ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

চবির সমাবর্তনে যোগ দিতে আসছেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১০ মে, ২০২৫ ১০:১৭
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
চবির সমাবর্তনে যোগ দিতে আসছেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আসন্ন ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস। বিশ্ববিদ্যালয় হতে তাকে ডি-লিট সম্মাননা প্রদান করা হবে।

আগামী ১৪মে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২২,৫৬০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী। সমাবর্তনে ড. ইউনুস সমাবর্তন প্রধানবক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য(প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, “চবির ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ নয় বছর পর আমরা সমাবর্তন আয়োজন করতে যাচ্ছি। এটি হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবর্তন হতে যাচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি সমাবর্তনকে বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত করবে। আমরা তাকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করব। ”

সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বর্ণিল সাজসজ্জা। প্রশাসনিক ভবন, মূল ফটক ও অনুষ্ঠানস্থলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা সেজেছে বর্ণিল আলোয়। একইসঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর হায়দার আরিফ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যা ছাড়া কেউ সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারবে না। অনুষ্ঠানের দিন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, নিবন্ধিতদের তালিকা গোয়েন্দা সংস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। যেকোনো সময় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কল করা হতে পারে। সুনির্দিষ্ট কার্ড ছাড়া কেউ সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এছাড়া, ৩৬ বছর পর এই সমাবর্তন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও চবি অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।  তার আগমনকে কেন্দ্র করে চবির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি।

মন্তব্য

অবহেলার শিকার সরকারি টেক্সটাইল কলেজগুলো, কমছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৯ মে, ২০২৫ ১৫:৪৯
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
অবহেলার শিকার সরকারি টেক্সটাইল কলেজগুলো, কমছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) অধিভুক্ত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে এবারের ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে কলেজগুলোর শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট এবং তা নিরসনে সরকারের মনোযোগের অভাবের মতো বিষয়গুলো আবারো সামনে উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষক এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কলেজগুলো আশানুরূপ শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতে পারছে না।

নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র গোলাম কিবরিয়া বলেন, "আমরা যৌক্তিক ৫ দফা দাবি দিলেও বস্ত্র অধিদপ্তর তা বাস্তবায়ন করেনি। আমাদের নিয়োগ বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা না, কিন্তু যখন দেখলাম গত প্রায় ১০ বছর ধরে শিক্ষক আর শিক্ষার মান তলানিতে, তখন সবাই গোড়ায় গলদ খুঁজে পেলাম। আমরা উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন থাকতে এ নিয়ে অনেক দূর কাজ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের সমস্যাগুলো দেখেননি এবং কাজও করেননি।"

কিবরিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "বর্তমান কলেজগুলোতে ব্যাপক শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে উল্টো মাদারীপুর এবং সিলেটে নতুন কলেজ খোলা হয়েছে। বস্ত্র অধিদপ্তর শুধু আশ্বাস দিয়ে যায়। তাঁরা যেহেতু সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে সরকারি টেক্সটাইল কলেজগুলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ করা হোক। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকে আমাদের শিক্ষার মান আজ তলানিতে। কিছু দিন পর মাইকিং করে ছাত্র খুঁজতে হবে।"

বস্ত্র অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি আবেদন করেছে ৪৭০০ জন। বিগত ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে যা ছিল যথাক্রমে ৪৬৬৬ জন ও ৯০০৩ জন।
রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদ আল হাসান শিশির জানান, “ভুলে ভরা ২০১৪ সালের নিয়োগ বিধির কারণে নতুন কলেজ, বিশেষ করে রংপুর, গোপালগঞ্জ, জামালপুরে একজন করেও স্থায়ী শিক্ষক নেই। এভাবে চলছে বছরের পর বছর। আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেও কোনো ফলাফল দেখতে পাইনি। উপদেষ্টা স্যারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও তিনি সমস্যার সমাধান করেননি। তাই চরম শিক্ষক সংকটে নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে এই কলেজগুলোতে পড়া হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

সংকট সত্ত্বেও নতুন দুটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বস্ত্র অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিচালক (উপসচিব) হোসনে আরা বেগম বলেন, "নতুন দুই কলেজ করার বিষয়ে উপর থেকে নির্দেশ আছে। আর আমাদের নতুন শিক্ষক আসছেন। আজকেও তিনজন সহকারী অধ্যাপক যোগ দিয়েছেন। আরও ১১ জন শিক্ষক যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা পিএসসিতে রিকুইজিশন দিলে, তারা শিক্ষক নিয়োগ দেয়।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এক শিক্ষকের কাছে শিক্ষক সংকট নিরসনে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, “নতুন কলেজগুলোতে বর্তমানে কোনো শিক্ষক নেই। পুরোনো কলেজগুলো থেকে ধার করে কিছু শিক্ষক নিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আর অনেক শিক্ষক যাঁরা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন, তাঁদের পরিবর্তে নতুন করে দু-একজন শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। এতে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।”

এ বছরের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে বলে ধারণা অনেকের। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, টেক্সটাইল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শিল্পের জন্য দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করতে হলে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। শিক্ষক সংকট সমাধান এবং মান উন্নয়নে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কলেজগুলোকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।

 

মন্তব্য

সরকারি বাঙলা কলেজে দ্বিতীয় আন্তঃবিভাগ বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৯ মে, ২০২৫ ১৩:৮
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
সরকারি বাঙলা কলেজে দ্বিতীয় আন্তঃবিভাগ বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত

“উদ্ভাবনে উন্নয়ন, বিজ্ঞানে আগামীর পথ”—এই প্রতিপাদ্যে সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তঃবিভাগ বিজ্ঞান মেলা। ৭ ও ৮ মে আয়োজিত এ মেলায় কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন এবং উপস্থাপন করেন প্রায় ৩০টি উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প।

গতকাল বুধবার(৭ই মে) মেলার উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ক্লাবের উপদেষ্টা পরিষদ ও ক্লাবের সদস্যরা।

দুই দিন ব্যাপী চলা এই মেলায় কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সর্বমোট ২৭ টা দল নিজ নিজ প্রকল্প নিয়ে অংশগ্রহণ করে। প্রকল্প এবং উপস্থাপনা বিবেচনায় অংশগ্রহণকারী দলের মধ্য থেকে সেরা তিনটি দলকে পুরস্কৃত করা হয়।

মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘বায়ো-ফার্মিং ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের উপস্থাপক ছিলেন জাবের, বর্ষা ও মানসুরা।
দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে অর্থনীতি বিভাগের ‘Three sector of Bangladesh economy ( air purity,strong Economy)’ প্রকল্প; যেটি উপস্থাপন করেন অর্থনীতি বিভাগের প্রভা, চাঁদনি, আসমা।
তৃতীয় স্থান লাভ করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ‘সোলার স্মার্ট হোম’ প্রকল্প যেটায় অংশ নেন রজিন, ফারহান, জিতু ও শাহীন নামের চার শিক্ষার্থী। 

মেলায় অন্যতম আকর্ষণ ছিলো আইডিয়া শেয়ারিং বিভাগ। এ বিভাগে শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন।

আইডিয়া শেয়ারিংয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে টিম ‘Breakers Bridge’ (সাহিদুল, আরিফা, রায়হান)।
দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘The Role of Ice’ (সায়মা, রোকন, মনি)।
এবং তৃতীয় হয় ‘Evaluation of Money’ (মৌ, অহনা, সাবিহা)।

মেলার অংশ হিসেবে আয়োজিত হয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৫, যেখানে বিভিন্ন বিভাগ ও শ্রেণি থেকে বিজয়ীরা নির্বাচিত হন।

দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান কুইজ, পোস্টার প্রদর্শনী এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই বিজ্ঞান’ শীর্ষক একটি সেমিনার। সেমিনারে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বিজ্ঞানচর্চার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তা, কল্পনা ও গবেষণার দ্বার খুলে দেয়। আমরা চাই এই মেলা নিয়মিত হোক এবং আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হোক।”

অনুষ্ঠান শেষ হয় পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে।

মন্তব্য

ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকের পর পুলিশে দিল ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৮ মে, ২০২৫ ১৯:১৯
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকের পর পুলিশে দিল ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

রাজশাহী কলেজে ক্লাস করতে আসা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কলেজ শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দরা তাঁকে আটকের পর বোয়ালিয়া মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

আটককৃত ছাত্রলীগের ওই কর্মীর নাম মোঃ সাগর রেজা (২২)। তিনি রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার উদয় সাগর গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ আলমগীর। 

তথ্যমতে, আজ বৃহস্পতিবার তিনি কলেজে ক্লাস করতে আসেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির কর্মীরা তাঁকে চিনতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার হাতে থাকা ফোন যাচাই-বাছাই করলে ফেসবুকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্ট দেখা যায়। ছবিগুলোতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে আওয়ামী লীগ ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে । 

এছাড়াও তার ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োডাটাতে ছাত্রলীগের একাধিক পদে থাকার ট্যাগ এখনো যুক্ত রয়েছে।

 উল্লেখ্য সহ সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রহনপুর পৌর শাখা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি লীগ চাঁপাই-নবাগঞ্জ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ গোমস্তপুর উপজেলা শাখা, সাংগঠনিক সম্পাদক বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ গোমস্তপুর উপজেলা শাখাসহ বিভিন্ন পদবীর ট্যাগ তার ফেসবুক প্রোফাইলে এখনো যুক্ত রয়েছে। 

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, কয়েকদিন যাবৎ আমরা লক্ষ্য করছি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা সন্দেহজনক ভাবে ক্লাসের নামে কলেজে এসে মাক্স পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার ধারাবাহিকতায় আজকে সে ক্লাসে আসলে তার সহপাঠীরা যারা তার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলো তারা তাকে ধরে এবং আমাদের জানায়। আমরা   তার কাছে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন তথ্য পায়। পরবর্তীতে আমরা তাকে প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করি।

তিনি আরো বলেন,  সে মূলত ক্লাসের নামক করে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে কয়েকদিন যাবৎ কলেজে বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করছিল। 

রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাসিক দত্ত ও আশিকে ছায়া তলে তিনি রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর অত্যাচার নিপীড় নির্যাতন চালাতো। কলেজে সাধারন শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে মারধর করতো। আমরা তাকে চিনতে পেরে তাকে সাধারণ শিক্ষার্থী মারধরের হাত থেকে বাঁচিয়ে  পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।  

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ কে ফোন করা হলে তিনি জানান,  তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে এখনো আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি। আসলে যাচাই করে দেখবো। নতুন করে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। পূর্বের একটি মামলা চলমান রয়েছে, সেই মামলায় তাকে চালান করে দেওয়া হবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ববি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষকদের সংহতি ও বিক্ষোভ

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৮ মে, ২০২৫ ১৬:১৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ববি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষকদের সংহতি ও বিক্ষোভ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনে এবার সংহতি জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। 

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন বিশ জনেরও বেশি শিক্ষক। এ সময় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়।

    শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিন, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার, সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায়, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এটিএম রফিকুল ইসলাম এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিরাজিস সাদিকসহ অন্যান্যরা। এছাড়াও, "কাজ নেই মজুরি নেই" ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন চন্দ্র পাল এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান সহযোগী অধ্যাপক ড. গাজী জহিরুল ইসলাম আজ পদত্যাগ করেছেন। এর আগে, দুটি হলের প্রভোস্ট - শেরে বাংলা হলের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বাছির ও বিজয়-২৪ হলের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান এবং জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক সঞ্জয় কুমার সরকার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, "আগামীকাল গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা জেনেছি যে ভর্তি পরীক্ষায় উপাচার্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। তাই, উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।"

    শিক্ষার্থীদের সকল দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে অধ্যাপক মুহসিন উদ্দিন বলেন, "আমাকে একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট সভা থেকে বেআইনিভাবে ও সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাকে 'ফ্যাসিস্ট' আখ্যা দিয়ে অপমানজনকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমাদের প্রতিষ্ঠানের আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কীভাবে কাউকে এসব পদে অন্তর্ভুক্ত বা অব্যাহতি দেওয়া যাবে। অথচ সেই আইনকে উপেক্ষা করে, কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই আমাকে অপসারণ করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও দমননীতির স্পষ্ট প্রমাণ।"

    উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর এটিএম রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, "শিক্ষার্থীদের নামে যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তার সাথে আমি একমত নই। আমি তখন প্রক্টর ছিলাম, কিন্তু মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। সম্প্রতি একটি জিডি হয়েছে, এর সাথেও আমি কোনোভাবেই একমত নই। আমার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীরা কেন মামলা খাবে? তাদের ভবিষ্যৎ আছে, তাদের জীবনে কেন কলঙ্কের দাগ লাগবে? আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মুহসিন উদ্দিন স্যারকে সম্প্রতি একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিটা আমি পড়েছি, এবং এই ধরনের ভাষা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতেই আজ আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি।"

    এ বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি জানার জন্য প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সোনিকে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান এবং কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

    তবে, সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

    মন্তব্য
    সর্বশেষ সংবাদ
      সর্বাধিক পঠিত