ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
 
শিরোনাম

খাদ্যে ভেজাল রোধে চাই আইনের সঠিক প্রয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ নভেম্বর, ২০২৩ ১৬:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্যে ভেজাল রোধে চাই আইনের সঠিক প্রয়োগ

মানুষের বেঁচে থাকার একটি অপরিহার্য উপাদান হলো খাদ্য। দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নির্ভর করে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের উপর। ভিটামিন, আমিষ, শর্করা, স্নেহ, খনিজ লবণ ইত্যাদি হলো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য খাদ্যের বিকল্প নেই।

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কয়েক দশক ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশিয়ে দিচ্ছে বেশি মুনাফা লাভের আশায়। এই অসাধু ব্যবসায়ীদের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এমন একটি খাদ্য উপাদান নেই যাতে তারা ভেজাল মেশাচ্ছেন না। মাছ, মাংস, শাক- সবজি, এমনকি প্যাকেটজাত খাদ্যদ্রব্যেও রয়েছে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। গরু- ছাগল- মহিষের দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য গবাদী পশুর শরীরে দেওয়া হয় পিটুইটারি ইনজেকশন। শাক- সবজি, ফলমূল দ্রুত বৃদ্ধি ও পচন রোধে অসাধু ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করাচ্ছেন। এসব ক্ষতিকর উপাদানের মধ্যে একটি অন্যতম উপাদান হলো ক্যালসিয়াম কার্বাইড। যা মূলত দ্রুত ফল পাকাতে ব্যবহার হয়। এ ধরনের বিষাক্ত ফল খেলে ক্যানসার, কিডনি বিকল হওয়াসহ জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। শাক - সবজি ও ফলমূল টাটকা ও সতেজ দেখানোর জন্য কপার সালফেট ( তুঁতে) পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। ফল গাছে থাকতেই ছিটানো হয় হরমোন ও কীটনাশক। তরমুজ লাল টকটকে দেখানোর জন্য ইনজেকশন দিয়ে তরমুজের ভেতর দেয়া হয় তরল পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট।

মাছ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন দেয়া হয়। এছাড়াও প্যাকেটজাত ও প্রস্তুতকৃত খাদ্যে কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলেও বৃক্ক ও যকৃত অকার্যকর হয়ে যায়। এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিও হতে পারে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে দেহের সুষম বিকাশ বাঁধা গ্রস্থ হয়, রোগ - প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধতে থাকে। ফরমালিন খাদ্য পরিপাকে বাধা দেয়, পাকস্থলীর ক্ষতি করে, যকৃতের অ্যানজাইম নষ্ট করে এবং কিডনির কোষ ধ্বংস করে। ফলে গ্যাস্ট্রিক, আলসার বাড়ে, লিভার ও কিডনির নানা রকম জটিল রোগ দেখা দেয়। ফরমালিনের প্রভাবে নারীদের মাসিক ঋতুস্রাবের সমস্যা হয় । গর্ভবতী মায়েদের জন্য ফরমালিন আরও ক্ষতিকর। এর কারণে গর্ভস্থ শিশু বিকলাঙ্গ হয়। হাসপাতাল গুলোতে গেলে দেখা যায়, মানুষের করুণ অবস্থা। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল বয়সের মানুষ নানাবিধ রোগে ভুগছেন। আর এ সকলের অন্তরালে রয়েছে ভেজাল খাদ্য। যা মানুষকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নিত্যনতুন উপায়ে নতুন নতুন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যে মেশানাের ফলে মানুষের শরীরে নতুন ধরনের নতুন নামের রােগের সৃষ্টি হচ্ছে। অসচেতন মানুষ এসব রােগকে হয়তাে দৈবের অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত করছে, কিন্তু এসবের জন্য মূলত খাদ্যে ভেজালের অনুপ্রবেশই দায়ী। বর্তমান বিশ্বকে তথা আমাদের দেশ ও সমাজকে বাঁচাতে হলে খাদ্যে ভেজাল নির্মূল করা একান্ত জরুরি। আর এজন্য রাষ্ট্রের উপর মহল থেকে সমাজের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সকলকে সচেতন হতে হবে। খাদ্যসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই এর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন সল্পসময়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনাকারী একাধিক ফলের মজুদ, বড় বড় বাজার ও আড়তের পাশে পরীক্ষাগার স্থাপন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী এলাকায় গােয়েন্দা নিয়ােগ, ভোল মিশ্রণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা ইত্যাদি। এছাড়া মিডিয়া বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও ডকুমেন্টারি তৈরি করে গণসচেতনতার সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশে যদি প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সােঞ্চার হয় এবং এতে করে তার পাশের মানুষকে সচেতন করে, তবে ভেজাল খাদ্যের মূলোৎপাটন অবশ্যই সম্ভব।

যারা খাদ্যে ভেজাল মেশাচ্ছে তারা যদি তাদের পরিবার,দেশ ও দশের কথা ভাবতেন তাহলে এ ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। সুস্থ থাকার জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে সকলের কল্যাণ কামনা করতে হবে। তবেই দেশের অগ্রগতি সাধিত হবে।

লিখেছেন: আফ্রিয়া অলিন , শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সদস্য, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ফিচার, কলাম অ্যান্ড কনটেন্ট রাইটার্স।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জাতীয় চার নেতা বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১৪:২৮
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    জাতীয় চার নেতা বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না

    অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ: ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ‘জেল হত্যা দিবস’ জাতীয় জীবনে একটি বেদনাদায়ক দিন। সেদিন নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে-যেটা পৃথিবীর কোনো সভ্য সমাজে নজির আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে আমার মনে হয় এ ধরনের দৃষ্টান্ত কোথাও নেই।সেদিন জাতীয় চার নেতার মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুদ্ধকালীন সময়ে দীর্ঘ ন মাস গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়াও ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী যিনি বঙ্গবন্ধুর আজীবন সৈনিক ছিলেন, স্বাধীনতার পরে স্বরাষ্টমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেন, কামরুজ্জামান বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের নেতা ছিলেন এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন যিনি মেহেরপুরের আম্রকাননে গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন, তাঁদেরকেও হত্যা করা হয়। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল বঙ্গবন্ধুর সাথের কারোই চিহ্ণ রাখা যাবে না। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানি গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট হত্যা করেছিল এবং আওয়ামীলীগ যাতে নেতৃত্বশূন্য হয়ে যায় সে কারণে জাতীয় চার নেতার হত্যাযজ্ঞ।

    এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে অনেকেই অনেকভাবে, যেটা ভয়ে হোক কিংবা আতঙ্কে হোক আত্মগোপনে ছিল। অনেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে জাতীয় চার নেতাসহ অনেককেই নানাভাবে প্রলোভন দেখানো হয়েছিলো খুনী মোশতাকের স্বৈরশাসিত সরকারের কেবিনেটে যোগদানের জন্য। কিন্তু তাঁরা ঘৃণাভাবে সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তখন থেকেই তারা জিয়া এবং মোশতাকের কুনজরে পড়েন। মোশতাক-জিয়া গংরা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তেসরা নভেম্বরে তাদের নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এখানে আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- বঙ্গবন্ধুর সাথে অনেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম খন্দকার মোশতাক যে ছিল বেইমান, খুনী মোশতাক।সে যে কাজটি করেছে সেকাজটি সায় দেওয়ার জন্য কিংবা উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছিল।উপরন্তু জেলখানায়ও জাতীয় চার নেতার কাছে নানান সময়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠানো হয়। যেন মোশতাকের কেবিনেটেই তাঁরা যোগদান করেন। কিন্তু তাঁরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন। হত্যার ঘটনা জাতির জন্য চরম বিপর্যয়কর ছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার জন্য হত্যাকারীরা তেসরা নভেম্বর ঘটায়। সে কাজে তারা কতটুকু সফল হয়েছে আজকের প্রজন্ম তা বিচার করবে।

    আমাদের মনে আছে তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কথা বলতেন। আমরা তখন তাঁর বক্তব্য শুনতাম। রণাঙ্গন থেকে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাতকার দিতেন এবং এগুলো আমাদের কাছে অনুপ্রেরণামূলক ও যুদ্ধে যোগদানের জন্য উৎসাহের কারণ ছিল। আমাদের কাছে মনে হতো প্রবাসী সরকার যেন বাংলাদেশের মধ্য থেকেই দেশ পরিচালনা করছেন এবং মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা সকলের জন্যও একটা সাহসসঞ্চারী আইকন। তাজউদ্দীন আহমদ কোথায় যাননি? কলকাতা থেকে শুরু করে মেঘালয়, আসাম সব জায়গায় তিনি ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার জন্য, বেগবান করার জন্য তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে যে যোগাযোগ সেটা তাজউদ্দীন আহমদের সংযোগেই হয়েছিল। তিনি অনেক সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বাংলাদেশের যোদ্ধা ছিলেন।সম্মুখসারির সমর বিশেষজ্ঞ ছিলেন।আর আমরা মাঝে মধ্যেই তৎকালীন বেতারে তাজউদ্দীনের ইংরেজি বক্তব্য শুনতাম। তাঁর যে উচ্চারণ ছিল তার দ্বারা আমরা অনেকেই অনুপ্রাণিত হতাম।

    একটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হচ্ছে, বিপদ তো বলে কয়ে আসে না। যেমন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকেই একটা ষড়যন্ত্র চলছিল এবং সেই গোষ্ঠীরা স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে মোশতাকের নেতৃত্বে। আমরা শুনেছিলাম এই মোশতাক গোপনীয়ভাবে চীনের সাখে যোগাযোগ রক্ষা করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করতো। সে কারণে তার ক্ষমতা অনেকটা খর্ব করে দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন।আর এসব কারণেই ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ড ঘটে। খন্দকার মোশতাক স্বাধীনতার পরেও তার মুখোশ উম্মোচন করেনি, দলের মধ্যে থেকেই তার ষড়যন্ত্র চালিয়ে গিয়েছিল।

    সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপ-প্রধান যাকে বঙ্গবন্ধুই সেনাবাহিনীদের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ করেছিলেন, এই পদতো আর সেনাবাহিনীতে ছিল না, বঙ্গবন্ধু জিয়াকে খুশি করার জন্যই এমনটা করেছিলেন। অথচ তারাই ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।আমি বলতে চাই এরাই বিশ্বাসঘাতক; যেটা আমি মনে করি দল যারা করেন, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যারা, তারা সকলে এই বিশ্বাসঘাতককতার নমুনা ১৯৭৫ সালেই দেখেছেন। আমরা পরবর্তীতেও আরো দেখেছি এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। তারা আবার জিয়া ও জেনারেল এরশাদ-এর সাথে হাত মিলিয়েছিল, বেগম জিয়ার সাথেও কেউ কেউ দল করেছিল।

    বর্তমানে সময়েও বিশ্বাসঘাতকতা রয়েছে এবং এবিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। এখনতো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দীর্ঘ ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিমিয়ে ক্ষমতায়। আজকে তিনি যদি ক্ষমতায় না থাকতেন আপনারা দেখতেন যেকোনো ক্রাইসিসে কত উৎকন্ঠা জন্মাত। আজকে উন্নয়ন বলেন আর জয়বাংলা বলেন সবকিছুই এই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুযায়ী এবং আদর্শকে বাস্তবে রূপায়ণ করার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলেই সম্ভব হয়েছে।

    আসলে বিশ্বাসঘাতকতা কোনো ‍কিছুর ক্রাইসিস হলেই বেশি দেখা যায়। যেমন ২০১৪ সালের নির্বাচনে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে এবং ২০০১ সালে যে নির্বাচনটিতে সংবিধানকে শ্রদ্ধা করে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্বাসঘাতকরা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পরাজিত করে।তার ফলে কি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল সকলে আমরা তা জানি। বাংলাদেশের উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৪ কিংবা ২০১৮ এর কথা অনুযায়ী যখন কোনো ক্রাইসিস আসে তখনই একটি গোষ্ঠী নড়াচড়া শুরু করে। নানান ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করে। যেমন আমরা উত্তরা ষড়যন্ত্র দেখেছি।

    কারণেই ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ড ঘটে। খন্দকার মোশতাক স্বাধীনতার পরেও তার মুখোশ উম্মোচন করেনি, দলের মধ্যে থেকেই তার ষড়যন্ত্র চালিয়ে গিয়েছিল।

    সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপ-প্রধান যাকে বঙ্গবন্ধুই সেনাবাহিনীদের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ করেছিলেন, এই পদতো আর সেনাবাহিনীতে ছিল না, বঙ্গবন্ধু জিয়াকে খুশি করার জন্যই এমনটা করেছিলেন। অথচ তারাই ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।আমি বলতে চাই এরাই বিশ্বাসঘাতক; যেটা আমি মনে করি দল যারা করেন, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যারা, তারা সকলে এই বিশ্বাসঘাতককতার নমুনা ১৯৭৫ সালেই দেখেছেন। আমরা পরবর্তীতেও আরো দেখেছি এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। তারা আবার জিয়া ও জেনারেল এরশাদ-এর সাথে হাত মিলিয়েছিল, বেগম জিয়ার সাথেও কেউ কেউ দল করেছিল।

    বর্তমানে সময়েও বিশ্বাসঘাতকতা রয়েছে এবং এবিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। এখনতো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দীর্ঘ ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিমিয়ে ক্ষমতায়। আজকে তিনি যদি ক্ষমতায় না থাকতেন আপনারা দেখতেন যেকোনো ক্রাইসিসে কত উৎকন্ঠা জন্মাত। আজকে উন্নয়ন বলেন আর জয়বাংলা বলেন সবকিছুই এই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুযায়ী এবং আদর্শকে বাস্তবে রূপায়ণ করার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলেই সম্ভব হয়েছে।

    আসলে বিশ্বাসঘাতকতা কোনো ‍কিছুর ক্রাইসিস হলেই বেশি দেখা যায়। যেমন ২০১৪ সালের নির্বাচনে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে এবং ২০০১ সালে যে নির্বাচনটিতে সংবিধানকে শ্রদ্ধা করে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্বাসঘাতকরা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পরাজিত করে। তার ফলে কি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল সকলে আমরা তা জানি। বাংলাদেশের উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৪ কিংবা ২০১৮ এর কথা অনুযায়ী যখন কোনো ক্রাইসিস আসে তখনই একটি গোষ্ঠী নড়াচড়া শুরু করে। নানান ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করে। যেমন আমরা উত্তরা ষড়যন্ত্র দেখেছি।

    গত ২৮ অক্টোবর (২০২৩)-এর যে ঘটনা সেটাও দেখুন। একটি দেশের সেনাবাহিনীর যিনি নাইন ডিভিশনের জিওসি ছিলেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ব্যক্তি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণেই আস্থার সাথে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখেন দেশের যখন ক্রাইসিস পিরিয়ড তখনই এই বিশ্বাসঘাতকতা।আর এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা জাতীয় নেতারা করেননি। এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকদের ‍বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। সেটা আমাদের কর্মক্ষেত্র হোক আর অন্য যেখানেই হোক না কেন? এদের ‍বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

    বাংলাদেশ যার হাত ধরে স্বাধীন হয়েছিল তাঁকে কোনভাবেই অপমান করা, অশ্রদ্ধা করা- এধরনের ঘটনা বাংলাদেশে হতে দেওয়া যাবে না। এই বিষয়ে আমাদের সবসময় সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর আমরা যারা শিক্ষকতা করি এটাতো কোনো রাজনীতির পর্যায়ে পড়ে না। রাজনৈতিক মত তো সকলেরই আছে। কিন্তু দেশের যে মূল আদর্শ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এগুলোর বিরোধীদের সাথে আপোস হওয়া উচিত নয়। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এই বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। এরা যেন বাংলাদেশের উন্নয়নে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় এবং সে ধরনের সুযোগ যাতে না পায়, সচেতন থাকতে হবে। বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে- আজকের বেদনাদায়ক ৩ নভেম্বর ‘জেল হত্যা দিবসে’র অঙ্গীকার এটা হলে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ সফল হবে। জয় বাংলা।

    লেখক: অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ কলামিস্ট এবং ট্রেজারার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করেন আবাসিক শিক্ষার্থীদের আছে 'টাকার গাছ'!

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:২
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করেন আবাসিক শিক্ষার্থীদের আছে 'টাকার গাছ'!

      ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলগুলোতে খাবারের মান নিম্নমানের হলেও মুদ্রাস্ফীতির দোহাই দিয়ে বাড়ানো হয়েছে খাবারের মুল্য সাথে তাল মিলিয়ে আবাসিকতার খরচ এক লাফে ২১৪০ টাকা থেকে ৩১৮০ টাকা, পরিবহন ব্যবহার না করলেও দিতে হয় ফি। কিন্তু কতটুকু সমাধান এসেছে তার বিনিময়ে, হলের অপরিচ্ছনতা ও নামমাত্র ইন্টারনেট সেবা দিয়েই ক্ষান্ত হল প্রশাসন ।

      হল প্রশাসন মুদ্রাস্ফীতির দোহাই দিয়ে খাবারের মুল্য থেকে আবাসন খরচ সবকিছুই বাড়িয়েছে শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের সেবার মান ব্যতীত। অভিযোগ রয়েছে হলের ইন্টারনেট সেবা খুবই ধিরগতির, টয়লেট অপরিচ্ছন, ওয়াসরুমের দরজাগুলো ভাঙা, ওয়াসরুমে সারাক্ষণ নোংরা পানি জমে থাকে, ভেসিন অপরিচ্ছন্ন। এছাড়াও হলের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধিরগতি।

      হল প্রশাসনের একঘেয়ে সিদ্ধান্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের উপর আসছে বিরূপ প্রভাব। অধিকাংশ আবাসিক শিক্ষার্থীরা নামমাত্র খরচ বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেন। তবে বারবার খাবারের মূল্যবৃদ্ধি, আবাসিকতার খরচ বাড়তে থাকায় কষাঘাত চলছে শিক্ষার্থীদের। বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে বেড়েছে শিক্ষা দ্রব্যমূল্য এমনিতেই হিমসিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তারউপর হল প্রশাসন ভর্তুকি না বাড়িয়ে কেন আবাসিক শিক্ষার্থীদের খরচ বাড়িয়েছেন তা অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাকতালীয় কোন কল্প কাহিনি জানা আছে শিক্ষার্থীদের কাছে টাকার গাছ আছে'।

      হল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের আগে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসিক ফি ছিল ৭১৮ টাকা। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসহ আনুষঙ্গিক ফি বাড়িয়ে প্রায় ৩ গুণ করা হয়। একই সাথে ওই শিক্ষাবর্ষের আবাসিক ফি বৃদ্ধি করে ১৮৭২ টাকা করা হয়। এছাড়া ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আরেক ধাপে বৃদ্ধি করা হয় আবাসিক ফি। দ্বিতীয় ধাপে বৃদ্ধির পর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক ফি দাঁড়ায় ৩১৮০ টাকা। যা ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ফি থেকে ২৪৬২ টাকা বেশি অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৩ গুণ।

      খাবারের মান খুব খারাপ হলেও হল প্রশাসন নিজেদের ইচ্ছেমতো ডাইনিং মেনেজার নিয়োগ করেন, তারপর আর খাবারের মান নিয়মিত যাইচ করেন না। হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের থেকে কোন মতামত গ্রহণ না করে তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী হল পরিচালনা করেন। হল প্রশাসনের এ ধরনের একঘেয়ে সিদ্ধান্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ঘি দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        শেখ হাসিনা: দূরদর্শী নেত্রীর সাহসী পথযাত্রা

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:৪২
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        শেখ হাসিনা: দূরদর্শী নেত্রীর সাহসী পথযাত্রা

        ড. কামালউদ্দীন আহমদঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশন চলছে।কীর্তিমানদের সেই আসরে দ্যুতি ছড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর অনন্য উচ্চারণে ভাষণের এক পর্যায়ে বললেন-‘‘বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবে। আমি বিশ্বাস করি যে, বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কটসমূহ আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তবুও, উন্নয়ন সহযোগী এবং উন্নত দেশসমূহকে আমাদের এ যাত্রায় তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি; যা স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় আমাদের জন্য সহায়ক হবে। স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ সুবিধাসমূহ আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যাপ্তিকাল মোতাবেক প্রদান করার জন্য আমি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

        এ বছরের মার্চ মাসে কাতারের দোহাতে অনুষ্ঠিত এলডিসি-৫ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য অপেক্ষমান দেশগুলোকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আমি জাতিসংঘ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের দোহা কর্মসূচির সম্পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।’’

        উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ২০১৮ সালের মার্চে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্য হিসেবে সিডিপির সুপারিশ লাভ করে। নিয়ম হচ্ছে এলডিসি থেকে বের হতে সিডিপির পরপর দুটি পর্যালোচনায় উত্তরণের স্বীকৃতি পেতে হয়। এ স্বীকৃতি পাওয়ার পর আরো তিন বছর এলডিসি হিসেবে থাকে একটি দেশ। তারপর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু হয়।

        অর্থাৎ হিসাব করেই দূরদর্শী নেত্রী সেদিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।উপরন্তু সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধ ও সংঘাতের পথ পরিহার করে মানবজাতির কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

        সম্প্রতি বিএনপি-জামায়াতসহ বেশ কিছু অপশক্তির অপতৎপরতায় বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার বিষয় নিয়ে আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব সোচ্চার হয়েছে।গত সাড়ে ১৪ বছরে শাসনকার্য পরিচালনায় সাংবিধানিক স্বচ্ছতার কথা সবসময় বিদেশিদের কাছে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছেন শেখ হাসিনা।বিশ্বের ক্ষমতাবান রাষ্ট্রপ্রধানরা বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় হওয়ায় তিনি জাতিসংঘে উপস্থাপিত তাঁর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন-‘‘এই বছর(২০২৩) আমরা সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনাপত্রের ৭৫তম বার্ষিকী পালন করছি। এই মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্ব মানবতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সকলের জন্য সমতা, ন্যায্যতা, স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি যাতে উন্নয়নশীল দেশের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।বাংলাদেশের সংবিধান সকলের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। সকলকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান ও সুবিচার নিশ্চিতকরণে গত এক দশকে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ সংশোধন করা হয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে, জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় আমরা সম্পূর্ণরূপে অঙ্গীকারাবদ্ধ।জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আমরা সারা বিশ্বের আপামর জনগণের মানবাধিকার সংরক্ষণে অন্যান্য সদস্যগণের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।আজ এই অধিবেশনে আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করতে চাই যে, বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে যাবে।’’

        লেখাবাহুল্য, ‘‘বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত’’ করে চলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর গতিশীল ও সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটি এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়ন চমক ও উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে। কারণ সবক্ষেত্রে এদেশের অসাধারণ সাফল্য বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

        ২. ২৮ সেপ্টেম্বর সংগ্রামী ও দরদী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পথযাত্রায় তিনি বিশ্বনেত্রী এবং অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক।শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ৬ জানুয়ারি, ২০০৯ সালে সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বছর শেষে ১৫ বছর পূর্ণ করতে চলেছেন।দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

        শেখ হাসিনা একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন দার্শনিক এবং একজন দূরদর্শী নেত্রী। তিনি ২০০৮ সালে জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ভিশন ২০২১’ রাখার মধ্য দিয়ে একজন সত্যিকারের নেতা হিসেবে তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করেছিলেন।জয়ী হওয়ার পর ২০০৯ সালে লিখেছিলেন- ‘রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম আমার। পিতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। একদিন যে আমাকেও তাঁর মতো রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে ভাবিনি। সময়ের দাবি আমাকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমি এই আদর্শ নিয়ে বিগত ২৮ বছর যাবৎ জনগণের সেবক হিসেবে রাজনীতি করে যাচ্ছি।’(ভূমিকা, শেখ হাসিনা রচনাসমগ্র ১)

        ‘জনগণের সেবক হিসেবে রাজনীতি করা’র এই মানসিকতা শেখ হাসিনাকে অনন্য করে তুলেছে। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পরবর্তী তাঁর পথযাত্রা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না।কবি লিখেছেন-‘শেখ হাসিনা, আপনার বেদনা আমি জানি।/আপনার প্রত্যাবর্তন আজও শেষ হয়নি।/বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়িতে/আপনি পা রেখেছেন মাত্র।/আপনার পথে পথে পাথর ছড়ানো।/পাড়ি দিতে হবে দুর্গম গিরি, কান্তার মরুপথ।’ কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘পথে পথে পাথর’ কবিতায় অভিব্যক্ত এই কথাগুলোর সত্যতা রয়েছে শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যাচেষ্টার ঘটনায়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রচেষ্টা ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। যা বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার একটি। এটি ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও নৃশংস হামলা, কারণ রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করার জন্যই বিএনপি-জামায়াত গং গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।

        ৩. বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করতে একজন ব্যক্তির সাহস, সংকল্প এবং আত্ম উৎসর্গের প্রয়োজন হয়। একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার এসব গুণ রয়েছে। তিনি দেশ ও জনগণের উন্নতির জন্য তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন।তিনি হাসিনা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ধারণা ঘোষণা করেছিলেন তা এখন বাস্তবতার পথ অতিক্রম করে স্মার্ট বাংলাদেশের আঙিনায় উপস্থিত হয়েছে।পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল উদ্বোধন, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বড় সাফল্য।১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ যখন বাংলাদেশকে এলডিসি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করেছিল তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৮৩ শতাংশ। বর্তমানে তা ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য দেশের অবস্থান উন্নত হয়েছে।বাংলাদেশ ৩৯৭ বিলিয়ন ডলার জিডিপি নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ৪১তম অবস্থানে রয়েছে।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২২ সালে তৈরি এক তালিকায় বিশ্বের ৫০টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া দেশগুলোর মধ্যে শুধু ভারত ও বাংলাদেশ রয়েছে। গত সাড়ে ১৪ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।এসময় এ দেশ বিদ্যুৎ খাতে বিশাল অর্জন করেছে। দেশের জনসংখ্যার শতভাগকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে যা ২০০৯ সালে ছিল ৪৭ শতাংশ।বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫,০০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে যা ২০০৯ সালে ছিল ৫,০০০ মেগাওয়াটের নিচে।স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বড় সাফল্য, বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের প্রতিফলন।আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ করেছে। এটা এই সরকারের গণমুখী অবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য আমার সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ “আশ্রয়ণ” প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার পরিবারের ৫০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে ঘর দেওয়া হয়েছে।’’

        অনেক আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারত উভয়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।দেশের স্বাধীনতার ৫২ বছরে মাথাপিছু আয় ২৭ গুণ বেড়েছে (৯৪ ডলার থেকে ২৫৫৪ ডলার)। বাংলাদেশে আয়ু এখন ৭২.৬ বছর যেখানে ভারতে ৬৯.৬৬ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৭.২৭ বছর।শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি হুমকিকে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতি সেই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছে।আওয়ামী লীগ সরকারও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকারের আমলে দেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।কিন্তু শেখ হাসিনা ধর্মীয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিশীল এবং বহুমুখী রাজনৈতিক নেতা এবং নীতি নির্ধারক, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মতো কিছু স্বল্পমেয়াদী কৌশলের পাশাপাশি আরও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলির একটি সিরিজ নির্ধারণ করেছেন।বাংলাদেশের জনগণের জন্য তার একটি মূল পরিকল্পনা হল ভিশন ২০৪১, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের ধারাবাহিকতা, যা জাতিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যেতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ সামাজিক, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন গৌরবে মহিমান্বিত।

        উন্নয়নের জন্য নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতির পিতার স্বপ্নকে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।আসলে তিনিও বঙ্গবন্ধুর মতো দূরদর্শী নেত্রী। তিনি জাতির পিতার বাংলাদেশকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ডে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথে হাঁটছে।বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। মুক্তিযুদ্ধের পর যে অর্থনীতিকে একসময় ‘‘বেঁচে থাকার কোনো আশা ছাড়া তলাবিহীন ঝুড়ি’’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল, তা এখন বিশ্বব্যাপী একটি ‘‘উন্নয়ন অলৌকিক’’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস-এর উদ্ধৃতি দিয়ে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০১৭ সালে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার হবে বিশ্বে ২৩তম। তখন জিডিপির আকার দাঁড়াবে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বিনিময় হারের ভিত্তিতেও বড় হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

        ৪. শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নারী হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা এবং কৌশলী কূটনীতির জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন।বিশ্বব্যাপী আইকনে পরিণত হওয়া এই নেত্রী এখন বিদেশে রয়েছেন। প্রতিবছরই তাঁর জন্মদিন জাতিসংঘ ও বিদেশের মাটিতে নানা ব্যস্ততায় অতিবাহিত হয়।তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বাস্তবায়নে একটি উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সামনের দিনগুলোতে কাজ করতে হবে।আমাদের তরুণ সমাজ যত বেশি ‘স্মার্ট নাগরিক’ হবে এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলি ব্যবহার করতে শিখবে, তত দ্রুত তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।ডিজিটাল বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রগতি তারাই সাধন করতে পারবে।

        ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার সময় থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা শত বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনগণের ভোট ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। শেখ হাসিনার অপরিসীম ত্যাগের ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে।৭৭তম জন্মদিনে কেবল বলব তিনি দীর্ঘজীবী হবেন এবং দেশ পরিচালনায় আরো অনেকদিন সক্রিয় থাকবেন। নেত্রীকে নিয়ে লেখা ‘‘তিনি আমাদেরই লোক’’ কবিতায় কবি রফিক আজাদ লিখেছেন-‘‘এই গরীব দেশ এর প্রতিটি বৃক্ষ ও মাটি তার জন্য কান্না ধরে রাখে নিজস্ব নিয়মে; আমি কি পাথর নাকি-তার জন্য এই দুই চোখে কোনো জল ধরে কি রাখবো না?’’ নেত্রীর জন্য অশ্রুময় আঁখি নিয়ে দেশপ্রেমের দীক্ষায় প্রতিজ্ঞায় অবিচল থাকব আমরা; কাজ করব আগামী দিনগুলোতে।

        লেখক : কোষাধ্যক্ষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          স্বপ্ন মোদের অনধিক, গড়বো শিশু মানবিক

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:২৯
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          স্বপ্ন মোদের অনধিক, গড়বো শিশু মানবিক

          খাদিজা খাতুনঃ 'শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড 'কথাটির সাথে কারু দ্বিমত নেই। শিক্ষিত না হলে কোন জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না -এটা নিয়েও কারো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন থাকতে পারে আমরা কেমন শিক্ষা চাই? দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষা এগিয়ে যাচ্ছে,শিক্ষিতের হার বাড়ছে। কিন্তু সমাজের প্রতিটি স্তরেই অনেক পাওয়ার মধ্যেও কোথায় যেন সুক্ষ্ম না পাওয়ার হাহাকার। নানারকম জটিল সমীকরণে আমরা জীবনের সরলতা হারিয়ে ফেলছি। আমরা আমাদের ছেলেবেলার আনন্দগুলো আমাদের শিশুদের মাঝে খুঁজে পাই না। অন্য ভাবে বলা যায় সেই আনন্দগুলো আমরা তাদের দিতে পারছি না। জীবনের প্রতিটি স্তরই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি স্তরে ঘাটতি নিয়ে আমরা অসাধারণ কিছু লাভের আশা করতে পারি না।

          হঠাৎ করেই আমরা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের অনেক আচরণেই থমকে যাচ্ছি। অনেকের মাঝে আমরা প্রকাশ্য হতাশাও দেখতে পাচ্ছি। আজ আমাদের প্রতিটি স্তরেই দেখতে পাচ্ছি মানবিকতার ঘাটতি। এখনকার পরিবারগুলো ছোট, সুযোগ সুবিধাও অনেক বেশি ভোগ করছে বর্তমানের শিশুরা। তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মতো আরও বেশি মানবিক হবার কথা। কিন্তু তা না হয়ে আমরা প্রায় সকলেই বলছি মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, টকশো,চায়ের টেবিল,ব্যাক্তিগত আলোচনা সবখানেই আমরা এই হতাশা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কেনো এই হতাশা? শিক্ষা যেমন জাতির মেরুদণ্ড তেমনি আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাই আজকের শিশুদের মানবিক করে গড়ে তুলতে না পারলে তার মাশুল গুনতে হবে প্রতিটি ব্যাক্তি তথা পরিবার, সমাজ ও সর্বোপরি দেশ ও বিশ্বকে। প্রতিটি পিতামাতা তার সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে অনেক আর্থিক সঞ্চয় করি।কিন্তু আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কি কিছু সঞ্চয় করছি?না সঞ্চয়ের চিন্তা করছি?আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা অনেক স্ট্রাগল করে কাটিয়ে উঠলেও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা কাটিয়ে ওঠা দুরূহ। কারণ প্রথমটি নিজের আয়ত্তাধীন অন্যটি নিজের আয়ত্তের বাইরে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ।

          মানব জীবনের শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকেই। শিশু পারিবারিক শিক্ষার সাথে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূতিকাগার হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। পুঁথিগত শিক্ষায় যেমন একজন শিশুকে শিক্ষিত করে তুলতে হয় তেমনি মানবিক হবার জন্যও মানবিক শিক্ষার প্রয়োজন। যে শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকে পরিস্ফুটিত হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে।যার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী। সুন্দর, মানব বান্ধব,ভীতিহীন সমাজ গড়ে তুলতে চাই শিক্ষা এবং অবশ্যই তা হতে হবে মানবিক শিক্ষা। তা না হলে দিনে দিনে বাড়বে বৃদ্ধাশ্রম, শিশুদের মনেও জন্ম নেবে হতাশা। জাতিকে হতাশায় নিমজ্জিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পিতামাতার পরেই কান্ডারীর ভূমিকা নিতে হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।যারা মানুষ গড়ার কারিগর। যেকোনো শিক্ষাই শুরু শিশুকাল থেকেই। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাই সকলের শ্লোগান হবে" স্বপ্ন মোদের অনধিক, গড়বো শিশু মানবিক।"

          সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত