শিরোনাম
ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু, নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছে নগরবাসী
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়বেন অধিকাংশ মানুষ। এরই মধ্যে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে নগরবাসী। যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে কাটাতে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার (৩১ মে) সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ১২টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে।
এ সময় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই স্টেশনে আসতে শুরু করে যাত্রীরা। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এদিকে টিকিটবিহীন কোনো যাত্রীকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
স্টেশনে আসা যাত্রীরা জানান, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী পরিবারের সদস্য, ঈদের আনন্দ ভাগ করতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সকল চেষ্টাই আমরা করেছি। প্রত্যেকটি ট্রেন ঢাকায় আনা হয়েছে গত রাতের মধ্যে। এখন ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষে আজ শনিবার (৩১ মে) থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ ট্রেনযাত্রা। এ সময় ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা ও শিডিউল বিপর্যয় নিরসনে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মধ্যে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করে যাত্রীসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা রক্ষার জন্য ডিভিশনাল ও জোনাল কন্ট্রোলে আলাদা আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করে কর্মকর্তাদের ইমার্জেন্সি ডিউটি দেয়া হবে।
ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের তদারকির মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও ট্রেন শিডিউল অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে রেলপথ প্যাট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
এতে আরও বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা পূরণের জন্য পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ২৯টি এমজি ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ থেকে ১৫টি বিজি কোচসহ সর্বমোট ৪৪টি কোচ যাত্রীবাহী সার্ভিসে যুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে মোট ২৭টি (পূর্বাঞ্চলে এমজি ১৮টি ও পশ্চিমাঞ্চলে বিজি ৯টি) লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী ট্রেনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।
আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস
বিকল্প খাদ্য ফসল উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ও পুষ্টিকর ফসল চাষে তামাক চাষিদের উৎসাহিত করতে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গ্রো ফুড, নট টোব্যাকো’।
তামাক উৎপাদনে কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচনও এবারের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ‘তামাক নয়, খাদ্য ফলান’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) প্রতিবছরের মত এবারও যথাযথ গুরুত্বের সাথে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ লক্ষ্যে আজ সকাল ৮ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়য়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
তামাক চাষ কৃষকের স্বাস্থ্য, মাটির স্বাস্থ্য এবং সার্বিকভাবে গোটা জনস্বাস্থ্য ও পৃথিবীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক প্রতিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য সংকট সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে তামাক। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান খাদ্য সংকটের পেছনে সংঘাত-যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের পাশাপাশি তামাক চাষের একটি প্রভাব রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর ১২৫টিরও বেশি দেশের প্রায় ৪ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয় এবং শীর্ষ তামাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ভুক্ত দেশ। অন্যদিকে পৃথিবীব্যাপী উৎকৃষ্ট মানের জমি ক্রমবর্ধমানহারে তামাকচাষে ব্যবহৃত হওয়ায় খাদ্য ফসলের ভূমি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এসব জমি খাদ্যফসল ফলানোর কাজে ব্যবহার করা গেলে লক্ষ লক্ষ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ খুবই কম, মাত্র ৩ কোটি ৭৬ লক্ষ ৭ হাজার একর। অথচ তামাক চাষে ব্যবহৃত মোট জমির পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বিশ্বের মোট তামাকের ১.৩ শতাংশই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। তামাকচাষের কারণে খাদ্য ফসলের জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশে রবি মৌসুমের প্রধান খাদ্য ফসলগুলোর মধ্যে বোরো, গম এবং আলু অন্যতম এবং এ মৌসুমেই তামাক চাষ হয়ে থাকে।
অন্য দিকে বাংলাদেশে তামাকজনিত অসুস্থতায় প্রতি বছর ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দেশে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণের একটি তামাক।
তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। তামাকের এসব ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করেই তামাক নিয়ন্ত্রণকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের অন্তর্ভুক্ত (টার্গেট ৩এ) করা হয়েছে। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তামাকের সরবরাহ এবং চাহিদা কমিয়ে আনাই হতে পারে তামাকের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার সঠিক উপায়।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস প্রতি বছর ৩১ মে তারিখে বিশ্বজুড়ে পালন করা হয়। ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা ধরে তামাক সেবনের সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে দিবসটি পালন শুরু হয়। এছাড়াও দিবসটির উদ্দেশ্য তামাক ব্যবহারের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করানো যা বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচিত এবং যার মধ্যে ধূমপানের পরোক্ষ ধোঁয়ার প্রভাবের কারণে প্রায় ৬ লক্ষ অ-ধূমপায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ১৯৮৭ সালে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস চালু করে।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা পরিচালিত আটটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য প্রচারাভিযানের মধ্যে একটি, অন্যান্য দিবসগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, বিশ্ব টিকা সপ্তাহ, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস এবং বিশ্ব এইডস দিবস।
পৃথিবীকে রক্ষায় তরুণদের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান ড. ইউনূসের
বর্তমান সভ্যতার ধারায় পৃথিবী টিকে থাকতে পারবে না উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তরুণদের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ শুক্রবার টোকিওর সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতাকালে বলেন, ‘আমরা যে সভ্যতা তৈরি করছি, তা একটি আত্মবিধ্বংসী সভ্যতা, যা পৃথিবীকে ধ্বংস করবে।’
ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান সভ্যতার কাঠামোর মধ্যে মানুষ টিকে থাকতে পারবে না, কারণ বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ধ্বংস অব্যাহত আছে।
তিনি তাঁর ‘থ্রি জিরো থিওরি’ বা তিন শূন্য তত্ত্ব— শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সবাই কেবল তাদের মুনাফা সর্বাধিক করতে চাচ্ছে।
বিশ্বের সম্পদের সিংহভাগ এখন খুব অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত, যাকে তিনি এক অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বেকারত্বের সমস্যা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আগত চ্যালেঞ্জগুলোর দিকেও আলোকপাত করেন।
‘থ্রি জিরো ক্লাব’ সম্পর্কে তিনি বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে একটি থ্রি জিরো ক্লাব গঠন করতে পারে, যেখানে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে যে তারা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করবে না।
তরুণ প্রজন্মকে নতুন এক বিশ্ব গড়তে সৃজনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে।
মানুষের সহজাত উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন: ‘যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই নও...প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই সৃজনশীলতা আছে।’
তিনি উদ্যোক্তা তৈরি করতে সামাজিক ব্যবসায় ক্লাব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একটি নতুন পৃথিবী কল্পনা করো, কারণ কল্পনা তোমাকে নিজেকে উন্মুক্ত করার ক্ষমতা দেয়।’
ড. ইউনূস অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের জানান কীভাবে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক থাকাকালে পাশের একটি ছোট গ্রামে ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে সোকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন।
পৃথিবীকে রক্ষায় তরুণদের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান ড. ইউনূসের
বর্তমান সভ্যতার ধারায় পৃথিবী টিকে থাকতে পারবে না উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তরুণদের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ শুক্রবার টোকিওর সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতাকালে বলেন, ‘আমরা যে সভ্যতা তৈরি করছি, তা একটি আত্মবিধ্বংসী সভ্যতা, যা পৃথিবীকে ধ্বংস করবে।’
ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান সভ্যতার কাঠামোর মধ্যে মানুষ টিকে থাকতে পারবে না, কারণ বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ধ্বংস অব্যাহত আছে।
তিনি তাঁর ‘থ্রি জিরো থিওরি’ বা তিন শূন্য তত্ত্ব— শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সবাই কেবল তাদের মুনাফা সর্বাধিক করতে চাচ্ছে।
বিশ্বের সম্পদের সিংহভাগ এখন খুব অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত, যাকে তিনি এক অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বেকারত্বের সমস্যা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আগত চ্যালেঞ্জগুলোর দিকেও আলোকপাত করেন।
‘থ্রি জিরো ক্লাব’ সম্পর্কে তিনি বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে একটি থ্রি জিরো ক্লাব গঠন করতে পারে, যেখানে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে যে তারা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করবে না।
তরুণ প্রজন্মকে নতুন এক বিশ্ব গড়তে সৃজনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে।
মানুষের সহজাত উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন: ‘যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই নও...প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই সৃজনশীলতা আছে।’
তিনি উদ্যোক্তা তৈরি করতে সামাজিক ব্যবসায় ক্লাব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একটি নতুন পৃথিবী কল্পনা করো, কারণ কল্পনা তোমাকে নিজেকে উন্মুক্ত করার ক্ষমতা দেয়।’
ড. ইউনূস অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের জানান কীভাবে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক থাকাকালে পাশের একটি ছোট গ্রামে ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে সোকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন।
মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসির প্রতিবেদন
হট সিটে ড. ইউনূস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি–সব মিলিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। সেনাবাহিনী, বিএনপি ও ব্যবসায়ীদের আগাম নির্বাচনের দাবি ইউনূসের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলছে। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে।
যদিও সমঝোতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসিতে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছেন মাইকেল কুগলম্যান। তিনি ফরেইন পলিসির সাপ্তাহিক সাউথ এশিয়া ব্রিফে লেখেন এবং প্রায় দুই দশক ধরে এই অঞ্চল নিয়ে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন।
প্রতিবেদনটিতে কুগলম্যান বলেন, গত বছরের আগস্টে ব্যাপক গণআন্দোলনের চাপে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর থেকে প্রায় ১০ মাস ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস।
শুরুর দিন থেকেই ইউনূসের কাজ ছিল কঠিন। দীর্ঘদিনের সরকারি দমন-পীড়নের পর বাংলাদেশে পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় উদগ্রীব জনগণের উচ্চ আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাঁকে কাজ শুরু করতে হয়। তিনি এই সময়ে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাঁর জন্য ব্যাপক শ্রদ্ধা রয়েছে।
কিন্তু এখন চাপ বাড়ছে, এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে উল্লেখ করে কুগলম্যান লিখেছেন, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বাংলাদেশি জনগণ ক্রমাগত অধৈর্য হয়ে উঠছে, যার কোনো গণভিত্তি নেই, যা এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেনি এবং দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব সত্ত্বেও ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে চলছে। এই সরকার বলেছে, ২০২৬ সালের মধ্যভাগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ একের পর এক খারাপ খবরে বিপর্যস্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করোনা মহামারির পর সবচেয়ে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে, বাড়ছে সহিংস অপরাধ।
গত ২১ মে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের বলেন যে, নির্বাচনের সর্বশেষ সময়সীমা ডিসেম্বর হওয়া উচিত। একই দিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি এর আগেও বহুবার আগাম নির্বাচনের দাবি তুলেছে।
প্রসঙ্গত, মাইকেল কুগলম্যান গত ২১ মে দেওয়া সেনাপ্রধানের বক্তব্য ও একই দিনে বিএনপির আন্দোলনের কথা উল্লেখ করলেও এই একই সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক আলোচনায় ঘুরেফিরে আসা দুটি প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। এক. মানবিক করিডোর বা চ্যানেল; এবং দুই. বন্দর সম্পর্কিত আলোচনা। এ দুই আলোচনার সূত্রপাত যদিও আরো কিছু আগে। মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা করিডোর দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাব ও তাতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কিত প্রথম বক্তব্যটি আসে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের তরফ থেকে। এর পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও এ নিয়ে কথা বলেন, যা রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী মহল, নিরাপত্তা বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সচেতন সাধারণ নাগরিকদের অনেকটাই বিভ্রান্ত করে ফেলে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশি ব্যবস্থাপনায় বন্দর দেওয়ার প্রসঙ্গটি এলে জোর আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিসহ বাম ধারার দলগুলো এ নিয়ে সুস্পষ্ট শঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি বক্তৃতা দেয়। এ পর্যায়েই আসে অন্তর্বর্তী সরকারের এ সম্পর্কিত ম্যান্ডেট থাকা না থাকার প্রসঙ্গটি। ফলে নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়। এমনই এক পরিস্থিতিতে ড. ইউনূস পদত্যাগের কথা ভাবছেন বলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে জানান সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম।
কুগলম্যান এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ নেতা, শিক্ষার্থী পরিচালিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানান, যদিও ড. ইউনূস এখনও পদত্যাগ করেননি। তবে, এই হুমকিটি সম্ভবত ইউনুসের একটি কৌশল হতে পারে—পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর চারপাশের মানুষদের সতর্ক করার জন্য।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এই বিশ্লেষকের মতে, ইউনূস এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে সংঘাতের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ছাত্রনেতাদের সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছেন এবং তাঁদের নীতিগত অবস্থানকেও সমর্থন করেছেন। আর তাঁরা নির্বাচনের সময় পেছালেও সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিএনপি, ব্যবসায়ী মহল এবং সম্ভবত বেশির ভাগ সাধারণ জনগণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচনের পক্ষে। এই ক্রমবর্ধমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিভাজনরেখা তৈরি হতে পারে। আগাম নির্বাচনের দাবিতে থাকা বিএনপির সঙ্গে এখন এনসিপি এবং প্রভাবশালী ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। নানা মতাদর্শী দল যখন নিজেদের দাবি নিয়ে রাজপথে নামে, তখন রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা সত্যিই বেড়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো টানাপোড়েনের কথা অস্বীকার করলেও জেনারেল ওয়াকারের নির্বাচনী আহ্বানকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে কুগলম্যান লিখেছেন, শেখ হাসিনার অপসারণের পর থেকে সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়ে চুপ থাকা ওয়াকারের এমন মন্তব্য জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ওয়াকার সরকারের আরও কিছু সিদ্ধান্ত, যেমন ইলন মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবা চালুর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
এ সময়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে শত্রুতা আরও বেড়েছে। আওয়ামী লীগের দুর্নীতির দায় শেখ হাসিনা অস্বীকার করায় বাংলাদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, যা হয়ত অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাব ফেলেছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বিদেশে পালিয়ে গেছে। কিন্তু দলের যে অংশ এখনো রয়ে গেছে, তারা এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি।
মাইকেল কুগলম্যানের মতে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এই অস্থিতিশীলতা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, যার ফলে মারাত্মক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে। তখন প্রশ্ন উঠবে সেনাবাহিনী নিয়ে–যা এখন আগের চেয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপে অনাগ্রহী। প্রশ্ন উঠেছে, তারা কি নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ না আসা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নেবে?
এমন জটিল পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্ভাব্য সেরা বিকল্প বিষয়ে কুগলম্যান তাঁর লেখার শেষে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, যদি সবাই শান্ত থাকে, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে সেরা সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো–অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি মূল সংস্কারের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্মতি নিয়ে এগিয়ে যাবে। সেগুলোর বাস্তবায়নের একটি তারিখ নির্ধারণ করবে এবং নির্বাচনের একটি সময়সূচি ঘোষণা করবে। আশার কথা হলো, রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের পথ সুগম করবে এবং ইউনুসের জন্য তাঁর বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত জীবনে মসৃণভাবে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য