শিরোনাম
ঈদকে সামনে রেখে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা
সরকারি বাঙলা কলেজের চিরচেনা প্রাঙ্গণ এখন অনেকটাই নির্জন। শ্রেণিকক্ষ বন্ধ, ছাতিমতলায় নেই ভিড়, লাইব্রেরি ঘরেও নেই পাঠকের আনাগোনা। ইলশে গুড়ি বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় ভীড় জমাচ্ছে না কেউ বাসস্যান্ডেও।
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সরকারি বাঙলা কলেজে টানা ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল ৩ জুন (মঙ্গলবার) থেকে ১৪ জুন (শনিবার) পর্যন্ত এই ছুটি চলবে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আজ থেকেই। ইতোমধ্যে কলেজ প্রশাসন কর্তৃক ইস্যুকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে ছুটির খবর জানানো হয়েছে।
শুধু সরকারি বাঙলা কলেজ নয়, একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজেও। ইতোমধ্যেই কলেজগুলো পৃথকভাবে ছুটির নোটিশ প্রকাশ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী এ ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটির মধ্যে সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ঈদের ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ছুটিকালীন সময়ে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি সাধারণ ছুটির দিন ব্যাতীতো চলমান থাকবে প্রশাসনিক কার্যক্রম।
ছুটির খবরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে। ক্লাস ও পরীক্ষার চাপের মধ্যে এই দীর্ঘ ছুটি তাদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক বিরতি হয়ে এসেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সারা বছরের ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ খুব কমই আসে।
সরকারি বাঙলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, “সারা বছর ক্লাস আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপে জীবন হয়ে উঠে যান্ত্রিক। এত দিনের ছুটি আমাদের মানসিকভাবে রিফ্রেশ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ খুবই দরকার ছিল।”
সাত কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের ছুটি শেষে আগামী ১৫ জুন (রবিবার) থেকে যথারীতি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে।
শিক্ষার্থীরাও ফিরতে শুরু করেছেন বাড়ির পথে। কেউ ফিরছেন ট্রেনে, কেউবা লঞ্চে বা বাসে। কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে শহরেরই ঈদ কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বাঙলা কলেজ
উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহী কলেজে ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (৩১ মে) সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দেশের ১৩৭টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় দেশ সেরা রাজশাহী কলেজেও পরীক্ষাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরীক্ষা আয়োজন কে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ছিল নজরকাড়া। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ, কক্ষ বণ্টন, প্রশ্নপত্র বিতরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছুই ছিল সুপরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশে বের হতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং তা সময়মতো প্রকাশিত হবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীরা জানান এমন সুশৃঙ্খল পরীক্ষার পরিবেশ তারা আগে দেখেননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা পরীক্ষার্থী মাহমুদা পারভীন বলেন, স্টেশন থেকে কলেজ পর্যন্ত ছাত্রসংগঠনগুলোর বাইক সার্ভিস সত্যিই অনেক উপকারে এসেছে। তারা পথনির্দেশনা দিচ্ছিল এবং সহযোগিতামূলক আচরণ করছিল।
বগুড়া থেকে আসা পরীক্ষার্থী তানভীর হাসান জানালেন, কলেজে প্রবেশের পর স্টলে গিয়ে আমরা পরীক্ষার হলে যাওয়ার দিকনির্দেশনা পেয়েছি সাথে পানি ও কলমের ব্যবস্থাও ছিল। এতে মানসিক চাপ কমে গেছে।
আরও পড়ুন
পাবনার শিক্ষার্থী সাবরিনা হক বলেন, ইসলামী ছাত্রী সংস্থা ও অন্যান্য সংগঠনের স্টলে গিয়ে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। মনে হয়েছে যেন পরিবারের কেউ পাশে আছে।
আরেক পরীক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ বলেন, পরীক্ষা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না। প্রশ্নপত্র ছিল মোটামুটি সহজ। আশা করছি রাজশাহী কলেজেই ভর্তি হতে পারবো।
পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। এর মধ্যে ছিল রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারা কলেজ চত্বরে একাধিক সেবামূলক স্টল স্থাপন করেন। এর মধ্যে ছিলো পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি পানি, কলম, আসন খোঁজার সহায়তা, বাইক সার্ভিস ও তথ্যকেন্দ্রসহ নানা উদ্যোগ।
এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে অভিভাবকদের কাছেও। নাটোর থেকে আসা মো. আজিজুল হক বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বসার ব্যবস্থা ছিল, তাতে আমরা অভিভাবকরা পরীক্ষার সময়টা স্বস্তিতে কাটাতে পেরেছি এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শাহনাজ বেগম জানান, আমি মেয়ে নিয়ে এসেছি। ওদের একজন সদস্য আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এমন সহযোগিতা আর কোথাও পাইনি। রাজশাহীর বাইরের অভিভাবক আব্দুল কাদের বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ছেলেরা শৃঙ্খলভাবে কাজ করছিল। তারা আমাদের পানি দিয়েছে, বসার জায়গা দেখিয়েছে। এটা শিক্ষাঙ্গনের ইতিবাচক দিক রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা।
রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির জানান, এই ধরনের সময়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি নয়, মানবিক সেবার জায়গা থেকে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চেষ্টা করেছি, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়।
কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, আমরা পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে কর্তব্য মনে করি। তাদের যেকোনো সহযোগিতায় আমরা সবসময় প্রস্তুত ছিলাম। এটা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।
উল্লেখ্য, এ বছর রাজশাহী কলেজে ২৪ টি বিভাগের ৪,২৪০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ১৫,৮৫৭ জন পরিক্ষার্থী।
এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৮৮০টি আসনের বিপরীতে ৮,৮৪২ জন, মানবিক বিভাগে ২,৪৫৫টি আসনের বিপরীতে ৫,৬৯৫ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯০৫টি আসনের
বিপরীতে ১,৩২০ জন পরিক্ষার্থী।
সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসে 'মব' সৃষ্টি করে বৈষম্যবিরোধী আহ্বায়কের ওপর ছাত্রদলের হামলা
রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক "লিখন হোসেনের" ওপর ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলা চালিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
আজ ২৮ মে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও চিত্রে এই ঘটনা সনাক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জসীম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয়। পরে কয়েকজন শিক্ষক এসে ওই নেতা (লিখন ইসলাম-কে) উদ্ধার করে অধ্যক্ষের রুমে নিয়ে যায়।
ঘটনা বিশ্লেষণে জানা যায়, কলেজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় লিখন হোসেন অধ্যক্ষের রুমে প্রবেশ করলে তাকে অনুসরণ করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞাতনামা কাউকে ফোন করলে ততক্ষণাৎ কলেজ শাখা ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতাকর্মী অধ্যক্ষের রুমে এসে জড়ো হয়। এর কিছু সময় পরেই তারা দলবদ্ধ হয়ে অধ্যক্ষের রুমে প্রবেশ করেন এবং লিখন ইসলামকে মারতে মারতে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে আসেন। সেখানে লিখন হোসেনকে আঘাত করেন ছাত্রদলের সভাপতি জসীম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, রাকিব মোল্লাসহ অজ্ঞাত আরও কিছু নেতাকর্মী। তবে ততক্ষণাৎ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইসলামীক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক তরীকুল ইসলাম এবং কলেজের অধ্যক্ষ কাকলী মুখোপাধ্যয় উপস্থিত হয়ে লিখনকে তাদের থেকে ছিনিয়ে অধ্যক্ষের রুমে নিতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে হামলার স্বীকার হওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার আহবায়ক লিখন ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন - তারা আমার উপর রাজনৈতিক প্রতিপন্নতার কারণে হামলা চালায়।প্রশাসনের কাছে আমরা আইনানুগ বিচার চাইবো এবং কলেজ প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার দাবি জানাবো।
তবে প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত কলেজ প্রশাসনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে আলাপ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কলেজের অফিসার্স কাউন্সিলর সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যাস্ততার অজুহাতে ফোন কেঁটে দেন।
অযত্নে তালাবদ্ধ রাজশাহী কলেজের শতবর্ষী জাদুঘর
রাজশাহী কলেজ ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এই কলেজের সাথে জড়িয়ে আছে নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন। যার একটি ঐতিহাসিক সম্পদ ছিল জাদুঘর বা সংগ্রহশালা, যা বর্তমানে অযত্ন, অবহেলা আর অবমূল্যায়নে শতবর্ষ ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরবময় অতীতকে সামনে আনার বদলে তা চাপা পড়ে আছে ধুঁলো ও মাকড়সার জালে।
ঐতিহাসিক জাদুঘরটি রয়েছে কলেজে মিলনায়তনের একটি এককক্ষবিশিষ্ট ঘরে যা অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে আজও অজানা। একাধিকবার সাংবাদিকদের আবেদনের ভিত্তিতে দশ থেকে বারো দিন অপেক্ষার পর এক দুপুরে খোলা হয় এই রহস্যময় জাদুঘরের কক্ষের তালা। ধারণা করা হয়, এতোদিন কক্ষের তালা খুলতে দেরি করিয়ে জাদুঘর খোলার আগেই কর্তৃপক্ষ সেটি পরিষ্কার করেছে। তবুও অবমূল্যায়নের ছাপটি রয়েই গেছে জাদুঘরের প্রতিটি কোণে।
সরেজমিনে ঘরে ঢুকতেই দেখা যায়, দেয়ালে নামহীন, সালবিহীন ধুলোমাখা ছবি। যেখানে সেখানে পড়ে আছে ফাইলে বন্দি পুরনো নথি পত্র, বই। জাদুঘরটিতে রয়েছে দেশি বিদেশি মনীষীদের প্রতিকৃতি যা অনেক কাল ছিল শিক্ষার্থীদের অজানা। রয়েছে কাঠের আলমারি, ব্রিটিশ আমলের টেবিল ফ্যান, ধুঁলোমাখা বিভিন্ন প্রকারের মাইক্রোস্কোপ, প্রাচীন ঘড়ি, রেডিও, আয়না, ঝাড়বাতি, এমনকি একটি প্রিন্টিং মেশিনের মতো মূল্যবান বস্তু পড়ে আছে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বস্তু হিসেবে।
জাদুঘরে থাকা উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ আমলের ৮টি ঘড়ি, ৩টি রেডিও ও আয়না, ২টি পুরস্কার মেডেল, ৩৪টি কাঠের ওপর ছাপা ঐতিহ্যের ছবি, ২টি মাইক্রোস্কোপ ও ৬টি বিজ্ঞান যন্ত্র প্রাচীন বই, প্রিন্টিং অলমেট ও শিক্ষকদের ওনারবোর্ড। কিন্তু এসব ঐতিহাসিক সম্পদের সংরক্ষণের নেই কোনো সঠিক উদ্যোগ। কলেজের লাইব্রেরিয়ান পর্যন্ত জানেন না জাদুঘরের অস্তিত্ব সম্পর্কে।
জাদুঘর সম্পর্কে কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়া ফেরদৌসের কাছে জানতে চাইলে তিনি এক রাশি বিস্ময় ও কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করেন, রাজশাহী কলেজে কি জাদুঘর আছে ? তিনি জানান জাদুঘর সম্পর্কে তিনি একেবারেই অজানা।
রাজশাহী কলেজের এই জাদুঘরের বিষয়ে শিক্ষার্থীরাও অবগত নয়। রাজশাহী কলেজের আরেক শিক্ষার্থী আব্দুস সামাদ বলেন, কলেজের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলেও আমাদেরকে তা জানানো হয়নি। শিক্ষকদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে যে শ্রেণিকক্ষে ইতিহাসচর্চা তেমন হয় না, যদিও লাইব্রেরিতে এ সংক্রান্ত বইপত্র রয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, রাজশাহী কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে এই জাদুঘরকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে আধুনিক সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থী বায়জিদ সরকার কলেজের জাদুঘরটি অনতিবিলম্বে সংস্কার করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান। অন্যথায় শতবর্ষী এই নিদর্শনগুলোর অবলুপ্তি আমাদের সংস্কৃতির দেউলিয়ার এক অনিবার্য দলিল হয়ে থাকবে।
একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালা বছরের পর বছর তালাবদ্ধ ও অবহেলিত থাকা কেবল দুঃখজনক নয়, তা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক গাফিলতির স্পষ্ট উদাহরণ। সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যের এ মূল্যবান দলিলগুলো আজ ধ্বংসের মুখে।
সাংস্কৃতিক কর্মী অলিউর রহমান বাবু এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের নিকট প্রশ্ন রাখেন, রাজশাহী কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজের জাদুঘর কেন অবহেলায় পরে থাকবে এবং কেনোই বা এই জাদুঘরটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে বন্ধ রেখেছে কলেজ প্রশাসন? তিনি বলেন, কলেজের জাদুঘর কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য, জাদুঘর এই কলেজের একটি ঐতিহ্য এটাকে অবমূল্যায়ন করে প্রশাসন তাদের চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যুহুর আলি বলেন, জাদুঘরের উন্নয়ন বিষয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। বর্তমানে জাদুঘরের গুরুত্ব সম্পর্কে যারা অবহিত তাদের ও সরকারের সহায়তা থাকলে জাদুঘরের উন্নয়ন করা সম্ভব।
সাত কলেজের সাথে ইউজিসির বৈঠক ফলপ্রসু; আগামীকাল আসতে পারে ভর্তি পরিক্ষার রোডম্যাপ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল এবং কলেজগুলো নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের লক্ষ্যে ঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭শে মে) ইউজিসির সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য ঘোষিত সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস, বাকি ছয় কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ, ইউজিসি প্রতিনিধি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির প্রতিনিধি।
বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়গুলো হলো–
১) নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ।
২) মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
৩)সাত কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কার্যপ্রণালী নির্ধারণ।
সভায় প্রথমত: ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, এবং ভর্তিপরীক্ষায় বেশ কিছু পরিবর্তন সাধনের প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,
ক. সেকেন্ড টাইম তথা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ।
খ. পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং সংযুক্ত করা তথা ভুল উত্তরের জন্য ঋণাত্মক নম্বর প্রদানের নিয়ম।
গ. আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা।
দ্বিতীয়ত: ইউজিসি কর্তৃক সাত কলেজে কর্মরত মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা–কর্মচারীর তথ্য আহবান করা হয়েছে, কর্মরত কোনো কর্মকর্তা– কর্মচারীর ভয় ভীতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউজিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য প্রশাসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) কর্তৃক এক(০১) জন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর কর্তৃক এক(০১) জন, পরিক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর কর্তৃক এক(০১) জন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক এক(০১) জন করে প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন কিংবা অন্তর্বর্তী প্রশাসকের কার্যালয়ে জটলা না সৃষ্টি না করে সাত কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রতিটি কলেজের অধ্যক্ষ'র কার্যালয়ে হেল্প ডেস্ক বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে উক্ত সভায়।
আগামীকাল (২৮শে মে) সাত কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দের আরো একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উক্ত সভায় আসন্ন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আসন সংখ্যা কমানো, ভর্তি পরিক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ভর্তি পরিক্ষা আয়োজনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য