শিরোনাম
মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির দায়িত্বে সিফাতুল্লাহ-নুসাইর
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি ২০২৪-২৫ এর পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।প্রথম বারের মতো যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মোঃ সিফাতউল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নুসাইর আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।১জুন (রবিবার) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
"কলমের আঁচড়ে মুক্তির বাণী" স্লোগানে যাত্রা শুরু করা মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটির অন্যান্য সদস্যর হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আল মুমিনুল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রাহাদ আলী সরকার,থিয়েটার বিষয়ক সম্পাদক শেখ শাহরুখ হাসনাইন তুরাগ, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সিদরাতুল মুনতাহার রাফি, শিল্প ও নকশা বিষয়ক সম্পাদক পার্থ সারথী রায়, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আহমাদ ফারীর ফারাবী, সদস্য বিষয়ক সম্পাদক সিরাত আল হাবিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম তাশদীদ এবং সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক নূর ফাতিমা হক নিসাত।
এছাড়া,কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজী ফারজানা আতিকা, মারজুকা মামনুন মারিয়া, ফারজানা কিবরিয়া নিমা, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, ইয়ারসির আরাফাত অন্তর, আফনান হোসেন রোহান, তকী জাওয়াদ, মো. শাহরিয়ার হাসান রিসাদ, ফাতিন শাহরিয়ার, এবং গৌরব রায় অন্তর দায়িত্ব পেয়েছেন।
সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে নবনিযুক্ত সভাপতি মোঃ সিফাতুল্লাহ বলেন,"এই সময়টাকে আমরা কিভাবে উদযাপন করবো?" এই প্রশ্নের উত্তরগুলো জটিল। সেই জটিল প্রশ্নের বিরাজমান উত্তর আর নতুন চিন্তাগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতার জন্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অনেক। আমাদের তুলনামূলক নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটা জায়গার অভাববোধ শুরু থেকেই ছিলো। সেটা মাথায় রেখে পৃথক একটা জায়গা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেষমেশ লিটারেচার সোসাইটির যাত্রা শুরু করা গেল। লিটারেচার তো অনেক বিস্তৃত ব্যাপার, শিল্প-সাহিত্য, সঙ্গীত-সিনেমা, ধর্ম-রাজনীতি, বিজ্ঞান- দর্শন বিষয়ক আলাপের চর্চাসহ নানান ক্ষেত্র নিয়ে সবার অংশগ্রহণে সোসাইটির কারবার জমে উঠবে, এই প্রত্যাশা করি।
এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক মো: নুসাইর আহমেদ বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার শুরু থেকেই এমন একটা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবার ইচ্ছা ছিল যেখানে শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি নিয়ে দেদারসে আলাপ করা যাবে। এর মাঝেই জুলাই গনঅভ্যুত্থান আমাদের দেশের প্রতি দায়িত্ব, বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবাতে শেখায়। জুলাইয়ের পরে কয়েকজনকে খুঁজে পাই যাদের মাথার ভেতর আমার মতই অলস চিন্তার পোকা বাস করে, গড়ে ফেলি মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি। শিক্ষার্থীদের ভেতর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রয়াস ও প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে লিটারেচার সোসাইটি কাজ করবে বলে আশা রাখি। আমরা নিয়মিত বই, সমসাময়িক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, ওয়েবিনার ছাড়াও ষান্মাসিক ম্যাগাজিন বের করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।
ঈদুল আজহা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা
পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের মহান শিক্ষা দেয়। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে এই দিনটি আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। তবে আজকের প্রজন্ম—বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা—এই উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য ও কোরবানির মূল দর্শন কতটা হৃদয়ে ধারণ করছে, সেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই কেবল উৎসবের বাহ্যিক রীতিনীতি পালনেই সীমাবদ্ধ থাকে। ঈদুল আযহার মূল বার্তা হচ্ছে আত্মত্যাগ, নিঃস্বার্থতা ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা। এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনায় কতটা প্রতিফলিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চোখে।
“ঈদুল আজহা শুধু আনন্দ ও উৎসবের দিন নয়, এটি ত্যাগ, আন্তরিকতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদনের সময়। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, কোরবানির পশুর মাংস বা রক্ত নয়, আল্লাহর কাছে পৌঁছে আমাদের তাকওয়া। এই শিক্ষা অনুযায়ী আমরা বুঝি, ঈদের অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ—যেখানে হালাল উপার্জন, ন্যায্য লেনদেন ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে উপকারে আনা জরুরি। এই সময়ে আমরা পশুর দামের উঠানামা, খামারিদের পরিশ্রম এবং দরিদ্রদের জন্য কোরবানির গুরুত্ব অনুভব করি। একজন মুসলিম হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, ঈদুল আজহা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আমাদের ভোগ না করে ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। ইসলামের এই শিক্ষা আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল হতে শেখায়।”
তামান্না মুন্নি
অর্থনীতি বিভাগ-২০২২-২৩ সেশন
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ঈদের আগের দিন ঘর ভরে ওঠে আনন্দ ও ব্যস্ততায়। বড়রা রান্নায়, ছোটরা খেলায়, মেয়েরা মেহেদি দেওয়ায় মগ্ন থাকে। ঈদুল আজহা শুধু উৎসব নয়, স্মৃতি ও মানবিকতার শিক্ষা, যেখানে ভোগ নয়, ত্যাগের মাধ্যমে পূর্ণতা পাওয়া যায়।
“ঈদুল আজহা আমার কাছে শুধুই একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি ত্যাগ, মানবিকতা ও আত্মিক প্রশান্তির প্রতীক। কোরবানির মাধ্যমে আমরা আত্মত্যাগ, দান এবং দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তব শিক্ষা পাই। এই উৎসব আমাদের মধ্যে সহানুভূতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।”ঈদের সময় বাড়ি ফেরার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ। পরিবার, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো, ঈদের নামাজ আদায়, কোরবানি ও মাংস বিতরণের আনন্দ—সব মিলিয়ে ঈদ এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। গ্রামের বাড়িতে ঈদের সময় যে আন্তরিকতা ও পারিবারিক উচ্ছ্বাস দেখি, তা শহরের ব্যস্ত জীবনে পাওয়া যায় না। কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা যদি আমরা হৃদয়ে ধারণ করি, তাহলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং মানুষের মাঝে ভালোবাসা ও সহানুভূতি বৃদ্ধি পাবে। ঈদ তাই আনন্দের পাশাপাশি এক গভীর মানবিক শিক্ষা নিয়ে আসে।”
রাকিবুল ইসলাম রাব্বি
হিসাববিজ্ঞান ২০১৯-২০সেশন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
“আমার কাছে ঈদুল আজহা মানে শুধুই আনন্দ নয়, বরং ত্যাগ, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক গভীর প্রকাশ। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে কোরবানির পশু কিনতে যেতাম—সেটা ছিল এক দারুণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ঈদের আগের দিন রাত জেগে প্রস্তুতি নেওয়া, আর সকালে একসঙ্গে ঈদের নামাজে যাওয়া—এই সবই এখন স্মৃতির অংশ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠার পর থেকে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে, তাই ঈদের সময়টা কিছুটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। তবে হলে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে আমরা নিজেরাই ঈদ উদযাপন করি। একসঙ্গে রান্না করি, খাই, গল্প করি—এই আনন্দটাও বিশেষভাবে মনে গেঁথে থাকে। ঈদুল আজহার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে আত্মত্যাগ। এই শিক্ষাই আমাকে শেখায়—শুধু নিজের কথা না ভেবে, অন্যের দিকেও খেয়াল রাখতে। ছাত্রজীবনে আমি এই মূল্যবোধকে বাস্তবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি।”
মো: ইথারুল ইসলাম
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ২০২৪-২৫ সেশন
বুয়েট।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদুল আজহা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়—এটি হয়ে ওঠে এক আত্মিক সংযোগের সময়। পরিবার থেকে দূরে থেকেও বন্ধুত্ব, সহানুভূতি আর ত্যাগের এই শিক্ষা তাদের মনে গেঁথে যায়। এই অনুভবগুলো শুধু ঈদের সময়েই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ধাপে তাদের আরো সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল এবং সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
এই উৎসবের মর্ম উপলব্ধি করতে পারলে একজন শিক্ষার্থী কেবল ভালো ছাত্রই নয়, বরং একজন ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। আর সেটাই হয়তো ঈদুল আজহার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
“ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, কিন্তু হলে থাকি বলে অনেক সময় বাড়ি ফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও চেষ্টা করি ঈদের কয়েকটা দিন যেন পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারি। ঈদুল আযহার একটা বিশেষ অনুভূতি আছে—কোরবানির সময়টা আমাদের আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। কোরবানির মাংস বিতরণের মধ্যে যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ আর শ্রেণিগত বৈষম্য হ্রাসের শিক্ষা লুকিয়ে আছে, তা তরুণ সমাজের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। এই ঈদের মাধ্যমে আমরা যদি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি, সেটিই হবে ঈদের প্রকৃত সফলতা।”
মেহেরুন্নেসা জেরিন
পরিসংখ্যান বিভাগ-২০২০-২১সেশন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
“ঈদুল আজহা কেবল উৎসব নয়, এটি হালাল উপার্জন, ন্যায্যতা ও দরিদ্রদের কল্যাণে কাজ করার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মূল বার্তাই হলো ত্যাগ এবং সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।” তিনি মনে করেন, ইসলাম শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে একজন মানুষকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সুশৃঙ্খল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়।”ধী-বুনিয়ানুম মারসুস
এফটিএনএস বিভাগ -২০২২-২৩
মাভাবিপ্রবি।
“ঈদ আমাদের মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। গ্রামের ঈদের আমেজ, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি—এসব শহুরে জীবনে পাওয়া যায় না। তবে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা যদি ধারণ করতে পারি, তাহলে সমাজে বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।”
আরাবিয়া সুলতানা
সিপিএস বিভাগ-২০২৩-২৪
মাভাবিপ্রবি।
“ঈদুল আজহা হলো মুসলিমদের জন্য একটি বড় আনন্দ ও উৎসবের দিন। এই দিনে আমরা অনেকেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির জন্য বিভিন্ন কিছু কোরবানি করে থাকি। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ গরু, কেউ ভেড়া ইত্যাদি কোরবানি করে থাকেন। তবে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছেন, যারা কোরবানি দেন শুধু মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়। আবার কেউ কেউ কোরবানি করেন লোক দেখানোর জন্য। কেউ যদি কোরবানি করে শুধু লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে, তাহলে নিঃসন্দেহে তার সেই কোরবানি বৃথা যাবে।”
ক্বারী আল হাসান
টিই বিভাগ ২০২০-২১
মাভাবিপ্রবি।
“ঈদুল আজহা শুধুই একটি উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, শিক্ষা এবং আত্মশুদ্ধির এক মহামিলন। ইসলামের মহান আদর্শ আমাদের শিখিয়েছে—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিসও কোরবানি করতে পিছপা হওয়া যায় না। এই শিক্ষা আমাদের কেবল পশু কোরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং জীবনের প্রতিটি স্তরে—নিজের স্বার্থ, সময়, অহংকার কিংবা অন্যায় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে কোরবানির বার্তা দেয়।”
ফযলে রাব্বি
বিজিই বিভাগ ২০২০-২১
মাভাবিপ্রবি।
শিক্ষার্থীদের এসব অনুভব ও মতামত থেকে স্পষ্ট—ঈদুল আজহা কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মিক সংযোগ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অনন্য শিক্ষা। তরুণ প্রজন্ম যদি এই মূল্যবোধ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে সমাজে গড়ে উঠবে একটি ইতিবাচক, সহানুভূতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। ঈদের অন্তর্নিহিত শিক্ষা শুধু কোরবানির পশু পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে যদি আমাদের আচার-আচরণ ও দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হয়, তবেই তা হবে প্রকৃত কোরবানির বাস্তব রূপায়ণ।
সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সুযোগ
ঈদুল আজহা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠারও সুযোগ সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা যদি ঈদের এই শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে, তাহলে সমাজে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
/মো.জাহিদ হোসেন, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
চবিতে শহীদ জিয়ার স্মরণে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (২ জুন) সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর ও শহীদ ফরহাদ হল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন চবি ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক হাসান আহমেদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দীন মিজবাহ, মো. শাফায়াত হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
চবি ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক হাসান আহমেদ বলেন, “আমরা তিন ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আজ ছিল প্রথম ধাপের কার্যক্রম। ঈদের পরবর্তী সময়ে বাকি ধাপগুলো সম্পন্ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
মেডিকেলের ক্লাস শুরুর তারিখ ঘোষণা
দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ক্লাস আগামী ১৭ জুন শুরু হবে। আজ রোববার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী ১৭ জুন থেকে শুরু হবে।
গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের ৩৭ সরকারি ও ৬৭ অনুমোদিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি মেডিকেলে মোট আসন ৫ হাজার ৩৮০ ও বেসরকারিতে মোট আসন ৬ হাজার ২৯৩।
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী
রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারে অবস্থিত সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী সাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে শাখা ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ মে) সোহরাওয়ার্দী কলেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি সংবাদ সম্মেলনে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এক সদস্যের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এছাড়া ওই সাংবাদিককে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন তিনি।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন এসে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিমউদ্দীনকে জানালে তিনি সাকিলকে সরি বলতে বলেন এবং সমঝতা করে দেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্যও সতর্ক করে দেন।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বেপরোয়া আচরণ করতেও দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও গত ৫ আগস্টের সাকিল আহমেদ খোলস পাল্টিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেন। ছাত্রলীগের লেবাস পরিবর্তন করতে ৫ আগস্টের পর তিনি তার আগের ফেসবুক আইডি বন্ধ করে নতুন আইডি খোলেন।
তার আগের আইডির নাম ছিল এস বি সাকিল আহমেদ। ওই আইডির মাধ্যমে তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচারণা চালাতেন। এ সংক্রান্ত দুটো স্কিনশর্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন নিয়ে এবং অপরটি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোক দিবসের। ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বর্তমান আইডিতেও রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বিভাগের মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বের করে দেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহপাঠি বলেন, “সাকিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে থেকে বিভিন্ন হুমকি দিত এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিত। এজন্য তাকে আমাদের বিভাগের মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এটা আমাদের ব্যাচের ১৪৭ জন শিক্ষার্থীর সবাই জানে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে সাকিল আহমেদ বলেন, “ওই আইডিটা আমার না, এটা অন্য কারো আইডি। আমি ছাত্রলীগ করি বা ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টটা আছে- এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারলে আপনারা যে শাস্তি দেবেন, মাথা পেতে নিব। আমার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।”
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিমউদদীন বলেন, “সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলে ছাত্রলীগের কোনো দোসরদের জায়গায় হবে না। এমন কেউ থাকলে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
তিনি বলেন, “সাকিলের বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়েছি, সে ছাত্রলীগ করত না। ওই আইডি আর তার আগের আইডির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেটা আপনারা ভালো করে দেখলেই বুঝতে পারবেন।”
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য