শিরোনাম
এই ঈদে স্যামসাং মোবাইলের সাথে সুজুকি বাইক জেতার সুযোগ
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘দ্য গ্র্যান্ড ইনভাইট’ নিয়ে এসেছে স্যামসাং, যেখানে থাকছে দারুণ সব উপহার ও অফার।
এই ক্যাম্পেইনের আওতায় গ্রাহকরা নির্বাচিত স্যামসাং ডিভাইসের উপর সর্বোচ্চ ৯৬,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও থাকছে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ ডিল এবং আকর্ষণীয় পুরস্কার জয়ের সুযোগ—যেমন: স্যামসাং টিভি, রেফ্রিজারেটর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এমনকি নতুন সুজুকি মোটরসাইকেল (সুজুকি জিক্সার এস এফ বা সুজুকি এক্সেস ১২৫) জেতার সম্ভাবনা। গ্রাহকদের আরও নিশ্চিন্ত রাখতে, স্যামসাং নির্দিষ্ট কিছু মডেলে প্রথম দুই বছরে ফ্রি ওয়ারেন্টি দিচ্ছে।
ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ অফিস - এমএক্স ডিভিশনের হেড অব প্রোডাক্ট এন্ড মারকম সৈয়দ মো. বদরুল আরিফীন বলেন,
আরও পড়ুন
“এই ঈদ-উল-আযহায় আমাদের গ্রাহকদের ঈদ উদযাপন আরও বিশেষ করে তুলতে আমাদের এই প্রচেষ্টা। আমাদের প্রযুক্তি পণ্যের মাধ্যমে সবাই যেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন।”
এই অফারগুলো নতুন গ্যালাক্সি এ৫৬ সহ বিভিন্ন নতুন স্যামসাং ডিভাইসের জন্য প্রযোজ্য।
গ্রাহকরা যে কোন নির্ধারিত স্যামসাং আউটলেট থেকে ডিভাইস ক্রয়ের পর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস পাবে, যেখানে কেনা পণ্যের সাথে প্রাপ্ত অফার বা পুরস্কারের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকবে।
হিট স্ট্রোক কি ও তার প্রতিকার
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালি প্রসারিত করে অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয় শরীর। ঘামের মাধ্যমেও তাপ কমায় শরীর। তবে প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হতে পারে হিট স্ট্রোক। শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণক্ষমতাও তখন নষ্ট হয়ে যায়।
হিট স্ট্রোক কি?
হিট স্ট্রোক হচ্ছে যখন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়ার্স বা তার চেয়ে বেশি হয় এবং একইসাথে মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা-যেমন অবচেতন হওয়া, অর্ধচেতন হওয়া কিংবা অজ্ঞান হওয়া। কারও এই অবস্থা সৃষ্টি হলে তাকে আমরা হিট স্ট্রোক বলি।
হিট স্ট্রোক এর ঝুঁকি বেশী কাদের?
সাধারণত দীর্ঘ সময় বাইরে কিংবা গরম পরিবেশে যারা কাজ করে থাকেন যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক,খেতমজুর ইত্যাদি, তাদের মধ্যে হিট স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা খুব বেশি। কেউ দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে আছে-তারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। এতে মাথাঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন অনেকেই। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাচ্চা, বয়স্ক ও যারা ওবেসিটিতে ভুগছে তারা হিট স্ট্রোকে সহজেই আক্রান্ত হয়।
হিট স্ট্রোক কিভাবে হয়?
একটানা রোদে থাকলে গরমে ঘামের সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। আমাদের শরীরের ভেতরে নানা রাসায়নিক ক্রিয়ার কারণে সব সময় তাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ঘামের সাহায্যে সেই তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয়। ঘামের সঙ্গে লবণ বেরিয়ে যাওয়াতে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরকে করে তোলে অবসন্ন ও পরিশ্রন্ত। যখন আমাদের শরীর বেশি গরম হয়ে যায় তখন এক পর্যায়ে দেখা যায় আর শরীর থেকে ঘাম বের হচ্ছে না।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কি কি?
হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে শরীরের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন:-
-তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়
-মাথা ব্যথা হয়
-দুর্বল লাগে
-ঝিমুনি
-বমি বমি ভাব হয়।
-এছাড়াও চামড়ার রং লালচে হয়ে যায়
-অনেক সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে -খিঁচুনি হতে পারে
-হৃদপিন্ডের গতি বেড়ে যায়
হিট স্ট্রোক হলে করণীয় কী?
যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বিষয়টিকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০০ জন হিট স্ট্রোক রোগীর মধ্যে ৩০ জন রোগী মারা যাচ্ছে। কারও হিট স্ট্রোক হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। তবে হিট স্ট্রোক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির আগে রোগীর জন্য প্রাথমিকভাবে যা করণীয় তা হচ্ছে:
-রোগীকে অপেক্ষাকৃত শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে
-ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বা বাতাস করতে হবে।
-ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে।
-মুখে যদি রোগী খেতে পারে সেক্ষেত্রে প্রচুর পানি বা খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।
-কাঁধে-বগলে অথবা কুঁচকিতে বরফ দিতে হবে
তারপর যতদ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
-হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক স্যালাইন দেয়াসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
হিট স্ট্রোক থেকে প্রতিরোধের উপায়:
গরমের দিনে কিছু নিয়ম মেনে চললে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচা যায়
● ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, হালকা রঙের সুতির কাপড় হলে ভালো
● যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন
● রোদে বাইরে যাওয়ার সময় টুপি, ক্যাপ অথবা ছাতা ব্যবহার করুন
● প্রচুর পরিমাণে পানি বা খাবার স্যালাইন অথবা ফলের রস পান করতে হবে
● রোদে দীর্ঘ সময় ঘোরাঘুরি করবেন না।
● গ্রীষ্মকালে তীব্র শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গেলে বেশির ভাগ হিট স্ট্রোকের রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।
লেখক: ডা. মো ফরিদ উদ্দিন, এমবিবিএস , সিসিডি (বারডেম), এমএসসি (ইউকে), ফেলোশিপ ইন ডায়বেটিস (ভারত)।
এই গরমে
হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
গরম সবে পড়তে শুরু করেছে। এরমধ্যেই নানারকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে গরমের সময়টা একটু বেশিই বিপজ্জনক। অতিরিক্ত গরমে প্রায়ই দেখা দেয় হিট স্ট্রোক বা সান স্ট্রোকের সমস্যা। হিট স্ট্রোকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান করলে পানি ও লবণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অকার্যকর হয়ে দেহের তাপমাত্রা যদি ১০৫ ডিগ্রী ফারনহাইটের উপরে চলে যায় তখন একে হিট স্ট্রোক বলে।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
- শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা ( ১০৫ ডিগ্রী ফারনহাইটের উপরে)
- দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস
- নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত
- রক্তচাপ কমে যাওয়া
- মাথা ব্যথা, মাথা ঝিম ঝিম করা, মাথা ঘোরা
- দুর্বলতা
- খিঁচুনি
- বমি বমি ভাব
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়
- হালকা, ঢিলেঢালা, সুতি পোশাক পরা
- রোদের উত্তাপ যেই সময়টাতে বেশি থাকে (বিশেষকরে বেলা ১১.০০ তা থেকে বিকাল ৩.০০ টা) সেই সময়ে প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে বের না হওয়া এবং যথাসম্ভব ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা।
- বাসার বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা।
- প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল যেমন- খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি, ডাবের পানি, ঘোল ইত্যাদি পান করুন।
- দিনে ২ বার গোসল করুন।
- মৌসুমি ফল ও সবজি খাদ্য তালিকায় রাখুন।
- সহজপাচ্য খাবার খান।
কারও হিট স্ট্রোক হলে যা করবেন
- রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান। সম্ভব হলে ফ্যান/এসি ছেড়ে দিন।
- পরিধেয় কাপড়টি ঢিলে করে দিন, সম্ভব হলে খুলে দিন।
- শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন।
- রোগীর জ্ঞান থাকলে তাকে খাবার স্যালাইন দিন
- যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো কি এবং জরুরি করণীয়সমূহ
ডেস্ক রিপোর্ট: হার্ট অ্যাটাক একটি প্রাণঘাতী মেডিকেল ইমার্জেন্সি। দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কিছু পূর্ব লক্ষণ আগেভাগে বুঝতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাকের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
১. বুকব্যথা
গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের শিকার রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশের অনেক আগেই বুকব্যথার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। অনেকে সামান্য ব্যথাকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এটি হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
২. বুকে ভারবোধ
৪৪ শতাংশ রোগী হার্ট অ্যাটাকের আগে বুকে ভারী অনুভূতি বা চাপ অনুভব করেছিলেন। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম, সিঁড়ি ওঠা বা দ্রুত হাঁটার পর যদি বুকে চাপ অনুভূত হয়, তবে এটি সতর্ক সংকেত হতে পারে।
৩. বুক ধড়ফড় করা
৪২ শতাংশ রোগী বুক ধড়ফড় বা হার্টবিট অনিয়মিত হওয়ার মতো অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ হার্টবিট মিস হওয়ার কথাও বলেন। এটি হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৪. শ্বাসকষ্ট বা হাঁপিয়ে যাওয়া
শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই যদি শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয় বা হাঁপিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, তবে এটি হার্টের কার্যক্রম দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশ্রামের সময়ও এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. বুক জ্বালাপোড়া
অনেকে বুক জ্বালাপোড়া অনুভব করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করেন এবং গ্যাসের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। তবে যদি গ্যাসের ওষুধেও উপশম না হয়, তাহলে এটি হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
৬. দুর্বলতা ও ক্লান্তিবোধ
দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি থাকলে সেটি অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি হার্টের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ
বুক ব্যথা ছাড়াও হার্ট অ্যাটাকের সময় মাথা ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অনিদ্রা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, পা ফোলা বা ভারী লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন
১. আতঙ্কিত হবেন না
হার্ট অ্যাটাক হলে বা উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমেই ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিন। আতঙ্কিত হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
২. দ্রুত চিকিৎসা নিন
অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত বেশি বিপদ এড়ানো সম্ভব।
৩. অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ান
লম্বা শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়বে এবং হৃৎপিণ্ড কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে।
৪. কাশির মাধ্যমে সাপোর্ট দিন
হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে রোগীকে ঘন ঘন কাশি দিতে বলা হয়। প্রতিবার কাশি দেওয়ার আগে গভীর শ্বাস নিতে হবে। এতে হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
৫. অ্যাসপিরিন বা নাইট্রোগ্লিসারিন নিন
যদি রোগীর আগে থেকে হার্টের সমস্যা থাকে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাসপিরিন বা নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকে, তবে তা দ্রুত গ্রহণ করুন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে ওষুধ নেওয়া ঠিক নয়।
৬. রোগীকে শুইয়ে দিন
রোগীকে সমতল স্থানে শুইয়ে দিন এবং যদি সম্ভব হয়, পা কিছুটা উঁচুতে রাখুন। এতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।
৭. আশেপাশের কাউকে জানিয়ে দ্রুত সাহায্য নিন
হার্ট অ্যাটাক হলে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা না করে আশপাশের কাউকে জানিয়ে দ্রুত সাহায্য নিন।
হার্ট অ্যাটাক একটি ভয়াবহ সমস্যা, তবে আগেভাগে লক্ষণ চিনতে পারলে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিলে প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার গ্রহণ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।
আদিনাথ মেলা: মহেশখালীর শতবর্ষী সম্প্রীতির উৎসব
মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন: সৃষ্টিতে-কৃষ্টিতে অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। সোনাদিয়া, মাতারবাড়ী-ধলঘাটা এই তিন উপদ্বীপ এবং স্বকীয় সংস্কৃতি নিয়ে পাহাড়ের সাথে মিতালী করে জেগে আছে দ্বীপ মহেশখালী। ৩৮৮.৫০ বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস মহেশখালীতে। বাংলাদেশের প্রধান তিন ধর্মাবলম্বী মানুষের সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
দ্বীপের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শিব চতুর্দশী পূজাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় আদিনাথ মেলা। প্রতি বছর ফাগুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এই মেলা বসে মৈনাক পাহাড়ের পাদদেশে।
দেশীয় এবং নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করার পাশাপাশি আদিনাথ মেলা হয়ে উঠেছে মহেশখালীর মানুষের প্রাণের মেলা। দেশের অন্য প্রান্তে থাকলেও পলাশ-শিমুল ফুলের গাড় রং মনে করিয়ে দেয় মহেশখালীর আদিনাথ মেলার কথা। আলাদা আলাদা ধর্মীয় উপাসনালয়ে ইবাদত হলেও আদিনাথ মেলাকে কেন্দ্র করে সকল ধর্মের অনুসারীরা একত্রিত হয় মেলা প্রাঙ্গণে।
শত বছরের পুরনো এই মেলা হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার কাজে অংশ নেন। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উৎসবকে আনন্দময় করে তোলেন।
এ মেলা থেকে লোকজন রকমারি মনোহারি পণ্য ছাড়াও সারা বছরের গৃহস্থালি পণ্য কিনে থাকে। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, খেলনার দোকান, খাবারের হোটেল, চিনি ও গুড়ের বিখ্যাত জিলাপির দোকান বসে মেলাকে কেন্দ্র করে। এই দ্বীপে আদিনাথ মেলার গুড়ের জিলাপির সুবাস পেতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে।
এখানে শুধু কেনাকাটা নয় চিত্ত বিনোদনের জন্য, পুতুল নাচ, নাগর দোলা, মৃত্যুকূপের আয়োজনও বেশ ব্যাপাকভাবে করা হয়। মেলায় হিন্দু-মুসলিম ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে দোকান বসান। মুসলিম ব্যবসায়ীরা যেমন মেলায় পূজার সামগ্রী ও হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রি করেন, তেমনি হিন্দু ব্যবসায়ীরাও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পোশাক, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই মেলাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা। মেলার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তার পাশাপাশি মহেশখালীর রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় প্রতিনিধিগন, সুশীল সমাজ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের সচেতন দৃষ্টি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, চিন্তা চেতনা এই মেলার সৌন্দর্য এবং পরিসর বৃদ্ধি করতে পারে। ঐক্যের এই বন্ধন শুধু ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আরও বিস্তৃত হোক, এটাই কাম্য।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য