শিরোনাম
বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর সৈয়দা জুয়েলী
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বরগুনার বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার মনিকা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি ঢাকার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে (টিটিসি) জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিভাগের সেরা শ্রেণি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
শ্রেণি শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বিজয়ী সৈয়দা জুয়েলী আকতার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি বরগুনার বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষাদানে নিয়োজিত রয়েছেন।
গত বুধবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশাল বিভাগের সব জেলার বিজয়ী শ্রেণি শিক্ষকেরা অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষাগত ও একাডেমিক অর্জন, প্রাতিষ্ঠানিক মনোভাব, মূল্যায়নে পারদর্শিতাসহ মোট ১২টি গুণাবলি বিবেচনায় নিয়ে সৈয়দা জুয়েলী আকতারকে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
তার এ অর্জনে সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দা জুয়েলী আকতার বলেন, একজন শিক্ষকের অর্জিত সাফল্যের স্বীকৃতি তার কর্মযজ্ঞকে আরও গতিশীল করে। এর সুফল শুধু প্রতিষ্ঠানে নয়, দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মতো উদ্যোগকে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রেরণাদায়ক উদ্যোগ বলে মনে করি।
বিএনপির প্রার্থী তালিকায় তারুণ্যের প্রতীক রওনকুল ইসলাম
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত বিএনপির ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের তালিকায় বিশেষভাবে নজর কাড়ছেন কাজী রওনকুল ইসলাম (শ্রাবণ)। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তিনি এখন আলোচনায়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এই তরুণ নেতা এবার যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।
গতকা সোমবার বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে ২৩৭ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। সেখানেই যশোর-৬ আসনে কাজী রওনকুল ইসলামের নাম আসে আনুষ্ঠানিকভাবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রওনকুল ইসলামই সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী। বয়স ৪০ হলেও রাজনীতিতে তাঁর পথচলা প্রায় দুই দশকের।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামের সন্তান রওনকুল ইসলাম ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্য কোর্সে (স্নাতকোত্তর) অধ্যয়ন শুরু করেন। এখানেই ছাত্ররাজনীতির মাটিতে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন রওনকুল ইসলাম। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দ্রুতই সহপাঠীদের কাছে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে ২০২৩ সালের আগস্টে ‘অসুস্থতার কারণ’ দেখিয়ে তাঁকে সেই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর অল্পদিন পর, একই বছরের অক্টোবর মাসে তাঁকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মনোনয়ন পাওয়ার পর গণমাধ্যম-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রওনকুল ইসলাম বলেন, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কেশবপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধানের শীষের দখলে ছিল না। আমি জনগণের ভোটে এই আসন পুনরুদ্ধার করতে চাই। দল আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তার প্রতিদান দিতে চাই জনগণের সেবার মাধ্যমে।”
নিজেকে বিএনপির সবচেয়ে তরুণ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ৩১ দফায় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে বিশেষ করে কেশবপুরের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, তাঁদের মাদক থেকে দূরে রেখে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চায় যুক্ত করা, এবং তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে কাজ করা—এসব হবে আমার অগ্রাধিকার।”
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার শীর্ষে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
চলতি বছরের পরীক্ষায় কলেজটির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭৫৮ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৫৪ জন শিক্ষার্থী, আর জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৭৬ জন। ফলে পাসের হারের দিক থেকে বোর্ডের প্রথম স্থানে অবস্থান করেছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ময়মনসিংহ বোর্ডে এবছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৫,৮৫৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৩৫,৬০৭ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৪০,২৪৮ জন। মোট পাশকৃত পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩৯,০৯৬ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।
পাশের হার অনুযায়ী দেখা যায়— ছাত্রদের পাশের হার ৪৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ (১৬,৬৭৬ জন) এবং ছাত্রীদের পাশের হার ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ (২২,৪২০ জন)।
এ বছর ময়মনসিংহ বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২,৬৮৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১,১১৭ জন এবং ছাত্রী ১,৫৬৭ জন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, আজ দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয়, আমাদের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারের দিক থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এর পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠা।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় উপাচার্য মহোদয় ও গভর্নিং বোর্ডের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিবেদিত অংশগ্রহণের সম্মিলিত ফলেই এই সাফল্য এসেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
এইচএসসিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী দুই বোনের বড় চমক
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মোসা. ফিরোজা খাতুন ও তার ছোট বোন মোসা. সোনিয়া খাতুন। তারা দুই বোন খুলনার পিএইচটি সেন্টারের নিবাসী। এবারের এইচএসসিতে চমক দেখিয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই দুই বোন। খুলনার দৌলতপুর মুহসীন মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। তাদের স্বপ্ন শিক্ষক হয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদান করাবেন।
বৃস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এইচএসসির ফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত দুই বোন।
এবার এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও তাদের সফলতায় খুশি পিএইচটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। বাধা থাকলেও নিজেদের মেধায় এগিয়ে রয়েছেন তারা। এবারের এইচএসসির ফলাফলে দুইজনই পেয়েছেন ‘এ’ গ্রেড। দুজনই জানালেন তাদের স্বপ্নের কথা।
বড় বোন ফিরোজা খাতুন বলেন, খুলনার পিএইচটি সেন্টারে প্রথম শ্রেণিতে আমি ও আমার ছোট বোন ভর্তি হয়েছিলাম। ১৩ বছর ধরে এখানেই রয়েছি আমরা। একসঙ্গে লেখাপড়া করেছি। দৌলতপুর মুহসীন মহিলা কলেজ থেকে দুইজনই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। ফলাফল পেয়েছি। আমি এবার ৪.০০ পয়েন্ট পেয়ে পাস করেছি। আর ছোট বোন সোনিয়া ৪.৬৭ পয়েন্ট পেয়েছে। আমরা দুইজনই ‘এ’ গ্রেড পেয়েছি।
নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি শিক্ষক হতে চাই। শিক্ষক হয়ে প্রতিবন্ধী ছোট ভাই—বোনদের লেখাপড়া শেখাবো।
ছোট বোন সোনিয়া খাতুন বলেন, এবার এইচএসসিতে পাসের হার কমেছে। আরও ভালো করা সম্ভব হতো যদি সব ধরনের সুবিধা থাকতো। বিশেষ করে বেইল পদ্ধতির বইগুলো থাকলে। আইসিটি, বাংলা ও ইংরেজি বেইল পদ্ধতির বই ছিল। বাকিগুলো শুনে শুনে মুখস্থ করতে হতো। পরীক্ষায় আমি বলেছি এবং একজন শ্রুতি লেখক সেটা লিখেছে। ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও আমরা দুই বোন ভালো রেজাল্ট করেছি। এতেই আমরা খুশি।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে পিএইচটি সেন্টারে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমরা দুই বোন একইসঙ্গে লেখাপড়া করতাম। সেখানকার শিক্ষকরা আমাদের খুব বেশি সহযোগিতা করেছেন। আমাদের গ্রামের বাড়ি কয়রা উপজেলায় হলেও ২০১৬ সালে বাবা—মা দুজনই কাজের জন্য ভারতে গিয়েছেন। এখনো তারা সেখানেই রয়েছেন। নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। রেজাল্ট পেয়েই তাদের জানিয়েছি। তারা খুবই খুশি। এখন স্বপ্ন পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো। প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়া শিখানো। এ জন্য শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে।
শুধু ফিরোজা আর সোনিয়াই নয়, এইচএসসিতে অংশ নেওয়া পিএইচটি সেন্টারের অংশ নেওয়া শতভাগ দৃষ্টি ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের দুইজনের সঙ্গে এবারের এইচএসসিতে পাস করেছে বাক প্রতিবন্ধী শাম্মী আক্তারও। তিনি কথা বলতে ও শুনতে না পারলেও শিক্ষকদের সঙ্গে ইশারায় কথা বলেন। একইসঙ্গে লিখে নিজের কথা জানাতে পারেন। কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় ইশারায় প্রশ্ন করা হয় শাম্মীকে। তিনি লিখে ও ইশারায় তার উত্তর দেন।
শাম্মী জানান, বাবা ফরিদপুরের ছালাম শেখ এবং মা জাহানারা বেগম। এবারের পরীক্ষায় পাস করে তিনি খুব খুশি। খুলনার গোয়ালখালী পিএইচটি সেন্টারের ৫ জন নিবাসী এবারের এইচএসসিতে অংশ নিয়ে পাস করেছেন।
এছাড়া পিএইচটি সেন্টারের নিবাসী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ময়না খাতুন রুনা জিপিএ ৩.৭৫ ও বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধী মিতু ৩.০৪ পেয়ে পাস করেছেন।
খুলনার গোয়ালখালী পিএইচটি সেন্টারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক নার্গিস আক্তার বলেন, আমাদের এখানকার নিবাসী ফিরোজা ও সোনিয়া দুই বোন খুবই ভালো ফলাফল করেছে। এবারের এইচএসসিতে অংশ নেওয়া ৫ জনই একসঙ্গে পাস করেছে। এতে আনন্দিত, রেজাল্ট পেয়ে আমরা খুশি।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী
চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরেট ও জন মার্টিনিস। ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন গবেষণার জন্য এই তিন মার্কিন বিজ্ঞানীকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করে।
রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বলেছে, তাদের এই আবিষ্কার কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। আর এর পুরস্কার স্বরূপ তাদের নোবেলে ভূষিত করা হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অদ্ভুত এবং সাধারণত ক্ষুদ্রাতীত কণার আচরণগুলো কীভাবে আমাদের পরিচিত বড় আকারের মানব-সৃষ্ট বস্তু বা অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে সেটির ওপর এ বছরের পদার্থে নোবেলের বিষয় ছিল।
পুরস্কারপ্রাপ্ত এ তিন বিজ্ঞানী তাদের ধারাবাহিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, যে এই ঘটনাটি সম্ভব। তারা এমন একটি অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরি করেন, যা একটি অবস্থা থেকে সরাসরি অন্য অবস্থায় 'টানেল' করে যেতে পারে। বিষয়টি দেখে মনে হয় যেন একটি জিনিস দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে ভেদ করে চলে গেছে।
তারা আরও দেখিয়েছেন যে এই ব্যবস্থাটি নির্দিষ্ট মাত্রার বা সুনির্দিষ্ট ‘ডোজ’-এ শক্তি শোষণ করে এবং বিকিরণ করে। যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
নোবেল পুরস্কারের ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার সমানভাবে ভাগ করে নেবেন এই তিন পদার্থবিজ্ঞানী।
গতবছর পদার্থের নোবেল পেয়েছিলেন ‘মেশিন লার্নিং’ এর দুই পথিকৃত যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জন জে হপফিল্ড এবং কানাডার গবেষক জেওফ্রে ই হিন্টন।
বরাবরের মতই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। বুধবার রসায়নে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার আসবে সাহিত্যের নোবেল ঘোষণা। এরপর শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য