শিরোনাম
দেশ ত্যাগের খবর উড়িয়ে দিয়ে ‘ফাইট’ করে যাওয়ার ঘোষণা ফারুকের
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত পরিচালক ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক অফিস আদেশে ফারুক আহমেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে এনএসসি। ফলে তিনি আর বিসিবির পরিচালক নন। বিসিবির পরিচালক না থাকায় কার্যত সভাপতির পদও শূন্য হয়ে গেছে।
এর মধ্যেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে দেশ ছেড়েছেন ফারুক আহমেদ। যদিও এমন খবর উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এক ভিডিও বার্তায় ফারুক নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি দেশ ছাড়েননি। গুজবে কান না দিতেও অনুরোধ করেছেন তিনি।
দেশ ত্যাগের গুঞ্জনের ব্যাপারে ফারুক বলেন, ‘পুরোপুরি মিথ্যা কথা। যারা আমাকে নিয়ে নাটক তৈরি করেছে এতদিন, তাদেরই একটা নাটকের শেষ অংশ মনে হচ্ছে এটা। আমি দেশেই আছি, গুজবে কান দিবেন না। আমি আগামীকাল একটি সংবাদ সম্মেলন করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে, পদচ্যুতির বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না ফারুক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর। তার দাবি, তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করা হয়েছে।

দেশের একটি গণমাধ্যমকে ফারুক বলেন, ‘আমি আনচ্যালেঞ্জড যেতে দেব না। ফাইট করে যাব। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখব। আমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। আমি আইসিসিতে জানিয়েছি। এরই মধ্যে সেক্রেটারির মাধ্যমে আইসিসি সভাপতি জয় শাহকে পুরো ব্যাপারটি জানিয়েছি। এছাড়া আইসিসির অন্তত ৫-৭ জন পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবগত করেছি।’
এর আগে ফারুকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যহারের অভিযোগ এনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে অনাস্থার চিঠি পাঠায় বিসিবির ১০ পরিচালকের ৮ জন। কিন্তু তারপরও ফারুক মনে করেন, তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আশা দেখছেন, বছর দুয়েক আগে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের মতো তিনিও জায়গা ফিরে পাবেন।
ফারুক বলেন, ‘আমি যে অন্যায়ের শিকার, আমাকে যে জোরপূর্বক পদচ্যুত করা হয়েছে, আমি তা এরই মধ্যে আইসিসির কাছে জানিয়েছি। আমার বিশ্বাস এবং আমি নিশ্চিত আইসিসি ত্বরিৎ তাদের অ্যাকশন শুরু করবে। দেখবেন আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই বিসিবিতে আইসিসির চিঠি আসবে। দুই বছর আগে শ্রীলঙ্কায়ও এমন ঘটনা ঘটেছিল। শ্রীলঙ্কায় মন্ত্রীপরিষদ পুরো বোর্ড ভেঙে দিয়েছিল। তখন আইসিসি ত্বরিৎ পদক্ষেপ নিয়ে পুরো বোর্ডকে আবার পূনর্বহাল করেছিল।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও তেল আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ওয়াশিংটনের ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তুলা ও তেল আমদানি করতে চায় ঢাকা। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাপানে অনুষ্ঠিত নিক্কেই এশিয়া বৈঠকের ফাঁকে দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রফেসর ইউনূস।
তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু বিশ্বের প্রত্যেক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান তাই আমরা এ প্রস্তাব দিয়েছি। যদি আমেরিকান পণ্য আরও বেশি কেনার প্রস্তাব গৃহীত হয় তাহলে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে এ পণ্য আমদানি কমিয়ে দেবে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি করে আমদানি করবে।”
ড. ইউনূস বলেন, “উদাহরণ স্বরূপ, আমরা মধ্য এশিয়া থেকে প্রচুর তুলা কিনি। ভারত থেকে, অন্যান্য দেশ থেকে, এখন আমরা ভাবছি… কেন আমরা তুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনি না? এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি কমবে।”
চলতি অর্থ বছরে গত জুন থেকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। দেশটি থেকে আমদানি করেছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যারমধ্যে তুলা ছিল ৩৬১ মিলিয়ন ডলারের।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশ এ অর্থ বছরে ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের তুলা কিনেছে। যার কিছু এসেছে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান থেকে। সব মিলিয়ে এ অর্থ বছরে ঢাকা যত পণ্য আমদানি করেছে তার মধ্যে তুলাই ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যারা তুলা উৎপাদন করে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্যতা তৈরি হয়েছে; যারা মার্কিন প্রশাসনে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক সুবিধা দেয়। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীরা আমাদের খুব ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। তারা আমাদের মার্কিন প্রশাসনে কিছু রাজনৈতিক সুবিধা দেয়।”
অপরদিকে জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই পণ্যটিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রফেসর ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কবে কখন বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে সেটির দিন-তারিখ এখনও নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া শুল্ক কতটা ছাড় করানো যাবে সেটিও নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্প বাড়তি শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন সেটিকে ‘বাংলাদেশ হুমকি হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখে’ বলেও জানান তিনি।
ড. ইউনূস এই সাক্ষাৎকার যখন দেন তখন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কংগ্রেসের। প্রেসিডেন্ট আইনসভার এই দায়িত্বকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন না।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেছেন, সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতর লুটপাট হওয়া ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার শনাক্ত ও সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থগুলো উদ্ধার করতে পারবে তখন দুটি আলাদা ফান্ড গঠন করা হবে। যেগুলো থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অর্থ দেওয়া হবে। এছাড়া গরীব মানুষকে উদ্যোক্তা বানিয়ে তাদের জীবন ‘বদলে’ দিতে এসব অর্থ কাজে লাগানো হবে।
এদিকে গত সপ্তাহে জানা যায়, ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিক্কেই এশিয়াকে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশে এ প্রশ্নের উত্তর দিইনি। যেহেতু আমি বাংলাদেশে এ নিয়ে কিছু বলিনি, যদি আমি এখন জাপানে এ ব্যাপারে বলি, তাহলে বিষয়টি আমার জন্য ঝামেলা সৃষ্টি করবে।”
সূত্র: নিক্কেই এশিয়া।
ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে চান আনচেলত্তি
পথ হারা ব্রাজিলকে কক্ষপথে আনতে ব্রাজিলে অবস্থান করছেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। গত ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে সেলেসাওদের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন পরিচয় পর্ব। কথা বলেছেন মন খুলে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল নিয়ে তার ধারণা, নিজের খেলোয়াড়ি ও কোচিং ক্যারিয়ার, সিনেমা দেখার নেশা এবং লেখালেখিসহ আরও অনেক কিছু নিয়ে কথা বলেন আনচেলত্তি।
নিজের স্বপ্নের কথাও জানান ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা এ কোচ। ঐতিহ্যাবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিল দলের কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়াতে চান আনচেলত্তি। শুধু তাই নয় ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ফুটবল বিশ্বকে বেস্ট সেলার বই উপহার দিতে যান এই ইতালিয়ান মাষ্টারমাইন্ড। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের অধরা ‘হেক্সা’ স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে চান তিনি।
আরও পড়ুন
আনচেলত্তি বলেন, আমি এখন পর্যন্ত তিনটি বই লিখেছি। ‘আই প্রেফার দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ’ বইটি আত্মজীবনীমূলক। ‘মাই ক্রিসমাস ট্রি’ বইয়ে আমি ব্যাখ্যা করেছি গত ২০ বছরে কৌশলগত ও কাজের জায়গা থেকে ফুটবল পাল্টেছে এবং অন্যটি ‘কুয়ায়েট লিডারশিপ’। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল নিয়ে চতুর্থটি শিগগিরই বের হবে। তবে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতলে যে বইটি লিখব সেটি বেস্টসেলার বই হবে।
এখন পর্যন্ত ৪০ জন ব্রাজিলিয়ানকে কোচিং করিয়েছেন আনচেলত্তি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান কে— এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো নাজারিওকে সবার উপরে রেখেছেন তিনি। এসি মিলানে আনচেলত্তির অধীনে খেলেছেন ব্রাজিলের হয়ে দুবার বিশ্বকাপজয়ী রোনালদো।
তিনি বলেন, রোনালদো টেকনিক্যালি সেরা। তার খেলার ধরণ, মাঠে তার প্রভাব অবিশ্বাস্য। সে বিশ্বের সবচেয়ে মজার মানুষও। কাফু ছিল সবচেয়ে পেশাদার। তবে মজার মানুষ আরও অনেকেই আছে। এই যেমন মিলিতাও, ভিনিসহ আরও অনেকে। ভিনি খুব বিনয়ী। আমার সবার সঙ্গেই খুব ভালো সম্পর্ক। অনেকেই আমাকে ফোন করে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।
খেলোয়াড় হিসেবে আনচেলত্তির ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৯৯২ সালে। কোচিংয়ে নামার পর ইতালির সহকারী কোচ হিসেবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছেন ব্রাজিলের। ভাগ্যই তাকে ব্রাজিল পর্যন্ত টেনে এনেছেন বলে মনে করেন আনচেলত্তি।
উল্লেখ্য, ব্রাজিলকে ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে দলটির কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন আনচেলত্তি। আপাতত তার দায়িত্ব হলো ব্রাজিলকে আগামী বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার টিকিট পাইয়ে দয়া। আনচেলত্তির প্রথম অ্যাসাইনম্যান্ট আগামী ৫ জুন ইকুয়েডরের বিপক্ষে।
পদত্যাগ করতে পারেন ফারুক, দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আমিনুল
দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নাজমুল হাসান পাপনের জায়গায় বিসিবিপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। তবে এখন জোরাল গুঞ্জন পদত্যাগের করতে যাচ্ছেন তিনি। তার জায়গায় বিসিবির নতুন প্রধান হতে যাচ্ছেন সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাসভবনে গিয়েছিলেন বিসিবিপ্রধান ফারুক। ক্রীড়া উপদেষ্টা আলোচনায় ফারুককে বার্তা দিয়েছেন, তিনি বিসিবির শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন। যদিও কেন পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন, সে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি ফারুককে।
এর আগে, গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত দুই পরিচালক জালাল ইউনুস ও আহমেদ সাজ্জাদুল আলমকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবর্তে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ এবং ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক নাজমূল আবেদীনকে এনএসসি তাদের নতুন পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেয়। পরে পরিচালকদের ভোটে বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন ফারুক। এর আগে বোর্ড সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাজমুল হাসান।
এদিকে বিসিবির বোর্ডে পরিবর্তন আনার কথা ভাবলেও ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর অবস্থানের বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে। কেননা, সরকার চাইলেই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনতে পারে না। বিসিবির পরিচালক এবং সভাপতিকেও হতে হয় নির্বাচিত।
অবশ্য ফারুক আহমেদ যদি নিজ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে ভিন্ন কথা। সে পথেই নাকি হাঁটার কথা ভাবছেন ফারুক আহমেদ। একটি সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগ নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য দু–এক দিন সময় চেয়েছেন ফারুক।
এদিকে কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন, তিন মাসের জন্য বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নিতে পারেন জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আগামী মাসেই যার আইসিসিতে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে আমিনুল ইসলাম বিসিবির দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমাকে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে এখনো বলা হয়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে গতকালের সভায়ও আমি ছিলাম না। তবে ১০-১৫ দিন আগে আমার সঙ্গে উপদেষ্টার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তারা আমাকে কোনো একটা ভূমিকায় কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে চাচ্ছেন। আমিও তাতে রাজি হয়েছি।’
তবে বিসিবির দায়িত্ব নিলেও যে সেটা লম্বা সময়ের জন্য নয় সেটাও জানিয়েছেন আমিনুল, ‘আমার বিসিবিতে লম্বা সময় ধরে থাকার ইচ্ছা নেই। আমাকে হয়তো আবেগ প্রবণ ভাবতে পারেন, তবে একটা দেশের যখন সৈনিক দরকার হয়, ওই সৈনিক কিন্তু তার পারিশ্রমিক বা নিজের স্বার্থ দেখে না। কাজটাই তার কাছে আগে। আমার চিন্তাও সেরকম। বিসিবির যে কোনো দায়িত্ব নিতে আমি প্রস্তুত। দেখা যাক কি হয়।’
বিকেএসপিতে তায়কোয়ানডো কোচ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিপীড়নের অভিযোগ
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর তায়কোয়ানডো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ মো. নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। চেহারায় শান্ত-সৌম্য, কথায় ধর্মীয় আবহের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই বিভাগে দুর্নীতির রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
সূত্র জানায়, নূরুল ইসলাম বাংলাদেশের তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের বিতর্কিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা ওরফে রণজিৎ দাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ফেডারেশনের অন্দরমহলে তিনি ‘ক্রাইম কোর’-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেই পরিচিত।
২০১২ সালে বিকেএসপিতে তায়কোয়ানডো কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় তিনি ঘুষ গ্রহণ করেছেন, কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সরকারি বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন এবং খেলোয়াড়দের পারিবারিক দুর্বলতা পুঁজি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দুই সাবেক ক্যাডেট মো. ইমন হাসান ও আকাশ শেখ অভিযোগ করেন, তারা নূরুল ইসলামকে ৪ লাখ টাকা করে ঘুষ দিয়েছেন। পরবর্তীতে তারা রানা সাহেবকে ২ লাখ টাকা করে দিয়ে সেনাবাহিনী ও আনসারে চাকরি পান।
একইভাবে, মো. সাইমুল হাসান সাদকে রাশিয়ায় খেলার সুযোগ পাইয়ে দিতে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করা হয়। পরে আনসারে চুক্তিভুক্ত হয়ে তিনি মাসিক ৮ হাজার টাকা করে রানা সাহেবকে দিতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন
এছাড়া বিকেএসপির ক্যাডেট নং ১১, মো. ইউসুফ, গুরুতর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। অন্যদিকে, ক্যাডেট মুমিত হাসান ট্রেনিংয়ের সময় চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর কোচ তা গোপন রাখেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এমনকি চিকিৎসা খরচ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরেক ছাত্র মো. রাসেল, যিনি দরিদ্র ও অসুস্থ ছিলেন, তাকে তুচ্ছ অভিযোগে বহিষ্কার করে সাজানো নথি তৈরি করা হয়। অভিযোগ, কোচ তার পরিবার থেকে আর্থিক সুবিধা না পেয়ে প্রতিহিংসামূলকভাবে এই ব্যবস্থা নেন।
বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ এসেছে, কোচ নূরুল ইসলাম মহিলা অভিভাবকদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, যেসব অভিভাবক প্রস্তাবে সাড়া দেননি, তাদের সন্তানদের বহিষ্কার কিংবা কোণঠাসা করা হয়েছে।
এছাড়া, বিকেএসপির অভ্যন্তরীণ তথ্য নিয়মিতভাবে ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা সাহেবের কাছে সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় প্রতিযোগিতায় বিকেএসপির দলকে বাদ দিয়ে রানা সাহেবের পছন্দের দলকে জয়ী করতে একাধিকবার কারসাজি করার অভিযোগও রয়েছে।
২০১৩ সালে ব্ল্যাক বেল্ট পরীক্ষার নামে ১৪ জন ক্যাডেটের কাছ থেকে জনপ্রতি ২১০ ডলার করে আদায় করা হলেও প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র ১০৫ ডলার। অতিরিক্ত অর্থের কোনও হিসাব আজও পাওয়া যায়নি।
এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, আজও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে বিকেএসপি ও বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিকেএসপির এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এই ধরনের অপকর্মের তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদরা অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে।”
সাবেক ক্যাডেট ও অভিভাবকরা যথাযথ তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে বলেন, জাতীয় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও গুণগত মান রক্ষায় এখনই সময় উদ্যোগী হওয়ার।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য