ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

কুরবানির আগে ১০ দিন চুল-নখ না কাটার ফজিলত ও ইসলামী বিধান

অনলাইন ডেস্ক
২৮ মে, ২০২৫ ১৫:৪৭
অনলাইন ডেস্ক
কুরবানির আগে ১০ দিন চুল-নখ না কাটার ফজিলত ও ইসলামী বিধান

হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.) আল্লাহর আদেশে যে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মুসলিম জাহানে আজও কুরবানির মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে আছে। এই আত্মত্যাগ ছিল শুধু একটি পবিত্র কর্ম নয়, বরং এক কঠিন পরীক্ষায় পিতা ও পুত্রের পূর্ণ আনুগত্য, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার এক অপূর্ব নিদর্শন। এই শিক্ষারই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে প্রতি বছর মুসলমানদের উদযাপিত ঈদুল আজহা এবং তার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ইবাদত, যার মধ্যে একটি বিশেষ আমল হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে চুল, নখ ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় লোম না কাটা।

ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি নিখাদ আনুগত্য ও দাসত্ব। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.)-এর ঘটনা কেবল ইতিহাসের এক অধ্যায় নয়; বরং এ এক চিরন্তন দৃষ্টান্ত, যা প্রতিটি মুমিনের জীবনে অনুসরণীয়। জাহেলি যুগের আরবরা যদিও আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকার করত, তবুও ইবাদত ও কুরবানির সময় তারা অন্যান্য মূর্তি, দেবতা ও প্রাকৃতিক বস্তুকে আল্লাহর অংশীদার বানিয়ে ফেলত। কুরবানি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো সেই শিরকী ধারা থেকে মানুষকে মুক্ত করে আল্লাহর একত্ববাদে অভ্যস্ত করারই শিক্ষা।

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তবে তা সকলের ওপর ফরজ নয়। কুরবানি ওয়াজিব তাদের ওপর যাদের কাছে কুরবানি দেওয়ার মতো সম্পদ আছে, অর্থাৎ নির্ধারিত পরিমাণ নেসাব বা সম্পদ যাদের মালিকানা রয়েছে। তবে ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, যাদের কুরবানির সামর্থ্য নেই, তারাও নির্দিষ্ট কিছু আমল পালনের মাধ্যমে পূর্ণ কুরবানির সওয়াব লাভ করতে পারেন।

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, “যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও এবং তোমাদের কেউ যদি কুরবানি করতে চায়, তাহলে সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।” (সহীহ মুসলিম: হাদিস ১৯৭৭)। অর্থাৎ জিলহজ মাসের শুরু থেকে ঈদের দিন কুরবানি করার আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও অপ্রয়োজনীয় লোম না কাটা মুস্তাহাব হিসেবে বিবেচিত। এতে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও একটি সামান্য কাজের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিহিত।

একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে আমর ইবনে আস (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবীজিকে প্রশ্ন করেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমার কাছে কুরবানির পশু নেই, কেবল ধার করা একটি দুধ দেওয়ার ছাগল আছে। আমি কী করব?” উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, “না, তুমি কুরবানি করবে না। বরং তোমার চুল, নখ, গোঁফ কাটো এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করো। এতে তুমি একটি পূর্ণ কুরবানির সওয়াব পাবে।” (সুনানে নাসায়ী: ৪৩৬৫; আবু দাউদ: ২৭৮৯)

চুল ও নখ না কাটা মূলত একজন মুমিনের কুরবানি দেওয়ার প্রস্তুতির প্রতীক। এই সময়কালকে ‘মহান দিন’ বলা হয়—এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল ইবাদত, রোজা, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং আত্মসংযম পালন করতে বলা হয়েছে। চুল-নখ না কাটা দিয়ে একজন মুমিন আল্লাহর প্রতি নিজের নিয়ত ও নিষ্ঠা প্রকাশ করে।

হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহগণ এই হাদিসের ভিত্তিতে বলেন, কুরবানিদাতার জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত নখ, চুল, গোঁফ ও অপ্রয়োজনীয় লোম না কাটা মুস্তাহাব। তবে কেউ যদি চুল-নখ এত বেশি বড় করে ফেলেন যে তা অস্বস্তি বা অপবিত্রতার কারণ হয়, তাহলে তা কেটে ফেলা জায়েজ রয়েছে।

চলতি ২০২৫ সালে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হচ্ছে ৭ বা ৮ জুন। সে অনুযায়ী, ২৮ মে বুধবার দিবাগত রাতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা কুরবানি করতে চান, তারা ২৮ মে (বুধবার) সন্ধ্যার আগেই চুল, গোঁফ, নখ ও অন্যান্য লোম কেটে ফেলার কাজটি সম্পন্ন করে নিতে পারেন। এরপর জিলহজ মাস শুরু হলে তা আর কাটা যাবে না, যতক্ষণ না কুরবানি সম্পন্ন হয়।

ইসলামী শরিয়তে সহজতা রয়েছে। কেউ যদি ঈদের দিন সকালে ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করতে না পারেন, তাহলে দুপুর, বিকেল এমনকি রাতেও তা করা যাবে। এমনকি ঈদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনেও করা বৈধ। তবে প্রথম দিনেই তা সম্পন্ন করাই উত্তম এবং মুস্তাহাব।

ক্ষৌরকার্য বলতে চুল, নখ, গোঁফ এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করাকে বোঝানো হয়েছে। দাড়ি শেভ করা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এক মুষ্ঠির নিচে দাড়ি কাটা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মাকরূহে তাহরিমি, অর্থাৎ কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত।

যারা কুরবানি দিতে পারবেন না, তারাও যদি ঈদের দিন নামাজ পড়ে এসে এই ক্ষৌরকার্য পালন করেন, তাহলে তারা আল্লাহর দরবারে কুরবানির সমপর্যায়ের সওয়াব লাভ করবেন। এটি ইসলামের উদারতা ও আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের প্রমাণ।

কুরবানি শুধু পশু জবাই নয়, বরং আত্মত্যাগ, আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য এবং ইবাদতের সর্বোচ্চ রূপ। জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন এই আনুগত্য প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। তাই কুরবানিদাতাদের জন্য চুল, নখ ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় লোম না কাটা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মুস্তাহাব আমল। ইসলামী জীবনধারায় এমন ছোট ছোট আমলই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের পাথেয় হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মুবারক দিনগুলোতে সর্বোচ্চ ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সান্ডা খাওয়া হালাল নাকি হারাম? যা বলছে ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৬ মে, ২০২৫ ১৩:১৫
    অনলাইন ডেস্ক
    সান্ডা খাওয়া হালাল নাকি হারাম? যা বলছে ইসলাম

    সান্ডা খাওয়া নিয়ে ইসলামে যা বলা হয়েছে

    সান্ডা, দব এবং গুইসাপ—এই তিনটি প্রাণী দেখতে প্রায় কাছাকাছি হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলোর প্রকৃতি ও শরিয়াহ-সংক্রান্ত বিধান ভিন্ন। নিচে প্রতিটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো:

     

    সান্ডা ও দব

    সান্ডা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে, বিশেষ করে বাংলাদেশে দেখা যায়। এটি এক ধরনের সরীসৃপ, যা দেখতে গুইসাপের মতো। এটি উভচর ও সরীসৃপ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। দব সাধারণত আরব অঞ্চলের মরুভূমিতে দেখা যায়। সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে সাহাবিগণ এটি আহার করেছিলেন। যদিও রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তা খাননি, তবে নিষেধও করেননি। তিনি বলেছিলেন, এটি আমার অঞ্চলের খাবার নয়, তাই আমি আগ্রহ বোধ করি না। তবে তোমরা চাইলে খেতে পারো। (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)

    অধিকাংশ ইসলামি স্কলারদের মতে এটি হালাল, তবে হানাফি মাজহাবে এটি খাওয়া মাকরুহে তাহরিমি। আরবরা সাধারণত এই দব খেয়ে থাকে।

    ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এতে মতভেদ রয়েছে—

    হানাফি মাজহাবে: দব খাওয়াকে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বলা হয়েছে, যদিও হারাম নয়।

    মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব: এই মাজহাবগুলোর অধিকাংশ আলেম দব খাওয়াকে বৈধ মনে করেন।

    গুইসাপ 

    গুইসাপ দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল পরিচিত একটি সরীসৃপ। এটি স্থল ও জল উভয় পরিবেশে বিচরণ করে এবং বড় আকৃতির হয়ে থাকে। শরিয়াহ মতে, বিশেষ করে হানাফি মাজহাবে গুইসাপ খাওয়ার অনুমতি নেই। এটি নাপাক, অপবিত্র ও মানুষের স্বাভাবিক রুচির পরিপন্থী প্রাণী হিসেবে বিবেচিত।

    কোরআন ও হাদিসের আলোকে

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তা আহার হালাল করা হয়েছে। (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত : ৯৬)

    হাদিস : রাসুল (সা.) বলেন, সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল। (তিরমিজি: ৬৯, আবু দাউদ: ৮৩)

    এই আয়াত ও হাদিস মাছ জাতীয় প্রাণীর ব্যাপারে প্রযোজ্য হলেও, সরীসৃপ বা উভচর প্রাণীর ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান রয়েছে।

    ফিকহবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি

    হানাফি মাজহাব

    উভচর ও সরীসৃপ প্রাণী—যেমন সাপ, কচ্ছপ, গুইসাপ ও দব—খাওয়া নিষিদ্ধ।

    দলিল: আল-হিদায়া, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, আল-মাবসুত, বাদায়েউস সানায়ে প্রভৃতি কিতাবে এসব প্রাণীকে ‘অপবিত্র ও রুচিবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    অন্যান্য মাজহাব

    মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী দব হালাল হলেও, অধিকাংশ সরীসৃপ প্রাণী নাজায়েজ।

    বাংলাদেশের ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অবস্থান

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন: সহীহ বুখারির অনুবাদে দব খাওয়ার হাদীস উল্লেখ করে বলা হয়, রাসুল (সা.) নিষেধ করেননি। তাই এটি হারাম নয়।

    দারুল ইফতা বাংলাদেশ: একটি ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে—দব খাওয়া হানাফি মতে মাকরুহ, হারাম নয়। তবে যারা অন্য মাজহাব অনুসরণ করেন, তাদের জন্য এটি হালাল।

    সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমানদের জন্য হালাল-হারাম জেনে খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সান্ডা ও গুইসাপ: এগুলো স্পষ্টভাবে হারাম বা অপছন্দনীয়; তাই এড়িয়ে চলা জরুরি।

    দব: যাদের ফিকহ মতে এটি বৈধ, তারা খেতে পারেন। আর যাদের মতে মাকরুহ বা নিষিদ্ধ, তাদের জন্য পরিহার করাই উত্তম।

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ১৫ বছরের নিচে কেউ হজে যেতে পারবে না

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১২ মার্চ, ২০২৫ ১৮:১৯
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১৫ বছরের নিচে কেউ হজে যেতে পারবে না

    আগামী বছরের হজে যেতে ইচ্ছুক মানুষদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ আসন্ন হজে যেতে পারবেন না। সৌদি সরকারের হজ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

    বুধবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল ফারুকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সৌদি আরব হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে ২০২৫ সালের হজ মৌসুমে পবিত্র হজ পালনে আগ্রহীদের সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৫ বছর নির্ধারণ করেছে, যা হজযাত্রীর পাসপোর্টের জন্ম তারিখ থেকে ধরা হবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে নিবন্ধিত হজযাত্রী, হজ এজেন্সি এবং হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা ফলো করতে হবে।

    ১৫ বছর বয়সী নিবন্ধিত শিশু হজযাত্রী ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিশু হজযাত্রীর সঙ্গে যাওয়া অভিভাবক হজযাত্রীর পরিবর্তে প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করা যাবে।

    উপসচিব মামুন আল ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি সরকারের নির্দেশনা আমাদের ফলো করতে হয়। ১৫ বছরের উপরে কেউ যদি হজে যেতে চায় তাকে অবশ্যই প্রাক নিবন্ধন, নিবন্ধন করে যেতে হবে। আর তার নিচে তো যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      পবিত্র শবে বরাত আজ

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১২:১৪
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      পবিত্র শবে বরাত আজ

      ডেস্ক রিপোর্ট: সারাদেশে আজ (শুক্রবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত।

      পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার সরকারি ছুটি থাকবে।

      এই রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদগুলোতে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ, মিলাদ মাহফিলসহ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

      শবে বরাত উপলক্ষ্যে আজ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ, দোয়া, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা ও করণীয় বিষয়ে ওয়াজ করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী।

      বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষ্যে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        জাবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৬

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৬:৪৮
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        জাবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৬

        ডেস্ক রিপোর্ট: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের জীববিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

        বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩১ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। যার মধ্যে ১৭ হাজার ৬৬৪ জন ছাত্র এবং ১৪ হাজার চারজন ছাত্রী।

        জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘ডি' ইউনিটে ছাত্রী আবেদনকারী ছিল ৪৭ হাজার ৬৯২ জন, পাস করেছে ১৭ হাজার ৬৬৪ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশ। ছাত্র আবেদনকারী ছিল ৩৯ হাজার ৭৬ জন, পাস করেছে ১৪ হাজার চারজন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৭০।

        এবার 'ডি' ইউনিটভুক্ত জীববিজ্ঞান অনুষদে ছাত্রীদের আসন সংখ্যা ১৫৫টি এবং ছাত্রদের আসন সংখ্যা ১৫৫টি। এরমধ্যে ছাত্রীদের পরীক্ষায় প্রায় ৪৭ হাজার ৬৯২ জন পরীক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। উপস্থিত ছিলেন ৩৯ হাজার ৯৬৮ জন ভর্তিচ্ছু।

        অন্যদিকে ছাত্রদের পরীক্ষায় প্রায় ৩৯ হাজার ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। এরমধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩৩ হাজার ৭১২ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। সে হিসেবে ভর্তিচ্ছু ছাত্রীদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৮৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। ছাত্রদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৮৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত