দেখিয়ে নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, রাত ৩টার দিকে একই ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের লাহরি বাড়ির নূর ইসলাম সিদ্দিকের বিল্ডিংয়ের দরজার লক ভেঙ্গে ডাকাত দল ঘরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-মুখ বেঁধে ১০ আনা স্বর্ণসহ নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট নিয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাকাত দলের সদস্যদের পরনে প্যান্ট-লুঙ্গি, গায়ে গেঞ্জি-শার্ট ছিল। তারা স্থানীয় ভাষায় কথা বলে। তাদের বয়স ২৫-৩৫ এর মধ্যে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার আনোয়ার হোসেন মাসুদ ওরফে পিচ্ছি মাসুদ (৩৫) ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এসব ডাকাতির সাথে জড়িত থাকতে পারে। পিচ্ছি মাসুদ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের তবারক আলী ভূঁইয়া বাড়ির মো. আবুল কাশেম ওরফে আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি আত্মগোপনে থাকা বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, খুন, মাদক ও পুলিশের ওপর আক্রমণসহ প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে। জনশ্রুতি রযেছে, এর আগে পিচ্ছি মাসুদ কারাগারে থেকেও অনেক ডাকাতির নির্দেশনা দিয়েছিল।
আরও পড়ুন
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনোয়ার হোসেন মাসুদ ওরফে পিচ্ছি মাসুদের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম আরো বলেন, পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এক বাড়ি থেকে ১ লক্ষ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। আরেক বাড়ি থেকে তেমন কিছু নিতে পারেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক ভবন, হলসহ ১২ স্থাপনার নাম পরিবর্তন করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২টি প্রশাসনিক ভবন ও হল, ৩ অ্যাকাডেমিক ভবন এবং ২টি গেটের নামসহ ১২টি স্থাপনার পুনঃ নামকরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৯ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পুনঃ নামকরণকৃত স্থাপনাগুলো হলো-
বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন ও শহীদ মনসুর আলী প্রশাসন ভবনকে যথাক্রমে প্রশাসন ভবন-১ ও প্রশাসন ভবন-২, শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
ও শেখ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলকে যথাক্রমে বিজয়-২৪ হল ও জুলাই-৩৬ হল করা হয়।
এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কুদরত-ই-খুদা অ্যাকাডেমিক ভবন, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া অ্যাকাডেমিক ভবন ও কৃষি অনুষদ ভবনের
নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে জাবির ইবনে হাইয়ান ভবন, জামাল নজরুল ভবন ও কৃষি ভবন করা হয়েছে।
এছাড়াও শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনকে সিনেট ভবন, শেখ কামাল স্টেডিয়ামকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম করা হয় এবং শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মডেল স্কুল
আরও পড়ুন
রাজশাহী ২জন শহীদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেইটের ও বিনোদপুর গেইটের নাম বদলে শহীদ সাকিব আঞ্জুম গেইট ও শহীদ আলী রায়হান গেইট করা হয়েছে
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফাসান আলম বলেন, "স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শুধুই প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি ২৪ এর ছাত্র আন্দোলনের প্রতিফলন। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও গণতান্ত্রিক হওয়া উচিত। জুলাই আন্দোলন আমাদের সামনে সেই দাবি এনেছিল। পুরনো নামগুলো ছিল একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসের প্রতিনিধিত্বকারী, যেখানে বহু শিক্ষার্থীর মতামত উপেক্ষিত ছিল। এখনকার এই পরিবর্তন, বিশেষ করে শহীদ সাকিব আঞ্জুম ও শহীদ আলী রায়হানের নামে গেইটের নামকরণের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।"
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নিশাত আরা বলেন, "আমরা এই নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন এক মূল্যবোধের যাত্রা শুরু হতে দেখছি, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো একক দলের নয়। ‘বিজয়-২৪ হল’ বা ‘জুলাই-৩৬ হল’ এর মতো নামকরণ আমাদের ২৪ এর আন্দোলনের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করবে।"
এর আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল মডেল স্কুল, শেখ কামাল স্টেডিয়াম, নির্মাণাধীন এএইচএম কামারুজ্জামান ও শেখ হাসিনা হলেরও নামফলক ভেঙে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সেদিনই তারা এসব স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবি জানান।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, "ভবনগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য আমাদের কাছে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্মাণাধীন নতুন দুইটি হলের বাজেট এবং প্রক্রিয়াধীন কিছু জটিলতার জন্য এই মূহুর্তে নাম পরিবর্তন করা হয়নি। নির্মাণকার্য শেষ হলে আমরা এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।"
মেয়েদের হলের নাম 'জুলাই ৩৬' রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে আমাদের মেয়েদের অনেক বড় অবদান ছিল। তাদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে একটা ছেলেদের এবং একটা মেয়েদের হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, সিন্ডিকেট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা যে নামই নির্ধারণ করি না কেন, এতে সমলোচনা আসবেই। নির্মাণাধীন নতুন দুইটি হলের নাম পরিবর্তন করতে হলে যাবতীয় নথি পরিবর্তন করতে হবে। নির্মাণকাজ শেষ হলে আমরা এ দুটি হলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য