শিরোনাম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দ্য ভয়েস অব জেকেকেএনআইইউ’ এর গ্রান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগের সবচেয়ে বড় পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা ‘The Voice of JKKNIU’–এর গ্রান্ড ফিনালে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বর্ণিল আয়োজনে সেরা বক্তার মুকুট জিতেছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশকা আলম।
এছাড়াও প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মুকিত (২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষ) এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম মেহনাজ (২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষ)।
গ্রান্ড ফিনালে মোট ১৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা এসেছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আনন্দ মোহন কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে।
বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ১৫ হাজার টাকা ক্যাশ পুরস্কার, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং ৩০ হাজার টাকার সমমূল্যের উপহার সামগ্রী।
চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রেকিট বেঙ্কিজার (বাংলাদেশ) পিএলসি–এর সিনিয়র টেরিটরি সেলস ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল রাহাত এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কাস্টমার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ফাংশনের সিনিয়র টেরিটরি ম্যানেজার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রাব্বী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যারিয়ার ক্লাবের উপদেষ্টা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি।
ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি আবুল আবছার বাপ্পি বলেন, “The Voice of JKKNIU শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি তরুণদের আত্মবিশ্বাস তৈরি, বক্তৃতা দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিজের ভেতরের সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন সফল করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে, আরও সৃজনশীলভাবে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চাই।”
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘The Voice of JKKNIU’ তরুণদের যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মপ্রকাশের চর্চা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাবি বন্ধের সিদ্ধান্তে হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই ধীরে ধীরে হল খালি করতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল থেকে লাগেজ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাময়িকভাবে হল ত্যাগের নির্দেশ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলেও এটি আবাসন সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বিশেষ করে বাইরে থাকবার সুযোগ বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যে সব শিক্ষার্থীর টিউশন বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে তারা বিপাকে পড়েছেন বলে জানান।
কবি জসীম উদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফাইয়াজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। বারবার ভূমিকম্প আমাদের মনে ভিতি জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী হল ছাড়ছি। তারা যেসব কাজ করতে চেয়ে তা ১৫ দিনে করে দেখাক এমনটাই চাচ্ছি৷
জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ঢাবি শিক্ষার্থীদের অনেকেই হল ছাড়তে চায় না। অনেকের কাছেই হল বাদে ঢাকায় থাকার কোনো জায়গা নেই। নিজেদের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ হলেও অনেকের টিউশন, চাকরি, প্রি শিডিউলড কাজ কর্মের কারণে তারা এখন হল ছাড়ার নির্দেশে উভয় সংকটে আছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই ঈদের দিনটাও হলেই থাকে। ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকায় যাদের ইচ্ছা হলে থাকবে, যাদের ইচ্ছা বাড়ি যাবে। এখানে জোড়াজুড়ির সুযোগ নেই। আর সবাই হল ছেড়ে ১৫ দিনের জন্য বাড়ি গিয়ে ফিরে এসে কি নতুন বিল্ডিং দেখবে?
তিনি আরও বলেন, হল ছাড়ার ছাড়ার জন্য কমপক্ষে ২ দিন সময় দিতে হতো। এভাবে একদিনে মধ্যে হল ছাড়া অনেকের জন্য কষ্টকর।
এমন পরিস্থিতিতে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে বিভাগীয় শহরগুলোর উদ্দেশ্যে বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
এ বিষয়ে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আজ (রোববার) বিকেল থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে বাস সার্ভিস দেওয়া শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও চাহিদার ভিত্তিতেই বাস বরাদ্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিপিএস বিভাগ ও ব্র্যাকের সেলপ-এর দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ (টিপিএস) বিভাগ ও ব্র্যাক-এর সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) এর মাঝে দ্বি-পাক্ষিক এক সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কক্ষ সংলগ্ন কনফারেন্স কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।চ
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন টিপিএস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. কামাল উদ্দীন এবং ব্র্যাক-এর সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পক্ষে স্বাক্ষর করেন উক্ত কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব।
এই চুক্তির লক্ষ্য হলো জনপ্রিয় থিয়েটার কার্যক্রমকে একাডেমিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করা এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সৃজনশীল আদান-প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক প্রভাব বিস্তার করা।
চুক্তি অনুযায়ী উভয় প্রতিষ্ঠান সৃজনশীল উদ্ভাবন, মিউচুয়াল লার্নিং, গবেষণা, থিসিস, যৌথভাবে স্ক্রিপ্ট তৈরি, ইন্টার্নশশিপ, ফিল্ড ভিজিট এবং সম্মিলিত পারফরম্যান্স উন্নয়নে একসাথে কাজ করা। এই চুক্তির মাধ্যমে ব্র্যাকের জনপ্রিয় থিয়েটার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নাট্যচর্চা আরো ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টগণ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই চুক্তি একবছরের জন্য স্বাক্ষরিত হয়। তবে ভবিষ্যতে কিছু শর্ত পরিবর্তন করে আবারও চুক্তি নবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. কামাল উদ্দীন।
চুক্তি স্বাক্ষরকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলা, সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা ও মো. আল্ জাবির, সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন তানিয়া ও মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার, প্রভাষক কৃপাময় কর ও রুদ্র সাওজাল এবং ব্র্যাক-এর সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির সমন্বয়ক পলাশ কুমার ঘোষ, ব্যবস্থাপক কল্লোল বড়ুয়া, জোনাল ম্যানেজার সাজ্জাদুজ্জামান চৌধুরী, জেলা ব্যবস্থাপক মো. নূরুজ্জামান ও এই কর্মসূচির জনপ্রিয় থিয়েটারের সিনিয়র অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান।
৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ গঠনের সিদ্ধান্ত সরকারের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্তি বাতিলসহ রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, মানসম্মত শিক্ষা, সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফল প্রকাশ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পাঠদানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অপারেশন ম্যানুয়েলও অনুমোদন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ২৩ নভেম্বর ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়। খসড়া অধ্যাদেশটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সুধীজনের কাছ থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত প্রতিটি মতামত আইনগত ও বাস্তবতার নিরীখে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং খসড়াটি পুনর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জন কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, এই বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এতে বলা হয়, অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণসহ সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগলেও, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সচেতন। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কার্যক্রমকে দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সকল অংশীজনের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। ব্যক্তিগত ধারণা বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, ৬৩ শতাংশই কোটা
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জারি করা এ নীতিমালায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী—সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যান্ট্রি (প্রবেশ) শ্রেণিতে এবং আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।
‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুযায়ী ৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং ৩১ ডিসেম্বর তারিখে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হবে।
ভর্তির তারিখ ও ফি:
কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠানের তারিখ ও সময় এবং আবেদন ফি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নির্ধারণ করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
বিদ্যালয় পছন্দক্রম যেভাবে:
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয়ে ভর্তির পছন্দক্রম দিতে পারবে।
তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম (দুটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম) সম্পাদন হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিদ্যমান অনলাইন ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেকোনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি সফটওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ক্যাচমেন্ট এরিয়া:
এবারও সরকারি বিদ্যালয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরের ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকবে।
ঢাকা মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সর্বোচ্চ তিনটি থানাকে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ হিসেবে নির্ধারণ করতে পারবেন। ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত (কোটা) রাখা হবে।
কার জন্য কত শতাংশ কোটা:
ক্যাচমেন্ট এরিয়ার জন্য ৪০ শতাংশ কোটা এবারও বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গতবারের মতো এবারও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ কোটা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। তবে এবার কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫ শতাংশ পৃথক করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যমজ ও সহোদর কোটার ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিগত বছর যমজ কোটা ছিল ৩ শতাংশ। এটি এবার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। আর সহোদর কোটা বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। আগে সহোদর কোটা ছিল ২ শতাংশ। তবে যমজ ও সহোদর কোটার জন্য এক দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তান পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন অবশ্যই বরাদ্দ রাখতে হবে।
ভর্তি কমিটি:
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ঢাকা মহানগর ভর্তি কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আবেদন-লটারির সম্ভাব্য তারিখ:
নীতিমালা অনুযায়ী—স্কুলে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, লটারি ও ভর্তির সময়সূচি ঠিক করবে মাউশি। গত ১০ নভেম্বর মাউশির এক সভায় স্কুলে ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্নে সম্ভাব্য সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে এ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৪ ডিসেম্বর ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। লটারি হওয়ার পর তাতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৭-২১ ডিসেম্বর ভর্তি হতে পারবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য