শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে: তারেক রহমান
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ এবং পদ্মা নদীর ওপরে ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মাদরাসা মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান এই প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী বললেই বোঝায় পদ্মা নদী। এখন দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে পদ্মাই বলেন, তিস্তাই বলেন, ব্রহ্মপুত্রই বলেন, যে নদীই বলেন, পানি আছে কোনো? কোনো পানি নাই, পদ্মা নদীর সাথে যে খালগুলো আছে সেখানেও পানি নাই। আমাদের নদীতে পানি দরকার। এই এলাকার খালগুলো আমরা খনন করতে চাই। ধানের শীষ ইনশাল্লাহ বিজয়ী হলে আমরা পদ্মা ব্যারেজ করতে চাই। ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দেবে।”
‘যেহেতু রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত, যদিও সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ কৃষি পেশার সাথে জড়িত, দেশের বৃহৎ একটি অংশ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষভালো থাকবে, কৃষি যদি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয় তাহলে দেশের মানুষ সহজেই কৃষি উৎপাদিত পণ্য সামগ্রি সেগুলো তারা ক্রয় করতে পারবে। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১০ হাজার টাকা পর্যান্ত কৃষি ঋণ আছে ইনশাল্লাহ আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয় হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণসুদসহ মওকুফ করব ইনশাল্লাহ।
একই সঙ্গে কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে কীটনাশক ওষুধ, সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণও কৃষকদের সহায়তা করা হবে বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
উত্তরাঞ্চলে বন্ধ থাকা বরেন্দ্র প্রকল্প চালু, রাজশাহীর আইটি পার্ক সচল, রাজশাহী বিভাগে একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, আম সংরক্ষণে হিমাঘার নির্মাণ, এবং কৃষি সংক্রান্ত শিল্প স্থাপনে উৎসাহী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা প্রদান কথা হবে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘কেন এসব কাজ করছি? এই পরিকল্পনার কথাগুলো আপনাদেরকে এজন্য বললাম, এই কাজগুলোর কথা এই জন্য বললাম বিগত ১৬/১৭ বছর এই দেশের সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার যেমন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার যেমন কেড়ে নেয়া হয়েছিলো ঠিক দেশের মানুষের জন্য তারা (বিগত সরকার) কোনো কাজ করে নাই। আমরা দেখেছি, কিভাবে তারা মেগা মেগা প্রকল্প করেছে এবং এই মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ছিল মেগা দুর্নীতি। এলাকার মানুষের জন্য রাস্ত-ঘাট নির্মাণ, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, মা-বোনদের পাশে দাঁড়ানো, এলাকায় হাসপাতাল, এলাকায় স্কুল কলেজ ঠিক করা, হাসপাতাল ঠিক করা— এসব কোনো কাজ বিগত সরকারের সময়ে হয়নি। কাজেই ২৪ সালের ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন হয়েছে এর মাধ্যমে যেন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। সেজন্য ১২ তারিখে নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাপাই নবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান। প্রার্থীরা হলেন, শাহজাহান মিয়া,আমিনুল হক, হারুনুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দিন, মিজানুর রহমান মিনু,শফিকুল ইসলাম মিলন, ডিএম জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, আবু সাঈদ চাঁন, ফারজানা শারিমিন পুতুল, রুহুল কুদ্দন তালুকদার দুলুম, আনোয়ার হোসেন আনু, আব্দুল আজিজ উপস্থিত ছিলেন।
‘আগামীতে দেশ কোনো দিকে যাবে?’
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আগামী দিন আমরা দেশকে কোন দিকে পরিচালিত করব। দেশকে আমরা গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করব নাকি দেশ অন্য কোনো দিকে চলে যাবে.. এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে ধাবিত করি, গণতন্ত্রের পথে যদি দেশকে আমরা পরিচালিত করি তাহলে আজকে আমরা যেসব পরিকল্পনার কথা বললাম, আপনাদের যে দাবিগুলোর কথা তুলে ধরলাম, মানুষের উপকার হয় সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে না পারি তাহলে মেগা প্রজেক্ট হবে , জনগণের কোনো প্রজেক্ট হবে না। জনগণের প্রজেক্ট যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতে হবে, গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে। তাহলেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। আসুন আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে,ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
তারেক বলেন, অবস্থার পরিবর্তনের অর্থ যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে উপরে তুলে ধরা। কোনোভাবে যেন জনগণের ঝান্ডা নেমে যেতে না পারে এ ব্যাপারে সকলকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
জেলা সভাপতি মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিটনের সঞ্চালনায়সমাবেশে বিএনপির নেতা শাহীন শওকত,দেবাশীষ রায় মধু, সাইফুল ইসলাম মার্শাল,বিশ্বনাথ সরকারসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন।
ঢাকায় মহিলা জামায়াতের সমাবেশ স্থগিত
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে যে সমাবেশ আয়োজন করার কথা ছিল, সেটি স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলটির কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘অনিবার্য কারণে’ এ সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মো. তাহের এই সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সারা দেশে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছিলেন, ‘জামায়াতের ৪৩ শতাংশ সদস্যই নারী। এবারের নির্বাচনে তাঁরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। আমাদের প্রতিপক্ষরা নারী সমর্থকদের আধিক্য দেখে ভীত হয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং ভীতি প্রদর্শন করছে। যারা নারী অধিকারের কথা বেশি বলে, তারাই নারীদের ওপর বেশি আক্রমণ করছে। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্বলতা লক্ষ করছি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) হয়তো ক্ষমতাহীন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে তারা একপক্ষ হয়ে গেছে।’
আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী তা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে দলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল: রেজাউল করিম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোট গঠন করে আমরা এগোচ্ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের কিছু না বলে জামায়াত অন্যান্য দলকে যুক্ত করলো। জোটের নেতৃত্ব জামায়াত নিজেদের হাতে নিলো। সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আমাদের একটা বড় আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল ইসলামের পক্ষে একটা বড় উত্থান হবে। সেই আশা অন্ধকারে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে নির্বাচনি জনসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, জামায়াত ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিতে চায় না, তখনই বাধ্য হয়ে আমরা সেখান থেকে সরে এসে আমরা জাতির সামনে যে কথা দিয়েছিলাম। সেই কথা মতো হাতপাখা প্রতীকে আমরা ইসলামের একটি বাক্স জাতির সামনে রেখেছি। আশা করি ইসলামের পথে রাখা বাক্সই বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ। যারা মানবতার মুক্তি চায়, যারা ইসলাম কায়েম করতে চায়, বিশেষ করে আলেম ওলামা হাত পাখার সঙ্গে আছে। তারা হাতপাখা কে বিজয়ী করতে মুখিয়ে আছে।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে অনেকটা শঙ্কিত ও হতাশ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছিল এমন একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার কথা ছিল, যে নির্বাচন মানুষ স্মরণ করবে। সেই কথাটা স্মরণ করা নিয়ে বলছি, আপনারা এমন পরিবেশ তৈরি করবেন। আমরা এখনই লক্ষ্য করছি- বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা চলছে। আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছে। ভোলায় আমাদের নারী কর্মীদের ওপর যে আচরণ করছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখন পরিবেশ ঠিক না করলে, সামনের পরিবেশের জন্য দায় আপনাদের মাথায় নিতে হবে।
এর আগে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
আওলাই ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার—জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত ফজলুর রহমান সাইদের গণসংযোগ
মোঃ আবু সুফিয়ান মুক্তার ,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট সদর-পাঁচবিবি) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ ফজলুর রহমান সাইদ পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন।
গণসংযোগকালে তিনি আওলাই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে ন্যায়ভিত্তিক, সৎ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ফজলুর রহমান সাইদ বলেন, “জনগণের অধিকার রক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকই হতে পারে সঠিক পছন্দ।” তাঁর বক্তব্যে সাধারণ মানুষ আশাবাদী হয়ে ওঠেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জয়পুরহাট জেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম কিবরিয়া মন্ডল, পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পাঁচবিবি উপজেলা জামায়াতের আমীর ডাঃ মোঃ সুজাউল করিম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সুফিয়ান মুক্তার, আওলাই ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর নূর হোসেন আকন্দ বাবু, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
গণসংযোগ শেষে আওলাই ইউনিয়নের সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
কিশোরগঞ্জে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বিএনপির আরও ১৭ নেতাকে বহিষ্কার
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির আরও ১৭ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ–৫(বাজিতপুর–নিকলী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ও বহিউ স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির আরও ১৭ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এর আগে গত (২১জানুয়ারি) শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে একই কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও দলীয় নীতি,আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে দ্বিতীয় দফায় বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
তবে পরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে দলীয় সিদ্ধান্তে ইকবালের পরিবর্তে হুদাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়াও গত (২২ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সৈয়দ এহসানুল হুদার আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হয়।
এরপর পরই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন এবং মাঠে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। তার এই সিদ্ধান্তকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চুড়ান্ত ভাবে বহিস্কার আদেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
দলীয় সূত্র আরো জানা যায়, এখন থেকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো নেতা-কর্মী বহিষ্কৃত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া বা বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন থেকে বিএনপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে থাকবে বলে জানান।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য