ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি: শিক্ষামূলক খেলনা হতে পারে কার্যকর বিকল্প

টিআরসি রিপোর্ট
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৭:২৮
টিআরসি রিপোর্ট
শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি: শিক্ষামূলক খেলনা হতে পারে কার্যকর বিকল্প

বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি একটি উদ্বেগজনক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং কম্পিউটার, টিভি স্ক্রিনে শিশুদের সময় কাটানো দিনে দিনে বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। শিশুদের প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব বলয়ের বাহিরে রাখতে 'শিক্ষামূলক খেলনা' একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আশার কথা হলো প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে শিক্ষামূলক খেলনাগুলি নতুন আঙ্গিকে হাজির হয়েছে।

শিক্ষামূলক খেলনা শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। এই ধরনের খেলনা বিনোদনের পাশাপাশি, শিশুদের সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লক নির্মাণ, ধাঁধা, বিজ্ঞান ও গণিতের খেলনা শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়। 

শিক্ষামূলক খেলনার মাধ্যমে শিশুরা মননশীলতা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে পারে। বিভিন্ন বয়সের জন্য উপযুক্ত খেলনাগুলি শিশুর চিন্তাভাবনাকে উন্মোচন করে এবং শেখার প্রক্রিয়ায় আনন্দ নিয়ে আসে।

বাংলাদেশের বাজারে এই ধরনের খেলনা উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তাদের পণ্য নিয়ে এসেছে, যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এসব খেলনা শিশুদের অঙ্কন, গণনা, ভাষা শিক্ষা এবং সামাজিক দক্ষতার উন্নয়নে সহায়তা করে।

অভিভাবকদের করার আছে অনেক কিছু। প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কথা ভেবে তারা সন্তানের সঠিক বিকাশের জন্য শিক্ষামূলক খেলনা বেছে নিতে পারেন। সঠিক শিক্ষামূলক খেলনা নির্বাচন শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শেখার আগ্রহকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

আসুন, আমরা সবাই মিলিত হয়ে বাংলাদেশে শিক্ষামূলক খেলনাগুলোর গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক উন্নয়নে সাহায্য করি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মেডিকেল ভর্তিতে অটোমেশন : বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা সেক্টর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

    অনলাইন ডেস্ক
    ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:৪
    অনলাইন ডেস্ক
    মেডিকেল ভর্তিতে অটোমেশন : বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা সেক্টর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

    অটোমেশনের কারণে সিট খালি থাকছে দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে। সে কারণে এ পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, এটি খুবই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত আর ভর্তি হন না। শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এই দুশ্চিন্তায় অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকার পরও তারা অন্যত্র ভর্তি হয়। ফলে সিট খালি থাকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন সচেতন অভিভাবক ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। ফলে অটোমেশন পদ্ধতিতে ভর্তি পক্রিয়া বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষা বর্ষে সব মিলিয়ে ৪৬৭টি আসন ফাঁকা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষার্থী না পেয়ে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে লোকসান গুনতে গুনতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তারা বলছে, অটোমেশনের কারণে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হতে চার থেকে ছয় মাস লেগে যাচ্ছে। ২০২২-২৩ শিক্ষা বর্ষে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করলেও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কিংবা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। অটোমেশন চালু হওয়ার পর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২১৭ টি, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১৪২ টি আসন ফাঁকা ছিল। অটোমেশন পদ্ধতি চালুর আগে দেশের কোন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ফাঁকা থাকতো না।

    বেসরকারি মেডিকেলে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব অর্থায়নে লেখাপড়া করেন, কিন্তু সেই শিক্ষার্থীদেরই পছন্দের মূল্যায়ন হয় না। এ কারণেও বেসরকারি মেডিকেলে কলেজে পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শুধু দেশীয় শিক্ষার্থী নন, বিদেশী শিক্ষার্থীরাও অটোমেশন জটিলতায় বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের দাবি, অটোমেশনের নামে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।

    অন্য দিকে অভিভাবকরা বলছেন, অর্থ খরচ করেন তারা, পছন্দ ঠিক করে দেয় সরকার- এটি হতে পারে না। অটোমেশনের কারণে অর্থ থাকলেও পছন্দের কলেজে অনেকেই ভর্তি হতে পারছেন না। অটোমেশন পদ্ধতি বাতিল করে আগের ব্যবস্থায় ফিরে গেলে শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সুবিধা হবে।

    প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, এসব ছাড়াও বেসকারি মেডিকেল কলেজ রিকগনিশন কমিটি (বিএমএন্ডডিসি, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়) পৃথকভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনের নামে ঝামেলা করে। তাদেরকে উৎকোচ না দিলে ঝামেলা মেটানো যায় না, শেষ পর্যন্ত উৎকোচ দিতেই হয়।

    বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো আরো অভিযোগ করছে, অটোমেশনের কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৈরি ‘ভর্তি হতে ইচ্ছুক’ তালিকায় শিক্ষার্থীদের পছন্দকে গুরুত্ব না দেয়ায় অনেকে শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস কোর্স শেষ করতে পারেন না, ঝরে পড়েন। যেমন রাজধানীতে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা রাজধানীতেই থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু যারা ঢাকার বাইরে গ্রামের দিকে চলে যেতে বাধ্য হন তারা অনেক সময় ঝরে পড়েন। তা ছাড়া নিজেদের পছন্দ উপেক্ষিত হয় বলেও শেষ পর্যন্ত মানিয়ে নিতে পারেন না বলে ঝরে পড়েন অনেকে।

    এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চিকিৎসা শিক্ষা খাতে এক দেশে দুই নীতি। আর্মি মেডিকেল কলেজ গুলো অটোমেশনের বাইরে রয়েছে। তারা সরকারী নীতিমালার বাইরে থেকে মেডিকেল কলেজ পরিচালনা করছেন। সুতরাং অটোমেশনরে নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। আর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকার এই খাতে পৃষ্ঠপোষকতা না করে উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে সরকার। হঠাৎ হঠাৎ সরকারী নীতিমালায় উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সেক্টর ধ্বংস করার নীলনকশা করা হয়েছে। এতে বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকারীরা নিরুত্সাহিত হচ্ছে।

    বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ সেক্টর ধ্বংস করার নীলনকশা করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে প্রতিষ্ঠান গড়া কঠিন, ধ্বংস করা সহজ। প্রাইভেট সেক্টরে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা নিজের চয়েজমতো ভর্তি হবেন। কিন্তু অটোমেশনের কারণে তারা তা পারছেন না। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবাই হতাশ। হাত-পা বেঁধে পানিতে সাঁতার কাটতে দেয়ার মতো অবস্থায় অটোমেশন। যার জন্য এই পেশায় আসতে শিক্ষার্থীরা নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। অটোমেশনের নামে এই সেক্টরকে ধ্বংস করার অপপ্রয়াস চলছে।

    বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আসন শূন্য থাকায় ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষা বর্ষে অটোমেশনে ৪ থেকে ৬ বার মেধা তালিকা পাঠানো হলেও অনেকেই তাদের পছন্দের কলেজ না পেয়ে ভর্তি হয়নি। এ ছাড়া প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল না পড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এমনকি বিনা খরচে দরিদ্র ও মেধাবী কোটায় থাকার পরও পছন্দমতো কলেজ না পেয়ে লেখাপড়া শেষ করেননি অনেকে। অটোমেশন চালু হওয়ায় ক্লাসও বিলম্বে শুরু করতে হয়। কয়েকবার মেধা তালিকা প্রকাশের পরও আসন খালিই থাকছে। আবার এই বার বার মেধা তালিকা প্রকাশের কারণে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বিদেশী শিক্ষার্থীরাও আগের মতো ভর্তি হচ্ছে না বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসন ৪৫ শতাংশ পূরণ হয়েছিল। কিন্তু ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষাবর্ষে ২৩ শতাংশ বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসন ফাঁকা রয়েছে। ফলে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষাখাতে সরকার কাঙিখত বৈদেশিক মুদ্রা পাচ্ছে না।

    বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দীন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষায় বেসরকারি খাতের অবদান অপরিসীম। কিন্তু সরকার বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষার সহজীকরণে নজর না দিয়ে নতুন নতুন নীতিমালা তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকারী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে অটোমেশন চালু করেছে।

    তিনি আরো বলেন, অটোমেশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। যা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বান্ধব না। এ কারণে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। যেমন চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী বরিশালে গিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চায় না। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিচ্ছুরা অধিকাংশ ধনী পরিবারের। তারা নিজেদের পছন্দ মতো মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চায়। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুতরাং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই অটোমেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করা প্রয়োজন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      অনেক নয়, প্রয়োজন বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়

      অনলাইন ডেস্ক
      ৬ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:২০
      অনলাইন ডেস্ক
      অনেক নয়, প্রয়োজন বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়

      অক্সফোর্ড, ইংরেজিভাষী বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। যদিও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নির্দিষ্ট সাল ইতিহাসে স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হয় একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকেই এখানে উচ্চশিক্ষার সূচনা ঘটে। সেই সময় ইংল্যান্ডে একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অক্সফোর্ডের পণ্ডিতরা প্রায়শই স্থানীয়দের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াতেন। শ্রেণিবৈষম্য ও চার্চের কঠোর প্রভাবের ফলে ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে অক্সফোর্ডে এক ভয়ঙ্কর দাঙ্গার সূচনা হয়।


      এই সহিংস পরিস্থিতিতে অনেক পণ্ডিত ও শিক্ষার্থী ভিন্নমত পোষণ করে অক্সফোর্ড ছেড়ে পালিয়ে যান কেমব্রিজ শহরে এবং সেখানে গড়ে news.sorejomin@gmail.com তোলেন এক নতুন শিক্ষাঙ্গন। এভাবেই যাত্রা শুরু হয় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক বিদ্যাপীঠ, যা প্রতিষ্ঠিত হয় অক্সফোর্ড থেকে বিতাড়িত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে। ১২৩১ সালে ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় হেনরি অক্সফোর্ডের মতো কেমব্রিজকেও রয়্যাল চার্টার প্রদান করেন এবং করমুক্ত ঘোষণা দেন। সেই থেকে ইংল্যান্ডের এই দুটি শহর, অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ, বিশ্বের মানচিত্রে শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তির মহিমায় অনন্য আসনে অধিষ্ঠিত হয়। কেবলমাত্র জ্ঞানের প্রচার নয়, জ্ঞানের সৃষ্টিতেও এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে অনবদ্য দৃষ্টান্ত।


      শত শত বছর ধরে নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে এমন কঠোরভাবে শিক্ষা এবং গবেষণার মান নিয়ন্ত্রণ করতে করতে এগিয়ে চলা বিরল দুটি বিশ্ববিদ্যালয় এই 'অক্সব্রিজ'। যেকোনো র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রায় প্রতিবছরই বিশ্বসেরা দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই অবস্থান করে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। এর পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। তবে একটি কারণ অবশ্যই অর্থনৈতিক। 


      ২০২৩–২৪ অর্থবছরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন পাউন্ড। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডাউমেন্ট ছিল প্রায় ১.৯ বিলিয়ন পাউন্ড এবং কলেজগুলোর সম্মিলিত এন্ডাউমেন্ট ছিল প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন পাউন্ড। অন্যদিকে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও কলেজ পর্যায়ের সম্মিলিত মোট সম্পদ ছিল প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন পাউন্ড। 


      তুলনামূলকভাবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৯১৩ কোটি টাকা, এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বাজেট ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এই পার্থক্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বৈশ্বিক শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক সক্ষমতা অনেক কম।

      আকর্ষণীয় একটি তথ্য হলো, এসব বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয়ের বড় একটি অংশ আসে সরকারি অনুদানের বাইরে- যেমন গবেষণা অনুদান, শিক্ষার্থীদের বেতন, পাবলিশিং সার্ভিস, অ্যালামনাইদের অনুদান এবং বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক আয়ের উৎস থেকে। উদাহরণস্বরূপ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩–২৪ অর্থবছরের আয়ের প্রায় ২৩ শতাংশ এসেছে গবেষণা অনুদান ও কন্ট্রাক্ট থেকে, এবং ১৬ শতাংশ এসেছে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে।


      এছাড়াও, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অ্যালামনাইদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান পেয়ে থাকে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, কেমব্রিজের সেন্ট ক্যাথরিনস কলেজের অ্যালামনাস ডেভিড হার্ডিং ও তাঁর স্ত্রী ক্লডিয়া হার্ডিং তাঁদের প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দেন, যা কেমব্রিজ ইতিহাসে একক ব্যক্তি বা ফাউন্ডেশনের দেওয়া সর্বোচ্চ অনুদান। 


      শুধু অর্থেই নয়, কাঠামো, মান, পরিকল্পনা ও গবেষণা সংস্কৃতির দিক থেকেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক পিছিয়ে। আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং তো দূরের কথা, দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। অথচ গত দুই যুগে দেশে অনেক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। পরিমাণে বৃদ্ধি হলেও গুণগত মানে নেই দৃশ্যমান উন্নয়ন।


      এই বাস্তবতায় আমাদের আরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলো সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তৈরি; বিশ্বমানের শিক্ষক, গবেষণা, অবকাঠামো ও প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত।


      একটি ভিন্ন মডেল: আট বিভাগে আট বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়


      ধরা যাক, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একটি করে নতুন ধরনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলো। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ছয়টি ফ্যাকাল্টি; সায়েন্স, আর্টস, ইঞ্জিনিয়ারিং, কমার্স, মেডিসিন ও কৃষি। উপাচার্য হবেন বিশ্বখ্যাত কোনো স্কলার। যেমন- প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদ হাসান কিংবা ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুয়েটস ডার্থমাউথের প্রভোস্ট ড. আতাউল করিমের মতো বাংলাদেশি গবেষকেরা। এমন অনেক বাংলাদেশি স্কলার পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন, তাঁদের মধ্য থেকে প্রতিশ্রুতিশীল যোগ্য ব্যক্তিগণই হবেন এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। পাশাপাশি ভিন্ন দেশের যোগ্যতাসম্পন্ন স্কলারদেরও উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।


      শিক্ষক নিয়োগে থাকবে উচ্চমান: পিএইচডি বাধ্যতামূলক, সঙ্গে বিদেশে অন্তত দুই বছর পড়ানো বা গবেষণার অভিজ্ঞতা। শিক্ষক হতে পারবেন বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক। তবে বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কেউ আবেদন করতে পারবেন না, যাতে পুরাতন প্রথাগুলি নতুন ব্যবস্থায় প্রভাব না ফেলে।


      প্রত্যেক বিভাগে কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। তাঁদের এক বছর সময় দেওয়া হবে কোর্স কারিকুলাম ও ল্যাবরেটরি প্রস্তুতের জন্য। প্রতিটি বিভাগে একটি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৪০ জন ছাত্র ভর্তি হবে।


      শিক্ষকের দায়িত্ব ও গবেষণার গুরুত্ব:


      বিশ্বমানের একাডেমিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষককে তার সময়ের ৪০ শতাংশ শিক্ষাদানে এবং ৬০ শতাংশ গবেষণায় ব্যয় করতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হবে একজন শিক্ষকের সমান্তরাল জ্ঞান সম্প্রসারণ ও উৎপাদন যা শিক্ষার্থীদের কাছে থাকবে আপডেটেড, গবেষণাভিত্তিক এবং প্রাসঙ্গিক। প্রত্যেক শিক্ষকের অধীনে কমপক্ষে দুজন ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং একজন পোস্টডক্টরাল ফেলো কাজ করবেন। তারা নির্দিষ্ট গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত থেকে জ্ঞান উত্পাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং গবেষণার গভীরতা ও পরিসর বাড়াবে।


      গবেষণার পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হবে একটি কেন্দ্রীয় ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ ল্যাবরেটরি’, যা হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, আন্তঃবিভাগীয় এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। এখানে শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্ররা কেবল নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতেই নয়, বরং তা সমাজ, রাষ্ট্র এবং অর্থনীতির প্রয়োজনে কাজে লাগানোর মতো বাস্তবমুখী গবেষণায় নিয়োজিত হবেন। এই গবেষণাগার হবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, চিন্তা ও উদ্ভাবনের মূল কেন্দ্র।


      শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রেও থাকবে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মানবিক এক কাঠামো। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে ক্লাস, যা একদিকে যেমন সময়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে বিকালের সময়টিকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের আত্মউন্নয়ন, গবেষণা ও বিশ্রামের জন্য উন্মুক্ত রাখবে। প্রতিটি ক্লাসে থাকবেন একজন টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন অ্যাকাডেমিক সহযোগী যারা যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থী। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও শিক্ষাদানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, তেমনি শেখানো শেখার একটি সমবায়ী পরিবেশ গড়ে উঠবে।


      প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক আবাসন ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তারা সহজে নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারে। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীলতা ও বাস্তব জীবনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।


      ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুগান্তকারী পরিবর্তন:
      ভর্তি প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচের—এমন একটি পদ্ধতি যা শুধু পরীক্ষায় ভালো করাকেই নয়, বরং একটি শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা, সম্ভাবনা ও চিন্তাশক্তিকে বিবেচনায় নেবে। কোনো ধরনের কোচিংনির্ভর ও মুখস্থনির্ভর ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না। এর পরিবর্তে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি যেমন SAT, GRE বা GMAT-এর আদলে একটি স্ট্যান্ডার্ডাইজড স্কোরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা পরিমাপ করবে শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা, ভাষা ও গণনার সক্ষমতা এবং যৌক্তিক চিন্তার ক্ষমতা। এটি হবে অনলাইনভিত্তিক, বহুভাষিক এবং সময়োপযোগী একটি মডেল, যেখানে প্রশ্নপত্র হবে গোপনীয়তা ও মানের দিক দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ।
      ভর্তির ক্ষেত্রে কেবল এই মানদণ্ড-ভিত্তিক স্কোরই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীর স্কুলজীবনের একাডেমিক রেকর্ড, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নেতৃত্বগুণ, নৈতিকতা এবং শিক্ষকদের সুপারিশপত্রও মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এক কথায়, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি ‘হোলিস্টিক’ পদ্ধতিতে বিচার করা হবে। এতে গ্রামীণ, প্রান্তিক কিংবা বিকল্পধারায় বেড়ে ওঠা মেধাবীরাও সুযোগ পাবে, যাদের জীবনবোধ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অনন্য হলেও প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষায় তা অনুচ্চারিত থাকে।
      শিক্ষার্থীরা যুক্তিসঙ্গত হারে টিউশন ফি প্রদান করবে, যা তাদের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। উচ্চশিক্ষাকে কোনোভাবেই ‘ধনীদের জন্য নির্দিষ্ট এক প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো’ হিসেবে দাঁড় করানো হবে না। বরং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ সুবিধা আবশ্যিকভাবে পূর্ণ বা আংশিক স্কলারশিপ ও শিক্ষাঋণ। এই শিক্ষাঋণ হবে সুদমুক্ত ও বন্ধুসুলভ শর্তে, যা তারা পড়াশোনা শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবে, যেন ভবিষ্যতের একজন অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকারী হিসেবে তাদের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
      বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া এবং ফি স্ট্রাকচার। তাদের জন্য টিউশন ফি হবে দ্বিগুণ বা তারও বেশি, যা বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার বিনিময়ে গ্রহণযোগ্য। বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শুধু আর্থিকভাবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং বৈশ্বিক সংযোগ তৈরির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বহুজাতিক ও বহু-ভাষাভাষী শিক্ষার্থী সমাজ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি ‘গ্লোবাল ক্যাম্পাস’-এ রূপান্তর করবে, যা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নেতৃত্ব তৈরি করতে সহায়ক হবে।


      একটি সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস:


      বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন হবে নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন। স্থাপত্যে থাকবে আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবং টেকসই নির্মাণ কৌশলের প্রতিফলন। ক্যাম্পাসজুড়ে থাকবে উন্মুক্ত সবুজ প্রাঙ্গণ, আর প্রতিটি ভবনের মধ্যে থাকবে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা।


      শিক্ষা ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে এক আধুনিক ও ডিজিটালাইজড সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, যেখানে থাকবে দেশ-বিদেশের সমৃদ্ধ গ্রন্থ, রেফারেন্স ম্যাটেরিয়াল, অনলাইন জার্নাল এক্সেস এবং ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার। গবেষণাগারগুলো হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, যেখানে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষণার কাজ করতে পারবেন।


      বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে মানসম্মত ও হাইজিনিক ক্যাফেটেরিয়া, যা শুধু খাবার সরবরাহের কেন্দ্র নয়, বরং একধরনের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার জায়গা হিসেবে গড়ে উঠবে। ছাত্রছাত্রীদের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে থাকবে হেলথ ক্লাব ও জিমনেশিয়াম, যা তাদের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করবে। এছাড়া থাকবে আধুনিক সুইমিং পুল, প্রশস্ত খেলার মাঠ ও খোলা প্রাঙ্গণ যা একটি ভারসাম্যপূর্ণ ছাত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।


      বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকবে একটি ফাইভ স্টার মানের গেস্ট হাউস ও কনফারেন্স সেন্টার, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ওয়ার্কশপ ও গবেষণা উপস্থাপনাসহ নানা আয়োজনে দেশি-বিদেশি অতিথিদের আতিথেয়তা দেওয়া যাবে।


      শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে থাকবে একটি ‘সেন্ট্রাল স্কয়ার’, যা উৎসব, প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সময় ও নিয়মে ব্যবহারের সুযোগ দেবে। এই স্কয়ার হবে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সৃজনশীল অভিব্যক্তির এক প্রতীকী কেন্দ্র, যেখানে মত প্রকাশ, সমালোচনা ও উদযাপনের পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে। 


      গবেষণাই হবে আয়ের প্রধান উৎস:


      বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো গবেষণা। উন্নত বিশ্বে গবেষণা কেবল একাডেমিক চর্চার জন্যই নয়, বরং তা অর্থনৈতিক টেকসই উন্নয়নের একটি প্রধান হাতিয়ার। উদাহরণস্বরূপ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয়ের প্রায় ২৩ শতাংশই আসে গবেষণা অনুদান ও বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক প্রকল্প থেকে। এ ছাড়াও, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে আসে প্রায় ১৬ শতাংশ।


      এই মডেল আমাদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনুসরণ করা যেতে পারে। গবেষণাকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে একটি শক্তিশালী রিসার্চ ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তুললে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে গবেষণা অনুদান, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয় করা সম্ভব। এতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সবাই সরাসরি উপকৃত হবে।


      এই গবেষণাধর্মী কাঠামো একদিকে যেমন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উদ্ভাবনী সমাধান ও নীতিগত সহায়তাও প্রদান করতে পারবে। অর্থাৎ, গবেষণা হবে শুধু উচ্চশিক্ষার অংশ নয় দেশীয় উন্নয়নের এক বাস্তব হাতিয়ার।


      আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্র, যোগাযোগ এবং পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের ক্রিকেট হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের। অথচ উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় আমরা উন্নত দেশের চেয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে। উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হলে আপাতদৃষ্টিতে এ রকম অসম্ভব কিছুকে বাস্তব এবং সম্ভব করতে হবে। সত্যিকার মানের গর্ব করার মতো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শতবর্ষ পরে ডেভিড হার্ডিংয়ের মতো অ্যালামনাইদের অনুদান হয়ে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। মনে রাখতে হবে, শুধু শিক্ষা এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারলে এই স্রোতেই আরও অনেক কিছু আন্তর্জাতিক মানের হয়ে যাবে। এই তত্ত্ব ইউরোপ-আমেরিকার কথা বাদ দিলাম, এশিয়ার কিছু দেশেই প্রমাণিত। তাই জাতীয় স্বার্থে আমাদের শিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিকীকরণ অপরিহার্য।


      লেখক: জুয়ায়েদ মাসুদ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের, ঢাকা।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        বুটেক্সে 'মার্চ ফর জাস্টিসে' অংশ নেওয়া শিক্ষকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪২
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        বুটেক্সে 'মার্চ ফর জাস্টিসে' অংশ নেওয়া শিক্ষকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

        ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে সংঘটিত এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মুক্তি পায় দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে। ছাত্রসমাজ, সাধারণ জনগণ ও দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। তৎকালীন সরকার-নিয়ন্ত্রিত দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বহু মানুষ প্রশাসনিক চাপ, ভয়ভীতি এবং চাকরি হারানোর আশঙ্কায় সরাসরি আন্দোলনে যুক্ত হতে পারেননি। তবে তাদের মধ্যেও কিছু সাহসী মানুষ ছিলেন, যারা সকল বাধা উপেক্ষা করে এই আন্দোলনের প্রতি সরাসরি সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁদের এই অবস্থান আন্দোলনের ন্যায়সংগত উদ্দেশ্যকে আরও শক্ত ভিত্তি দেয়।

         

        বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়েও (বুটেক্স) ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনের সময় এক অনুরূপ চিত্র দেখা যায়। আন্দোলনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও, তারা শিক্ষকদের পাশে পায়নি। তবে সময়ের প্রবাহে পরিস্থিতি বদলায়। চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে, সকল প্রশাসনিক চাপ ও শঙ্কা উপেক্ষা করে বুটেক্সের ১৩ জন নির্ভীক শিক্ষক ৩১ জুলাই 'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা কেবল ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেননি, বরং চলমান দমন-পীড়ন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের কাছে এই পদক্ষেপ হয়ে ওঠে এক সাহসী প্রেরণার উৎস। আজ, কালের পরিক্রমায় এক বছর পর সেই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’-এর প্রেক্ষাপট থেকে তাঁদের প্রত্যাশা ও এই এক বছরে তাঁদের প্রাপ্তি বিষয়ে কথা বলেছেন তাঁরা। চলুন শুনি তাদের কথা -


        ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’-এর আয়োজন ছিল ছাত্রসমাজের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। কোটা বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের প্রতিবাদ থেকে শুরু হয়ে ‘জুলাই গণহত্যা’র পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে, নীরব থাকা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। জানতাম, ঝুঁকি আছে চাকরি হারানোর, মামলা, এমনকি গুম হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। তবুও আমরা দাঁড়িয়েছিলাম সত্যের পক্ষে। এক বছর পেরিয়ে আরেক জুলাই এসেছে। আমরা ভয়কে জয় করেছি। আজ বুটেক্সে অনেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, এটাই আন্দোলনের প্রকৃত সাফল্য। যদিও অনেক প্রিয় মুখ হারিয়ে গেছে, তবুও আমরা জানি এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। আমাদের প্রত্যাশা বুটেক্স হোক নৈতিক, মানবিক ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো প্রকৌশলীদের প্রস্তুতি মাঠ। এখানে যেন ছাত্র-শিক্ষক পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন। ক্যাম্পাস হোক ভয়মুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং চিন্তার স্বাধীনতায় পরিপূর্ণ। ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ আমাদের শুধু প্রতিবাদ করতে শেখায়নি, মানুষ হতে শিখিয়েছে।


        ড. শেখ মো. মামুন কবীর

        অধ্যাপক, টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

         

        আমার স্বাধীনতাবোধ থেকে আমি বিশ্বাস করি, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের মানুষকে কার্যত গোলামে পরিণত করেছিল। ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা, নিরাপত্তা কোনো কিছুই ছিল না। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুম, বিচারহীনতা ও দুর্নীতি আমাদের কার্যকর নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নিয়েছিল। হাসিনা সরকারের পাঁচটি প্রধান অপরাধ ভোটাধিকার হরণ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস এবং দেশবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তি। এদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে "বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন" যখন শাসকগোষ্ঠীকে চাপে ফেলে, তখন "মার্চ ফর জাস্টিস"-এর ডাকে সাড়া দিয়ে আমি ও কয়েকজন সহকর্মী শহীদ মিনারে দাঁড়াই। ভয় ছিল, তবু আত্মাকে রক্ষা করতে সাহস করি। আল্লাহর কৃপায় আন্দোলন সফল হয়েছে, বিচার চলছে। বুটেক্স প্রশাসনও এই স্পিরিট গ্রহণ করে রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে, যা প্রশংসনীয়। এখন দরকার একাডেমিক এক্সিলেন্স, মেরিটোক্রেসি, রুল-অব-ল, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও শূন্য রাজনীতিকরণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় থাকলে ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয় বহুমাত্রিক দূষণ থেকে রক্ষা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


        ড. মো. সুলতান মাহমুদ

        সহযোগী অধ্যাপক, ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

         

         

        জুলাই আন্দোলন, বিশেষ করে "মার্চ ফর জাস্টিস" ও লাল ফিতা, আমার কাছে এক নবজাগরণের প্রতিচ্ছবি। এটি ছিল তারুণ্যের অদম্য স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম, জালিম শক্তির বিরুদ্ধে এক সাহসী ন্যায়যুদ্ধ। এই প্রতিরোধ ছিল শুধু শাসকদের নয়, তাদের স্বার্থান্ধ ও নীরব সহযোগীদের বিরুদ্ধেও। শিক্ষকদের আত্মরক্ষামূলক নীরবতার বিরুদ্ধে এক প্রতীকী চিমটি ছিল এটি। আমরা চেয়েছিলাম এক নতুন বাংলাদেশ, যেখানে ইনসাফ, কল্যাণ ও মানবিকতা রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে। যুদ্ধটা এখনও চলছে। কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য দরকার নির্দলীয় প্রশাসন, নৈতিক শিক্ষা, মানবিক স্বাস্থ্যখাত, দুর্নীতিমুক্ত অর্থনীতি ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা। এগুলোই একটি প্রকৃত বিপ্লবের উপাদান। গত এক বছরে অনেক কিছু বাকি থাকলেও, আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদীদের পতন শুরু হয়েছে, বিচার এগোচ্ছে, আপোসহীন তরুণ নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে। এক আত্মমর্যাদায় বলীয়ান প্রজন্ম গড়ে উঠছে, যারা বাংলাদেশি ও মুসলিম পরিচয়কে ধারণ করে আধিপত্যবাদকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। এই আশার আলোই তো প্রথম বিজয়।


        ইহসান ইলাহি সাবিক

        প্রভাষক, হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগ।

         

         

        মার্চ ফর জাস্টিস আমাদের মধ্যে অন্যায়কে প্রশ্ন করার সাহস জুগিয়েছে। বুটেক্সে আমরা তখন দৃঢ় কণ্ঠ তুলেছিলাম শুধু ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নির্বিচারে বৈষম্য, রাজনৈতিক দখলদারিত্ব আর সম্মানের সংকটের বিরুদ্ধে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি সমমর্যাদার শিক্ষাঙ্গন, যেখানে শিক্ষক-ছাত্র উভয়েই সম্মানের সাথে কাজ করতে পারবে। এক বছরে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছে, ৫১তম ব্যাচ ক্লাস শুরু করেছে নতুন আশার বার্তা নিয়ে। কিন্তু অফলাইন-অনলাইনে অপমানজনক মন্তব্য, আস্থা সংকট, কিংবা দমনমূলক আচরণ এখনও বিদ্যমান। আমাদের চাওয়া খুবই সাধারণ আর তা হলো ভালো কাজের স্বীকৃতি থাকুক, বৈষম্য না থাকুক, কেউ যেন প্রতিবাদী ভূমিকার জন্য হেনস্তার শিকার না হয়। স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে, এখন সেটা রক্ষা করার সময়। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আজ হুমকির মুখে। বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের উচিত এই খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়া। প্রাক্তনদের সাথে একসাথে কাজ করে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব।


        নুরুন্নেসা অর্পা

        সহকারী অধ্যাপক, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

         

         

        ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’-এ অংশ নেওয়া ছিল একান্ত বিবেকের তাড়না থেকে। রাস্তায় আমাদের ভাইবোনদের মতো শিক্ষার্থীদের গুলিতে মারা যেতে দেখে চুপ থাকতে পারিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন লাল ফিতা বেঁধে মিছিলে অংশ নেন, আমি অভিভূত হই। পরবর্তীতে ড. সুলতান মাহমুদ স্যারের সাহসী আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা বুটেক্সের কয়েকজন শিক্ষক শহীদ মিনারে দাঁড়াই একটি ন্যায়ের দাবি নিয়ে, ভয়কে পাশ কাটিয়ে। চাপ অবশ্যই ছিল। ছাত্রলীগের কিছু সদস্য আমাদের ছবি তুলে পাঠাচ্ছিল, কিন্তু আমরা কেউ বিচলিত হইনি। মনে হয়েছিল, এই কর্মসূচিতে না থাকলে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতাম। জুলাইয়ের পর বুটেক্সে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বুটেক্স আজ রাজনীতিমুক্ত। শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারছে। অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যার পূর্ণ ফলাফল সময়েই দেখা যাবে। আমার একটাই প্রত্যাশা বুটেক্স চিরকাল রাজনীতি ও বৈষম্যমুক্ত থাকুক, আর গড়ে উঠুক একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জ্ঞান, গবেষণা ও মানবিকতা হবে কেন্দ্রীয় চেতনা।


        তাবাসসুম ফেরদৌস

        সহকারী অধ্যাপক,ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

         

         

        গত জুলাইয়ে আমরা অনেকেই ভেতরে ভেতরে চাচ্ছিলাম কিছু একটা হোক, প্রতিবাদ হোক। পরে সুলতান স্যার উদ্যোগ নেন, আমি ও তনিমা ম্যাম রাজি হই। এরপর স্যার-ম্যামদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে মার্চ ফর জাস্টিস-এ অংশ নেন। যদিও সুলতান স্যারের ওপর চাপ ছিল, তবুও উনি সাহস দেখিয়েছেন। আমাদের কারো ওপর সরাসরি কিছু বলা হয়নি, তবে আমরা সবাই জানতাম এত অন্যায়ের পর আর চুপ থাকা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রতিবাদের মাধ্যমে শিক্ষকদের দায়বদ্ধতার একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এখন ক্যাম্পাসে আর আগের মতো নোংরা রাজনীতি দেখতে হচ্ছে না, যা বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে যেন আবার কেউ নিরীহ শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের শিকার না করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকুক, যেখানে পুরো বুটেক্স পরিবার একসাথে কাজ করবে। আমরা চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং ন্যায়, সৌহার্দ্য ও গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠুক।


        তৌফিকা সিদ্দিকা

        সহকারী অধ্যাপক, ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          Bangladesh: A Case for Climate-Conscious Legal Reforms

          অনলাইন ডেস্ক
          ১০ জুলাই, ২০২৫ ১৪:২৭
          অনলাইন ডেস্ক
          Bangladesh: A Case for Climate-Conscious Legal Reforms

          Bangladesh is among the most climate-affected countries in the world, confronting threats such as rising sea levels, frequent floods, saltwater intrusion, and intense heat waves. Still, its legal system remains ill-equipped to respond to these threats. While it has several environmental laws and policies, they often fall short due to poor implementation, outdated regulations, and limited public engagement.

          Change of climate, not only an environmental concern, but it is a legal and social justice issue. The communities which are the poorest, especially in coastal and rural areas, face the worst impacts despite contributing the least to global emissions. The recent legal framework fails to ensure the safety of these people; they barely get justice or compensation for climate-related losses.

          To take effective measures of these particular problems, Bangladesh must adopt climate-conscious legal reforms. This includes updating and strengthening environmental laws, enforcing strict punishments for polluters, establishing climate courts or tribunals, and incorporating climate risk assessments into national development strategies. More importantly, environmental protection must be recognized as a constitutional right, on equal footing with health, security, and education.

          Youth who are especially from the legal profession and environmental science have a role to play in advocating for climate justice. international knowledge and legal exposure from higher education can help to bring back to design better laws and support vulnerable populations.

          If no action is taken right now, the law will continue to lag behind the crisis. However, if Bangladesh takes major legal steps today, it can lead the way in South Asia as a country that meets climate difficulties with justice and innovation.

          Sayed Abdullah Bari Rafi, LL.M, Dept. Of Law, Jagannath University.

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত