ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বাজেটে আ. লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা রয়ে গেছে : খসরু

অনলাইন ডেস্ক
২ জুন, ২০২৫ ১৭:৫৮
অনলাইন ডেস্ক
বাজেটে আ. লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা রয়ে গেছে : খসরু

প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট আকারে কিছুটা ছোট হলেও, গুণগত দিক থেকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, আগামী ৪ জুন সকাল ১১টায় বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। আজকের মন্তব্য তার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া।

সোমবার (২ জুন) বনানীর একটি হোটেলে বাজেট প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এটা যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট, তাই আমার প্রত্যাশা খুব সীমিত। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের একটা সীমাবদ্ধতা আছে, সময়ের ব্যাপার।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত বাজেটের আকার, যেটা বিগত সরকার বাড়াতে বাড়াতে যে জায়গায় নিয়ে গেছে, সেটার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয়ত, আপনি যখন রাজস্ব আয়ের পুরোটা পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে ব্যয় করে ফেলবেন, তখন তার অর্থ দাঁড়ায় উন্নয়ন বাজেটের পুরোটা দেশের বাইরে থেকে ধার করে চালাচ্ছেন। সরকার যখন দেশের বাইরে থেকে ঋণ নেয়, তখন দেশের ওপর ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে, মানুষকে সেটা দিতে হয়। এটার সুদ বেড়ে যাওয়ার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। আর দেশের ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে বিনিয়োগ কমে যায়। তখন কর্মসংস্থান কমে যায়।

রাজস্ব আয়ের সঙ্গে বাজেটের আকারের একটা সম্পৃক্ততা থাকা উচিত ছিল উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, আমি মনে করি সেটা হয়নি। রাজস্ব আয় যেটা হবে তা পুরোটা পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে চলে যাবে। ফলে, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের জন্য পুরোটা দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে ঋণ নিতে হবে। এতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, আগে যে বাজেট হয়েছে, সেখান থেকে এবার টাকার অঙ্কটা ছোট হয়েছে। কিন্তু মৌলিক পরিবর্তন আগের জায়গায় রয়ে গেছে। অনেকটা আগের সরকারের ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারেনি। আসলে রাজস্ব আয়কে ভিত্তি করে বাজেট করা উচিত। তাহলে প্রাইভেট সেক্টরে টাকার সরবরাহ থাকত। বিনিয়োগ থাকত। সুদের হার কমে আসত। বিদেশি ঋণ কমে আসত। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আমরা সরে আসতে পারিনি। সুতরাং আমি মনে করি মৌলিক জায়গার ভুলটা রয়ে গেছে।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের বিদেশি ঋণ ৩.৮ বিলিয়নের মতো। সেটাকে এবং রাজস্ব আয়কে মাথায় রাখতে হবে। বাজেটের আকার আরও ছোট হওয়া উচিত ছিল। গুণগত দিক থেকে এই বাজেটে তেমন পরিবর্তন হয়নি। শুধুমাত্র সংখ্যা সামান্য ছোট হয়েছে। মৌলিক কাঠামো আগের সরকারের মতো রয়ে গেছে। এটা আগামী দিনের সরকারের জন্য সহজ কিছু হবে না।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফা বৈঠকে

    যমুনায় বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা

    অনলাইন ডেস্ক
    ২ জুন, ২০২৫ ১৭:৪৮
    অনলাইন ডেস্ক
    যমুনায় বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করেছেন।

    সোমবার (২ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে রাজনৈতিক দলের নেতারা বৈঠকে যোগ দিতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আসতে শুরু করেন। পরে পৌনে ৪টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে দলটির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করে।

    এছাড়াও, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকেও বৈঠকে যোগ দিতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

    গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, এলডিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারাও এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

    আজকের বৈঠকে মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ শুরু হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সংলাপের উদ্বোধন করছেন। আজ তিনি দলগুলোর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে ঐকমত্য কমিশন।

    কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল যে, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও আংশিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।

    জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ হবে বিষয়ভিত্তিক। যেসব মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য হয়নি, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

    এর আগে, ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশনে সংলাপ করে ঐকমত্য কমিশন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ‘এনসিপি গঠনের মাস্টারমাইন্ড তিনজন’, নামসহ যা জানালেন রাশেদ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২ জুন, ২০২৫ ১৩:২৯
      অনলাইন ডেস্ক
      ‘এনসিপি গঠনের মাস্টারমাইন্ড তিনজন’, নামসহ যা জানালেন রাশেদ
      ছবি : সংগৃহীত

      গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের মাস্টারমাইন্ড তিনজন। তারা হচ্ছেন- নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ। সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টি জানান তিনি।

      মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ এনসিপি মাস্টারমাইন্ড।

      এটি কোনো স্বাভাবিক দল নয়। এই দল সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট দল। নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাবস্থায় এনসিপি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। যখন তিনি উপদেষ্টা ছিলেন, আসিফ-মাহফুজ তো এখনো আছেন—তাদের তিনজনের মাধ্যমে এ দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

      বাকিরাও সম্পৃক্ত ছিলেন—কিন্তু এই তিনজন হলেন মূল মাস্টারমাইন্ড।’

      নাহিদ ইসলামের মন্ত্রীপাড়ার বাসায় এই দল গঠনের সমস্ত প্রক্রিয়া আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন পক্ষকে সেই দলে যুক্ত হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। আমরা এই বিষয়গুলো কীভাবে জানলাম? আমাদের কতিপয় নেতাদের তারা প্রলোভন দেখিয়েছেন এবং দলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নাহিদ একটা মিথ্যা কথা বলেছেন।

      বিষয়টি আমার খুব খারাপ লেগেছে। তিনি গণঅভ্যুত্থানের নায়ক। আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। ছেলেটা অনেক সংগ্রাম করেছে। তিনি প্রেস ব্রিফিং করা অবস্থায় কীভাবে মিথ্যা বললেন! তিনি বলেছেন যে, মাহফুজ-আসিফ এই দুই উপদেষ্টা এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত না—এই কথাটা মিথ্যা।

      গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আসিফ মাহমুদ, মাহফুজ আলম এখনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তারা সরকারে রয়েছেন এনসিপির প্রতিনিধি। যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা দল গঠন করেছে তার আগ পর্যন্ত তারা গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি ছিলেন।’

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        নিহত ছাত্রদল নেতা সাম্যের বড়ভাই যোগ দিলেন এনসিপিতে

        অনলাইন ডেস্ক
        ২ জুন, ২০২৫ ১১:৪৮
        অনলাইন ডেস্ক
        নিহত ছাত্রদল নেতা সাম্যের বড়ভাই যোগ দিলেন এনসিপিতে

        ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের নিহত নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের বড় ভাই সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। রোববার (১ জুন) গঠিত এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর সমন্বয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে তাকে।

        আমিরুল ইসলাম সাগর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বহিষ্কার হন। তবে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে সাগরকে সংগঠনে ফিরিয়ে নেয় ছাত্রদল।

        এনসিপিতে পদ পাওয়ার পর সাগর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০১৯ সালে ছাত্র রাজনীতি ছাড়ার পর থেকে আর কিছুতে ছিলাম না। জিয়াউর রহমানের আদর্শের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমার বাবাও ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ছিলেন। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করার প্রচেষ্টা হিসেবেই এনসিপিতে যোগ দিয়েছি।’

        ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্য গত ১৩ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি এবং প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে টানা এক সপ্তাহ শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন করে। সাম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সর্বাত্মক অংশ নেন। সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল আমিরুল ইসলাম সাগরেরও। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।

        কমিটি ঘোষণার পর এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি'র প্রথম মহানগর/জেলা কমিটি ঘোষণা হইলো আজ। ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটিতে সবচেয়ে বড় চমক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শহীদ শাহরিয়ার আলম সাম্যের বড় ভাই এবং ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সরদার আমিরুল ইসলাম ভাই।

        তিনি লেখেন, আমিরুল ভাই ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। প্রথম জেলা কমিটি প্রকাশের মাধ্যমে এনসিপির রাজনীতি দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করলো। আকরাম-শিশির আমিরুলদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

        মন্তব্য

        ঈদুল আজহা

        বিএনপি জামায়াত এনসিপি মিলেমিশে গরুর হাটের ইজারায়

        অনলাইন ডেস্ক
        ১ জুন, ২০২৫ ১৯:৪
        অনলাইন ডেস্ক
        বিএনপি জামায়াত এনসিপি মিলেমিশে গরুর হাটের ইজারায়

        ঈদুল আজহার বাকি আর ছয় দিন। এ উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

        ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেশির ভাগ হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়ে আছে। বিগত সরকারের আমলে নামে-বেনামে এসব হাটের ইজারা নিয়েছিলেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা, কিন্তু এবার বিষয় ভিন্ন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের লোকজন পলাতক থাকায় তাদের কেউ হাট ইজারায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

        এবার রাজধানীর অধিকাংশ পশুর হাট মিলেমিশে পেতে যাচ্ছেন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। মূলত তাদের সুপারিশ ও পছন্দের ইজারাদারদেরই হাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

        এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এবার দক্ষিণ সিটিতে ৯টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে একটি হাট জামায়াত, আরেকটি এনসিপি নেতাদের পছন্দের সুপারিশে ইজারাদার দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো পেয়েছেন বিএনপির পছন্দের ইজারাদারেরা।

        এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কয়েকটি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক (১০, ১১, ১২, ১৩) কর্মকর্তা জানান, উত্তর সিটিতে ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপির সুপারিশে তিনটি হাট পেতে যাচ্ছেন তাদের পছন্দের ইজারাদারেরা। দুটি জামায়াতের পছন্দের এবং বাকিগুলো বিএনপি ও অন্যরা।

        উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ঈদুল আজহার দিনসহ মোট পাঁচ দিন নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করা হবে।

        গত বছর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীরা পলাতক থাকায় এবার অধিকাংশ হাটই যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতে। তবে ঈদের আর ছয় দিন বাকি থাকলেও এখনো অধিকাংশ হাটের ইজারাদার চূড়ান্তের শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে তিনটি অবৈধ হাট বসেছে। আরও তিনটি অবৈধ হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে।

        হাটগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ:

        এদিকে রাজধানীর পশুর হাটগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে এবার ব্যাপক অভিযোগ করছেন ব্যাপারীরা। বেশির ভাগ পশুর হাটের ইজারাকাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও ক্রেতারা হাটে  আসছেন, তবে ব্যাপারীরা অতিরিক্ত দাম চাইছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

        সরেজমিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন পশুর হাটে কিছু বাঁশ ছাড়া তেমন কোনো ব্যবস্থাপনা দেখা যায়নি। ঝড়-বৃষ্টিতে পশু নিয়ে কষ্টে সময় পার করছেন ব্যাপারীরা। এমন পরিস্থিতিতে পড়ার কারণে ব্যাপারীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

        সূত্রমতে জানা যায়, ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দরদাতা জটিলতায় নিশ্চিত করতে পারেনি হাটের ইজারাদার। এরই মধ্যে মাঝেমধ্যে ক্রেতারা আসছেন, যাচাই করে যাচ্ছেন পশুর বাজারদর। তবে ঢাকার অধিকাংশ হাট ইজারাদাররা পশু রাখা ও কেনাবেচার উপযোগী করে তুলতে না পারায় পশু ব্যবসায়ী ও পশুর মালিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

        এদিকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভে নগর ভবন তালাবদ্ধ থাকায় ইজারা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

        এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া চলমান প্রশাসনিক অচলাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, কয়েক দিন ধরে আমরা কোনো সেবা দিতে পারছি না। এমনকি অনেক ইজারাদারের ফাইলও দেখা সম্ভব হয়নি। অবরোধের কারণে, আমরা পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে বা ওয়ার্ক অর্ডার দিতে পারছি না।

        ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে করপোরেশন এলাকার আটটি পশুর হাটের প্রথম পর্যায়ের উন্মুক্ত ইজারা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গত শনিবার যাচাইবাছাই শেষে খিলক্ষেত মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন খালি জায়গায় সুরমি এন্টারপ্রাইজের নামে মজিবুল্লা খন্দকার হাটের ইজারা নিয়েছেন। তবে হাটটি পরিচালনা করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আকতার হোসাইন।

        আর ঢাকা পলিটেকনিকের খেলার মাঠের হাটটি ডিএনসিসি প্রথমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দিয়ে ৭৭ লাখ টাকা কমে তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা এসএফ করপোরেশনকে ইজারা দিতে কার্যাদেশ প্রস্তুত করলেও সমালোচনার মধ্যে হাটটির ইজারা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। হাটটি এখন সর্বোচ্চ ২ কোটি ১৭ লাখ টাকায় জায়ান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান পাচ্ছেন বলে ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে।

        গত বুধবার ডিএনসিসির এই ছয় হাটসহ মোট সাতটি হাটের ইজারার দর উন্মুক্ত হয়। মিরপুরের কালশী বালুর মাঠের খালি জায়গাসংলগ্ন হাটটিতে সরকারি মূল্যের চেয়ে ৫০ লাখ টাকা কমে ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান।

        তিনি বলেন, হাটের জায়গাটি অত্যন্ত কম। এর ফলে সরকারি মূল্যের চেয়ে কম হলেও সর্বোচ্চ দর আমি দিয়েছি। করপোরেশনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। হাটটি পেতে আমি আশাবাদী।

        ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত হাটটির সর্বোচ্চ ৯৫ লাখ টাকা দর দিয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান।

        মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং হাটটি প্রথম পর্যায়ের ইজারায় বিএনপি ও জামায়াতের দুই নেতা ২ কোটি টাকা সমমূল্য দেওয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ইজারা অনুষ্ঠিত হয়। হাটটি এবার সর্বোচ্চ দরে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় পেয়েছেন মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজের রতন মিয়া। তবে এই ইজারাদারের সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

        মোহাম্মদপুরের বছিলার পশুর হাটটিতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা দর দিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল মৃধা। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বাজারসংলগ্ন রহমাননগর আবাসিক এলাকার হাটের ইজারায় সর্বোচ্চ ১৩ লাখ টাকায় আরহাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিএনপি নেতা শাহ মিরাজ দর দিয়েছেন।

        ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন হাটটিতে তামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারি মূল্যের চেয়ে ৭০ লাখ টাকা কমে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা দর দিয়েছেন।

        ডিএসসিসির ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে কামরাঙ্গীরচরে চলতি বছর কোনো গরুর হাটের ইজারা দেয়নি সিটি করপোরেশন। তবে এই জায়গায় যুবদল নেতা সোহেল আরমান ও বিএনপি নেতা মনির চেয়ারম্যান মিলে অবৈধ গরুর হাট বসিয়েছেন। কলাবাগান কলোনির মাঠে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা আরেকটি হাট বসিয়েছেন।

        এদিকে গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়েও চলছে নানা জটিলতা। গত ৩ মার্চ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সোয়া ২২ কোটি টাকা দর দিয়েছিল মেসার্স আরাত মোটরস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এটি নির্ধারিত দরের চেয়ে ৭ কোটি টাকা বেশি। সঙ্গে আরও ২৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও আয়কর রাজস্ব খাতে যুক্ত হতো।

        কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাটের ইজারা না দিয়ে ডিএনসিসি হাটটিতে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় সম্প্রতি দুদক ডিএনসিসিতে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র জব্দ করে।  পরে গাবতলী হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয় করপোরেশন।

        জানা যায়, গত বুধবার গাবতলী হাট ইজারার জন্য সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা দর দিয়েছে টিএইচ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিক আলী হায়দার নামে এক ব্যক্তি। ইজারাপ্রত্যাশী অন্য দরদাতাদের প্রতিনিধিরাও টিএইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক আলী হায়দারকে চিনতে পারছেন না।

        তার রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা মিরপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানাতে পারেননি। তবে জানা যায়, এনসিপির নেতারা এই হাটের জন্য তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে সুপারিশ জানান।

        সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ৯ হাটের মধ্যে ছয়টির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি চূড়ান্ত করার পর সবাইকে কার্যাদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি সরকারি মূল্যের চেয়েও কম পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেভাবেই কাজ করব। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বলা যায়, এবার পশুর হাটের বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।  

        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত