ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৭
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন
মোঃ আয়নুল ইসলামঃ বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যেন একটা নতুন সূর্য উঠেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিভেদ এবং অস্থিরতার ইতিহাসের পর সময়ে এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। বর্তমানে রাজনীতি মানে সহিংসতা বা প্রতিহিংসা নয় বরং সংলাপ, সমঝোতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। 
 
প্রথমেই বলা যাক সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়া নির্বাচনের কথা। অতীতে বাংলাদেশের নির্বাচন বলতে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং রক্তপাতের ছবি মনে আসত। কিন্তু ২০২৪ এর পরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে, বিশেষ করে ড. ইউনুসের মতো নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়াই। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, ডিজিটাল সিস্টেমের সংযোজন (বডি ক্যামেরা), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফলে, ভোটাররা ভয় ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নয়, বরং নীতিভিত্তিক বিতর্ক। এই পরিবর্তন দেশের গণতন্ত্রকে আরও পরিপক্ব করেছে।
 
আরেকটা চমকপ্রদ পরিবর্তন হলো নির্বাচনের পর জয়ী নেতার পরাজিত নেতার বাসায় যাওয়া। এটা যেন একটা নতুন ঐতিহ্যের সূচনা। অতীতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিজয়ী দল পরাজিতদের প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করত। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ী নেতা সরাসরি পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, চায়ের আড্ডায় বসে ভবিষ্যতের সহযোগিতার কথা বলেছেন। এটা শুধু একটা প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটা বড় পরিবর্তন। এর ফলে দলগুলোর মধ্যে বিভেদ কমবে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি মজবুত হবে। এমন ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন প্রতিহিংসা থেকে সম্মানের দিকে যাচ্ছে।
 
এই সব পরিবর্তন দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি একটা নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। যদি এই গতিধারা অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ। যে পরিবর্তন এসেছে এখন তা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। 
 
লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি: শিক্ষামূলক খেলনা হতে পারে কার্যকর বিকল্প

    টিআরসি রিপোর্ট
    ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৭:২৮
    টিআরসি রিপোর্ট
    শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি: শিক্ষামূলক খেলনা হতে পারে কার্যকর বিকল্প

    বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি একটি উদ্বেগজনক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং কম্পিউটার, টিভি স্ক্রিনে শিশুদের সময় কাটানো দিনে দিনে বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। শিশুদের প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব বলয়ের বাহিরে রাখতে 'শিক্ষামূলক খেলনা' একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আশার কথা হলো প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে শিক্ষামূলক খেলনাগুলি নতুন আঙ্গিকে হাজির হয়েছে।

    শিক্ষামূলক খেলনা শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। এই ধরনের খেলনা বিনোদনের পাশাপাশি, শিশুদের সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লক নির্মাণ, ধাঁধা, বিজ্ঞান ও গণিতের খেলনা শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়। 

    শিক্ষামূলক খেলনার মাধ্যমে শিশুরা মননশীলতা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে পারে। বিভিন্ন বয়সের জন্য উপযুক্ত খেলনাগুলি শিশুর চিন্তাভাবনাকে উন্মোচন করে এবং শেখার প্রক্রিয়ায় আনন্দ নিয়ে আসে।

    বাংলাদেশের বাজারে এই ধরনের খেলনা উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তাদের পণ্য নিয়ে এসেছে, যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এসব খেলনা শিশুদের অঙ্কন, গণনা, ভাষা শিক্ষা এবং সামাজিক দক্ষতার উন্নয়নে সহায়তা করে।

    অভিভাবকদের করার আছে অনেক কিছু। প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কথা ভেবে তারা সন্তানের সঠিক বিকাশের জন্য শিক্ষামূলক খেলনা বেছে নিতে পারেন। সঠিক শিক্ষামূলক খেলনা নির্বাচন শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শেখার আগ্রহকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

    আসুন, আমরা সবাই মিলিত হয়ে বাংলাদেশে শিক্ষামূলক খেলনাগুলোর গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক উন্নয়নে সাহায্য করি।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      দীর্ঘদিনের শিক্ষার্থী-সংগ্রাম বনাম প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৮ মে, ২০২৫ ১৩:৫৪
      অনলাইন ডেস্ক
      দীর্ঘদিনের শিক্ষার্থী-সংগ্রাম বনাম প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা

      সালটি ছিলো ২০০৯ এর, বছরের সূচনা লগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার কন্ঠ তুলছিলেন। জানুয়ারি মাসের ২৭তম দিনে এই কন্ঠ যখন সড়কে সড়কে পৌছালো সেদিন যেন এক কালো অধ্যায়ের সাক্ষী হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। "হল চাই হল চাই" শ্লোগানে যখন রাজপথ প্রকম্পিত হচ্ছিলো তখনি ওপর পাশ থেকে ভেসে এলো বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেডের মত বিপর্যয়ের শব্দগুলো। পুলিশের টিয়ারশেলে গা পুড়িয়ে, আর ক্রমাগত রাবার বুলেটের নিক্ষেপে আহত হয়েছিলো হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। শুধু পুলিশি লাঠিচার্জ নয় বরং পুলিশি মামলার ভাঁড়ও সইতে হয়েছে সেইসব শিক্ষার্থীদের।

      উক্ত ঘটনায় কার্যত জবিসহ পুরো পুরান ঢাকা অচল হয়ে পড়ে। পুরান ঢাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাজপথ ২৯ দিনব্যাপী পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে 'রক্ত নে,হল দে`শ্লোগানে মুখরিত ছিল। বেশ কয়েকটি কমিটি গঠনপূর্বক সমস্যার সমাধান ও দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রশাসন গা বাঁচিয়ে নেয়। তবে নামমাত্র এই পদক্ষেপের কোনো ইতিবাচক ফলাফলই শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো মেলেনি। তবুও অগ্রজদের সেই আত্মত্যাগ ও অবদানকে প্রতিবছর সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয় ২৭জানুয়ারিকে "হল দিবস" হিসেবে পালনের মাধ্যমে।

      সমস্যা জর্জরিত এই ব্যবস্থাপনাকে নিয়েই বেশ কয়েক বছর অতিক্রম করার পর পুনরায় ২০১৪ ও ২০১৬ সালে বড় দুটি হল আন্দোলন করে নিজের অধিকার নিয়ে রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ এ আবারো শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেয়া হয় নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জে ছাত্র হলের জন্য কার্যক্রম শুরু হতে চলেছে। তবে এ কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও উদাসীনতার কারণে আজও ছাত্রদের জন্য সম্পূর্ণ অনাবাসিক রয়ে গেছে ক্যাম্পাসটি। ২০১৩ সালে ঘোষনা দেয়া ছাত্রী হলের কার্যক্রমও নানা টালবাহানায় বারংবার পিছিয়ে অবশেষে ৬ বছর পর হলটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় যদিও তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী অপ্রতুল। তাছাড়া প্রায় তিন দশক ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি হল প্রভাবশালীদের দখলে রয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালালেও আইনি জটিলতা ও স্থানীয়দের দন্দের মুখে হলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। অপর্যাপ্ত বাজেট, আবাসন সংকট, ক্যাম্পাসের জায়গার সংকীর্ণতায় অপর্যাপ্ত ভবন ও ক্লাসরুমের সংকটে শিক্ষাবর্ষে অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়াসহ শিক্ষাজীবনে অসংখ্য ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপের ব্যর্থতায় আজ চরম ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।

      দূর দূরান্ত থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা যখন কোনোরকম রাষ্ট্রীয় সহায়তা না পেয়ে নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত টিয়ারশেলে গা পুড়িয়ে ও লাঠিচার্জে রক্তাক্ত হয় তখন তা শুধু কর্তৃপক্ষের নয় বরং পুরো রাষ্ট্রেরই ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হতে ইউজিসি, ইউজিসি হতে মন্ত্রনালয়, মন্ত্রনালয় হতে যমুনা এই দীর্ঘতম পথ যেনো অনেকের নিকট অযৌক্তিক হয়ে ওঠছে অথচ দীর্ঘ ১৬বছরের ছাত্র ছাত্রীদের রক্ত দিয়েও প্রাপ্য অধিকার ফিরে না পাওয়া আর আশ্বাস দিয়েই প্রশাসনের খালাস পেয়ে যাওয়া কারোর নিকট ন্যায়বিরুদ্ধ মনে হয় নি। প্রশাসনের এই রুদ্ধতাকে কেউ হয়তো প্রশ্নবিদ্ধই করবেনা কারণ "রাষ্ট্র বোতলের হিসাব রাখে, বুলেটের হিসাব রাখেনা।" জুলাই বিপ্লবের নতুন সূর্যদোয়ের সুচনা যেখানে ছিলো 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' নিয়েই, সেখানে ২০২৫এ এসেও সকল ন্যায্য দাবির মুখে অমানবিক প্রতিক্রিয়া ও নীরব দর্শকের মত প্রশাসনের ভূমিকা শুধুর জবির ইতিহাসে নয় বরং বিপ্লবের পর ফিরে পাওয়া নতুন রাষ্ট্রের জন্যই এক কলঙ্কিত অধ্যায়। বরাবরের মত এই সোচ্চার ও সদা জাগ্রত কন্ঠ এবারো হয়তো দমন করার প্রয়াস করা হবে তবুও তারা অন্তত বলতে পারবে এমন কোনো কড়া ছিলোনা যা তারা নাড়াই নি, এমন কোনো জায়গা ছিলো না যেখানে তারা যাইনি। রাষ্ট্রের জুলাই আন্দোলন হোক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল আন্দোলন- বিপ্লবের সকল প্রান্তরে নির্ভীক জবিয়ানদের ইতিহাসে স্মরণ রাখা হবে।

      লেখক:
      সামিহা তাসনিম  
      শিক্ষার্থী,
      প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ,
      জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
       

      মন্তব্য

      প্রকাশ্যে নারী নির্যাতন: দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়?

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ১৭:৫২
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      প্রকাশ্যে নারী নির্যাতন: দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়?

      সামিহা তাসনিম: চতুর্দিকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া নারীর প্রতি হয়রানিমূলক ঘটনাগুলো বর্তমানে রাষ্টের অতি উদ্বগজনিত বিষয়গুলোর একটি। গনপরিবহনে নারী উত্যক্তাকারীদের দ্বারা হেনস্তা, ক্রেতাদের দ্বারা দরদাম ও পন্যসামগ্রীক বিষয়কে কেন্দ্র করে হেনস্তা, রাস্তাঘাটে, কর্মক্ষেত্রে, সামাজিক মাধ্যমে পোশাকসহ নানা বিষয় নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য এমনকি নিজ গৃহেও নারীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে; যার অন্যতম প্রধান কারন বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী বিদ্বেষী মনোভাব। যেমন বহু আগে থেকেই বাসে নারীরা শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ পরিবেশের স্বীকার হয়ে এসেছে ফলে নারীদের জন্য ৯টি সিট বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু বর্তমানে সাধারন সিটকে পুরুষ সিট হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখানে নারীরা বসতে পারলে নারী সিটে কেন পুরুষরা বসতে পারবেনা এমন প্রশ্নে কিছু পুরুষরা নারী সিটগুলো দখল করে রাখে।

      নারী পুরুষ সাম্য অধিকার চাওয়ার মানে এই নয় যে নারী পুরুষে আর কোনো ভিন্নতা নেই, বরং এই চাওয়া সেইসব নিয়মের বিরুদ্ধে যেখানে উভয়ই সমান পরিশ্রমী ও যোগ্য় হলেও সম্মানি থেকে শুরু করে সমাজের পদমর্যাদায় পুরুষকে প্রাধান্য দিয়ে আসা আর দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নারী হওয়ায় তাকে সক্ষম না মনে করা।

      আমরা ভুলে যাই গনপরিবহনে প্রচুর শারীরিক হয়রানির শিকার হওয়ায় নারী নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষেই মুলত পৃথক নারী আসনের ব্যবস্থা, নারীদের আলাদা সুযোগ সুবিধা দিতে নয়। এই শারীরিক হয়রানি বা হেনস্তার শিকার নিশ্চয় কোনো পুরুষকে হতে হয়না। আবার প্রকৃতভাবেই অধিক বল ও জোর না থাকায় গনপরিবহনে নারীদের জন্য চলাচল করা তুলনামূলক বেশি কষ্টসাধ্য এজন্যও কিছু পৃথক আসন বরাদ্দ। শারীরিক গঠন ভিন্ন বলেই নারী পুরুষকেও সর্বক্ষেত্রে ভিন্ন পরিস্থিতির সস্মুখীন হতে হয় তাই এখানে তুলনা করা যেন এক নীচু মনমানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আবার অনেক যাত্রী মনে করেন খালি সিট না থাকলে নারীদের যেনো বাসে না উঠানো হয়, যা ভাবনা দোষের কিছু নয়। স্বাভাবিকভাবে মেয়েরা নিজেরাও দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে অস্বস্তিকর বোধ করে তবে যখন নির্দিষ্ট সময়ে অফিস,পরীক্ষা-ক্লাসসহ নানা কারনে যাতায়াত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে উঠে তখন ভিড় থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা। এতে কিছু পুরুষ যাত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়াসহ বাসে মহিলা না উঠানো নিয়ে জোড় মন্তব্যগুলো নারীদের জন্য খুবই অপমানজনক ও অবমাননাকর যা সামগ্রিক ভাবনার উদ্দেশ্যকেই আড়াল করে দেয়।

      জীবিকা নির্বাহসহ পুরো পরিবারের আর্থিকভাবে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্মজীবি নারীদের পক্ষে সবসময় পৃথক যানবাহন ব্যবহার করা সম্ভব নয় কেননা তা অধিক ব্যয়বহুল, ফলে দীর্ঘদিন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু পরিবহনগুলোতে পুরুষদের দ্বারা বাজে আকার ইঙ্গিত ও বিদ্রূপ মন্তব্যে নারীরা যেভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে থাকে তা তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। আবার দরদাম ও একাধিক পন্য দেখতে চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকটি হওয়ায় নারী গ্রাহকের উপর ক্রেতাদের অত্যাধিক বাজে মন্তব্য করা সহ গায়ে হাত উঠানোর মত অপরাধ্মূলক কর্মকান্ড এড়িয়ে চলার মত নয়।

      সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে এক নারীর অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারনে রেস্তরার এক কর্মচারী দ্বারা তাকে পিটানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানে মেয়েটি যদি রেস্তোরায় কোনো অসামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করেও থাকে তবে তার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেত তবে তার উপর হওয়া শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের বিশেষ করে তাদের জনপ্রিয় মুখদের প্রচুর বাজে মন্তব্যের শিকার হতে হয় যার মধ্যে ধর্ষণ ও মৃত্যু হুমকি পর্যন্ত রয়েছে এছাড়াও নারী নির্যাতন বিষয়ে যারা সহমত পোষণ করে অনলাইনে নারী বিদ্বেষী মনোভাব ছড়িয়ে দেয় তাদের প্রতিও সচ্চার ব্যবস্থা নিতে হবে কেননা তাদের মানসিকতাও সমাজে নারী অবমাননার জন্য অনেক আংশে দায়ী। সামাজিক মাধ্যমে নারীনিরাপত্তা নিয়ে জোর পদক্ষেপ না নিলে এরকম ঘৃণ্যমূলক কর্মকান্ড আরো বৃদ্ধি পাবে।

      বাংলাদেশের অধিকাংশ নারীই তাদের জীবনসঙ্গী বা স্বামী কর্তৃক সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। দেশের ৭০ শতাংশ নারী জীবদ্দশায় অন্তত একবার হলেও স্বামীর দ্বারা শারীরিক, যৌন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের শিকার হন। গত ১২ মাসে ৪১ শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে ‘নারীদের ওপর সহিংসতা শীর্ষক জরিপ ২০২৪’-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে আরও বলা হয়, সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী আইনের আশ্রয় নেন। বাকি ৯৩ দশদিক ৬ শতাংশ নারী এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেন না। এ ছাড়া সহিংসতার শিকার ৬৪ শতাংশ নারী তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা কখনও কাউকে বলেনও নি। জরিপে দেখা যায় যে নারীদের অন্য কারও তুলনায় স্বামীদের কাছ থেকে শারীরিক সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কা তিনগুণ বেশি এবং যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ১৪ গুণ বেশি। এতে প্রতীয়মান যে নিজ বাসায়ও নারীর নির্যাতনের ঘটনা কতটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

      তবে আজকাল বাংলাদেশ পুলিশের নারী নির্যাতন মূলক কিছু ঘটনার বিরুদ্ধে তৎপর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে যা সাময়িক স্বস্তির হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যথেষ্ট নয়। নারী নির্যাতন আইনের কঠোর ও বাস্তবিক প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এরকম হয়রানিকে দমাতে পারবে। তবুও সবকিছুর উর্ধে প্রয়োজন মনস্তাত্ত্বিক সংস্কার ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। রাস্তাঘাটে কারোর পোশাক আপনার নিকট দৃষ্টিকটু মনে হলেই তাকে হেনস্তা করা বা তাকে নিয়ে বিদ্রূপ মন্তব্য করা যাবে এমন ভাবনা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আবার কোনো বিষয় কেন্দ্রিক দ্বিমতের ফলে শুধুমাত্র নারী হওয়ায় তার প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়াসহ ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমন করার ও অবমাননা করার সাহস দেখানো যেন আরেক কাপুরুষতার পরিচয়। এরকম পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সকলের সোচ্চার প্রতিবাদই যেনো ব্যপক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া নারীর প্রতি সহিংসতাকে নিয়ন্ত্রনে আনতে পারবে।

      লেখক: শিক্ষার্থী, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ঈদ আনন্দ: শৈশবের উচ্ছ্বাস বনাম তারুণ্যের উপলব্ধি

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৩০ মার্চ, ২০২৫ ১৫:৩৮
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ঈদ আনন্দ: শৈশবের উচ্ছ্বাস বনাম তারুণ্যের উপলব্ধি

        সামিহা তাসনিম: ঈদ ভাবনার কথা বললেই শৈশবের ঈদ আনন্দের স্মৃতিগুলোর মত স্নিগ্ধ ও সুন্দর বোধহয় আর কিছুই হয় না। উদযাপন যেন আগের রাত থেকেই শুরু হয়ে যেত, চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে, ঈদকার্ড বিনিময় মেয়েদের মেহেদী রাঙ্গানোর উৎসব, মায়েদের ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজনের প্রস্তুতিসহ নতুন জামা নিয়ে আগ্রহ ও হাসি-উল্লাসের আড্ডায় অনেকটা ঘুমহীন রাতই কাটত সকলের। বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজে যাওয়া ও সবার কুশল বিনিময় করে কোলাকুলি করার এক প্রীতিকর অনুভূতি দিয়েই শুরু হত এই আনন্দময় দিনের। বড়দের শ্রদ্ধায় ও ছোটদের স্নেহময়ে সালামি দেয়া নেয়া যেন পরিবারের সবচেয়ে সুন্দরতম মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি।

        সেই ঈদ আনন্দের অনুভূতি হয়ত আমরা অনেকেই হারিয়ে ফেলেছি জীবনের নানা ব্যস্ততার ফাঁদে। তবে এই অনুভূতিকে ফিরে পাওয়া সম্ভব। শৈশবে বাবা মা যেভাবে বিশেষ উপহার দিয়ে ঈদকে বিশেষ করে তুলতেন সেভাবেই তাদের উপহার দিয়ে কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করার মাধ্যমে বা ছোটদের সালামি, উপহার দিয়ে তাদের দিনকে বিশেষ করানো কিংবা ঈদের দিন সকলের জন্য বিশেষ কিছু খাবার তৈরি করে দেয়াসহ সবাইকে নিয়ে ঘুড়তে যাওয়া ও সময় কাটানো সেই অনুভূতিকে ফিরিয়ে দিতে পারে।

        বড় হওয়ার সাথে সাথে ঈদ আনন্দ অনুভূতির কিছুটা পরিবর্তন আসে বটে তুবে হারিয়ে যায়না। সকলের ঈদে সুন্দর স্মৃতি উপহার দেয়ার প্রয়াসই যেন আমাদের শৈশবের ঈদের আনন্দকে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়।

        বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুভূতি, পুরো পরিবারের সাথে থাকতে পারার স্বস্তি এক ধরনের উৎসবমুখোরতা দিলেও পরিবারের সদস্যদের সঠিক মূল্যায়ন ও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-মমতা যেন ঈদের আনন্দকে দ্বিগুন করে দেয়।

        সর্বোপরি আমাদের এই দিনের বিশেষ আমেজে যেন বাদ না পরে যায় অসহায় ও খেটেখাওয়া মানুষরা। পথশিশু, এতিম কিংবা পরিবারহারা মানুষদের সাথে খুশী ভাগ করে নেয়ার পাশাপাশি বাসার দারোয়ান থেকে শুরু করে কাজে সাহায্য করা প্রতিটা মানুষকে সাথে নিয়ে উদযাপনই প্রকৃতপক্ষে ঈদ আনন্দের পরিপূর্ণতা মিলাবে।

        লেখক: শিক্ষার্থী, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত