শিরোনাম
সিইসির সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক বিকেলে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসবে বিএনপির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল সোমবার বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নির্বাচন ভবনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল এ বৈঠক করবে।
আখতারের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তার বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং হাতে নগদ আছে ১৩ লাখ টাকা। কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে এই টাকা আয় করেন তিনি। এ ছাড়া তার সাত লাখ ও স্ত্রী সানজিদা আক্তারের ১০ লাখ টাকার গহনা আছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে আখতার হোসেনের জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়। হলফনামার তথ্যমতে, আখতার ও তার স্ত্রী সানজিদা আক্তারের মোট ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে নিজের নামে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৪২৬ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তিনি অস্থাবর
সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দুই লাখ ৯৯ হাজার ৪২৬ টাকা। তার কাছে সাত লাখ টাকা মূল্যের গহনা রয়েছে।
হলফমায় আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দুটি মামলায় জামিনে থাকা এনসিপির এই নেতা কৃষি খাত থেকে বছরে আয় ৮৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আসে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে চাকরি করে তার বছরে আয় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪০০ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছেন তিনি। ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর দিয়েছেন ১০ হাজার ৫০০ টাকা।
আখতার তার হলফনামায় আসবাবপত্র বাদ দেখিয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ১০ লাখ টাকার গহনাসহ স্ত্রীর আছে ১৬ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ। আখতারের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৮ শতাংশ কৃষিজমি, যার বর্তমান মূল্য ২৩ হাজার টাকা দেখিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর : মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালোই মনে হচ্ছে। এ বছরের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে। তার আগে বোঝা যাবে না। এখন সবাই যে যার সাংগঠনিক ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে। মনোনয়নের ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে। নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন প্রচার শুরু হওয়ার পরে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ক্রিকেট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের মেম্বার ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না, রাজনীতি করি। তো এই ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি স্পষ্ট জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান আছে। আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আবার এটাও মনে করি ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমাধান করাই বেটার।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব উদ্বিগ্ন। আমি মনে করি সরকারের এটা ব্যর্থতা। এখন পর্যন্ত তারা অস্ত্র উদ্ধারগুলো করতে পারেনি এবং এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি সে রকম একটা উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদী নির্বাচন চলাকালীন সেটা ইমপ্রুভ করবে। ভালো অবস্থায় আসবে।
বড় দুটি দল আওয়ামী লীগের ভোট টানতে চেষ্টা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় দুটি দল বলতে কোন দুটি দলকে বোঝাচ্ছেন? আমরা তো যতদিন দেখে আসছি বড় দল বলতে আওয়ামী লীগ, যেটা এখন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। আমি মনে করি সবার বেলায় এটা প্রযোজ্য না। আমরা জনগণের কাজে যাচ্ছি, পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল বিএনপি। এদেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন এবং যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আসা, প্রেসিডেন্সি ফর্ম থেকে পার্লামেন্টের ফর্মে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা সবই বিএনপি করেছে। অতীতেও করেছে। বিএনপি ৩১ দফার মধ্য দিয়ে আরও নিশ্চিত করেছে এবং এখন যে সংস্কারগুলো সংস্কার কমিশনার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তার সবই বিএনপির কমিশনের মধ্যে আছে, একটা প্রস্তাবের মধ্যে আছে। বিএনপি অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সবচেয়ে ভালো কাজগুলো বিএনপি করতে সক্ষম হয়েছে।
দু-একদিনের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা: জামায়াত আমির
আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে আটটি দল।
দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এরপর সেই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সব মিলিয়ে দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১।
আলোচনা চলমান অবস্থায়ই জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে যাচ্ছে বলে গুঞ্জনও ওঠে। কিন্তু শেষমেষ দলগুলো আসন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে অনেকটা একমত হয়। দু-একদিনের মধ্যে তা ঘোষণা করা হবে বলে জানান জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, দু-একদিনের মধ্যে ১১ দলের আসন সমঝোতা দৃশ্যমান হবে।
সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে জামায়াত
নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিবেশী সুলভ আচরণ করার কথা জানান জামায়াত আমির। শফিকুর রহমান বলেন, সবার সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব করা হবে৷
জনগণের প্রতি শতভাগ আস্থা আছে জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দেশের মা-বোনেরাও আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে বেছে নেবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ সুশাসন নিশ্চিত করবে। জনগণের প্রতি আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। আমরা শুধু চাই নির্বাচনটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক।’
নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যদি অন্য কোনো দলকে পছন্দ করে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করব৷ দুর্নীতির বিরুদ্ধে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে আমরা তাদের সঙ্গে থাকব।’
শফিকুর রহমান আরো বলেন, এবারের নির্বাচন যদি জনগণের হাতছাড়া হয়ে যায় তবে আর কবে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে আমাদের জানা নেই৷
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই গণমাধ্যমগুলো অভ্যুত্থানের সময়েও একটি দিকে ঝুঁকে ছিল।’
‘আমরা চাই গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক। তারা যদি নিজেরাই পরাধীনতার শৃঙ্খল গলায় পরে তবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে৷ প্রশাসন বা গণমাধ্যম যে যেই ভূমিকা পালন করছে জনগণ সবই মনে রাখছে৷ জনগণকে বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই।’
শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন তারেক রহমান
আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারেক রহমান।
ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। এ আসনের আওতায় গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে শনিবার। আপিলের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
আপিল নম্বর অনুযায়ী, শুনানির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জানুয়ারি ১-৭০, ১১ জানুয়ারি ৭১-১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১-২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১-২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১-৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১-৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১-৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১-৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট সব আপিলের শুনানি হবে।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল নির্বাচন ভবনের মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করা যাবে। ১০-১২ জানুয়ারির শুনানির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩-১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬-১৮ জানুয়ারির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য