ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ঈদুল আজহা

বিএনপি জামায়াত এনসিপি মিলেমিশে গরুর হাটের ইজারায়

অনলাইন ডেস্ক
১ জুন, ২০২৫ ১৯:৪
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপি জামায়াত এনসিপি মিলেমিশে গরুর হাটের ইজারায়

ঈদুল আজহার বাকি আর ছয় দিন। এ উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেশির ভাগ হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়ে আছে। বিগত সরকারের আমলে নামে-বেনামে এসব হাটের ইজারা নিয়েছিলেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা, কিন্তু এবার বিষয় ভিন্ন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের লোকজন পলাতক থাকায় তাদের কেউ হাট ইজারায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

এবার রাজধানীর অধিকাংশ পশুর হাট মিলেমিশে পেতে যাচ্ছেন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। মূলত তাদের সুপারিশ ও পছন্দের ইজারাদারদেরই হাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এবার দক্ষিণ সিটিতে ৯টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে একটি হাট জামায়াত, আরেকটি এনসিপি নেতাদের পছন্দের সুপারিশে ইজারাদার দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো পেয়েছেন বিএনপির পছন্দের ইজারাদারেরা।

এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কয়েকটি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক (১০, ১১, ১২, ১৩) কর্মকর্তা জানান, উত্তর সিটিতে ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপির সুপারিশে তিনটি হাট পেতে যাচ্ছেন তাদের পছন্দের ইজারাদারেরা। দুটি জামায়াতের পছন্দের এবং বাকিগুলো বিএনপি ও অন্যরা।

উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ঈদুল আজহার দিনসহ মোট পাঁচ দিন নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করা হবে।

গত বছর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীরা পলাতক থাকায় এবার অধিকাংশ হাটই যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতে। তবে ঈদের আর ছয় দিন বাকি থাকলেও এখনো অধিকাংশ হাটের ইজারাদার চূড়ান্তের শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে তিনটি অবৈধ হাট বসেছে। আরও তিনটি অবৈধ হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে।

হাটগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ:

এদিকে রাজধানীর পশুর হাটগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে এবার ব্যাপক অভিযোগ করছেন ব্যাপারীরা। বেশির ভাগ পশুর হাটের ইজারাকাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও ক্রেতারা হাটে  আসছেন, তবে ব্যাপারীরা অতিরিক্ত দাম চাইছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

সরেজমিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন পশুর হাটে কিছু বাঁশ ছাড়া তেমন কোনো ব্যবস্থাপনা দেখা যায়নি। ঝড়-বৃষ্টিতে পশু নিয়ে কষ্টে সময় পার করছেন ব্যাপারীরা। এমন পরিস্থিতিতে পড়ার কারণে ব্যাপারীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্রমতে জানা যায়, ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দরদাতা জটিলতায় নিশ্চিত করতে পারেনি হাটের ইজারাদার। এরই মধ্যে মাঝেমধ্যে ক্রেতারা আসছেন, যাচাই করে যাচ্ছেন পশুর বাজারদর। তবে ঢাকার অধিকাংশ হাট ইজারাদাররা পশু রাখা ও কেনাবেচার উপযোগী করে তুলতে না পারায় পশু ব্যবসায়ী ও পশুর মালিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এদিকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভে নগর ভবন তালাবদ্ধ থাকায় ইজারা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া চলমান প্রশাসনিক অচলাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, কয়েক দিন ধরে আমরা কোনো সেবা দিতে পারছি না। এমনকি অনেক ইজারাদারের ফাইলও দেখা সম্ভব হয়নি। অবরোধের কারণে, আমরা পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে বা ওয়ার্ক অর্ডার দিতে পারছি না।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে করপোরেশন এলাকার আটটি পশুর হাটের প্রথম পর্যায়ের উন্মুক্ত ইজারা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গত শনিবার যাচাইবাছাই শেষে খিলক্ষেত মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন খালি জায়গায় সুরমি এন্টারপ্রাইজের নামে মজিবুল্লা খন্দকার হাটের ইজারা নিয়েছেন। তবে হাটটি পরিচালনা করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আকতার হোসাইন।

আর ঢাকা পলিটেকনিকের খেলার মাঠের হাটটি ডিএনসিসি প্রথমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দিয়ে ৭৭ লাখ টাকা কমে তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা এসএফ করপোরেশনকে ইজারা দিতে কার্যাদেশ প্রস্তুত করলেও সমালোচনার মধ্যে হাটটির ইজারা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। হাটটি এখন সর্বোচ্চ ২ কোটি ১৭ লাখ টাকায় জায়ান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান পাচ্ছেন বলে ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে।

গত বুধবার ডিএনসিসির এই ছয় হাটসহ মোট সাতটি হাটের ইজারার দর উন্মুক্ত হয়। মিরপুরের কালশী বালুর মাঠের খালি জায়গাসংলগ্ন হাটটিতে সরকারি মূল্যের চেয়ে ৫০ লাখ টাকা কমে ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান।

তিনি বলেন, হাটের জায়গাটি অত্যন্ত কম। এর ফলে সরকারি মূল্যের চেয়ে কম হলেও সর্বোচ্চ দর আমি দিয়েছি। করপোরেশনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। হাটটি পেতে আমি আশাবাদী।

ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত হাটটির সর্বোচ্চ ৯৫ লাখ টাকা দর দিয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান।

মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং হাটটি প্রথম পর্যায়ের ইজারায় বিএনপি ও জামায়াতের দুই নেতা ২ কোটি টাকা সমমূল্য দেওয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ইজারা অনুষ্ঠিত হয়। হাটটি এবার সর্বোচ্চ দরে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় পেয়েছেন মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজের রতন মিয়া। তবে এই ইজারাদারের সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মোহাম্মদপুরের বছিলার পশুর হাটটিতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা দর দিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল মৃধা। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বাজারসংলগ্ন রহমাননগর আবাসিক এলাকার হাটের ইজারায় সর্বোচ্চ ১৩ লাখ টাকায় আরহাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিএনপি নেতা শাহ মিরাজ দর দিয়েছেন।

ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন হাটটিতে তামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারি মূল্যের চেয়ে ৭০ লাখ টাকা কমে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা দর দিয়েছেন।

ডিএসসিসির ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে কামরাঙ্গীরচরে চলতি বছর কোনো গরুর হাটের ইজারা দেয়নি সিটি করপোরেশন। তবে এই জায়গায় যুবদল নেতা সোহেল আরমান ও বিএনপি নেতা মনির চেয়ারম্যান মিলে অবৈধ গরুর হাট বসিয়েছেন। কলাবাগান কলোনির মাঠে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা আরেকটি হাট বসিয়েছেন।

এদিকে গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়েও চলছে নানা জটিলতা। গত ৩ মার্চ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সোয়া ২২ কোটি টাকা দর দিয়েছিল মেসার্স আরাত মোটরস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এটি নির্ধারিত দরের চেয়ে ৭ কোটি টাকা বেশি। সঙ্গে আরও ২৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও আয়কর রাজস্ব খাতে যুক্ত হতো।

কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাটের ইজারা না দিয়ে ডিএনসিসি হাটটিতে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় সম্প্রতি দুদক ডিএনসিসিতে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র জব্দ করে।  পরে গাবতলী হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয় করপোরেশন।

জানা যায়, গত বুধবার গাবতলী হাট ইজারার জন্য সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা দর দিয়েছে টিএইচ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিক আলী হায়দার নামে এক ব্যক্তি। ইজারাপ্রত্যাশী অন্য দরদাতাদের প্রতিনিধিরাও টিএইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক আলী হায়দারকে চিনতে পারছেন না।

তার রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা মিরপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানাতে পারেননি। তবে জানা যায়, এনসিপির নেতারা এই হাটের জন্য তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে সুপারিশ জানান।

সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ৯ হাটের মধ্যে ছয়টির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি চূড়ান্ত করার পর সবাইকে কার্যাদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি সরকারি মূল্যের চেয়েও কম পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেভাবেই কাজ করব। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বলা যায়, এবার পশুর হাটের বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।  

মন্তব্য

‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান এবং কার্যক্রম দেখতে চাই’

অনলাইন ডেস্ক
১ জুন, ২০২৫ ১৮:৩২
অনলাইন ডেস্ক
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান এবং কার্যক্রম দেখতে চাই’

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমরা এখনো যথেষ্ট সম্মানের জায়গায় রাখি। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তাদেরও স্পষ্ট অবস্থান এবং কার্যক্রম আমরা দেখতে চাই।’

রবিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

‘রংপুর ও আওয়ামী লীগের বি টিম জাতীয় পার্টি ইস্যু’ শিরোনামে দেওয়া ওই পোস্টে সারজিস আলম মোট চারটি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন।

এক. ৩ দিন আগে রংপুরে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত অবৈধ নির্বাচনের একাধিকবারের অবৈধ মেয়র মোস্তফা আবার মেয়র পদে ফিরে আসার জন্য আওয়ামী লীগের পোষ্য বি টিমের জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে রংপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন!

দুই. আওয়ামী লীগ ও ভারতের সাথে নেগোসিয়েশন করে সাময়িক বিরোধিতার ভান ধরে বিরোধী দলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে জাতীয় পার্টি। এমনকি বিএনপি-জামায়াত যখন প্রহসনের অবৈধ নির্বাচন থেকে দূরে থেকেছে, হাজারো অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছে, তখন এই জাতীয় পার্টি বিরোধী দল সেজে আওয়ামী লীগকে সরকারি দলের বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে! সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে!

তিন. জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুরে গিয়ে আবার স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা শুরু করেছেন!

চার. অতঃপর যখন রংপুরের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য একসাথে জি এম কাদের ও জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অহিংস বিক্ষোভ মিছিল করে তখন জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা সেই বিক্ষোভ মিছিলে প্রথম হামলা চালায়! 

সারজিস আলম বলেন, ‘এরপর জি এম কাদেরের বাড়িতে একটি বাইক পোড়ানোর ঘটনা দেখা যায়। এই বাইক পোড়ানোর মব বা ভ্যান্ডালিজমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রংপুরের সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টদের খুঁজতে ৯ মাসের সর্বোচ্চ বড় অপারেশনের জন্য মাঠে নামে! অথচ যে ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনাগুলোর কারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে না খুঁজে সর্বশেষ বিষয় নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানো শুরু হয়।’

তিনি বলেন, ‘জি এম কাদেরের বাড়ির পুরনো বাইক আর সামান্য আগুন নিয়ে যাদের এত চিন্তা তারা বিগত ৯ মাসে আওয়ামী সন্ত্রাসী খুনিদের ধরতে কয়টা অভিযান চালিয়েছে? কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে? যে মোস্তফা একাধিক অবৈধ নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তার পরিবারের সদস্য ও সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে রংপুরে লুটপাট চালিয়েছে, কোটি টাকা দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছে, সিটি করপোরেশনকে ডাকাতির ক্ষেত্র বানিয়েছে সেই মেয়র মোস্তফাকে ধরতে কয় দিন অপারেশন চালানো হয়েছে?’

তিনি আরো বলেন, ‘৯ মাসে রংপুরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী দখলদারদের থেকে জনগণের ন্যায্য সম্পদ অর্থ উদ্ধারের জন্য কয়টি অভিযান চালানো হয়েছে? জাতীয় পার্টির যে সন্ত্রাসীরা অবৈধ মেয়র মোস্তফার নেতৃত্বে প্রথম ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালিয়েছে, যে জি এম কাদের এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে বৈঠক করে পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছেন, তাদের ধরতে কয়টি অভিযান চালানো হয়েছে?’

এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমরা এখনো যথেষ্ট সম্মানের জায়গায় রাখি।

তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা তাদেরই বি টিম জাতীয় পার্টি রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করলে সেই চেষ্টাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করা হবে।’

মন্তব্য

নারীকে লাথি, সেই আকাশ চৌধুরী গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
১ জুন, ২০২৫ ১৭:১৩
অনলাইন ডেস্ক
নারীকে লাথি, সেই আকাশ চৌধুরী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মসূচিতে এক নারীকে লাথি মেরে ভাইরাল হওয়া বহিষ্কৃত জামায়াতকর্মী আকাশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

আকাশ চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নেচার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। 

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, ‘আকাশ চৌধুরীকে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে আটক করেছি। গত বুধবার গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।’

এর আগে, ২৮ মে  বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাসের প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে হামলা চালায় ‘এন্টি শাহবাগ মুভমেন্ট’ নামে সদ্য গজিয়ে ওঠা একটি সংগঠন। হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। 

ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে এক ছাত্রসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে দ্রুত বিচার আইনে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হামলার পরপরই ভাইরাল হওয়া ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে ‘এন্টি শাহবাগ মুভমেন্ট’ কর্মীদের অতর্কিত হামলার পর প্রেসক্লাবের সংলগ্ন চট্টগ্রাম ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের সামনে আশ্রয় নেন গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা। সেখানে একজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা গেছে। আকাশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে নেতা-কর্মীদের পেছন যান। সেখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ একজনকে লাথি মারেন তিনি। এরপর ঘুরে আবার আরেক নারীকে লাথি মারেন। 

লাথি মারার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয় এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর জামায়াতে ইসলামী আকাশ চৌধুরীকে নিজেকে ‘কর্মী’ স্বীকার করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

নারীকে লাথি মারা সেই আকাশ ‘ঈমানী দায়িত্ব’ পালনে গিয়েছিলেন সেখানে!

অনলাইন ডেস্ক
১ জুন, ২০২৫ ১৬:৫৭
অনলাইন ডেস্ক
নারীকে লাথি মারা সেই আকাশ ‘ঈমানী দায়িত্ব’ পালনে গিয়েছিলেন সেখানে!
নারীকে লাথি মেরে আলোচনায় আসা আকাশ চৌধুরী

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এলাকায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মসূচিতে নারীকে লাথি মেরে আলোচনায় আসা আকাশ চৌধুরী এবার মুখ খুলেছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে একজন মুসলমান হিসেবে ঈমানী দায়িত্বের জায়গা থেকে শাহবাগী, বাম, ইসকন, ইসলামবিদ্বেষীদের প্রতিহত করতে তিনি সেদিন সেখানে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

শনিবার (৩১ মে) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। এতে তিনি গত বুধবারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

দীর্ঘ স্ট্যাটাসের শুরুতে তিনি লেখেন, ‘গত দু-একদিন আগে প্রেস ক্লাবের ঘটনাটিতে আমি গিয়েছিলাম শুধু একজন মুসলমান হিসেবে ঈমানী দায়িত্বের জায়গা থেকে শাহবাগী, বাম, ইসকন, ইসলামবিদ্বেষীদের প্রতিহত করতে। এখানে ইসকনকে টেনে আনার অন্যতম কারণ যারা সেদিন মিছিল করতে গিয়েছিলো অধিকাংশই ইসকনের সদস্য দুই-একজন ছাড়া। আর ইসকন সদস্যরা আমার পেছনে লেগে আছে ইসকন জঙ্গি চিন্ময়ের জামিনের প্রতিবাদে কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে মিছিল করার পর থেকেই।

‘শুরুতেই প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয় আমরা আমাদের অবস্থান ক্লিয়ার করি, আমরা বলি আমাদের তরফ থেকে ততক্ষণ উশৃঙ্খলমূলক কিছু করা হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ওরা নিজ থেকে কিছু করে এবং প্রশাসনকে অনুরোধ করি ওনাদের চলে যেতে বলেন। এটা একটা দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে রায় এসেছে এটিএম আজহারুল ইসলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত, এটার বিরুদ্ধে কথা বলা মানে আদালতকে অবমাননা করা।’

dhakapost
স্টাটাসের অংশবিশেষ

‘প্রশাসন অনেক চেষ্টা করেছে ওদের বুঝানোর জন্য কিন্তু ওরা কথার গুরুত্বই দিল না, একপর্যায়ে আমাদের থেকে প্রতিনিধিরা কথা বলার জন্য যায়, কিন্তু তারা প্রথমেই ‘আ তে আজহার তুই রাজাকার তুই রাজাকার’ এইভাবে ব্যঙ্গাত্মকমূলক স্লোগান দিয়ে আমার ভাইদের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে, এরপর থেকে শুরু হয় ঝামেলা, আমিও দৌড়ে গেলাম প্রথমে আমাকে তিন-চার জন মহিলাসহ ধরে টানা হেঁচড়া করে গায়ে হাত তুলে, অকথ্য ভাষায় আমার মাকে ধরে গালি গালাজ করে। আপনারা জানেন আমার মা মারা গেছে। আমি আমার মাকে ধরে গালি দেওয়াটাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনি। এরপর আমি আত্মরক্ষার জন্য ওদের প্রতিহত করি এবং একপর্যায়ে ওরা ওখান থেকে পালাতে শুরু করে। এরপর বাসায় আসতে না আসতেই মিডিয়ায় কাটছাঁট করে আমি মারছি ওটা দেখালো, আমাকে যে তারা প্রথমে হাত তুলেছিল সেটা দেখালো না।’

দীর্ঘ স্ট্যাটাসের শেষের দিকে তিনি লেখেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে নারীর ওপর আঘাত করা আমার ভুল ছিল। আমি ওনার নিকট ক্ষমা চাই এবং এটা নিয়ে আমি লজ্জিত। কিন্তু ওই নারীর নীতি বা আদর্শ, যে কারণে ওনারা সেখানে সমবেত হয়েছিল তা আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘৃণা করি, তাদের এই নীতি আদর্শকে আমি ঘৃণা করি। আর তা প্রতিহত করা আমার ঈমানী দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। আর আমি আমার প্রাণের সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম এবং এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল, সংগঠনের কোনো ভুল ছিল না।

dhakapost
গত বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামেনর ঘটনা।

জানা যায়, গত বুধবার (২৮ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এলাকায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির প্রতিবাদ এবং রাজশাহীতে ছাত্রজোটের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ডাকা মানববন্ধনে হামলা চালায় শাহবাগবিরোধী ঐক্য। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। এদিন একজন নারীকে লাথি মারতে দেখা যায় আকাশ চৌধুরীকে। পরবর্তীতে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আকাশ চৌধুরীর প্রকৃত নাম সিবগাতুল্লাহ। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পৌরসভা এলাকার জামায়াত নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর নেছার আহদের ছেলে। আকাশ চৌধুরী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কর্মী বলে জানায় সংগঠনটি। এর আগে আকাশ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নগরের মুরাদপুরে সুন্নিদের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ছিল। 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশ

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ জুন, ২০২৫ ১১:২৫
    অনলাইন ডেস্ক
    জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশ

    রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

    তবে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। আপিল বিভাগ প্রতীকের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

    রোববার (০১ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেশের সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দেন।

    আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।

    আদালতে জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

    এর আগে গত ১৪ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

    গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।

    প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।

    গত ১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

    এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় গত বছরের নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের আদেশ দেন। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।

    এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে গত ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত