ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

লুকোচুরি আর স্বজনপ্রীতির তায়কোয়ানডো ফেডারেশন: জাতীয় প্রতিযোগিতা বর্জনের ডাক

অনলাইন ডেস্ক
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:২৩
অনলাইন ডেস্ক
লুকোচুরি আর স্বজনপ্রীতির তায়কোয়ানডো ফেডারেশন: জাতীয় প্রতিযোগিতা বর্জনের ডাক

বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির নজিরবিহীন দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং চরম অপেশাদারিত্বের প্রতিবাদে ‘জাতীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬’ সম্মিলিতভাবে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের সাধারণ খেলোয়াড় ও বিক্ষুব্ধ ক্লাব কর্মকর্তারা। 

অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিযোগিতার আয়োজনকে ঘিরে একটি সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ফেডারেশনের একটি চক্র। বার্ষিক ক্যালেন্ডারে প্রতিযোগিতার তারিখ গোপন রেখে শুধুমাত্র বর্তমান অ্যাডহক কমিটির ঘনিষ্ঠ এবং অনুগত জেলাগুলোতে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কমিটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা সেই জেলাগুলোর খেলোয়াড়দের জন্য গোপনে থাকা-খাওয়া, আবাসন ও যাতায়াতের আর্থিক ব্যবস্থা করা হলেও, যেসকল জেলা বা কোচের সাথে সিন্ডিকেটের সুসম্পর্ক নেই অথবা যারা পূর্বের কমিটির সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে। 

এমনকি সংক্ষুব্ধ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে ফেডারেশন সদস্য আরিফ রাব্বানীকে ফোন করলে তিনি অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ করে বলেন, "ফেডারেশনের টাকা নেই, আপনারা নিজ খরচে সব বহন করলে আসেন, না হলে আসার দরকার নেই।" একইসাথে, ফেডারেশনের স্বচ্ছতা দাবি করা বেশ কিছু অভিজ্ঞ সংগঠককে 'সাইলেন্ট ব্ল্যাকলিস্টেড' করে রাখা হয়েছে, যা ক্রীড়াঙ্গনে এক ভয়াবহ বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে।

এই সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপট মাঠ ছাড়িয়ে এখন প্রশাসনিক দখলের রূপ নিয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে যে, ধানমণ্ডি মহিলা কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করা সিনিয়র মহিলা ব্ল্যাকবেল্ট সদস্যদের ক্ষমতার জোরে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল এরশাদুল হক এবং সদস্য আরিফ রাব্বানী ও মরিয়ম বেগম ইতি তাদের কমিটির প্রভাব খাটিয়ে ওই সিনিয়র সদস্যদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে আরিফ রাব্বানীর স্ত্রী আসমা আক্তারকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। 

শুধু তাই নয়, জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের জন্য কোনো মেডিকেল টিম বা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা হয়নি এবং কোনো টেকনিক্যাল আউটলাইন ছাড়াই সাধারণ সম্পাদক তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং সম্পন্ন করেছেন। এর আগেও ড্যান প্রোমোশন,বেল্ট গ্রেডিং টেস্ট এবং রেফারি সেমিনারের নামে একইভাবে চিঠিপত্র ছাড়াই গোপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং 'জাতীয় ক্লাব কাপ ২০২৫' এর তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করে খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের হয়রানির চরম সীমায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায়, তায়কোয়ানডোকে এই দখলদার চক্রের হাত থেকে বাঁচাতে খেলোয়াড় সমাজ একাট্টা হয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি—ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল এরশাদুল হক, আরিফ রাব্বানী, মরিয়ম বেগম ইতি, সাব-কমিটির একেএম রফিক এবং আওয়ামী লীগের দোসর ও একাধিক মামলার আসামী কামরুজ্জামান চঞ্চলকে আজীবনের জন্য তায়কোয়ানডো থেকে বহিষ্কার করতে হবে। 

খেলোয়াড়রা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই দুর্নীতিবাজ ও স্বজনপ্রীতির হোতারা ফেডারেশন দখল করে থাকবে, ততক্ষণ তারা এই প্রহসনের জাতীয় প্রতিযোগিতা বর্জন করবেন। ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের হাতে ফেডারেশনের দায়িত্ব অর্পণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংক্ষুব্ধ তায়কোয়ানডো পরিবার।

জাকির হোসেন/
 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    পিএসসির সাবেক সেই ড্রাইভারের ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার

    অনলাইন ডেস্ক
    ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১৭
    অনলাইন ডেস্ক
    পিএসসির সাবেক সেই ড্রাইভারের ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার

    বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুদক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়াম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন।

    ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও প্রায় ৪৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী ও ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের নামে পৃথক তিনটি মামলা করেছিল দুদক। ওই মামলায় আজ সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আবেদ আলী ও তার ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      টেকনাফে সাবেক ইউপি সদস্য আটক, বাড়ি থেকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৩
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      টেকনাফে সাবেক ইউপি সদস্য আটক, বাড়ি থেকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার

      বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম | টেকনাফ

      কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোস্তফা কামালকে আটক করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।

      স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোস্তফা কামালের গতিবিধি ও কিছু সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হলে কয়েকটি সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়, যেগুলো রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত উপকরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

      আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
      “উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এগুলো কোন উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”

      স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাবেক ইউপি সদস্য হওয়ায় মোস্তফা কামালের এলাকায় প্রভাব ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছে এবং এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

      টেকনাফ থানা পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, এ ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

      এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সঠিক তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।”

      উল্লেখ্য, টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন সামনে আনলেও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁকর্মী মিলন গ্রেপ্তার

        অনলাইন ডেস্ক
        ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪০
        অনলাইন ডেস্ক
        বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁকর্মী মিলন গ্রেপ্তার

        রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসায় স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তারকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মিলন নামে এক রেস্তোরাঁকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ঘটনার পর তার আত্মগোপনের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।

        র‌্যাব সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে পাঠানো এক খুদে বার্তায় জানায়, দক্ষিণ বনশ্রীর ওই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

        এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

        নিহত ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি বাবা-মা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। পরিবারের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রী এলাকায় একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।

        পুলিশ জানায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনার সময় তাদের রেস্তোরাঁর কর্মী মিলনকে ওই বাসায় ঢুকতে দেখা গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসায় লুটপাটের চেষ্টার সময় মেয়েটি বাধা দেওয়ায় একপর্যায়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

        খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মেয়েটির বাবার রেস্তোরাঁর এক কর্মী আত্মগোপনে ছিলেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ষণের কোনো আলামত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

          জেলা প্রতিনিধি
          ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:১১
          জেলা প্রতিনিধি
          সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

          বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড  সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর  পওর বিভাগ -১ বাপাউবো সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী  বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত যাতায়াতে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গাড়িটি নিয়ে তিনি প্রতি দিনই খুলনা শহরের বাসা থেকে সাতক্ষীরা তাঁর কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। বাপাউবো -১ সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী তার টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার (ভোলা ঘ ০০০৫) গাড়িটি নিয়ে কর্মস্থল থেকে তাঁর বাড়ি খুলনা যাতায়াত করেন।

          ওই কর্মকর্তার নাম মোঃ আশরাফুল আলম। তিনি প্রকৌশলী দপ্তর পওর বিভাগ -১ বাপাউবো সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে গতো বছরের ১২ই নভেম্বর সাতক্ষীরায় যোগদান করেন। খুলনা শহরের গল্লামারী বাসায় তাঁর পরিবার থাকে। ওই বাসা থেকে তিনি প্রতি দিনই সরকারি গাড়ি নিয়ে সাতক্ষীরায় তাঁর কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। তাঁর কার্যালয় সূত্র জানায় ২০২৫ সালের ১২ই নভেম্বর তিনি খুলনা থেকে বদলি হয়ে আসেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরায়। তখন থেকেই তার বরাদ্দকৃত  টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার ( ভোলা ঘ ০০০৫) গাড়ী দিয়ে খুলানার বাসা থেকে সাতক্ষীরা অফিসে যাতায়াতে  ব্যবহার করে আসছেন।

          সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি ডাঃ আবুক কালাম বাবলা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে এটা খুবই অন্যায় তিনি এটা করতে পারেন না।  তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত কাজে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করাও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে।

          খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা গাড়িটি নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে প্রতিদিন তাঁর  খুলনার বাসায় যান এবং  সকালে গাড়ি নিয়ে আবার কর্মস্থল সাতক্ষীরা আসেন। সাতক্ষীরা থেকে খুলনার দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। যেহেতু গাড়িটি ডিজেলচালিত। এক লিটার তেল দিয়ে গাড়িটি চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার চলতে পারে। সেই হিসাবে সাতক্ষীরা থেকে খুলনা যেতে-আসতে ২৮ লিটার তেল লাগে। সপ্তাহে পাঁচ দিনও যদি গাড়িটি দিয়ে খুলনায় যাতায়াত করেন। সেই হিসাবে মাসে ২০ দিন হয়। আর ২০ দিনও যদি তিনি ওই গাড়িতে খুলনাতে যাতায়াত করেন তাতে কমপক্ষে ৫৬০ লিটার তেল লাগে শুধু খুলনায় যাতায়াতে। ১০৪ টাকা লিটার  হিসাবে প্রতি মাসে ৫৮ হাজার ২৪০ টাকা তেল বাবদ তাঁকে খরচ করতে হয়। তাঁর এই তেল খরচের টাকার জোগান দেন তার দপ্তর ।

          নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, এই গাড়িটি সরকারি  কাজে ব্যবহার করা হয়। খুলনা প্রধান প্রকৌশলী দপ্তরে  যাওয়া হয় অফিসের কাজে।  তিনি আরো বলেন খুলনাতে পরিবার থাকে সেখানেও যেতে হয়।  তিনি প্রতিবেদক কে আরো বলেন সরকারি বিধিমালা মেনে গাড়ি ব্যবহার করি আমি।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত