শিরোনাম
এইচএসসি পরিক্ষার্থী সুহিনের আত্মহত্যা, নেপথ্যে মানসিক চাপ
রাজধানীর পীরেরবাগ এলাকায় সোহানুজ্জামান সুহিন নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি সরকারি বাtঙলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র (রোল নম্বর ১০১৮৪) এবং আসন্ন এইচএসসি-২০২৫ ব্যাচের পরিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুহিন মিরপুর পীরেরবাগ ঝিলপাড় এলাকার একটি বাসায় ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তার পিতার নাম নুর আলম এবং মাতার নাম শামসুন্নাহার লাভলী।
নিহতের চাচা জানান, “আগামী ২৬ জুন শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সুহিন। তবে সম্প্রতি সে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায় সময় মোবাইল গেমে মগ্ন থাকত। এ নিয়ে বাবা নুর আলম তাকে অনেক বকাবকি করেন। চাচার ধারণা, পারিবারিক এ মানসিক চাপে পড়েই সুহিন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।”
সুহিনের সহপাঠী এবং রুমমেট বর্ষা বলেন, “আমরা শুরু থেকেই একসাথে আছি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পর আমি আজকে আসলাম। এসেই শুনি ও আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু বলতে পারব না তবে পড়াশুনা নিয়ে ওর বাবা ওরে অনেক বকাঝকা এবং গালিগালাজ করেছে। সে এ বিষয়টি নিয়ে ও অনেক মানসিক চাপে ছিলো।”
স্হানীয় প্রতিবেশীরাও জানান, সুহিন স্বভাবতই শান্ত প্রকৃতির ছিল, তবে সম্প্রতি সে কিছুটা গুটিয়ে গিয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার বলেন, “দুপুরের দিকে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাই। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে না।”
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহপাঠীদের মধ্যেও। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আত্মহত্যার খবর শেয়ার করে শোক প্রকাশ করছেন।
মানসিক চাপ, পারিবারিক বিরোধ এবং কিশোরদের মোবাইল আসক্তির মত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এই ঘটনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত-২১৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলো রাজশাহী কলেজ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশসেরা রাজশাহী কলেজের গৌরবময় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২১৫ জন পরিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে রাজশাহী কলেজ।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুর ১২ টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ২১৫ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ন্যায়ের পথে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার। রাজশাহী কলেজ শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, একজন ভালো মানুষ তৈরির কারিগর। পাশাপাশি ২০২৫ সালের পরীক্ষার্থীদের এই অর্জন পরবর্তীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এছাড়াও এ সময় তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি করে বলেন, রাজশাহী কলেজ আমাদের যে ভিত্তি দিয়েছে, এটাই আমাদের এই সাফল্যে সহায়ক হয়েছে। এই সংবর্ধনা আমাদের ভবিষ্যতের পথচলায় অনুপ্রেরণা যোগাবে। কেউ কেউ আবেগঘন কণ্ঠে জানান, এই স্বপ্নপূরণের পথে রাজশাহী কলেজ ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এ.কে.এম. আসাদ-উজ-জামান বলেন, এই কৃতিত্ব আমার একার নয় আমার পরিবার, শিক্ষক এবং রাজশাহী কলেজের সম্মিলিত অবদান। কলেজ আমাদের যে ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে, সেটাই আজকের এই সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ সেরাজ উদ্দীন, অনুষ্ঠান কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ মাহবুব আলম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শিখা সরকার সহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষার্থীরা ।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ ভাগে কৃতি শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন। উৎসবমুখর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সকলের অংশগ্রহণ ছিল গর্ব, প্রেরণা ও ভালোবাসার
এক অপূর্ব সম্মিলন।
শেরপুরের এক কলেজ থেকেই ২ শতাধিক শিক্ষার্থী চান্স পেলেন মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে
২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে উজ্জ্বল সাফল্য দেখিয়েছে শেরপুর সরকারি কলেজ। এ বছর কলেজটির দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় পর্যায়ের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট এবং বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য গুণগতমানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।
সাফল্য অর্জনে শিক্ষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টা, নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের ফল বলে জানিয়েছেন কলেজ সংশ্লিষ্টরা। কলেজের এই সাফল্যে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামছুল হুদা চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বই আমাদের বড় পাওয়া। তারা যদি নিয়মিত ক্লাস করে তাহলে এডমিশনের প্রস্তুতি অনেকটায় সহজ হয়।
এ বিষয়ে শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রউফ বলেন, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মেডিকেল কলেজ, বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) ২ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় শেরপুর সরকারি কলেজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করি।
ঈদকে সামনে রেখে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা
সরকারি বাঙলা কলেজের চিরচেনা প্রাঙ্গণ এখন অনেকটাই নির্জন। শ্রেণিকক্ষ বন্ধ, ছাতিমতলায় নেই ভিড়, লাইব্রেরি ঘরেও নেই পাঠকের আনাগোনা। ইলশে গুড়ি বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় ভীড় জমাচ্ছে না কেউ বাসস্যান্ডেও।
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সরকারি বাঙলা কলেজে টানা ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল ৩ জুন (মঙ্গলবার) থেকে ১৪ জুন (শনিবার) পর্যন্ত এই ছুটি চলবে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আজ থেকেই। ইতোমধ্যে কলেজ প্রশাসন কর্তৃক ইস্যুকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে ছুটির খবর জানানো হয়েছে।
শুধু সরকারি বাঙলা কলেজ নয়, একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজেও। ইতোমধ্যেই কলেজগুলো পৃথকভাবে ছুটির নোটিশ প্রকাশ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী এ ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটির মধ্যে সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ঈদের ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ছুটিকালীন সময়ে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি সাধারণ ছুটির দিন ব্যাতীতো চলমান থাকবে প্রশাসনিক কার্যক্রম।
ছুটির খবরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে। ক্লাস ও পরীক্ষার চাপের মধ্যে এই দীর্ঘ ছুটি তাদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক বিরতি হয়ে এসেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সারা বছরের ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ খুব কমই আসে।
সরকারি বাঙলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, “সারা বছর ক্লাস আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপে জীবন হয়ে উঠে যান্ত্রিক। এত দিনের ছুটি আমাদের মানসিকভাবে রিফ্রেশ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ খুবই দরকার ছিল।”
সাত কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের ছুটি শেষে আগামী ১৫ জুন (রবিবার) থেকে যথারীতি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে।
শিক্ষার্থীরাও ফিরতে শুরু করেছেন বাড়ির পথে। কেউ ফিরছেন ট্রেনে, কেউবা লঞ্চে বা বাসে। কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে শহরেরই ঈদ কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বাঙলা কলেজ
উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহী কলেজে ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (৩১ মে) সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দেশের ১৩৭টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় দেশ সেরা রাজশাহী কলেজেও পরীক্ষাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরীক্ষা আয়োজন কে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ছিল নজরকাড়া। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ, কক্ষ বণ্টন, প্রশ্নপত্র বিতরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছুই ছিল সুপরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশে বের হতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং তা সময়মতো প্রকাশিত হবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীরা জানান এমন সুশৃঙ্খল পরীক্ষার পরিবেশ তারা আগে দেখেননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা পরীক্ষার্থী মাহমুদা পারভীন বলেন, স্টেশন থেকে কলেজ পর্যন্ত ছাত্রসংগঠনগুলোর বাইক সার্ভিস সত্যিই অনেক উপকারে এসেছে। তারা পথনির্দেশনা দিচ্ছিল এবং সহযোগিতামূলক আচরণ করছিল।
বগুড়া থেকে আসা পরীক্ষার্থী তানভীর হাসান জানালেন, কলেজে প্রবেশের পর স্টলে গিয়ে আমরা পরীক্ষার হলে যাওয়ার দিকনির্দেশনা পেয়েছি সাথে পানি ও কলমের ব্যবস্থাও ছিল। এতে মানসিক চাপ কমে গেছে।
আরও পড়ুন
পাবনার শিক্ষার্থী সাবরিনা হক বলেন, ইসলামী ছাত্রী সংস্থা ও অন্যান্য সংগঠনের স্টলে গিয়ে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। মনে হয়েছে যেন পরিবারের কেউ পাশে আছে।
আরেক পরীক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ বলেন, পরীক্ষা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না। প্রশ্নপত্র ছিল মোটামুটি সহজ। আশা করছি রাজশাহী কলেজেই ভর্তি হতে পারবো।
পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। এর মধ্যে ছিল রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারা কলেজ চত্বরে একাধিক সেবামূলক স্টল স্থাপন করেন। এর মধ্যে ছিলো পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি পানি, কলম, আসন খোঁজার সহায়তা, বাইক সার্ভিস ও তথ্যকেন্দ্রসহ নানা উদ্যোগ।
এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে অভিভাবকদের কাছেও। নাটোর থেকে আসা মো. আজিজুল হক বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বসার ব্যবস্থা ছিল, তাতে আমরা অভিভাবকরা পরীক্ষার সময়টা স্বস্তিতে কাটাতে পেরেছি এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শাহনাজ বেগম জানান, আমি মেয়ে নিয়ে এসেছি। ওদের একজন সদস্য আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এমন সহযোগিতা আর কোথাও পাইনি। রাজশাহীর বাইরের অভিভাবক আব্দুল কাদের বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ছেলেরা শৃঙ্খলভাবে কাজ করছিল। তারা আমাদের পানি দিয়েছে, বসার জায়গা দেখিয়েছে। এটা শিক্ষাঙ্গনের ইতিবাচক দিক রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা।
রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির জানান, এই ধরনের সময়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি নয়, মানবিক সেবার জায়গা থেকে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চেষ্টা করেছি, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়।
কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, আমরা পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে কর্তব্য মনে করি। তাদের যেকোনো সহযোগিতায় আমরা সবসময় প্রস্তুত ছিলাম। এটা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।
উল্লেখ্য, এ বছর রাজশাহী কলেজে ২৪ টি বিভাগের ৪,২৪০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ১৫,৮৫৭ জন পরিক্ষার্থী।
এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৮৮০টি আসনের বিপরীতে ৮,৮৪২ জন, মানবিক বিভাগে ২,৪৫৫টি আসনের বিপরীতে ৫,৬৯৫ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯০৫টি আসনের
বিপরীতে ১,৩২০ জন পরিক্ষার্থী।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য