শিরোনাম
জাতীয় পর্যায়ে আবারও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এ জাতীয় পর্যায়ে আবারও রাজশাহী কলেজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গৌরব অর্জন করেছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গৌরব অর্জন করায় আনন্দ র্যালির আয়োজন করা হয়। এসময় র্যালিটি রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে জাদুঘর মোড় হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
আনন্দ র্যালি উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইব্রাহিম আলী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মোঃ ইউসুফ আলী, রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মো: সেরাজ উদ্দিন, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. শিখা সরকারসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
এসময় কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইব্রাহিম আলী বলেন, রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম কলেজ এবং এটি তার ইতিহাস ও ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে বজায় রেখেছে। যা রাজশাহী কলেজের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। আমাদের শিক্ষক, শিখন-পাঠদান পদ্ধতি, অবকাঠামো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ড বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে আমরা শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এই অর্জন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী সবার প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করার আশা ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও দীর্ঘদিনের এই ধারাবাহিকতায় এবারও দেশসেরা কলেজ হিসেবে রাজশাহী কলেজ গৌরব অর্জন করায় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীদের মাঝে আনন্দ ও উল্লাস লক্ষ্য করা যায়।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ও নোকসু নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন
শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (শাকসু) স্থগিতের প্রতিবাদে এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (নোকসু) আয়োজনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্লোগানগুলো হলো— “হারার ভয়ে খেলেনা, এই কথা তো বলেনা”, “তোমার আমার অধিকার- নকসু নকসু”, “নকসু নিয়ে টালবাহানা— চলবে না, চলবে না”, “নকসু আমার অধিকার- দিতে হবে, দিয়ে দাও”, “ হি হ্যাস এ প্লান - শাকসু করেছে ব্যান”।
নোবিপ্রবি শাখা ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল রহমান বলেন— “আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। সেই অধিকার অনুযায়ী ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি কিছু রাষ্ট্রীয় মহলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ শাকসু নির্বাচন বর্জন করছে। এর প্রতিবাদেই আমরা আজ এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি।
কিছুদিন আগে আমরা নোবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন সে বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। প্রশাসন বারবার বলছে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—ছাত্র রাজনীতি কোনো নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব তৈরি হবে না।
আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদের আমলে যারা এমপি হয়েছিল, তাদের অনেকেই আজও ছাত্র না হয়ে ব্যবসায়ী। তারা ছাত্রদের অধিকার বোঝে না। তাই আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি—দ্রুত নোবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে শিবির সভাপতি আরিফুল ইসলাম সৈকত বলেন— “দীর্ঘ ১৬ বছরের জুলুমের রাজত্বে যখন ছাত্রলীগ তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালু রেখেছে এবং অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল, ঠিক তখনই এদেশের ছাত্র সমাজ ২৪ সালের জুলাই আন্দোলন সম্পন্ন করে। সেই অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবী ছিল লেজুর ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা।
কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তীতে যে সরকার দায়িত্বে আসে তারা ছাত্র সংসদ নিয়ে নানান টালবাহানা করে। সমস্ত কার্যক্রম শেষ করার পরও একটি দলের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সে দলকে নির্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের নেতা নাকি লন্ডন থেকে এসে বলেছিলেন আই হ্যাভে প্লান। কিন্তু উনি জানতেন না আমাদের ডিসিশন অলরেডি নেয়া হয়ে গেছে। ছাত্র সংসদ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক একটা প্ল্যাটফর্ম উপহার দেবো।’
“এর ধারাবাহিকতায় যখন আমরা গত নভেম্বরের ৩০ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৩ দফা দাবির একটি স্মারকলিপি অফিসিয়ালি দিলেও তারা আমাদের কোনো অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম করে দেয়নি, এবং অফিসিয়াল কোনো জবাবও দেয়নি।” এ দাবি আদায়ে তারা অনড় থাকবেন বলেও তিনি জানান।
সাংবাদিকদের জন্য ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই এখন অপরিহার্য দায়িত্ব : উপ-উপাচার্য
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস) এবং দ্য ডিসেন্ট এর যৌথ উদ্যোগে আজ ২১ জানুয়ারি (বুধবার) ‘ফ্যাক্টচেকিং এন্ড ডিজিটাল ভেরিফিকেশন’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন রিজিওনাল মিডিয়া সাপোর্ট ফান্ডের সহযোগিতায় এই কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। সাংবাদিকতায় নীতি-নৈতিকতা ও সত্যনিষ্ঠাই সর্বোচ্চ মানদণ্ড। বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে তথ্যের সহজলভ্যতা যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় সাংবাদিকদের জন্য ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই এখন অপরিহার্য দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা ভবিষ্যৎ পেশাদার সাংবাদিক তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়। এতে করে তারা সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও সমাজসচেতন সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে। তিনি এই কর্মশালা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে খুবিসাসকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা, আর সেই বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে ওঠে সঠিক ফ্যাক্টচেকিংয়ের মাধ্যমে। বর্তমান সময়ে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের দায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে একজন আদর্শ ও নৈতিক সাংবাদিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের এখন থেকেই নিজেদের দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের চর্চা বাড়াতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন খুবিসাস’র উপদেষ্টা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহদী-আল-মুহতাসিম নিবিড়। ‘ফ্যাক্টচেকিং এন্ড ডিজিটাল ভেরিফিকেশন’ বিষয়ে আলোচনা করেন কী-নোট স্পিকার দ্য ডিসেন্ট-এর ডিজিটাল ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার হাসান আল মানজুর।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন সমিতির সভাপতি আলকামা রমিন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিরাজুল ইসলাম। এ কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যসহ খুলনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বেরোবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার ২১ জানুয়ারি দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি হেয়াত মামুূদ ভবনের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান; বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী বিশাখা বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ একটি স্বনামধন্য বিভাগ। ভবিষ্যতে বিভাগটি আরও এগিয়ে যাবে। এছাড়াও সার্বিক উন্নতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেক অগ্রগতি হলেও ল্যাবসংকটসহ কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। ল্যাবের ঘাটতি পূরণ করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য তা আরও উপকারী হবে।
আরেক শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বলেন প্রত্যাশা এই বিভাগ থেকে ভালো মানের সাংবাদিক বের হয়।তারা যেন আন্তজার্তিক পযার্য়ে সাংবাদিকতা করতে পারে।
বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, “আজকের আয়োজন ছিল খুবই সীমিত পরিসরের। আমি এই বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। যতদিন আমি এই বিভাগে থাকব, বিভাগের সুখ-দুঃখে পাশে থাকব।” তিনি আরও বলেন, “বিভাগে মিডিয়া ল্যাব থাকলেও তা এখনো চালু হয়নি। প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও অগ্রগতি নেই। আশা করি শীঘ্রই ল্যাবটি চালু হবে।”
বিভাগের ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের পর বিভাগীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান বলেন, “গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিভাগ। এখানে নানামুখী বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। অতীতের সবকিছু ভুলে বিভাগটি নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাক এটাই আমার প্রত্যাশা।”
উল্লেখ্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ২০১১ সালের ২১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৪ বছরে বিভাগটি শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।বর্তমানে নয়জন শিক্ষক ও প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিভাগটি পরিচালিত।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহ স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, যথাসময়ে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
এর আগে দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
পরে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচনের যে অনুমোদন দিয়েছিলেন তা চার সপ্তাহের জন্য হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এর ফলে আগামীকাল শাকসু নির্বাচন হবে না। চার সপ্তাহ পর যেকোন দিন শাকসু নির্বাচন হতে পারে।'
গতকাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিন শিক্ষার্থী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সবধরণের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এমতবস্থায় শাকসু নির্বাচন হতে দেওয়া আইনসংগত নয়। আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সময় ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়।
রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় শাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। প্রার্থীদের প্রচারণার সুবিধার্থে শাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ সময় ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণার সময় শেষ হওয়ার কথা। সে হিসাবে গতকাল শনিবার রাত ১০টায় প্রচারণার সময় শেষ হয়। তবে কয়েকজন প্রার্থী সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে। আজ রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণা করার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। আগামী ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য