শিরোনাম
তরুণদের দ্বীনের পথে আহ্বানে রাজশাহী কলেজ দ্বীনি সোসাইটির ব্যতিক্রমি উদ্যোগ
রাজশাহী কলেজ দ্বীনি সোসাইটির উদ্যোগে সম্প্রতি তরুণদের ইসলামের মূল মূল্যবোধ ও দ্বীনের পথে চলার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণে ফিলিস্তিন ও উম্মাহর প্রতি দায়িত্ব শীর্ষক ব্যতিক্রম সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বর্তমান সময়ের তরুণ সমাজ নানা প্রলোভন ও বিভ্রান্তির শিকার বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করতে আলোচকরা বক্তব্য রাখেন।
রবিবার (২৫ মে ) সকাল ১০ টায় রাজশাহী কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী এই সেমিনারটির উদ্বোধন করেন। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহর পরিচালক আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক। আরো উপস্থিত ছিলেন, মুহতামিম জামিয়া আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা মুফতি আব্দুল্লাহ তালহা (হাফি.), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার মাহমুদুল হাসান, রাজশাহী কলেজ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ষষ্টিতলা শাইখ মুফতি নূর মুহাম্মাদ (হাফি)।
সেমিনারে প্রধান আলোচক আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক বর্তমান ফিলিস্তিনের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের সামনে ইসলামিক নানা দিক বিষয়ে আলোচনা রাখেন। তিনি বলেন এই যুগের মুসলমানরা আজকের বানু ইসরাইল। গোলামি আজকের দিনের মুসলমানদের রক্তে মিশে আছে। মুসলমানরা আজকে গোলামি ছাড়া স্বাধীনভাবে কিছু চিন্তা করতে পারে না।
তিনি বলেন আমাদের কে অতীতের বানু ইসরাইল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মুসলমানরা আজ পর্যন্ত কখনো নিজেদের শক্তির বলে কোনো যুদ্ধ জয় করতে পারেনি, জয় করেছে আল্লাহর প্রতি ইমান আর ভরসা রাখার ফলে।
আমাদের কে গোলামি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, তা না হলে আমরা কখনো পূর্ণ বিজয়ের স্বাদ অর্জন করতে পারবো না।
আরও পড়ুন
সেমিনারে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য রাজশাহী কলেজ দ্বীনি সোসাইটি শিক্ষার্থীদের দ্বীনের প্রতি আহ্বানে বিভিন্ন সময় কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা, ইসলামি শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা, জীবন দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। রাজশাহী কলেজ দ্বীনি সোসাইটির এই ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ তরুণদের দ্বীনের পথে নিয়ে আসতে ভবিষ্যতে ভবিষ্যতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আরও প্রসারিত হলে যুব সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত হবে এবং দেশের সার্বিক নৈতিক উন্নতি সাধিত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির আয়োজকরা।
‘আমি যেন বার বার ফিরে আসতে পারি আপনাদের হৃদয়ে’
দীর্ঘ ৩১ বছর ৫ মাসের অনন্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাবিহা সুলতানা। চাকরি জীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরজনিত ছুটিতে গমন করেছেন তিনি। এই সুদীর্ঘ পথচলায় রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি, ভালোবাসা, সাফল্যের গল্প এবং অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) কলেজের অডিটোরিয়ামে অবসরগ্রহণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অশ্রুসজল ভালোবাসায় সিক্ত হন গুণী এই অধ্যাপিকা।
কুমিল্লা শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অধ্যাপক সাবিহা সুলতানা পেশাগত জীবনে যাত্রা শুরু করেন ১৯৯৩ সালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে। পরবর্তীতে তিনি ইডেন মহিলা কলেজে প্রায় পাঁচ বছর এবং ধামরাই সরকারি কলেজে এক বছর দুই মাস শিক্ষকতা করেন। ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি সরকারি বাঙলা কলেজে যোগ দেন এবং এখানেই শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি অতিক্রম করেন।
শুধু একাডেমিক শিক্ষাদানেই নয়, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান। মঞ্চনাটক, বিতর্ক, উপস্থাপনা ও সাহিত্যচর্চায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে গড়ে তুলেছেন এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন
বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক প্রতিনিধি, স্পোর্টস কমিটির সদস্য এবং কলেজের সাহিত্য সাময়িকী ম্যাগাজিনের সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিটি ভূমিকায় তিনি রেখেছেন পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর ও মমতার পরশ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে অধ্যাপক সাবিহা সুলতানা বলেন, “জীবনের তিনটি বড় প্রাপ্তি—সুস্থতা, সম্মান ও অর্জন। আমি তা পেয়েছি। আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমি চাই, ভালোবাসার মধ্যেই যেন বারবার ফিরে আসতে পারি আপনাদের হৃদয়ে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করেন তার পাঠদান, স্নেহ এবং পথপ্রদর্শনার কথা। কেউ কেউ চোখ মুছতে মুছতে বলেন—“তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন অভিভাবক, একজন আশ্রয়।”
অধ্যাপক সাবিহা সুলতানার বিদায় যেন এক যুগের অবসান হলেও, তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ চিরকাল বেঁচে থাকবে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে। শিক্ষকতা পেশার অনন্য আলো হয়ে তিনি রয়ে যাবেন সকলের অনুপ্রেরণায়।
ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন ১ম পুনর্মিলনীতে
প্রাক্তনদের পদচারণায় মুখরীত হতে যাচ্ছে হাপুনিয়া মহাবাগ স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাস
শেরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাপুনিয়া মহাবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বহু প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনী ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
‘চলো মাটি উচ্ছ্বাসে, ফিরে যাই ক্যাম্পাসে’—এই প্রাণবন্ত স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজক কমিটি সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে পুনর্মিলনীতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে র্যালি, সঙ্গীতানুষ্ঠান, আলোচনা সভা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় আয়োজন থাকবে। এছাড়াও, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হবে যা হবে অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অংশ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ১২ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত। আগ্রহী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে পুনর্মিলনী নিয়ে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রাখতে পারা পুরনো স্মৃতি আর ছাত্রজীবনের সোনালি দিনগুলোকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ব্যতিক্রমী এই পুনর্মিলনী হবে স্মরণীয় এক মিলনমেলা।
তাঁদের বিশ্বাস, এই পুনর্মিলনী পুরনো বন্ধুদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে বিকেলে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (১৮ মে) বিকেল ৪টায়এ আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (১৭ মে) বিকেল ৪টায় ইডেন মহিলা কলেজের ১ নম্বর গেটের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটামসহ ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের সদস্য ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী জাফরিন আক্তার এবং ঢাকা কলেজের ছাত্র তানজিমুল আবিদ।
বক্তব্যে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। দাবিগুলো হলো:
১) রোববারের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
২) অন্তর্বর্তী প্রশাসকের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ভুতুড়ে ফলাফলেরর সমাধান, বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধসহ যাবতীয় অসঙ্গতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
৩) অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের পরবর্তী ২ কার্যদিবসের মধ্যে ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৪) আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা এবং লোগো/মনোগ্রাম প্রকাশ করতে হবে।
৫) আগামী এক মাসের অর্থাৎ আগামী ১৬ জুন, ২০২৫ খ্রি. এর মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘রোববারের মধ্যে যদি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে সোমবার (১৯ মে) থেকে আমরা আবার মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। এ কর্মসূচি কেমন হবে, সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। একই সঙ্গে আমরা বাকি দাবিগুলোর বিষয়েও নজর রাখবো। আমাদের যদি আবার মাঠে নামতে হয়, তাহলে এবার নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ নিয়েই ক্যাম্পাসে ফিরবো। এজন্য সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির পরিবর্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিগুলো আমরা বেছে নেব।’
উল্লেখ্য, চব্বিশ ঘন্টার আল্টিমেটাম প্রায় শেষ হলেও সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের রূপরেখা প্রকাশ করে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় নি।
লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে স্থবির সাত কলেজের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং মাউশির টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। ২০১৭ সালে ঢাবিতে অধিভুক্তির পর থেকে প্রায়ই নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কলেজ সমূহের শিক্ষার্থীরা। রুটিন অনুযায়ী ক্লাস না হওয়া, সময়মতো পরিক্ষা না হওয়া, নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার না থাকা, পরিক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়, স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় না থাকা সহ আরো অনেক অভিযোগ ছিলো শিক্ষার্থীদের।
মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা বা যথাসময়ে পরিক্ষা আয়োজন, পরিক্ষার ফলাফল সমন্বয়সহ আরো নানা দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন। মিছিল, মিটিং, সভা, সেমিনার, সমাবেশ, অবরোধ, ব্লকেডসহ আরো নানা উপায়ে রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
সর্বশেষ, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিগত কয়েকমাস যাবৎ সাত কলেজকে নিয়ে আলাদাভাবে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করলে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে আন্দোলন শিথিল করে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত বছরের ২৯শে ডিসেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজকে সভাপতি করে চার মাস মেয়াদী চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এই কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়ন করার।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিমউদ্দিন খান।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আন্দোলন সংগ্রাম শেষে সরকারের এ ধরণের উদ্যোগে অনেকটা খুশী হয়েছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সাত কলেজের সংকট নিরসণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মর্যাদার স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, মাউশি, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিটের সাংবাদিকদের সাথে সুদীর্ঘ আলাপ আলোচনা করে উক্ত কমিটি। ধাপে ধাপে আলোচনা শেষে প্রত্যেকটি কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন কমিটির সদস্যবৃন্দ।
সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ই মার্চ সাত কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ৪ ঘন্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনা শেষে সাত কলেজের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঠিক করা হয়— ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’।
গত এপ্রিল মাসের মধ্যে এ কমিটির কাজ সমাপ্ত করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মে মাসের প্রথমার্ধ সমাপ্ত হওয়ার পরেও তা প্রকাশ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নেতৃত্বাধীন উক্ত কমিটি।
সুদীর্ঘ চার মাসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা না পাওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়োগসহ অধ্যাদেশ জারি না করা হলে ফের আন্দোলন দানা বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন অনুমোদন ও ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি মিটিং হওয়ার কথা থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না। ইউজিসি আইনে যেহেতু এ ধরণের প্রশাসন অনুমোদনের সুযোগ নেই, সেহেতু সংস্থাটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হয়ে আছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউজিসি।
এদিকে দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের শুধু আশ্বাস দিয়ে কাজ না করার অভিযোগ তুলেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী যাকারিয়া বারী সাগর।
সাগর বলেন, “সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের পর, বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুরোনো সংকটের সমাধান দিতে এবং সেশনজট নিরসন করতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির যাবতীয় কর্মকাণ্ড শুরু থেকেই দেখভাল করছে ইউজিসি। তাদের সকল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ছিল। সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি চার মাসের মধ্যেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো, রূপরেখা তৈরি করে রেখেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল হওয়ায় অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউজিসির পরামর্শ অনুযায়ী ঢাবি সিন্ডিকেট সভায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন পাস হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যায়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কোনও এক অদৃশ্য ছায়ায় আটকে আছে সেই ফাইল।”
দাবি আদায়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাচ্ছি না। এমতাবস্থায় আমরা পড়ার টেবিল ছেড়ে পুনরায় রাজপথে এসেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ আদায় করব।”
এ নিয়ে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের আরেক মুখপাত্র ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন, “মাননীয় পরিকল্পনা উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি অর্থ উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমাধান করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। আশা করি, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমস্যা সমাধান হলে বিশ্ববিদ্যালেয়র অধ্যাদেশ দ্রুতই আদায় করে নিতে পারবো। এতোদিন ধাপে ধাপে কাজগুলো গুছিয়ে আনার জন্য আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেইনি। কিন্তু আমাদের নিয়ে খেলাধুলার সুযোগ কাউকে দেব না। আমরা সম্মান করতে জানি, আর সম্মানের মূল্য ঠিক সেভাবেই চাই। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যদি জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী প্রশাসন অনুমোদন না করে, তাহলে আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।”
অপরদিকে, বিগগত ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তির আবেদন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২৬শে জানুয়ারি (রোববার) রাতভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলাকালীন সংঘর্ষের জেরে পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল ও সম্মানজনক পৃথকীকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যার ফলে স্থগিত হয়ে পড়ে সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রম। স্থগিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সাত কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেন ৩৩ হাজার ১০১ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।
অধিভুক্তি বাতিলের ঘোষণার পর থেকে কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় আছে সাত কলেজ।
উল্লেখ্য, শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে রাতারাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিলো। কলেজসমূহ হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
এস এম মঈন উদ্দীন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য