ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

গোপনে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ডাক আ.লীগের নেতাকর্মীদের: ঢাকায় সংঘাতের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ এপ্রিল, ২০২৫ ১৮:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
গোপনে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ডাক আ.লীগের নেতাকর্মীদের: ঢাকায় সংঘাতের আশঙ্কা

সরকার পরিবর্তনের পর চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট। পুলিশের মনোবলে ধস নামার সুযোগে বাড়ছে হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, হামলা ও সহিংসতা। এরই মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে তথ্য— পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপনে দলবদ্ধভাবে ঢাকামুখী হচ্ছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, তারা রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরি কিংবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে গেছে। চট্টগ্রামের প্রতিটি থানাকে বিশেষ নির্দেশনায় দেওয়া হয়েছে অপরাধ দমন ও রাজনৈতিক উত্তেজনা মোকাবিলার কৌশল।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামে সহিংসতা, দখল, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। একদিকে রাজনৈতিক শূন্যতা, অন্যদিকে পুলিশের দুর্বল মনোবলের সুযোগে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি গোপন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবিতে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের সমবেত হতে বলা হয়েছে। এই তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের সব থানাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) থেকে সব থানায় একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের জন্য ৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে— সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, যাদের নামে মামলা আছে তাদের মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো, নৌঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে নজরদারি বাড়ানো, বিএনপি ও জামায়াতপন্থি স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় ঢাকামুখী যাত্রা প্রতিহত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করে উসকানিদাতাদের শনাক্তকরণ, অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ভাড়ায় চালিত গাড়ি ও স্ট্যান্ডগুলোর ওপর নজর রাখা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের সময় কিছুটা ধাক্কা খেলেও এখন পুলিশের মনোবল পুনরুদ্ধার হয়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযানে আছি এবং অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, ‘নগরীতে পুট ও নাইট পেট্রোল, নতুন নতুন চেকপোস্ট, এবং মিনি টিম গঠন করে কাজ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা অস্থিরতার ঝুঁকিতে আছে, সেখানে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম জেলা ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জুনায়েত কাউছার কালবেলাকে বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো চিঠির বিষয়ে নিশ্চিত নই, তবে হুমকি বা গুজব পেলে আমরা নিয়মমাফিক প্রস্তুতি নিই, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে। পুলিশ সবসময় সচেতন ও সতর্ক রয়েছে।’

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ কালবেলাকে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি এখন অনেক স্বাভাবিক। পুলিশ এখন সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছে। শেখ হাসিনাকে ফেরানো কিংবা রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রমে কারা জড়িত— তা সরাসরি আমাদের দায়িত্ব নয়। তবে যারাই অপরাধে জড়াবে, তাদের আইনের আওতায় আনতেই আমরা কাজ করছি।’

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার কালবেলাকে বলেন, ‘জনগণের সহযোগিতায় আমরা ভালোভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি। পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে। নিয়মিত টহল ও অভিযান চলছে। যেসব দিক থেকে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, সেসব মাথায় রেখেই আমরা নির্দেশনা মেনে কাজ করছি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    আওয়ামী লীগের ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ১৭:২৫
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    আওয়ামী লীগের ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে।

    সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেল, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক আনাম সিদ্দিকী তাদের বিরুদ্ধে এই আবেদন করা হয়েছে ।

    এদিকে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করার জন্য ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটি ইন্টারপোলের নিজস্ব প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রক্রিয়াধীন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      পদত্যাগ করে ছাত্রদের নতুন দলের দায়িত্ব নিন: ড. ইউনূসকে দুদু

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:৩১
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      পদত্যাগ করে ছাত্রদের নতুন দলের দায়িত্ব নিন: ড. ইউনূসকে দুদু

      ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পদত্যাগ করে ছাত্রদের নতুন দলের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

      বুধবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংস্কার, জাতীয় নির্বাচন ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

      দুদু বলেন, ‘ড. ইউনূস ছাত্রদের দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। অনেকে এর বিরোধিতা করেছে। কিন্তু আমি করিনি। ড. ইউনূস সত্যের স্বপক্ষে থাকেন, সাহস দেখান। আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) যেহেতু এতই বিবেক আছে, এতই যখন সত্য জানেন, তখন ছেলেদের মাঠে ঠেলে না দিয়ে, নিজে পদত্যাগ করে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করুন, নির্বাচনে অংশ নেন। জনগণ ভোট দিলে বিএনপি আপনাকে সর্বপ্রথম অভিনন্দন জানাবে।’

      প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি করার জন্য তো আপনি একটি মামলাও খান নি। বিএনপির ৫০ লাখ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় জেল খাটতে হয়েছে। আমি দাবি করে বলতে পারি, বিএনপি যে ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল তা পারে না। বিএনপিকে রাস্তায় নামার আগেই নির্বাচন দিন। নইলে বলব, হাসিনার দিকে তাকান। বিএনপি সবসময় জনগণের সমর্থন আর ভালোবাসা নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। তাই ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে।’

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচন কবে জানতে চাইবে বিএনপি

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১৪:৩৮
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচন কবে জানতে চাইবে বিএনপি

        আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রকৃত মনোভাব যে কী, তা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না বিএনপি। যতই দিন যাচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে অস্পষ্টতা বাড়ছে বলে মনে করছে দলটি। এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানতে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়।

        বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে কিছু জানানো হয়নি।

        সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে, গত সোমবার বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দলের পক্ষ থেকে শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়। উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সময় দেওয়া হলে দলের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করবে। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর রয়েছেন। ১৬ এপ্রিল তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে এ সপ্তাহে সাক্ষাৎ হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

        বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ
        বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ ছবি: সংগৃহীত

        বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছি। তিনি কখন সময় দেন তার ওপর নির্ভর করবে সাক্ষাৎ। আমরা মহাসচিবকে (মির্জা ফখরুল) নিয়েই দেখা করতে চাই।’

        বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এর আগে বিভিন্ন সময়ে দলীয় ও জাতীয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এবার দলের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি একটু ভিন্ন। বিএনপি যে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায়, সেটা প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি বলবে। কার্যত নির্বাচন নিয়ে সরকারের মনোভাব কী, তা স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা থাকবে। বিশেষ করে কবে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানা–বোঝার চেষ্টা করবেন বিএনপির নেতারা।

        যদি এ বছরের মধ্যে নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে বিএনপি কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতিতে যখন যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন, বিএনপি সে সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি তো নির্বাচনের জন্যই এত যুদ্ধ করেছে, অনেক নেতা–কর্মী জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা মনে করি, এ বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। বিএনপি সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যান্য দলও নিচ্ছে। কোনো কোনো দল তো মনোনয়ন দিয়ে দিয়েছে, মাঠেও নেমে গেছে।’

        গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বিএনপি নির্বাচন চেয়ে আসছে। দলটি ভোটকেন্দ্রিক জরুরি সংস্কার শেষে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি করছে। এ ক্ষেত্রে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের অবস্থানকে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাদের অনেকে। এই দলগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে তারপর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে।

        এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নিজের ব্যক্তিগত অভিমত জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ হোক কাল হোক, নির্বাচন তো হতেই হবে। তবে নানা কিছুর মধ্যে নির্বাচন যে কবে হবে, তা আমার কাছে এখনো স্পষ্ট নয়।’

        অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
        অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

        যদিও এরই মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সীমা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এ বছরের শেষ থেকে আগামী বছরের প্রথমার্ধে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। গত মার্চ মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ঢাকা সফরে এলে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সরকারের বিভিন্ন রকম সংস্কারের উদ্যোগ এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। তখন জাতিসংঘের মহাসচিবকে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ নিয়ে একমত হয়, তবে নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে। তবে তারা যদি ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’ গ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার এমন বক্তব্যকে অস্পষ্ট মনে করছে বিএনপি। সে কারণেই শিগগিরই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান বিএনপির নেতারা।

         

        বিএনপির নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। আমরা সে অনুযায়ী ওনাকে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ছোট সংস্কার বা বড় সংস্কার বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা আমরা জানতে চাইব। সংস্কারপ্রক্রিয়া চলছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আমাদের বৈঠকও হচ্ছে। সংস্কারপ্রক্রিয়া চালু থাকা অবস্থায় নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া যাবে না, বিষয়টা তো ওই রকম না।’

        বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, সরকারের মনোভাব বুঝতে চলতি এপ্রিল মাসটা দেখবে বিএনপি। এর মধ্যে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণার বিষয়ে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি না দেখলে দলটি ‘ভোটাধিকার’ প্রশ্নে সারা দেশে কর্মসূচি শুরু করবে। এর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকেও সক্রিয় করা হবে। সবার মূল লক্ষ্য থাকবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য রূপরেখা ঘোষণা করা। দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের রূপরেখা দেওয়া না হলে আন্দোলন তীব্র করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

        বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, দেশের মানুষের ধারণা একটি গণতান্ত্রিক এবং নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার দরকার। বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ১৫ বছর ধরে আন্দোলন করছে। যার ফলে বিগত সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন এখনো হয়নি। এখন যদি আমরা যথাসময়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ না পাই, তাহলে আন্দোলন ছাড়া তো আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।’

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় নিন্দা ও কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ২১:২১
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় নিন্দা ও কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

          গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একইসঙ্গে শহীদ এবং যুদ্ধাহত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে ৭ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী ‘The World Stops for Gaza’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

          রোববার (৬ এপ্রিল) ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

          নেতারা বলেন, এমন ভয়ঙ্কর বর্বরতার নিন্দা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। ইসরায়েলের বর্বরতা সত্ত্বেও বিশ্ববাসীর নির্লিপ্ত আচরণ ততোধিক অমানবিক।

          সংগঠনটির শীর্ষ এই দুই নেতা বলেন, ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় দখলদার গণহত্যাকারী ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলায় এরইমধ্যে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ শাহাদাৎ বরণ করেছেন। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে অবৈধ দখলদার ইসরায়েলের সেনারা। গাজা উপত্যকা আজ মৃত্যু উপত্যকা। দখলদার ইসরায়েল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে গাজার চিহ্ন মুছে ফেলতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। পরিতাপের বিষয় এই যে, আন্তর্জাতিক বিশ্ব এখনও এখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছে ।

          ছাত্রদল গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে ৮ এপ্রিল সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে।

          কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান। একইদিন বেলা প্রতিটি শহরের সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মিছিল সহকারে উপস্থিত হয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রে সম্মিলিত বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি পালিত হবে।

          ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী আগ্রাসনের প্রতিবাদে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য দেশের আপামর ছাত্র-জনতাকে অনুরোধ জানানো হয় ছাত্রদলের পক্ষে থেকে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত