ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ২০ চৈত্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম

আবারও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:২০
অনলাইন ডেস্ক
আবারও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন জামায়াত আমির

জাতির কাছে আবারও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে আজকের দিন পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে বিনা শর্তে ক্ষমা চাচ্ছি।’

এই নিয়ে টানা তিনবার জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন জামায়াতের এই নেতা। বুধবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ক্ষমা চান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতির কিছু কিছু লোক বলতো ধরে নিলাম আপনারা কোনো অপরাধ করেন নাই, তারপরও আপনাদের এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জাতি মেনে নেয় নাই। আপনারা তো একটা এপোলোজি দিলেই পারেন। এই এপোলোজি আমরা মিনিমাম তিনবার দিয়েছি। প্রফেসর গোলাম আযম সাহেব দিয়েছেন, মতিউর রহমান নিজামী সাহেব দিয়েছেন এবং আমি নিজে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই কিছুদিন আগে এটিএম আজহারুল ইসলাম যখন জেল থেকে বের হলেন, তখন আমি বলেছি শুধু এখন তো না, ১৯৪৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জামায়াতের দ্বারা কারও যদি কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে আমি সব ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষে নিঃশর্তে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই। আপনারা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মানুষ। আমাদের সংগঠন মানুষের সংগঠন। আমাদের ১০০টি সিদ্ধান্তে মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে। সিদ্ধান্তে জাতির ক্ষতি হলে আমার মাফ চাইতে অসুবিধা কোথায়?’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মাফ চাওয়ার পরে বলে এই ল্যাংগুয়েজে মাফ চাইলে হবে না, ওই ল্যাংগুয়েজে মাফ চাইতে হবে। এ আরেক যন্ত্রণায় পড়লাম। বিনা শর্তে মাফ চাইলাম এরপর আর বাকি কী থাকল তাই তো বুঝলাম না। আজকে আবার বলে দিলাম ১৯৪৭ থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যে যেখানে যত কষ্ট পেয়েছেন তার জন্য, বিনা শর্তে যারা কষ্ট পেয়েছেন তাদের কাছে মাফ চাই।’

এ সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পিআরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গণভোট আয়োজনের দাবি জানান জামায়াতের আমির। তিনি আরও বলেন, রমজানের আগে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই।

সভায় জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সংবিধানসম্মত অধিকার অনুযায়ী দেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবেন বলেও আশ্বাস দেন ডা. শফিকুর রহমান।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদল

    অনলাইন ডেস্ক
    ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৮:৪৯
    অনলাইন ডেস্ক
    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদল

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপির প্রতিনিধিদল। আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ৬টার একটু পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক শুরু হয়।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বৈঠক শুরুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিনিধিদলে আরও আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

    যমুনায় প্রবেশের আগে সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী উনি (প্রধান উপদেষ্টা) আজকে সময় দিয়েছেন। আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং প্রশাসনের কিছু বিষয়সহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলব।’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      লালমনিরহাটে ৫৬ ইউপি সদস্যের আ.লীগ-জাপা থেকে গণপদত্যাগ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:২৫
      অনলাইন ডেস্ক
      লালমনিরহাটে ৫৬ ইউপি সদস্যের আ.লীগ-জাপা থেকে গণপদত্যাগ

      লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মোট ৫৬ জন ইউপি সদস্য তাদের নিজ নিজ দল আ.লীগ-জাপা থেকে একযোগে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগকারী ৫৬ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ৪৪ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং ১২ জন জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত।‎‎

      সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে এক জরুরি সভায় একত্রিত হয়ে তারা এই ঘোষণা দেন।

      ‎‎জানা যায়, পদত্যাগকারী ইউপি সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদানের ঘোষণা দেন। এদিকে বাকিরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের ঘোষণা দেননি। তবে তারা জানিয়েছেন, পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে তাদের সম্মিলিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।‎

      এদিন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া পদত্যাগকারী ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা এক বাক্যে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ভুল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এখন আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি এবং দলটির রাজনীতি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি।’

      ‎খুনিয়াগাছ ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাল মিয়া এবং মহেন্দ্রনগর ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ আলীসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতারা একই সুরে বলেন, ‘আজ থেকে আমরা আর কোনোদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করব না। তবে ভবিষ্যতে ভালো কোনো রাজনৈতিক দল পেলে সেই দলে যোগ দেব।’

      একইভাবে মহেন্দ্রনগর ইউপি সদস্য ও জেলা জাপার সদস্য সাহাবুল হকসহ জাতীয় পার্টির সমর্থিত ইউপি সদস্যরাও দল থেকে পদত্যাগের একই কারণ ও মনোভাব ব্যক্ত করেন।‎ 

      পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া প্রধান বক্তারা হলেন ‎লাল মিয়া (খুনিয়াগাছ ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক), মমতাজ আলী (মহেন্দ্রনগর ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি), সাহাবুল হক (মহেন্দ্রনগর ইউপি সদস্য ও জেলা জাপার সদস্য), আজিজুল ইসলাম (হারাটি ইউপি সদস্য ও হারাটি ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক), ইব্রাহীম মিয়া (খুনিয়াগাছ ইউপি সদস্য ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি)।

      ‎স্থানীয় রাজনীতিতে ৫৬ জন ইউপি সদস্যের এই গণপদত্যাগের ঘটনা একটি বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পদত্যাগকারী সদস্যরা ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক দলে যোগদান করবেন, তার ওপর সদর উপজেলার রাজনীতি ও আগামী নির্বাচনের সমীকরণ নির্ভর করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।‎

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

        অনলাইন ডেস্ক
        ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:২২
        অনলাইন ডেস্ক
        ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

        ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’ নামের নতুন শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

        সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

        অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নায়ক নাহিদ ইসলাম কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদ এবং মুখ্য সংগঠক আরমান হোসাইনের নাম ঘোষণা করেন।

        ওই আহ্বায়ক কমিটি আগামী ১ বছর এই শ্রমিক সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তারের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

        কমিটিতে আছেন যারা- 

        আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন খান ও তানহা শান্তা, যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, ওয়াজি উল্লাহ, সজিব ওয়াফি, আহমেদ ইসহাক, মেহেদী হাসান খাঁন, সম্রাট আজাদ, রেজাউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, নুর এ আলম সিদ্দিকী, শিবলী আহমেদ, কলিন্স চাকমা হিসেবে রয়েছেন। সদস্যসচিব হিসেবে আছেন ঋআজ মোর্শেদ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সৌরভ খান সুজন ও আব্দুল বারেক। 

        এ ছাড়া যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে রহমতউল্লা রবিন নিহাল (দপ্তর), মাহবুবুর রহমান আকাশ, সাইফুল ইসলাম ফয়সাল, মো. কামরুজ্জামান (অর্থ), তৌফিক উজ জামান পীরাচা, জান্নাতুল ফেরদৌস আঁখি, অনিক হাসান মানিক, রাজন আহমেদ, রিয়া পারভীন, মো. সরোয়ার কামাল হোসাইন নুর, শেখ রায়হান, মোহাম্মদ মুসা, রিয়াদ হোসেন, রবিউল হাসান রনি ও হাসান মাহমুদ।  

        কমিটির মুখ্য সংগঠক হলেন- আরমান হোসাইন ও সিনিয়র সংগঠক আলেয়া খাতুন, মামুন চাকলাদার।

        এ ছাড়া সংগঠক শেখ রুবেল,ফয়সাল আহমেদ,তানজিয়া শিশির, ফাহাদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. ফারুক হোসেন, কাউসার আহম্মেদ, মো. মোতালেব শিকদার, মো. মাসকুর আলম মামুন, নাঈম আল ইসলাম, হাফিজুর রহমান সরকার, হোসাইন মোহাম্মদ আনোয়ার, মো. রেজওয়ান সিদ্দিকী, নজরুল ইসলাম ডেভিড, আব্দুল্লাহ আল আবু বকর (তাবরেজ), এখলাস ফরাজী, মো. নাজমুল ইসলাম টিটু, মাসুম বিল্লাহ, ফাহিমা শিকদার, ফজলে এলাহী রুবেল, মো. মোসলেহ্ উদ্দিন খান জুয়েল, মো. কাওছার হাওলাদার, সম্রাট শেখ,গোলাম রাব্বি হাসান, সোনিয়া খান, মো. আব্দুল্লাহ আল সানী,মোহাম্মদ ফারভেজ, মো. আব্দুল হাদী চৌধুরী,আল মামুন, শেখ শাহানা, ফারজানা আক্তার বৃষ্টি, আব্দুল কাদের আলভি ও মো. হাসানুর রহমান। 

        সদস্য হিসেবে রয়েছেন-মেরাজুল ইসলাম,রমজান আলী,হাসান ইমাম তালুকদার, নুরুজ্জামান কবির,শিব্বির আহম্মেদ, আবদুল আউয়াল সাগর, অ্যাডভোকেট আশরাফুল হক লাতুক,রোজিনা আক্তার, মো. দিদার আলম, মো. সোহেল রানা খান, মো. আমির হামজা, আরিফ রায়হান আমজাদ, ফয়সাল আহমেদ (নারায়ণগঞ্জ), মো. শাহাবুদ্দিন শান্ত, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. রুবেল মিয়া, মোহাম্মদ শাহ্জালাল, আব্দুর রহিম,রবিউল করিম, মোসা. হাসিনা মাহমুদ, আমির হোসাইন আতিক, মো. মেহেদী হাসান, শাহাদাৎ হোসেন রিয়াদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, কাজী ইউসুফ কবির, ফারুকুল ইসলাম পিংকি, বেগমজাবের হাওলাদার মো. কিবরিয়া মোল্লা, মোজাম্মেল হক, মো. ইমরান হোসেন, মিজানুর রহমান আকন্দ ও আরিফা আকতার। 

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশে নিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান: ইসি সচিব

          অনলাইন ডেস্ক
          ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ৯:০
          অনলাইন ডেস্ক
          জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশে নিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান: ইসি সচিব

          নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, দেশে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। এই পরিবেশকে আরও সুসংহত করতে কমিশন সচিবালয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।

          আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ ইতোমধ্যে সহনীয় ও সুষ্ঠু। নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিবেশ দেশে অবশ্যই রয়েছে এবং এটিকে আরও সুসংহত করতে আজকের আলোচনাসহ প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে।

          নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন প্রসঙ্গে সচিব জানান, শুরুতে নির্বাচনকালীন পাঁচ দিনের জন্য বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে আলোচনায় প্রস্তাব এসেছে নির্বাচনের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর চার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।

          আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরে সচিব বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সদস্য এবং আনসার বাহিনী মোতায়েন করবে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লাখ সদস্য। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

          অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্রের ৮৫ শতাংশ উদ্ধার করেছে। বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে এবং নির্বাচনের সময় তা সম্পূর্ণরূপে সমাধান করা হবে।

          নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিষয়ে সচিব জানান, আলোচনায় ভোটকেন্দ্র, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার নিরাপত্তা, নির্বাচনী এলাকা ও সারা দেশের নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য অপব্যবহার প্রতিরোধ, বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, কালো টাকা নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী অফিসের কার্যক্রম সমন্বয় এবং পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী পরিবহন ও হেলিকপ্টার ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

          ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে সচিব বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণভাবে ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র সচিব নিশ্চিত করেছেন, ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, বডি-অন ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এছাড়া সব বাহিনী নিজস্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করছে, যাতে ভোটের দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

          তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনা মূলত নির্বাচনকে আরও সুন্দর ও সুষ্ঠু করার প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ ছিল। ধাপে ধাপে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে এককভাবে বা যৌথভাবে আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা ফাইন-টিউন করব। আমাদের লক্ষ্য একটাই-একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।’

          সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চারজন নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বর্ডার গার্ড, কোস্টগার্ড, আনসার, র‌্যাব, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, এনটিএমসি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

          সচিব আখতার আহমেদ আরও বলেন, ‘আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পেয়েছি যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের নিরাপত্তা, তফসিল বাস্তবায়ন এবং ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তারা নির্বাচনের পূর্বে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত