ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

প্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখতে পারেন না? সমাধানের সহজ ৫ উপায়

অনলাইন ডেস্ক
৮ জুলাই, ২০২৫ ১৩:১
অনলাইন ডেস্ক
প্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখতে পারেন না? সমাধানের সহজ ৫ উপায়

আমাদের সবারই জীবনে এমন সময় আসে যখন আমরা অনেক কিছুই অনেক সময় মনে করতে পারি না। হয়তো এ ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে যেতেই ভুলে যাই কেন গিয়েছিলাম সেখানে। বা অনেকক্ষণ পড়ার পরেও পরীক্ষার সময় মাথা ফাঁকা হয়ে যায়। এমন হলে স্বাভাবিকভাবেই মাথায় বিভিন্ন চিন্তা আসা শুরু করে। ভুলে যাওয়ার রোগ ধরল নাকি তা নিয়েও ভাবনা আসে মনে। তবে চিন্তার কিছু নেই। আপনি একা নন। বরং, এটা খুবই স্বাভাবিক এবং সবার সঙ্গেই ঘটে কমবেশি।

বিভিন্ন গবেষণা বলছে, মানব মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি হয়নি যেন আমরা প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় মনে রাখতে পারি। আসলে, ভুলে যাওয়া একটা প্রাকৃতিক বিষয়, যা মস্তিষ্ককে বেশি কার্যকর রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক শুধু সেই তথ্য মনে রাখে যা আমাদের কাজে লাগে বা আমাদেরকে বাঁচতে সাহায্য করে। যেমন চেনা মুখ, বিপদ, রুটিন কাজ ইত্যাদি। মস্তিষ্ক মেনে চলে যে সবকিছু মনে রাখার দরকার নেই।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে- তাহলে আসলেই দরকারি তথ্য কীভাবে মনে রাখবেন? নিচে ৫টি কার্যকরী উপায় দেওয়া হলো, যা বিজ্ঞানভিত্তিক এবং সহজে প্রয়োগযোগ্য।

১. একবারে গিলতে যাবেন না, সময় নিয়ে শিখুন

জার্মান বিজ্ঞানী হারমান এববিংহাউস তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, নতুন কিছু শিখলে আমরা খুব দ্রুত তা ভুলে যাই। এর মূল কারণ আমরা সেটা বারবার সময় নিয়ে দেখি না।

পদ্ধতিটা কীভাবে কাজ করে: একই দিনে বারবার এক জিনিস পড়ার চেয়ে সপ্তাহে কয়েকদিনে ভাগ করে পড়লে সেই জিনিস বেশি মনে থাকে। যেমন- আজ পড়ুন, কাল আবার একটু দেখুন, তারপর ৩ দিন পর, তারপর ১ সপ্তাহ পর।

সহজ পরামর্শ: ছোট ছোট নোট বা কার্ড বানিয়ে সেগুলো বারবার দেখে নিন। এতে তথ্যটা দীর্ঘমেয়াদে মাথায় থাকবে।

২. যেটা শেখেন, সেটা নিজের সঙ্গে মিলিয়ে নিন

মস্তিষ্ক এমন তথ্য বেশি মনে রাখে, যেটা সে আগে থেকে কোনোভাবে চেনে বা যেটার সঙ্গে মানুষের অনুভূতির যোগ আছে।

কেন এটা কাজে দেয়: আমরা যে তথ্যের সঙ্গে আবেগ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জড়াতে পারি, মস্তিষ্কের জন্য সেটা মনে রাখা অনেক সহজ হয়।

সহজ পরামর্শ: নতুন কিছু শিখলে সেটা নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে ভাবুন বা কল্পনা করুন। যেমন ইতিহাস পড়লে ভাবুন আপনি সেই সময়ের মানুষ ছিলেন।

৩. ভালো ঘুম মানেই ভালো স্মৃতি

ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্য না, এটা নতুন করে শেখা জিনিস মনে রাখার জন্যও জরুরি। গভীর ঘুমের সময়েই আমাদের মস্তিষ্ক শিখা তথ্যকে দীর্ঘমেয়াদে জমা করতে থাকে।

বিজ্ঞানের তথ্য: যেসব মানুষ দিনে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমায়, তারা স্মৃতির কাজে অনেক ভালো করে।

সহজ পরামর্শ: নতুন কিছু শেখার পর অন্তত এক রাত ভালো মত ঘুম দিন। এমনকি ৯০ মিনিট ঘুমও অনেক কাজে দেয় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গবেষণা।

৪. নিজেই নিজের পরীক্ষা নিন, শুধু পড়লেই হবে না

বারবার পড়লে মনে হচ্ছে শেখা হচ্ছে, আসলে তা না। তথ্য মনে রাখতে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে নিজে নিজে সেটা মনে করার চেষ্টা করা।

কেন এটা কার্যকর: প্রশ্ন করে বা নিজে বলে বলে শেখা হলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে যে এটা দরকারি তথ্য। তখন সে সেটা জমা করে দ্রুত।

সহজ পরামর্শ: পড়া শেষ করার পর বই বন্ধ করে ভাবুন আপনি কী শিখলেন। মুখে বলুন বা নিজের ভাষায় লিখে ফেলুন। দেখবেন মস্তিষ্ক দ্রুত আপনাকে মনে রাখতে সাহায্য করছে।

৫। হাতে লিখলে স্মৃতি থাকে বেশি

কম্পিউটারে টাইপ করার সময় কাজ দ্রুত হয়, কিন্তু হাতে লেখার সময় মস্তিষ্ক বেশি সচল থাকে এবং শেখেও দ্রুত।

গবেষণার ফল: হাতে লেখা নোট টাইপ করা নোটের চেয়ে বেশি কার্যকর। এতে শুধু তথ্য নয়, তার মানে বুঝতেও সাহায্য হয় মস্তিষ্কের।

সহজ পরামর্শ: একটা খাতা রাখুন যেখানে নতুন শেখা জিনিসগুলো নিজের ভাষায় লিখবেন। চাইলে ছবি, মানচিত্র বা ডায়াগ্রামও আঁকতে পারেন নিজের সুবিধা মত।

মানব মস্তিষ্কের জন্য সবকিছু মনে রাখা সম্ভব না- এটাই বাস্তবতা। আমাদের মস্তিষ্ক কোন ক্যামেরা না। এটা একটা লাইব্রেরিয়ান। যা দরকার সেটাই রেখে দেয় সে। কিন্তু সঠিক উপায়ে চর্চা করলে আপনি মস্তিষ্ককে সাহায্য করতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মনে রাখতে। মনে রাখবেন, সব কিছু মনে রাখতে হবে না- শুধু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো মনে রাখাটাই যথেষ্ট।

তথ্যসূত্র: সিএনএন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নতুন ফিচার নিয়ে এলো হোয়াটসঅ্যাপ

    অনলাইন ডেস্ক
    ৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১২
    অনলাইন ডেস্ক
    নতুন ফিচার নিয়ে এলো হোয়াটসঅ্যাপ

    মেটার মালিকানাধীন বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। বার্তা, ছবি কিংবা ভিডিও আদান-প্রদানে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করেন বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মটি। বিল্ড কোয়ালিটি, সহজ ব্যবহার পদ্ধতি আর নিরাপদ হওয়ায় মেটার এই অ্যাপটি গ্রাহকদের বেশি পছন্দ।

    হোয়াটসঅ্যাপে অনেক দিন আগেই যুক্ত হয়েছে স্ট্যাটাস দেওয়ার সুবিধা। স্ট্যাটাসে যখন যা খুশি শেয়ার করা যাচ্ছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো। অন্যের স্ট্যাটাসে রিঅ্যাক্টও দেওয়া যায়। এবার আরেকটি নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মে। অন্যের স্ট্যাটাস শেয়ার করার অপশন চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

    ধরুন, আপনার কন্টাক্ট লিস্টে থাকা কেউ একজন একটি ভিডিও, গান বা লেখা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আপনার তা খুব পছন্দ হয়েছে। আপনি তা আপনার অ্যাকাউন্টে শেয়ার দিতে পারবেন। একইভাবে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসও অন্যরা শেয়ার করতে পারবেন। কিন্তু তার জন্য স্ট্যাটাস বা স্টোরি দেওয়ার সময় ‘অ্যালাউ শেয়ারিং’ অপশনটি অন করে দিতে হবে। অন্যথায় মিলবে না শেয়ারের অপশন।

    ফেসবুকে শেয়ারের ক্ষেত্রে মূল পোস্টটি যার করা, তার নাম দেখা যায়। নিশ্চয়ই ভাবছেন, এক্ষেত্রেও তা হবে কি না। উত্তর হচ্ছে, না। প্রাইভেসি পলিসি অনুযায়ী, মূল পোস্টটি কার করা তা দেখা যাবে না শেয়ারের ক্ষেত্রে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      সৌরজগতে শনাক্ত হলো রহস্যময় ধূমকেতু

      অনলাইন ডেস্ক
      ৪ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪০
      অনলাইন ডেস্ক
      সৌরজগতে শনাক্ত হলো রহস্যময় ধূমকেতু
      সম্ভাব্য ইন্টারস্টেলার ধূমকেতু ৩আই/ অ্যাটলাস। ছবি : সংগৃহীত

      সৌরজগতে রয়েছে হাজার হাজার গ্রহ-নক্ষত্র। তারা নিজেদের আপন গতিতে চলাফেরা করছে। এর মধ্যে কোনো কোনো গ্রহের সন্ধান পাওয়া যায় আবার কোনোটা অজানাই থেকে যায়। তবে এবার আমাদের সৌরজগতের বাইরে মিলেছে অজানা ধুমকেতু।

      বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি হতে পারে আমাদের সৌরজগতের বাইরের তৃতীয় আগন্তুক বস্তু। যার নাম ‘৩আই/অ্যাটলাস’। এটি একটি সম্ভাব্য ইন্টারস্টেলার ধূমকেতু, যা প্রথম শনাক্ত করা হয় চিলির রিও হার্টাডো শহরে স্থাপিত অ্যাটলাস টেলিস্কোপের মাধ্যমে।

      নাসা জানিয়েছে, বস্তুটি প্রথম পর্যবেক্ষণে আসে ১৪ জুন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ২ জুলাই তা প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই জ্যোতির্বিদরা এর কক্ষপথ, গতি ও উৎস নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত। বস্তুটি বর্তমানে সূর্য থেকে প্রায় ৪১৬ মিলিয়ন মাইল দূরে এবং ধনু নক্ষত্রপুঞ্জের দিক থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ কিমি গতিতে ছুটে আসছে।

      এর কক্ষপথ অত্যন্ত বাঁকা ও খোলা প্রকৃতির (হাইপারবোলিক), যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে এটি সম্ভবত আমাদের সৌরজগতের বাইরের এক আগন্তুক। এর আগে মাত্র দুটি ইন্টারস্টেলার বস্তুকে শনাক্ত করা গিয়েছিল—২০১৭ সালের ‘উমুয়ামুয়া’ এবং ২০১৯ সালের ‘২আই/বরিসভ’।

      ব্রিটেনের সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ ড. মার্ক নরিস বলেন, ‘যদি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়, এটি হবে আমাদের শনাক্ত করা তৃতীয় ইন্টারস্টেলার বস্তু। এর মানে, গ্যালাক্সিতে এমন ‘ভ্রমণকারী’ বস্তুর সংখ্যা হয়তো আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি।’

      প্রথমে বস্তুটির নাম ছিল আ১১পিএল৩জি, পরে সেটির মধ্যে ধূমকেতুর মতো বৈশিষ্ট্য দেখা গেলে এটি সি/২০২৫ এন১ (অ্যাটলাস) নামেও পরিচিত হয়। এর একটি ধোঁয়াটে আবরণ এবং একটি ছোট লেজ রয়েছে, যা সাধারণত ধূমকেতুর বৈশিষ্ট্য।

      বস্তুটির আকার হতে পারে ২০ কিমি পর্যন্ত, যা সেই মহাকাশীয় শিলাটির চেয়েও বড়, যেটি পৃথিবীতে ডাইনোসরদের বিলুপ্তির কারণ হয়েছিল। তবে নাসা আশ্বস্ত করেছে, এটি পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি নয়। বস্তুটি পৃথিবী থেকে কমপক্ষে ১.৬ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মাইল) দূরত্ব বজায় রেখেই চলবে।

      এডিনবরার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কলিন স্নডগ্রাস বলেন, বস্তুটিকে বড় মনে হলেও, সেটির চারপাশে থাকা ধূলিকণা ও গ্যাসের কারণে আলোর প্রতিফলন বেশি হতে পারে। আসল বস্তুটি হয়তো আরও ছোট।

      ৩০ অক্টোবর নাগাদ এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি যাবে। তখন সেটি মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথের ভেতর দিয়ে চলবে এবং তারপর আবার মহাশূন্যে হারিয়ে যাবে।

      রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিদ জেক ফস্টার বলেন, `বর্তমানে এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়, তবে ২০২৫ সালের শেষ বা ২০২৬ সালের শুরুতে মাঝারি মানের টেলিস্কোপ দিয়েই এটি দেখা যাবে।'

      যারা অপেক্ষা করতে চান না, তাদের জন্য ভার্চুয়াল টেলেস্কপ প্রোজেক্ট এই ধূমকেতুটিকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে ইউটিউবে দেখানো হয়েছে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাত ১১টায় (যুক্তরাজ্য সময়) ।

      বিশ্বের বিজ্ঞানীদের কাছে এই বস্তুটি এখন গবেষণার এক অনন্য সুযোগ। এবং জ্যোতির্বিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শুধু একটি ধূমকেতু নয় বরং বহির্জগতের রহস্য উন্মোচনের এক সম্ভাব্য চাবিকাঠি।

      তথ্যসূত্র : নাসা, বিবিসি, রয়াল ওবসারভেটরি গ্রিনউয়িচ

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামের বিকল্প আনছে রাশিয়া

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৫ জুন, ২০২৫ ১৮:২
        অনলাইন ডেস্ক
        হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামের বিকল্প আনছে রাশিয়া

        রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার একটি নতুন আইন স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে সরকার-সমর্থিত একটি মেসেজিং অ্যাপ তৈরি করা হবে। এই অ্যাপ সরকারি সেবার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো বিদেশি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হচ্ছে।

        মঙ্গলবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে সামা টিভি।

        রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই তথাকথিত ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজস্ব প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে জোর দিয়ে আসছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের পর অনেক পশ্চিমা প্রযুক্তি কোম্পানি রাশিয়া থেকে সরে যাওয়ায়, নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা এখন মস্কোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

        রুশ আইনপ্রণেতারা দাবি করছেন, নতুন রাষ্ট্রীয় অ্যাপটিতে এমন সব ফিচার থাকবে যা টেলিগ্রাম কিংবা মেটা প্ল্যাটফর্মসের হোয়াটসঅ্যাপে নেই। তবে সমালোচকদের মতে, সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এমন একটি অ্যাপ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য হুমকি হতে পারে।

        রাশিয়ার ডিজিটাল অধিকার সংস্থা ইন্টারনেট প্রোটেকশন সোসাইটির পরিচালক মিখাইল ক্লিমারেভ বলেছেন, রাশিয়া হয়তো হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দিতে পারে, যাতে মানুষকে নতুন রাষ্ট্রীয় অ্যাপে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা যায়।

        এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হাউসের সব কর্মীদের পাঠানো এক স্মারকে বলা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা দপ্তর হোয়াটসঅ্যাপকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, কারণ এটি কীভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য রক্ষা করে সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই, ডেটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এনক্রিপশন নেই এবং এর ব্যবহারে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকতে পারে।

        স্মারকে হোয়াটসঅ্যাপের পরিবর্তে মাইক্রোসফটের টিমস, অ্যামাজনের উইকার, সিগনাল, অ্যাপলের আইমেসেজ এবং ফেসটাইম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

        মেটা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, হোয়াটসঅ্যাপ অন্যান্য অনুমোদিত অ্যাপগুলোর তুলনায় অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

        চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ইসরাইলি স্পাইওয়্যার কোম্পানি প্যারাগন সলিউশনস তাদের বহু ব্যবহারকারীকে, যার মধ্যে সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সদস্যরাও রয়েছেন, নজরদারির জন্য টার্গেট করেছে।

        নতুন রাষ্ট্রীয় মেসেজিং অ্যাপটি কবে নাগাদ চালু হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই এটিকে রাশিয়ার ডিজিটাল নজরদারির আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখছেন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          যাত্রা শুরু করল ট্রাম্প মোবাইল, বাজারে আসছে সোনালি রঙের ‘ট্রাম্প টি১ ফোন’

          অনলাইন ডেস্ক
          ১৭ জুন, ২০২৫ ১৮:৫১
          অনলাইন ডেস্ক
          যাত্রা শুরু করল ট্রাম্প মোবাইল, বাজারে আসছে সোনালি রঙের ‘ট্রাম্প টি১ ফোন’

          মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ফোন সেবা চালু করল ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন নতুন ব্র্যান্ড—ট্রাম্প মোবাইল (Trump Mobile)। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, এটি মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (MVNO) হিসেবে কাজ করবে এবং AT&T, Verizon এবং T-Mobile–এর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিষেবা দেবে।

          ‘The 47 Plan’—ট্রাম্প মোবাইলের ব্যতিক্রমী অফার

          ট্রাম্প মোবাইলের মূল প্যাকেজটির নাম ‘The 47 Plan’, যার মাসিক মূল্য ৪৭.৪৫ ডলার। এই দামের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা—ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং বর্তমানে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট।

           এই প্ল্যানে থাকছে—

          •  আনলিমিটেড কল, টেক্সট ও ডেটা
          • ২৪/৭ রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স (Drive America-এর মাধ্যমে)
          • টেলিহেলথ পরিষেবা (ভার্চুয়াল চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও প্রেসক্রিপশনের হোম ডেলিভারি)
          • ১০০টির বেশি দেশে বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক কলিং
          • চুক্তিবিহীন (no contract) ও ক্রেডিট চেক ছাড়া সংযোগ সুবিধা
          • ‘Complete Device Protection’ সুবিধা (যার বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট)
          • বাজারে আসছে সোনালি রঙের ট্রাম্প ফোন: ‘টি১ ফোন’

          ট্রাম্প মোবাইলের সঙ্গে একইসাথে বাজারে আসছে একটি এক্সক্লুসিভ স্মার্টফোন Trump T1 Phone, যার দাম ধরা হয়েছে ৪৯৯ ডলার।

          এই ফোনটি আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে আসতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। ফোনটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হল:

          • ৬.৭৮ ইঞ্চি AMOLED ডিসপ্লে (১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট)
          • ৫০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা
          • ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
          • ৫,০০০ mAh ব্যাটারি (২০W ফাস্ট চার্জিং)
          • ১২ জিবি RAM, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ (এক্সপ্যান্ডেবল)
          • অ্যান্ড্রয়েড (অপারেটিং সিস্টেম) ১৫
          • ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
          • তবে ফোনটির চিপসেট বা প্রসেসরের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করেনি ট্রাম্প মোবাইল।

          এখনই প্রি-অর্ডার ও সংযোগ পরিবর্তনের সুযোগ

          ইচ্ছুক ব্যবহারকারীরা এখনই ট্রাম্প মোবাইলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফোনটি প্রি-অর্ডার করতে পারবেন। একইসঙ্গে, নিজের পুরনো ফোন ব্যবহার করেও এই নেটওয়ার্কে স্যুইচ করার সুযোগ থাকছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৪ ঘণ্টা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাস্টমার সার্ভিস দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে।

          বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এই উদ্যোগ মার্কিন বাজারে রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ‘ট্রাম্প মোবাইল’ আসলে কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে।

          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত