পবিত্র হজ করতে সৌদি আরবের মক্কায় সমবেত হয়েছেন বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম। তাঁরা আগামীকাল (৪ জুন) ইহরাম বেঁধে সারা দিন মিনায় অবস্থান করবেন। আজ থেকেই অনেকে মিনায় যাওয়া শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে ১৪৪৬ হিজরির হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।
শিরোনাম
গরমকালে হজ হবে না আগামী ২৫ বছর
হজ করতে আগামী ২৫ বছর যারা সৌদি আরব যাবেন, তাদের আর তীব্র গরম সইতে হবে না। ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে হজযাত্রা ধীরে ধীরে বসন্ত, শীত ও শরতের মত তুলনামূলক ‘ঠান্ডা’ মৌসুমে চলে আসবে হবে বলে গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে।
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র—এনসিএমের মুখপাত্র হুসেইন আল কাতানি বলেন, এবার যে হজ হলো, সেটা গ্রীষ্মের শেষ হজ। তিনি বলেন, আগামী আট বছর হজ হবে বসন্তে; পরের আট বছর শীতে। তারপর শরৎ পার করে আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে প্রায় ২৫ বছর পর গিয়ে গ্রীষ্মে ফিরবে।
এনসিএমের মুখপাত্র বলেন, চন্দ্রবর্ষের হিসাব ধরে ২৫ বছরের হজ পঞ্জিকা করা হয়েছে। হিজরি বর্ষপঞ্জির ভিত্তিতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত হজের যেসব তারিখ পাওয়া গেছে, সেগুলো গ্রেগরিয়ান হিসাবে কবে পড়ে, তাও পঞ্জিকায় তুলে ধরা হয়েছে।
হিজরি বর্ষপঞ্জি চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভর করায় এটি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট। আর ছোট হওয়ায় হজের সময় প্রতিবছর কিছুটা করে এগিয়ে আসে।
সেই হিসাবে ২০৫০ সালে গ্রীষ্মকাল ফিরে আসার আগ পর্যন্ত হজযাত্রীরা তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা আবহাওয়া পাবেন।
২০৫০ সাল পর্যন্ত হজের সূচি:
২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বসন্তে (মে থেকে মার্চ)
২০৩৪ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত শীতে (ফেব্রুয়ারি থেকে জানুয়ারি, পরে ডিসেম্বর)
২০৪২ থেকে ২০৪৯ সাল পর্যন্ত শরতে (নভেম্বর থেকে সেপ্টেম্বর)
২০৫০ সালে আবার আগস্টে; অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে
হজের সময়ের এই পরিবর্তনটি হাজিদের শারীরিক কষ্ট লাঘবে সহায়ক হবে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং যাদের স্বাস্থ্য সমস্যায় রয়েছে। পাশাপাশি হজের সময় জনসমাগম পরিচালনা, লজিস্টিকস এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
দেশে দেশে যেভাবে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
দেশে দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের নজরানা হিসেবে এ দিনে মুসলমানরা সারা বিশ্বে পশু কোরবানি করে থাকেন। বাংলাদেশসহ বেশকিছু দেশে আজ পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা।
শনিবার (০৭ জুন) খালিজ টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ বেশকিছু দেশে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার তারিখ। এ বছর চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে এই উৎসব পালিত হবে।
মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে গত ২৮ মে চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে এসব দেশে ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হয়েছে। সে অনুযায়ী, এই দেশগুলোতে ৭ জুন (শনিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে তাই ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে। এজন্য দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ৭ জুন।
ব্রুনাইয়েও একই ঘোষণা এসেছে। দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, চাঁদ দেখা যায়নি, ফলে ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে এবং ঈদ হবে ৭ জুন।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি জানিয়েছে, চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ২৯ মে জিলহজের প্রথম দিন ধরা হয়েছে, ফলে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭ জুন।
ভারতের মারকাজি চাঁদ কমিটি চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়েছে- ২৯ মে থেকে জিলহজ শুরু হয়েছে এবং ঈদ উদযাপিত হচ্ছে ৭ জুন।
বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশে চাঁদ দেখা যাওয়ায় ২৯ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে এবং ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭ জুন শনিবার।
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এদিন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি, নামাজ, দান ও উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকেন মুসলমানরা।
হজের খুতবায় ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া
হজের খুতবায় মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং বিশেষভাবে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করেছেন।
খুতবার শেষ দিকে দোয়ায় তিনি বলেন, হে আল্লাহ আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মুসলমানদের অবস্থা সংশোধন করে দিন। তাদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়িয়ে দিন, তাদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে দিন। হে আল্লাহ আপনি ফিলিস্তিন ভাইবোনদের হেফাজত করুন। ক্ষুধার্তদের খাবার দিন এবং আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুন। আপনার এবং তাদের শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করুন এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন।
এর আগে খুতবায় ড. সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শয়তান মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু। মুসলমানদের উচিত পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা।
তিনি আরও বলেন, ইমানদারদের কর্তব্য আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। তাকওয়া ইমানদারের বৈশিষ্ট্য। নেক আমল পাপসমূহ মুছে দেয়। তাই আমাদের কর্তব্য যত বেশি সম্ভব নেক আমল করার চেষ্টা করা। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করুন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন।
ড. সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার, নম্র আচরণ, প্রতিশ্রুতি পূরণ ও লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লজ্জাশীলতা বা হায়া হলো ইমানের একটি শাখা।
হজের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা এবং পরস্পরকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে শায়খ সালেহ বলেন, আল্লাহ বলেছেন, নেক কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং মন্দ কাজে বাধা দাও।
সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ। ১৪৪৬ হিজরির পবিত্র আরাফার দিন বা হজের দিন আজ। আজ হজ পালনকারীরা ঐতিহাসিক আরাফার ময়দানে সমবেত হয়েছেন।
ঐতিহ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ১২টার দিকে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হয়েছে। সৌদি সরকারের উদ্যোগে খুতবা মূল আরবিসহ বাংলা, ইংরেজি, চাইনিজ, রুশ, তুর্কি, রোহিঙ্গা, ফরাসি, তামিল, পশতুসহ প্রায় ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কাল থেকে শুরু হচ্ছে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম
হজের অংশ হিসেবে হাজিরা ৮ থেকে ১২ জিলহজ মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও মক্কায় অবস্থান করবেন। এরপর সাঈ, তাওয়াফ ও দমে শোকর আদায়ের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী হজের কার্যক্রম শেষ হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (৭ জিলহজ) সন্ধ্যার পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম বা নিজ আবাসন থেকে হজের নিয়ত করে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন হজযাত্রীরা।
এরপর বৃহস্পতিবার (৯ জিলহজ) ফজরের নামাজ পড়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে যাবেন হাজিরা। সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হবে পুরো ময়দান। এখানে অবস্থান করে তিলাওয়াত, জিকির, নামাজ, খুতবা শোনাসহ ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে হজের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের আবশ্যিক বিধান।
কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে শায়খ আহমাদুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
কোরবানির আগে কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন আলোচিত ইসলামিক আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ বার্তা দেন তিনি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ তার পোস্টে বলেন, ‘কোরবানি আপনার, কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের দায়িত্বও আপনার।’
তিনি বলেন, ‘যে ইসলাম কোরবানির বিধান দিয়েছে, সেই ইসলাম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতারও শিক্ষা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘তাই আসুন, পবিত্র হৃদয়ে কোরবানি করি, পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখি।’
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য