ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

গকসুতে বিতর্কিত সদস্যপদ বাতিল ও নতুন ভোটের দাবি ছাত্রদলের

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
গকসুতে বিতর্কিত সদস্যপদ বাতিল ও নতুন ভোটের দাবি ছাত্রদলের

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-গকসু নির্বাচনে গুপ্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বিজয়ী হয়ে শিবিরের প্যানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশকে প্রতারণামূলক উল্লেখ করে জিএস ও এজিএস পদে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান ছাত্রদল গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. নির্জন ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান বিজয়। বিবৃতিটি পাঠান সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক উল্লাস কুমার দত্ত আকাশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, গকসুর গঠনতন্ত্রের ১, ১১ ও ১৭ (খ) ধারা অনুযায়ী গকসু সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হওয়ার কথা। সে কারণে ছাত্রদল কোনো প্যানেল ঘোষণা করেনি, এমনকি মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। অরাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেই প্রার্থীরা ভোটে অংশ নেন।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার আগপর্যন্ত কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে না এলেও ফল প্রকাশের পর জানা যায়, ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গকসুর নির্বাচিত জিএস ও এজিএসকে অভিনন্দন জানান। সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি উঠে আসে। এতে প্রমাণিত হয়, শিবিরের প্যানেল গুপ্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এবং বিজয়ের পর তা প্রকাশ করেছে।

ছাত্রদলের দাবি, এই কার্যক্রম শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির পরিপন্থী নয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণাও। গকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭.১ (খ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। একইভাবে ১১ ধারায় উল্লেখ আছে, দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী গকসুর নির্বাহী পদে নির্বাচনের অযোগ্য।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা দাবি জানাই, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে জিএস ও এজিএসের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে এবং এই দুই পদে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

ছাত্রদলের নেতারা জানান, তাঁরা অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে গবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো: নির্জনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের বিবৃতিই আমাদের মতামত এবং আমরা অবশ্যই চাই পুনরায় সুষ্ঠভাবে নির্বাচন হোক। 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়েশা আবেদ স্মৃতি নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫ অনুষ্ঠিত

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:৪৯
    অনলাইন ডেস্ক
    ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়েশা আবেদ স্মৃতি নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫ অনুষ্ঠিত

    ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো আয়েশা আবেদ স্মৃতি নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। খেলাধুলায় নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, দলীয় চেতনা ও দৃঢ় মনোভাবকে উদযাপন করাই ছিল এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য।

    আয়েশা হাসান আবেদ ছিলেন একজন সমাজকর্মী, সংগঠক ও দূরদর্শী নেত্রী। ব্র্যাকের শুরুর দিনগুলো থেকে তিনি স্যার ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে কাজ করে দারিদ্রপীড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর জীবনদর্শনের মূল ছিল সমাজের শোষিত মানুষের কল্যাণ ও মুক্তি নিশ্চিত করা। এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর কর্মময় জীবনকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

    বুধবার, ২০ আগস্ট ২০২৫ স্টুডেন্ট ক্লাব ক্রিকেট ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস ডিপার্টমেন্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে পাঁচটি দল। দলগুলো হলো- “প্রতিদ্বন্দ্বী”, “অপরাজিতা”, “দুর্জয়ী”, “অগ্নিকন্যা” এবং “জাগরণী”।

    প্রতিযোগিতার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুর্জয়ী ও অগ্নিকন্যা দল। অগ্নিকন্যাদের ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় দুর্জয়ীরা। প্রথমে ব্যাটিং করে ৬ ওভারে ৯৯ রান সংগ্রহ করে অগ্নিকন্যা দল। জবাবে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে টিম দুর্জয়ী। ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন এবং রানার-আপ ছাড়াও  ম্যাচ সেরা, সিরিজ সেরা এবং সবচেয়ে বেশি ছয় হাঁকানো ব্যাটারের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ ঘোষণা দেন যে তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নারী ক্রিকেট দল ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির নারী ক্রিকেট দলের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করবেন।

    কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন সাদিয়া হামিদ কাজী খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা জরুরি। খেলাধুলা কেবল শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের পরিচালক প্রফেসর শায়লা সুলতানা বলেন, আগে নারীদের খেলাধুলায় এত উৎসাহ ও সমর্থন ছিল না। এখন নারীদের খেলাধুলাকে আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত যেন নারী শিক্ষার্থীরা  জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারে।

    ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের হেড নওশিন আহমেদ খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে বলেন, জীবনে চ্যালেঞ্জ আসবে, কিন্তু এগুলো সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে এবং কখনো হতাশ হওয়া যাবে না।

    স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার জুয়েল দত্ত আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব হবে।
     

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির দায়িত্বে সিফাতুল্লাহ-নুসাইর

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২ জুন, ২০২৫ ১৬:২
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির দায়িত্বে সিফাতুল্লাহ-নুসাইর

      বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি  ২০২৪-২৫ এর পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।প্রথম বারের মতো যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মোঃ সিফাতউল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নুসাইর আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।১জুন (রবিবার) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

      "কলমের আঁচড়ে মুক্তির বাণী" স্লোগানে যাত্রা শুরু করা মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির অন্যান্য সদস্যর হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আল মুমিনুল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রাহাদ আলী সরকার,থিয়েটার বিষয়ক সম্পাদক শেখ শাহরুখ হাসনাইন তুরাগ, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সিদরাতুল মুনতাহার রাফি, শিল্প ও নকশা বিষয়ক সম্পাদক পার্থ সারথী রায়, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আহমাদ ফারীর ফারাবী, সদস্য বিষয়ক সম্পাদক সিরাত আল হাবিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম তাশদীদ এবং সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক নূর ফাতিমা হক নিসাত।

      এছাড়া,কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজী ফারজানা আতিকা, মারজুকা মামনুন মারিয়া, ফারজানা কিবরিয়া নিমা, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, ইয়ারসির আরাফাত অন্তর, আফনান হোসেন রোহান, তকী জাওয়াদ, মো. শাহরিয়ার হাসান রিসাদ, ফাতিন শাহরিয়ার, এবং গৌরব রায় অন্তর দায়িত্ব পেয়েছেন।

      সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে নবনিযুক্ত সভাপতি মোঃ সিফাতুল্লাহ বলেন,"এই সময়টাকে আমরা কিভাবে উদযাপন করবো?" এই প্রশ্নের উত্তরগুলো জটিল। সেই জটিল প্রশ্নের বিরাজমান উত্তর আর নতুন চিন্তাগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতার জন্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অনেক। আমাদের তুলনামূলক নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটা জায়গার অভাববোধ শুরু থেকেই ছিলো। সেটা মাথায় রেখে পৃথক একটা জায়গা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেষমেশ লিটারেচার সোসাইটির যাত্রা শুরু করা গেল। লিটারেচার তো অনেক বিস্তৃত ব্যাপার, শিল্প-সাহিত্য, সঙ্গীত-সিনেমা, ধর্ম-রাজনীতি, বিজ্ঞান- দর্শন বিষয়ক আলাপের চর্চাসহ নানান ক্ষেত্র নিয়ে সবার অংশগ্রহণে সোসাইটির কারবার জমে উঠবে, এই প্রত্যাশা করি।

      এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক মো: নুসাইর আহমেদ বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার শুরু থেকেই এমন একটা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবার ইচ্ছা ছিল যেখানে শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি নিয়ে দেদারসে আলাপ করা যাবে। এর মাঝেই জুলাই গনঅভ্যুত্থান আমাদের দেশের প্রতি দায়িত্ব, বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবাতে শেখায়। জুলাইয়ের পরে কয়েকজনকে খুঁজে পাই যাদের মাথার ভেতর আমার মতই অলস চিন্তার পোকা বাস করে, গড়ে ফেলি মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি। শিক্ষার্থীদের ভেতর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রয়াস ও প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে লিটারেচার সোসাইটি কাজ করবে বলে আশা রাখি। আমরা নিয়মিত বই, সমসাময়িক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, ওয়েবিনার ছাড়াও ষান্মাসিক ম্যাগাজিন বের করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        শেখ মুজিবের ছবি অপসারণের দায়ে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদলের প্রতিবাদ

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ ২০:২২
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        শেখ মুজিবের ছবি অপসারণের দায়ে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদলের প্রতিবাদ

        ঢাকার উত্তরার বেসরকারি শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণ এবং বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি পালনের জেরে ৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ৮ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে দাবি জানান।

        শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কলেজ গেটে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম। মানববন্ধন শেষে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

        মানববন্ধনে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। যদিও গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে, তবুও তার অনুসারীরা এখনো বহাল তবিয়তেই আছে।

        তিনি বলেন, এই মেডিকেল কলেজের ইতিহাস দীর্ঘ। আশির দশকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের জায়গায় ‘উম্মাহ মেডিকেল’ নামে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপিত হয়। ১৯৯৫ সালে উম্মাহ মেডিকেল কলেজ হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পালাবদলে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন হয়ে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের শাসনামলে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ নামকরণ করা হয়। এরপর থেকেই মোহাম্মদ নাসিমের পরিবার—তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ, ছেলে তমাল মনসুর এবং তানভীর শাকিল—এটি দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করতে থাকেন।

        শ্যামল মালুম আরও বলেন, গত গণঅভ্যুত্থানের সময় এই হাসপাতালের গেট বন্ধ করে অসংখ্য আহত ছাত্র-জনতাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়। যার ফলে অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

        তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরও কলেজের দেয়ালে দীর্ঘদিন ধরে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানিয়ে রাখা হয়। ১৯ নভেম্বর সচেতন কিছু ছাত্র-জনতা ছবি অপসারণ করলে নাসিম পরিবার এবং তাদের পোষ্য কর্মকর্তাদের দিক থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়। পরবর্তীতে মিথ্যা মামলার পাশাপাশি ৮ জন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

        ছাত্রদল এ বহিষ্কারাদেশ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। শ্যামল মালুম বলেন, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল অঙ্গীকারবদ্ধ।

        স্মারকলিপিতে বলা হয়, আগামীকাল ২০ এপ্রিল দুপুর ১২টার মধ্যে অধ্যক্ষ তাদের দাবির ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।

        মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি রেহেনা আক্তার শিরিন ও রেজওয়ানুল হক সবুজ, যুগ্ম-সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, গাজী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, নুরুজ্জামান চন্দন, মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম আকাশ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানজিম রুবায়েত আফিফসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করলো ব্র্যাক ইউনিভার্সিট

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ১৮:৩০
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করলো ব্র্যাক ইউনিভার্সিট

          বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।

          রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী উৎসব, যা চলবে আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত।

          অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, এই উৎসব আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করে এবং সকলকে একত্রিত করে।

          বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ও প্রবেশপথগুলোকে গ্রামীণ পরিবেশে সাজানো হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীরা ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাকে অংশ নেন উৎসবে। নারী শিক্ষার্থী ও কর্মীরা ফুলের মালায় নিজেদের সাজিয়ে উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলেন।

          সাভার ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা রঙিন আলপনায় পুরো ক্যাম্পাসকে সজ্জিত করেন। আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলা, যেখানে হস্তশিল্পের নানা স্টল এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন ছিল।

          মেলার পর ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল 'বাউলা'। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা অডিটোরিয়ামে এই আয়োজন উপভোগ করেন।

          অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড এবং অফিস অফ কমিউনিকেশনসের পরিচালক খায়রুল বাশার।

          সপ্তাহব্যাপী এ উৎসব ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সকল স্তরের মানুষকে একত্রিত করেছে, যা বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের এক অসাধারণ উদাহরণ।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত