শিরোনাম
নোয়াখালীতে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে দুর্ভোগ-আতঙ্ক, ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে এক দিনে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। এতে উপকূলীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ও চরহাজারী ইউনিয়ন,চরএলাহী ও হাতিয়ার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন গ্রাম ব্যাপক ভাবে প্লাবিত হওয়ায় পরিস্থিতি দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ মে) সকালে জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। গভীর নিম্নচাপের কারণে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের তোড়ে কোম্পানীগঞ্জ ও হাতিয়ার কয়েকটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে । ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। ডুবে গেছে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল। হাতিয়ার মেঘনা নদীতে এমভি প্রাহিম একটি পণ্যবাহী ট্রলার চার কোটি টাকার মালামাল নিয়ে ডুবে যায়। উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত জোয়ারের পানি ঢুকতে শুরু করেছে নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ ও জাতীয় উদ্যানের বনের হরিণ। এছাড়া হাতিয়ার চরইশ্বর, নলচিরা, ঢালচর, সুখচর, চরঘাসিয়াসহ বিভিন্ন চরের সড়ক ও বাড়িঘরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত জোয়ারের অতিরিক্ত পানির ভয়ে।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মোমিন বাবলু জানান, লঘুচাপের প্রভাবে হাতিয়াতে শুক্রবার সকালেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ো বাতাস ও সাগর উত্তার থাকায় তৃতীয় দিনের মত হাতিয়ার সাথে সারাদেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে ব্যাপক প্লাবিত হয়েছে। সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারের নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের প্রধান সড়ক গুলো প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে নিচু অঞ্চলের বাড়িগুলোতে। বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয় নিঝুমদ্বীপ। এতে প্রায় ৪৫হাজার মানুষ পানিবন্ধি রয়েছে।
অপরদিকে, টানা বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে শহরের ফ্ল্যাট রোড, শিল্পকলা একাডেমির পাশের সড়ক, হাকিম কোয়ার্টার সড়ক। এছাড়া সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ছিলনা বিদ্যুৎ।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমদ বলেন, বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলায় আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেডক্রিসেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কাজ করছে।
সোসাইটি অফ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট (SSLT)-এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশে বাক ও ভাষাগত সমস্যা নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের সংগঠন সোসাইটি অফ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট (SSLT)-এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।বিশেষ করে শিক্ষানগরী ময়মনসিংহের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এন্ড হেলথ সায়েন্সেস এবং ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট(BHPI) এ জমকালো আয়োজনে আয়োজিত হয় এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। দিনভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয় এ দিনটি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের প্রভাষক মৈত্রী চক্রবর্তী। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ড. শামীম আহমেদ পি.টি.। এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট এর সভাপতি জনাব ফিদা আল শামস।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রভাষক মৈত্রী চক্রবর্তী বলেন, ❝কথাই অসুখ,কথাই ওষুধ। কথার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি তার জীবনের পথ চলেন। কথা একটি শিল্প,যে যত বেশি চর্চা করেন,সে তত সফল হতে পারেন।❞ তাছাড়া তিনি সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন ইতিহাসের প্রতি আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে ড. শামীম আহমেদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ❝বাংলাদেশে স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি যত দ্রুত গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হবে তত দ্রুত এই পেশা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে। গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত পৌছাতে পারলেই স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি পেশা সফল ও সার্থক হয়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী।❞
সমাপনী ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টের সভাপতি জনাব ফিদা আল শামস বলেন, ❝স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য রিহ্যাবিলিটেশন স্বাস্থ্য পেশা এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের এখনও যথেষ্ট সচেতনতার অভাব রয়েছে। স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের সরকার স্বীকৃত পেশাজীবি সংগঠন সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারকে যথাসময়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।❞
তিনি আরও বলেন,❝বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-বিধি ইতোমধ্যে পাশ হয়েছে, এখন দরকার এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।❞
বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল হতে অবিলম্বে কোয়ালিফাইড স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের লাইসেন্সিং ও স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিসহ অন্যান্য রিহ্যাবিলিটেশন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল হতে সঠিক মনিটরিং এর আওতায় আনতে শীঘ্রই উদ্যোগ নেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
সেবাগ্রহীতাগণ যেন প্রকৃত স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট হতে চিকিৎসা সেবা পান।
স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি পেশাজীবিদের মর্যাদা রক্ষা ও সম্মানের সাথে প্র্যাক্টিস নিশ্চিত করতে পারেন সেজন্য নিরলস কাজ করছে SSLT.
অনুষ্ঠান শেষে সকলেই এসএসএলটি-এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও জাতীয় পর্যায়ে বাক ও ভাষা থেরাপির পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তলিয়ে গেছে নিঝুমদ্বীপ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার (২৮ মে) ভোররাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বর্তমানে আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা এবং সমুদ্রের পানি উত্তাল।
অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদ-নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। এতে হাতিয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ডভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপজেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে হাতিয়ার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সব ধরনের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এদিকে সকাল থেকেই নিঝুমদ্বীপের চারপাশের নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিঝুমদ্বীপের ৯টি ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, বিপাকে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নিঝুমদ্বীপের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয় নিঝুমদ্বীপ। দিনের বেলায় একবার জোয়ার হয়েছে। বর্তমানে তীব্র বাতাস হচ্ছে। এভাবে পুরো নিঝুমদ্বীপ তলিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে মোল্লা গ্রাম, বান্ধাখালী গ্রাম, পূর্ব মুন্সী গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, পূর্বাঞ্চল গ্রাম, মদিনা গ্রামসহ নিঝুমদ্বীপের সবগুলো গ্রামে পানি ঢুকেছে। বর্তমানে মানুষ বিপাকে আছে।

নামার বাজার এলাকার বাসিন্দা জামশেদ হোসেন বলেন, নামার বাজারসহ আশপাশের সকল রিসোর্ট তলিয়ে গেছে। রাতে আরেকবার জোয়ার হবে। মানুষ জোয়ারে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। আল্লাহ রক্ষা না করলে বাঁচার সুযোগ নেই। সব তলিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নোয়াখালীর অন্য কোথা থেকে লোকজন হাতিয়ায় যেতে পারছেন না এবং হাতিয়া থেকে কেউ নোয়াখালীতে আসতে পারছেন না।
হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। দোকানপাটে মানুষ নেই। বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বসে আছে। কাজে যেতে পারছে না। তিন নম্বর সংকেত দেওয়া হলেও মানুষের মাঝে সচেতনতা নেই।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, হাতিয়া উপজেলা বর্তমানে তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের আওতায় রয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। সতর্কতা হিসেবে জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। প্লাবিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী বলেন, জোয়ারের ফলে স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বেড়িবাঁধের বাইরে যেন কেউ না থাকে, সেবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ আহতদের সাথে কর্মচারীদের মারামারি, ভয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন অধিকাংশ চিকিৎসক-নার্স
চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ আহতদের একাংশের হামলার ঘটনায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় পড়া অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীই দুপুরের দিকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। এরফলে জরুরি বিভাগ ব্যাতিত হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে হাসপাতালটিতে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী।
বুধবার (২৮) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহতের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেও সমাধান হয়নি। উত্তপ্ত পরিস্থিতি থামাতে লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে সেনবাহিনীকে।
আরও পড়ুন
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গতকাল চক্ষু বিজ্ঞান পরিচালকের গায়ে হাত তুলেছে একদল জুলাই আহত ব্যক্তিরা। এমনকি তারা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরও হামলা করে রুম ভাঙচুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মিলে আজ (২৮ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সকাল ১১টা থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারী আহতদের একাংশ হাসপাতালের কর্মীদের মারধর করেছেন, রুমে ভাঙচুর করেছেন এবং এমনকি পরিচালকের গায়েও হাত তুলেছেন। এই ঘটনার পর তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন এবং কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। কিন্তু কোনোরকম উস্কানি ছাড়াই আজ আবারও তারা হামলা চালায়, যাতে অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীও রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় থমথমে অবস্থা হাসপাতালে। বন্ধ হয়ে গেছে সেবা।
ঘটনার শুরু : বিষপানের হুমকি থেকে উত্তেজনা
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে। জানা গেছে, গত বছর জুলাইয়ে চোখ হারানো চার আন্দোলনকারী—শিমুল, সাগর, মারুফ ও আবু তাহের—হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে বসে। চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও বিদেশে রেফার না করা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আচমকা পকেট থেকে বিষের শিশি বের করে গলায় ঢালার চেষ্টা করেন। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরদিন সকাল থেকেই হাসপাতালের স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীরা শুধু বিষপানেই ক্ষান্ত হননি, তারা পরিচালকের কক্ষে ভাঙচুর করেছেন, গায়ে হাত তুলেছেন এবং কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া: নিরাপত্তাহীনতায় কর্মবিরতি
হাসপাতালের চিকিৎসক নুরে আলম বাবু বলেন, "আমাদের পরিচালকের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, অফিস রুম ভাঙচুর করা হয়েছে। তাই আমরা চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কর্মবিরতিতে গিয়েছি। কেউ সংক্ষুব্ধ হলেই গায়ে হাত তোলার এই সংস্কৃতি আর মেনে নেওয়া যায় না।"
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র নার্স বলেন, "তাদের তো আমরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা করেছি। এখন তারাই আমাদের মারছে, জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে।"
আহতদের পাল্টা অভিযোগ: চিকিৎসা নয়, নির্যাতন পেয়েছি
অন্যদিকে আন্দোলনকারী আহতদের ভাষ্য একেবারে বিপরীত। তারা দাবি করছেন, সকালে নাস্তা করতে নামার সময় কয়েকজনকে মারধর করেন হাসপাতালের কর্মীরা। পরে সেই খবর ছড়িয়ে পড়লে আহতরাও প্রতিক্রিয়া দেখান।
চিকিৎসাধীন ইব্রাহিম বলেন, "আমরা কারো গায়ে হাত দেইনি। সেনাবাহিনী পর্যন্ত আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। চিকিৎসা না পেয়ে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ১০ মাস ধরে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছি, রেফার করা হয়নি।"
বিষপানকারী আবু তাহের বলেন, "পরিচালকের সঙ্গে আমাদের বরাদ্দের অর্থ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তিনি কথা না শুনে চলে যান। বাইরে যাওয়ার কথা বললেই চোখে ইনফেকশন হয়, আবার হাসপাতালে ফিরতে হয়। চিকিৎসা তো হচ্ছে না, বরং টাকা আত্মসাৎ করছে একটি সিন্ডিকেট।"
সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও জরুরি বিভাগ ব্যতীত সব বন্ধ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার, পুলিশ ও নৌবাহিনী ব্যর্থ হলে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট হাসপাতালে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আহতদের ওপর লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে। এরপর আহতরা পিছু হটে যায়।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সব চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সেবা পাচ্ছেন না। অনেকের অপারেশন ছিল আজকের নির্ধারিত শিডিউলে, সেটিও বাতিল হয়েছে।

বাবুল মিয়া নামের একজন অস্ত্রোপচারের রোগী বলেন, আজকে আমার অস্ত্রোপচারের তারিখ ছিল। কিন্তু আন্দোলন এবং হামলার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এখন পরবর্তী ডেট আবার কবে বলতে পারছি না।
পরিচালক বলছেন, ‘জিম্মি’ চিকিৎসক-নার্সরা
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, "সব জানেন আপনি। আমার চিকিৎসক-নার্সরা এখনো জিম্মি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বিকেলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক রয়েছে, সেখানেই করণীয় ঠিক হবে।"
তিনি আরও জানান, গতকালের একটি অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে স্টাফরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। যার কারণে তারা কর্মবিরতিতে গেছেন বলে আমি জানি। তবে আমি ছুটিতে, আমার পরিবর্তে আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের গুদামে মিলল আরও ১১ হাজার কুকি-চিনের ইউনিফর্ম
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার নয়াহাট এলাকার একটি গুদাম থেকে আরও ১১ হাজার ৭৮৫টি সন্দেহজনক ইউনিফর্ম জব্দ করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে এসব ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব পোশাক পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ইউনিফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি বলেছেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দেওয়া যাচ্ছে না।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। স্যারদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে গত ১৭ মে একই এলাকার রিংভো অ্যাপারেলস নামের একটি পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০টি ইউনিফর্ম জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফের জন্য এসব পোশাক তৈরি হচ্ছিল। দুই কোটি টাকার চুক্তিতে পোশাক তৈরির ফরমাশ নেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলামসহ গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দার নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা মংহলাসিন মারমার কাছ থেকে ফরমাশ এনেছিলেন। পুলিশ বলছে, চলতি মে মাসে পোশাকগুলো সরবরাহ করার কথা ছিল। ১৮ মে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য