ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ছাত্র আন্দোলনে ২০ দিনে দেড় হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে হাসিনা : মান্না

অনলাইন ডেস্ক
৭ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩৯
অনলাইন ডেস্ক
ছাত্র আন্দোলনে ২০ দিনে দেড় হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে হাসিনা : মান্না

ছাত্র-জনতার চলমান আন্দোলন দমনে সরকার দেড় হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে যে বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে—জুলাই-আগস্টে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে—এটা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ গণজাগরণ দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ২০১১ সালের ৬ জুলাই তৎকালীন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুকের ওপর হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচি হয়।

মান্না বলেন, “আমাদের যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত। জয়নুল আবেদিন ফারুকের ওপর যে নির্যাতন হয়েছিলো, তা এক সময় ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের গণহত্যা ইতিহাসে অমোচনীয় দাগ হয়ে থাকবে।”

ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের প্রসঙ্গে মান্না বলেন, “আলাল বললেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, কিন্তু আমি বলি—এটা শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থান। এখানে তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ মারা যায়নি, নিহতদের অধিকাংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমি নিজে বগুড়ার মানুষ, সেখানে ১১ জন নিহত হয়েছিল—তারা সবাই খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।”

আগামী নির্বাচনে বিএনপিই জয়ী হবে —দাবি করে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার কথা এবং সেই নির্বাচনে বিএনপিই জিতবে। অনেকে অনেক কথা বলছে, বড় বড় সভা করছে। কিন্তু মানুষ শেষ পর্যন্ত বিএনপির দিকেই তাকিয়ে আছে।”

তার দাবি, “রাজনৈতিক দলগুলো যা-ই বলুক, ভোটের মাঠে এখনও বিএনপির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। এই জনপ্রিয়তাকে মব কালচারের মাধ্যমে নষ্ট করা উচিত নয়। এখন দেশ গড়ার সময়, ভাঙার নয়। আওয়ামী লীগ আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ছিল বিএনপি। কিন্তু প্রতিশোধ না নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

৭৫ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, “হয়তো আর ৫-১০ বছর বাঁচবো না। তাই চাই, তরুণ প্রজন্ম দায়িত্ব নিক। যদি তারা জ্ঞান ও বুদ্ধিকে গুরুত্ব দেয় এবং আন্তরিকভাবে দেশ গড়তে চায়, তাহলে তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ, গণজাগরণ দলের সভাপতি হাবিব আহমেদ আশিক, সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনির, ইসমাইল হোসেন সিরাজীসহ আরও অনেকে।

এ সময় অন্য বক্তাদের সবাই ২০১১ সালের হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ রাইট ট্র্যাকে উঠবে : মির্জা ফখরু‌ল

    অনলাইন ডেস্ক
    ৭ জুলাই, ২০২৫ ১৩:১৭
    অনলাইন ডেস্ক
    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ রাইট ট্র্যাকে উঠবে : মির্জা ফখরু‌ল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ রাইট ট্র্যাকে উঠবে, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন আয়োজন করবে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশ সঠিক পথে অগ্রসর হবে।নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশের সঠিক পথে অগ্রযাত্রা সম্ভব। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, বিশেষ করে জুলাইয়ের রক্তাক্ত ছাত্র গণঅভ্যুত্থান, যে নতুন পথ দেখিয়েছে তা সবাইকে বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি দাবি করেন, দেশে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হাজারও প্রাণহানী ঘটেছে।  

    সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিএনপি মহাসচিব দুপুরে সিলেট মহানগরের পাঠানটুলা এলাকার সানরাইজ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

    আজ দুপুর ২টায় সিলেট নগরীর দরগাহ গেট এলাকার হোটেল স্টার প্যাসিফিকে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ স্মরণ ও সম্মাননা অনুষ্ঠান। সিলেট জেলা বিএনপির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে শহিদ হওয়া সিলেট জেলার বীর সন্তানদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মহাসচিবের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইকবাল মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, প্রমুখ।

    এর আগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুলকে স্বাগত জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এনামুল হক চৌধুরী, আরিফুল হক চৌধুরী, জি. কে. গউছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ দলীয় নেতারা।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার আইডিয়া দিয়েছিলেন যিনি

      অনলাইন ডেস্ক
      ৬ জুলাই, ২০২৫ ২১:৮
      অনলাইন ডেস্ক
      ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার আইডিয়া দিয়েছিলেন যিনি

      গত বছরের ২৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ নিহতদের স্মরণে সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা হত্যা ও নির্যাতনের শিকারদের প্রতি সহমর্মিতা ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে চোখে-মুখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি তোলার এবং ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার লাল করার কর্মসূচি ঘোষণা করে।

      এই কর্মসূচির পেছনের পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি খোলামেলা কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যখন গণহত্যার পরিবর্তে নাটকীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় শোক ও কালো পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দেয়, তখন আবু সাদিক কায়েম আমার কাছে পরামর্শ চান। আমি তাকে বললাম, আমরা পাল্টা কর্মসূচি দেব। তারা যেহেতু কালো বেছে নিয়েছে, আমরা লাল বেছে নিই।

      ফরহাদ আরও বলেন, আইডিয়াটি শেয়ার করার পর সাদিক কায়েম বললেন, এটা কার্যকর হতে পারে। এটাই চূড়ান্ত করা হলো। আমরা একটি প্রেস রিলিজ তৈরি করে সমন্বয়কদের কাছে পাঠাই, এবং তারা এটি ঘোষণা করেন। পরের দিন দেখলাম, সমাজের সব শ্রেণির মানুষ তাদের ফেসবুক প্রোফাইল লাল করে আপডেট করছেন। এমনকি ড. ইউনূস এবং খালেদা জিয়ার ফেসবুক পেজেও লাল প্রোফাইল শেয়ার করা হয়।

      তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্র কালো পতাকার প্রতীক বেছে নিয়েছে, তাই আমরা লাল বেছে নিলাম। লাল রক্তের প্রতীক, যা দিয়ে আমরা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে পারি। এজন্য আমরা মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ এবং ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার কর্মসূচি ঘোষণা করি।

      ফরহাদ জানান, এই কর্মসূচির পেছনে বড় কারণ ছিল তখনকার পরিস্থিতি। আমরা তখন অনলাইন ও সফট কর্মসূচির ওপর নির্ভর করছিলাম। হার্ড কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে দেখা গেল, প্রচুর গ্রেপ্তার ও মামলা হচ্ছে। তাই আমরা সফট কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিই। লাল প্রোফাইল কর্মসূচি যখন ব্যাপক সাড়া পেল, তখন আমরা অনুপ্রাণিত হলাম এবং পরে মাঠের কর্মসূচিতে যাই। প্রায় এক সপ্তাহের সফট কর্মসূচির শেষ ধাপ ছিল এই লাল প্রোফাইল কর্মসূচি।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        সীমান্তে দাদাদের বাহাদুরির দিন শেষ: নাহিদ ইসলাম

        অনলাইন ডেস্ক
        ৬ জুলাই, ২০২৫ ২০:২১
        অনলাইন ডেস্ক
        সীমান্তে দাদাদের বাহাদুরির দিন শেষ: নাহিদ ইসলাম

        জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লংঙ্ঘন করে গ্রেনেড মারে, বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। আমরা এসব আগ্রাসন আর মেনে নেব না।

        দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

        নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সীমান্তে অনেক বাহাদুরী হয়েছে দাদাদের, আজ সেই বাহাদুরীর দিন শেষ হয়েছে। যদি আর কোনো সীমান্তে কোনো ধরনের পাঁয়তারা করা হয়, সীমান্তে আগ্রাসন চালানো হয় এবং সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, তাহলে আমরা সীমান্তে লংমার্চ ঘোষণা করব। আমাদের সীমান্ত আমরাই রক্ষা করব। 

        চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ও রেশম শিল্পকে নিয়ে তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমের রাজধানী। কিন্ত দুঃখের বিষয় এতো ঐতিহ্যবাহী জেলা হওয়া শর্তেও এই আমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে, বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে এবং আম রপ্তানি করতে কোনো সরকারই উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু এই রেশম শিল্প দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই জাতীয় শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এসব শিল্পকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া আপনারা দীর্ঘদিন যাবত ট্রেনের জন্য আন্দোলন করছেন, আপনারা সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটা ট্রেন চান। আপনাদের এই দাবির সাথে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন জানাচ্ছি।

        সংস্কার ও জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুথানের পরে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চেয়েছি, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার চেয়েছি ও জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র চেয়েছি। আমরা আজ এখানে এসেছি জুলাই অভ্যুত্থানের গণবার্তা নিয়ে। যে বার্তা একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়।

        এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

        মন্তব্য

        কিছু দল নির্বাচন নিয়ে ডাবল স্ট্যান্ডবাজি করছে : রিজভী

        অনলাইন ডেস্ক
        ৬ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪২
        অনলাইন ডেস্ক
        কিছু দল নির্বাচন নিয়ে ডাবল স্ট্যান্ডবাজি করছে : রিজভী

        জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল নির্বাচন নিয়ে ডাবল স্ট্যান্ডবাজি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

        রোববার (৬ জুলাই) দুপরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

        জামায়াতকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, আপনারা একটি রাজনৈতিক দল, আপনাদের অতীত নিয়ে কথা বলতে চাই না। মানুষ সবাই জানে। আজকে আপনারা বলেন, নির্বাচন পেছাতে হবে। কেন পেছাতে হবে? প্রায় দেড় বছরের কাছাকাছি- এর মধ্যে মানুষের প্রয়োজনীয় যে সংস্কার, সেই সংস্কার কি সম্ভব নয়? তাহলে নির্বাচনকে কেন আপনারা টার্গেট করেছেন? একদিকে বলছেন নির্বাচন পেছাতে হবে, আবার কোথাও কোথাও আপনারা নমিনেশন দিচ্ছেন। বলে আসছেন আপনারা, এইটা হলো আমাদের প্রার্থী। এটাও তো দ্বিচারিতা, ডাবলস্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন পেছানোর কথা বলছেন একদিকে, ওইদিকে নমিনেশনও দিচ্ছেন।

        এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, উনাদের সম্পর্কে আমাদের রাজনৈতিক যে স্টাডি, যুগ যুগ ধরে তারা জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝতে চায় না। যদি তারা জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারতো, তাহলে তারা একাত্তরের বিরোধিতা করত না। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার সাথে গিয়ে এরশাদের মতো একজন স্বৈরাচারের সাথে একটা ইয়ের নির্বাচনে তারা অংশ নিত না। জনগণের মূল্যকে তারা কোনোদিনই পাত্তা দিতে চায় না, তারা সব সময় নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লাভের আশায় কাজ করেন। আর এই ফায়দা লুটতে গিয়ে তারা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এখন নির্বাচন করলে দুই-তিনটার বেশি উনারা পান না। উনারা কোনোদিনই অঙ্গীকার রক্ষা করেননি, যেটি বেগম খালেদা জিয়া করেছেন, তারেক রহমানও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।

        বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলেন তাদেরও অনেকের এখনকার কথাবার্তা শুনে আমার কাছে ভিন্ন রকম মনে হয়।ইমাম হোসেনের কারবালার যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধ অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দিয়েছিল এজিদ বাহিনী, সেই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত তিনি ন্যায়ের পতাকা দিয়ে লড়াই করে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। সেখান থেকে শিক্ষা তারা নিয়েছেন কি না জানি না। কয়েকদিন আগে বললেন নির্বাচনের পরিবেশ নেই, আবার বললেন নির্বাচন পেছাতে হবে। কেন নির্বাচন পেছাতে হবে? ১৫-১৬ বছরের যে আন্দোলন, এটা তো গণতন্ত্রের জন্য, তাহলে নির্বাচন কী দোষ করল? একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই যে এত আত্মদান, এত মানুষ অদৃশ্য হয়ে গেল, এত মানুষ গুম হয়ে গেল, আয়না ঘরে নিপীড়নের শিকার হলো, মা-মেয়ে নির্যাতন হলো, বছরের পর বছর মানুষকে আয়না ঘরে বন্দি করে রাখা হলো, অনেককেই আমরা এখনো খুঁজে পাইনি। অনেকের লাশ পাওয়া গেছে বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালায়। এই ধরনের এজিদিও দুঃশাসনের ঘটনা ঘটেছে এই দেশে বিগত ১৫-১৬ বছর।

        রিজভী বলেন, আমরা চেয়েছি- মানুষের নাগরিক অধিকার, প্রকৃত গণতন্ত্র। প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা থাকলে সত্য কথা উচ্চারণ করা যায়, ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম করা যায়। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন মানুষের প্রত্যাশা, যেটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ হবে। এটার জন্যই তো ১৫-১৬ বছরের লড়াই।

        বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের কী দোষ হলো যে, নির্বাচন পেছাতে হবে? এটা কি কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য বলা হচ্ছে? ইমেজ বৃদ্ধি করার জন্য তারা কি নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছেন, এই প্রশ্ন তো আজকে জনগণ মনে মনে করছে। আমার মনে হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কাউকে একটু সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনের সময় বৃদ্ধি করবেন না আশা করি। তারা সেই কাজে যাবেন না, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে সময়ের কথা তারা বলেছেন, সেই সময়ের মধ্যে তারা একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন।

        এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির কবির খোকন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল হক জামাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, যুবদল নেতা ওমর ফারুক কাওসার প্রমুখ।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত