শিরোনাম
একটানা তিন জুমা না পড়ার পরিণতি: ইসলামী বিধান ও খুতবা শোনার গুরুত্ব
শুক্রবার বা জুমার দিন মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে জুমার নামাজ ফরজ করা হয়েছে, যা ইসলামে ঈদের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। কুরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করার পরিণতি সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
জুমার নামাজ না পড়ার শাস্তি
জুমার নামাজ ফরজ এ বিষয়ে ইসলামে কোনো মতভেদ নেই। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তিনবার জুমার নামাজ ত্যাগ করে, তাদের সম্পর্কে হাদিসে এসেছে কঠোর হুঁশিয়ারি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি বিনা কারণে তিনটি জুমার নামাজ পরপর ত্যাগ করে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।” — (সুনান আবু দাউদ: ১০৫২, সহিহ হিসেবে বর্ণিত)
অন্য একটি হাদিসে এসেছে:“অবশ্যই লোকেরা যদি জুমার নামাজ ত্যাগ করতে থাকে, তবে আল্লাহ তাদের অন্তর মোহর করে দেবেন। অতঃপর তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” — (সহিহ মুসলিম: ৮৬৫)
এ থেকে বোঝা যায়, জুমার নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া মহাপাপ। কেউ যদি কোনো শরয়ি ওজর (যেমন মারাত্মক অসুস্থতা, ভ্রমণ ইত্যাদি) ছাড়া জুমার নামাজ পরিত্যাগ করে, তাহলে তা কবিরা গুনাহ হিসেবে পরিগণিত হবে এবং তার অন্তর অন্ধ হয়ে যেতে পারে — এমনকি তার ঈমান বিপদের মুখে পড়তে পারে।
খুতবা না শুনলে জুমার নামাজের হুকুম :
জুমার নামাজের অন্যতম মূল অংশ হচ্ছে খুতবা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন: “হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনের নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম।” — (সূরা জুমু’আ: ৯)
রাসূল (সা.) বলেছেন:“যে ব্যক্তি খুতবা চলাকালীন কথা বলে, সে অনর্থক কাজ করেছে।” — (সহিহ মুসলিম)
এখান থেকে বোঝা যায়, খুতবা জুমার নামাজের পূর্বশর্ত। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে খুতবা শুনতে দেরিতে আসে বা পুরোপুরি বাদ দেয়, তাহলে তার নামাজ আদায় হলেও তার পূর্ণতা থাকবে না।
জুমার নামাজ ফরজ এবং তা ছেড়ে দেওয়া মহাপাপ। বিনা কারণে জুমার নামাজ তিনবার পরিত্যাগ করলে অন্তরে মোহর পড়ে এবং ঈমান বিপদের মুখে পড়ে। তেমনি, খুতবা হলো জুমার নামাজের অপরিহার্য অংশ। ইচ্ছাকৃতভাবে তা না শুনলে জুমার নামাজের মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং নিয়মিতভাবে জুমার নামাজ আদায় করা।
মোঃ আরিফুল ইসলাম/
আটকে পড়া ইরানি হাজিদের যে সহায়তা দেবে সৌদি আরব
ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। হামলা পর তাৎক্ষণিক তেহরান তাদের দেশের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন ইরানের অনেক হজযাত্রী। আটকেপড়া হজযাত্রীদের সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান।
ইরানি হজযাত্রীরা স্বদেশে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সৌদি বাদশাহ সালমান নির্দেশ দিয়েছেন যে, সৌদি আরবে আটকে পড়া ইরানি হজযাত্রীদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে জানানো হয়েছে, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বাদশাহকে আটকে পড়া ইরানি হজযাত্রীদের সহায়তার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এরপর বাদশাহ সালমান এটি অনুমোদন করেন। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা হজযাত্রীদের সবধরনের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করে।
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার আদায় করা ফরজ। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে হজের কার্যক্রম। প্রতি বছর হাজার হাজার ইরানি হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান। এ বছর বিশ্বব্যাপী ১৬ লাখের বেশি মুসলমান হজে অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার ভোরে ইরানে বিমান হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদী দেশ ইসরায়েল। তারা জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তারা।
শুক্রবার পরবর্তীতে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান তেলআবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও আরও বিপজ্জনক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র : আরব নিউজ
গরমকালে হজ হবে না আগামী ২৫ বছর
হজ করতে আগামী ২৫ বছর যারা সৌদি আরব যাবেন, তাদের আর তীব্র গরম সইতে হবে না। ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে হজযাত্রা ধীরে ধীরে বসন্ত, শীত ও শরতের মত তুলনামূলক ‘ঠান্ডা’ মৌসুমে চলে আসবে হবে বলে গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে।
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র—এনসিএমের মুখপাত্র হুসেইন আল কাতানি বলেন, এবার যে হজ হলো, সেটা গ্রীষ্মের শেষ হজ। তিনি বলেন, আগামী আট বছর হজ হবে বসন্তে; পরের আট বছর শীতে। তারপর শরৎ পার করে আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে প্রায় ২৫ বছর পর গিয়ে গ্রীষ্মে ফিরবে।
এনসিএমের মুখপাত্র বলেন, চন্দ্রবর্ষের হিসাব ধরে ২৫ বছরের হজ পঞ্জিকা করা হয়েছে। হিজরি বর্ষপঞ্জির ভিত্তিতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত হজের যেসব তারিখ পাওয়া গেছে, সেগুলো গ্রেগরিয়ান হিসাবে কবে পড়ে, তাও পঞ্জিকায় তুলে ধরা হয়েছে।
হিজরি বর্ষপঞ্জি চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভর করায় এটি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট। আর ছোট হওয়ায় হজের সময় প্রতিবছর কিছুটা করে এগিয়ে আসে।
সেই হিসাবে ২০৫০ সালে গ্রীষ্মকাল ফিরে আসার আগ পর্যন্ত হজযাত্রীরা তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা আবহাওয়া পাবেন।
২০৫০ সাল পর্যন্ত হজের সূচি:
২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বসন্তে (মে থেকে মার্চ)
২০৩৪ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত শীতে (ফেব্রুয়ারি থেকে জানুয়ারি, পরে ডিসেম্বর)
২০৪২ থেকে ২০৪৯ সাল পর্যন্ত শরতে (নভেম্বর থেকে সেপ্টেম্বর)
২০৫০ সালে আবার আগস্টে; অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে
হজের সময়ের এই পরিবর্তনটি হাজিদের শারীরিক কষ্ট লাঘবে সহায়ক হবে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং যাদের স্বাস্থ্য সমস্যায় রয়েছে। পাশাপাশি হজের সময় জনসমাগম পরিচালনা, লজিস্টিকস এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
দেশে দেশে যেভাবে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
দেশে দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের নজরানা হিসেবে এ দিনে মুসলমানরা সারা বিশ্বে পশু কোরবানি করে থাকেন। বাংলাদেশসহ বেশকিছু দেশে আজ পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা।
শনিবার (০৭ জুন) খালিজ টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ বেশকিছু দেশে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার তারিখ। এ বছর চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে এই উৎসব পালিত হবে।
মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে গত ২৮ মে চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে এসব দেশে ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হয়েছে। সে অনুযায়ী, এই দেশগুলোতে ৭ জুন (শনিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে তাই ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে। এজন্য দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ৭ জুন।
ব্রুনাইয়েও একই ঘোষণা এসেছে। দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, চাঁদ দেখা যায়নি, ফলে ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে এবং ঈদ হবে ৭ জুন।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি জানিয়েছে, চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ২৯ মে জিলহজের প্রথম দিন ধরা হয়েছে, ফলে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭ জুন।
ভারতের মারকাজি চাঁদ কমিটি চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়েছে- ২৯ মে থেকে জিলহজ শুরু হয়েছে এবং ঈদ উদযাপিত হচ্ছে ৭ জুন।
বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশে চাঁদ দেখা যাওয়ায় ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে এবং ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭ জুন শনিবার।
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এদিন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি, নামাজ, দান ও উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকেন মুসলমানরা।
হজের খুতবায় ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া
হজের খুতবায় মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং বিশেষভাবে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করেছেন।
খুতবার শেষ দিকে দোয়ায় তিনি বলেন, হে আল্লাহ আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মুসলমানদের অবস্থা সংশোধন করে দিন। তাদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়িয়ে দিন, তাদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে দিন। হে আল্লাহ আপনি ফিলিস্তিন ভাইবোনদের হেফাজত করুন। ক্ষুধার্তদের খাবার দিন এবং আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুন। আপনার এবং তাদের শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করুন এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন।
এর আগে খুতবায় ড. সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শয়তান মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু। মুসলমানদের উচিত পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা।
তিনি আরও বলেন, ইমানদারদের কর্তব্য আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। তাকওয়া ইমানদারের বৈশিষ্ট্য। নেক আমল পাপসমূহ মুছে দেয়। তাই আমাদের কর্তব্য যত বেশি সম্ভব নেক আমল করার চেষ্টা করা। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করুন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন।
ড. সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার, নম্র আচরণ, প্রতিশ্রুতি পূরণ ও লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লজ্জাশীলতা বা হায়া হলো ইমানের একটি শাখা।
হজের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা এবং পরস্পরকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে শায়খ সালেহ বলেন, আল্লাহ বলেছেন, নেক কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং মন্দ কাজে বাধা দাও।
সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ। ১৪৪৬ হিজরির পবিত্র আরাফার দিন বা হজের দিন আজ। আজ হজ পালনকারীরা ঐতিহাসিক আরাফার ময়দানে সমবেত হয়েছেন।
ঐতিহ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ১২টার দিকে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হয়েছে। সৌদি সরকারের উদ্যোগে খুতবা মূল আরবিসহ বাংলা, ইংরেজি, চাইনিজ, রুশ, তুর্কি, রোহিঙ্গা, ফরাসি, তামিল, পশতুসহ প্রায় ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য