শিরোনাম
মাত্র ১৩৫ দিনে কোরআনের হাফেজ ৮ বছরের শিশু
আশরাফুল ইসলাম নামে আট বছরের এক শিশু মাত্র ১৩৫ দিনে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজো করতে সক্ষম হয়েছে। তার এমন অসাধারণ সাফল্যে তার বাবা-মা, শিক্ষক ও এলাকাবাসি বেজায় খুশি। আশরাফুল এত অল্প বয়সে হাফেজ হওয়ায় এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আশরাফুলকে উৎসাহ দিতে সংবর্ধনা ও পুরস্কার দিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
আশরাফুল ইসলাম সিরাজগঞ্জে জেলার এনায়েতপুর থানার গোপরেখী গ্রামের বাবু হোসেনের ছেলে। আশরাফুলের বাবা একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। মা একজন গৃহিণী।
গত মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিকেলে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মিফতাহুল উলূম কওমি মাদরাসা চত্বরে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে গোপরেখী পশ্চিমপাড়া বাইতুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও মিফতাহুল উলুম কওমি মাদরাসার উদ্যোগে হাফেজ আশরাফুল ইসলামকে সংবর্ধণা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আলহাজ মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এত অল্প বয়সে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করা একটা অবাক করার মতো বিষয়। আল্লাহ পাকের রহমত ও বরকত ছাড়া এটা সম্ভব হয়নি। আমরা হাফেজ আশরাফুল ইসলামের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন কবুল করে নেন, বিশ্বব্যাপী তার ব্যাপক সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক।
ফারিহা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েই ছুটে গেলেন আইসিইউতে
ফারিহা আফরিন গুলেন–বারি সিনড্রোম বা জিবিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৮ সালে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে আইসিইউয়ের কষ্টের দিনগুলি কাটিয়ে উঠে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পুরোদমে শুরু করেন পড়াশোনা। তাতে সফলতাও পেয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
গত সোমবার (১৩ মার্চ) মিষ্টি নিয়ে মা লাইলা আঞ্জুমকে সঙ্গে নিয়ে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে হাজির হন ফারিহা। মিষ্টিমুখ করান চিকিৎসক ও নার্সদের।
ফারিহা আফরিন আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি উনার (চিকিৎসক) প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ। আল্লাহর পর তিনিই (চিকিৎসক) আমাকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করেছেন। আল্লাহর রহমতে উনার (চিকিৎসক) সেবায় আমি বেঁচে আছি।’
ফারিহা আফরিন নগরের বুলনপুর ঘোষপাড়ার বাসিন্দা। সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পিএন) থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন তিনি। এরপর কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ থেকে এএইচএসসি সম্পন্ন করেন। ফারিহার বাবা মো. আনোয়ার হোসেন কৃষিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। মা লায়লা আঞ্জুমান হাজী সাফিনা কলেজের প্রদর্শক। বড় ভাই এলএম হাসনাইন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) পড়াশোনা করেন।
ফারিহা আফরিন বলেন, সময়টা ছিল ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন। ওই দিন আমি আইসিইউতে ভর্তি হই। আমার অনুভূতি ছিল, তবে আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। চোখের পাতাও নড়াতে পারছিলাম না। আমি শ্বাসও ঠিক মতো নিতে পারছিলাম না। আমাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। এভাবে একমাস ছিলাম আইসিইউতে। আইসিইউতে ভর্তির প্রায় ১৫ দিন পরে কথা বলতে শুরু করি। ডাক্তারদের বলতাম, স্যার আমি কখন বাড়িতে যাব। ডাক্তার বলতেন, আরও সুস্থ হও, তারপর ছুটি দেওয়া হবে। এভাবে দিন যেতে যেতে ৩১ ডিসেম্বর আমাকে ছুটি দেয়। তখন আমি বাসায় ফিরি। রামেক হাসপাতালের আইসিইউয়ের ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা স্যার আমার অনেক সেবা করেছেন। সেখানে এক মাস চিকিৎসা নিয়ে আল্লাহর রহমনে এখনো ভালো আছি।
ফারিহা আফরিন বলেন, ছোটবেলায় আমার শ্বাসকষ্ট ছিল। আমি নিয়মিত ইনহেলার নিতাম। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশানা অবস্থায় ভালো হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট। যখন চিকিৎসকরা আমার চিকিৎসা করতো তখন থেকেই আমার ইচ্ছা হয়, আমি চিকিৎসক হবো। আমার পরিবারও চায়, আমি ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিষয়ে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হই। তবে আমাদের বই কিনে পড়ার মতো টাকা ছিল না। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের। আমি বেশির ভাগ সময় ইন্টারনেটে ফ্রি পিডিএফ বই ডাউনলোড করে পড়াশোনা করতাম।
রামেক আইসিইউ ওয়ার্ডের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা বলেন, আল্লাহ চেয়েছে বলে সে সুস্থ হয়েছে। আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সব রোগীকেই আমরা যত্ন নিই। এই মেয়েটি আমাকে মনে রেখেছে।
কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম শাহ বলেন, মেয়েটি মেধাবী। সে অসুস্থ ছিল, আইসিইউতে ছিল। সে ভালো লেখাপড়া করত। নিয়মিত ক্লাসে আসত। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। এ বছর এইচএসসিতে কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ থেকে দুইজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারা দুজনই বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ফারিহা একজন।
মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন একই কলেজের ৫০ শিক্ষার্থী
প্রতিবারের মতো এবারও এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার সফলতা দেখিয়েছে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে এবারও এই কলেজের অর্ধশত শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ইনচার্জ সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহা। এছাড়াও আজিজুলিয়ান ফ্রেকর্স নামের এক ফেসবুক পেজ থেকে ৫০ জন শিক্ষর্থীর মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে পোস্ট পোস্ট করতে দেখা গেছে। এতে দেখা যায় এবারও সরকারি আজিজুল হক কলেজের ৫০ শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। এই তালিকায় এগিয়ে আছেন মেয়েরা, তারা সুযোগ পেয়েছেন ৩২ জন। ছেলেরে সুযোগ পেয়েছেন ১৮ জন।
সরকারি আজিজুল হক কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখার (ইনচার্জ) সহকারী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহা জানান, এ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগে ৬৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৬৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনসহ পাস করে ৬৯০ জন। তার মধ্যে এবারে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
মেডিকেলে চান্স পাওয়া সেই এমরানের বাড়িতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এমরান হোসেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সোমবার (১৩ মার্চ) রাতে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রহমত উল্যাহ বিপ্লব শুভেচ্ছা জানাতে এমরানের বাড়িতে মিষ্টি ও ফুল নিয়ে ছুটে যান।
এ সময় অ্যাডভোকেট রহমত উল্যাহ বিপ্লব এমরান ও তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। পরে এমরানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রহমত উল্যাহ বিপ্লব বলেন, এমরানের মতো মেধাবীরাই আগামীতে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। তার বাবা-মা আজ গর্বিত। তাদের সন্তানের নাম এখন লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নানা শ্রেণিপেশার মানুষের অন্তরে গেঁথে গেছে। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি।
এমরান হোসেন জানান, কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস তার নিজ কার্যালয়ে এমরানকে ডেকেছেন। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) ইউএনও’র সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ অভাবে কলেজ যেতে না পারা এমরান মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন
এমরান হোসেন বলেন, যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে আমি গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই।
এমরান লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকার ভ্যানচালক মো. ইউসুফের ছেলে। রোববার (১২ মার্চ) মেডিকেল কলেজের ভর্তির ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ৪৭৯তম স্থান অর্জন করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন এমরান।
মহাত্মা গান্ধী শান্তি সম্মাননা পেল বাউয়েট শিক্ষার্থী তামিম
বাউয়েট প্রতিনিধিঃ মহাত্মা গান্ধী শান্তি সম্মাননা পেল বাউয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদী মুহাম্মদ তামিম।
এশিয়ান বিজনেস সামিট ২০২৩ এবং মহাত্মা গান্ধী শান্তি সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয় ভারতের কলকাতায়। উক্ত সামিটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা দেয়া হয় তরুণদের। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় অবদান রাখার জন্য সাদী মুহাম্মাদ তামিম কে এই সম্মাননা প্রদান করা হয় বলে জানিয়েছেন বাউয়েট শিক্ষার্থী তামিম।
তামিমের এই অর্জনে তাকে শুভেচ্ছা জানান বাউয়েটের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মোস্তফা কামাল (অব.) এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. ইন্জিনিয়ার মোঃ রশিদুল হাসান।
সাদী মুহাম্মাদ তামিম সিংড়া স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা। চলনবিল এবং আশেপাশের উপজেলায় ২০১৬ সাল থেকে তিনি মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য