শিরোনাম
ঘুষ, দুর্নীতির অভিযোগে মুন্সিগঞ্জের এসিল্যান্ড মামুন শরীফকে বদলি
ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন শরীফকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। সেইসাথে জুন মাসের এক তারিখের মধ্যে মধ্যে গজারিয়া অফিস ত্যাগ না করলে, তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে জারিকৃত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমাতুল জান্নাত যমুনা টিভিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, গতকাল বুধবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় মামুন শরীফের এই বদলির আদেশ দেয়। এরমধ্যেই আদেশের কপি জেলা প্রশাসন হাতে পেয়েছে। এ সময়, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, এর আগে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের সুবিধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে মামুন শরীফের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ভাইরাল হয় বেশ কিছু কল রেকর্ড। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেন স্থানীয়রা।
খালেদা-তারেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ
দুদকের সাবেক ৩ চেয়ারম্যান ও এক সচিবের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেওয়ার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান ও দুদকের সাবেক তিন চেয়ারম্যানের নামে করা মামলা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৮ মে হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তি মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অন্য আসামিরা হলেন— দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান ও আবুল হাসান মনজুর।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হোসেন আলী খান (হাসান) এ তথ্য জানান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ সাপ্তাহিক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ভুয়া মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ ‘দুদকের সাবেক সচিব মোখলেস’ কীভাবে এখনও জনপ্রশাসনের সচিব?’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন বাদীর নজরে আসে। ওইদিন বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে তিনি ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অবস্থানকালে সংবাদটি পড়েন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উক্ত প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাসমূহ এবং তার ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, গণতন্ত্র ধ্বংসসহ অসংখ্য মানুষ ভিকটিম হয়েছেন। এর ফলে দেশে স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান ঘটে এবং বহু মানুষ গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকার হন। বাদী নিজেও এসব ঘটনার শিকার বলে দাবি করেন।
এতে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল এবং সাজা প্রদানের ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন, যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মোবাইল চুরি করতে গিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার একটি বাড়িতে মোবাইল ও টাকা চুরি করার সময় ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
রোববার (২৫ মে) গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা হলেন, গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর ইউনিয়নের চাইপাড়া গ্রামের জিয়া ডাক্তারের ছেলে নাহিদ(১৯) । তিনি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৩টার দিকে মিজানের বাড়িতে চুরি করতে যায় নাহিদ। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারে এবং ধাওয়া দিলে স্থানীয়রা নাহিদকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন বলেন, চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে গোমস্তাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ওয়ার্ড সভাপতি আটক হয় এবং খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
নোয়াখালীতে পল্লী চিকিৎসকের ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় পল্লী চিকিৎসকের ছুরিকাঘাতে মো. আবুল হোসেন রাফি (১৮) নামে এক কিশোর গুরুত্বর নিহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক পলাতক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাত পৌনে ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর আগে, একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের চাঁন মিয়ার মোড় এলাকার বেল্লা কোট্রার একটি চা দোকানে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
রাফি একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের অলিপুর গ্রামের মো.আজাদের ছেলে। অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক মো.শাহীন (৬০) একই এলাকার সুজাত উল্যার ছেলে।
আরও পড়ুন
আহত রাফির বন্ধু সায়েম জানান, বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের অশ্বদিয়া সোলেমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলার সময় আমার হাত লেগে আমার বন্ধু মো.রুমনের ঠোঁট ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে খেলার মাঠ থেকে রুমনকে অলিপুর চাঁনমিয়া মোড় এলাকায় পল্লী চিকিৎসক মো.শাহীনের কাছে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে শাহীন রুমনকে চিকিৎসা দিতে অপারগতা দেখালে তার সাথে একদল কিশোরের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে রাফির সাথে পল্লী চিকিৎসক শাহীনের হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে শাহিন রাফিকে চা দোকানে থাকা ছুরি দিয়ে গলার নিচে ছুরিকাঘাত করে ধমনি কেটে যায়। এতে রাফি গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রাফিকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আল বারাকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্বজনেরা তার মৃত্যুর বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিসিবিতে ফের দুদকের অভিযান
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগে ফের অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শনিবার দুপুর একটার দিকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বোর্ড কার্যালয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযান পরিচালনা করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল।
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল বিপিএলের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে বিসিবিতে অভিযান চালিয়েছিল দুদক।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে রাজু আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, অভিযানের বিষয় ছিল তৃতীয় বিভাগের বাছাইপ্রক্রিয়া, নতুন গঠনতন্ত্র এবং অন্যান্য বিভিন্ন আর্থিক অভিযোগ নিয়ে আমরা এখানে আসছি। সেই অভিযোগের আলোকে আমরা নথিপত্র সংগ্রহ করে সকাল থেকে সেগুলো পর্যালোচনা করলাম। আমরা সবার সঙ্গে কথা বললাম। আমরা সব কাজ এখনও শেষ করতে পারিনি। কিছু কাজ এখনও বাকি আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের যে বাছাই প্রক্রিয়া সেটা একসময় ছিল বেশ সহজ প্রক্রিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২২ সালের পর কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, সেখানে ২-৩টার বেশি দল অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে এটা অনেক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে যাচ্ছে। তাতে আমাদের জাতীয় দলের জন্য ভালো খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইনটা খুবই সীমিত হয়ে যায়। এই বিষয়টাকেই ফোকাস করেছি আমরা।’
বিসিবির পরিচালনা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তব চিত্রে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছে দুদক। রাজু বলেন, আমরা দেখেছি, বিসিবিতে সঠিক চাকরি বিধিমালা নেই। একটি সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠানের যেমন কাঠামো থাকা দরকার, তা এখানে অনুপস্থিত।
রাজু আহমেদ বলেন, আমরা সব নথি সংগ্রহ করেছি। সবদিক যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করব। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য