ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকাই মূখ্য

অনলাইন ডেস্ক
৩ জুন, ২০২৫ ১৯:৩
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকাই মূখ্য

বিশ্ববিদ্যালয় কেবলমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, এটি একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্র। এখানে নতুন জ্ঞান তৈরি হয়, সমাজে আলো ছড়ানোর জন্য নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি কারা? নিঃসন্দেহে — শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষা পদ্ধতি কিংবা গবেষণার পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে পারে না।

বর্তমানে আমরা যেসব বিশ্ববিদ্যালয়কে সবার উপরে দেখি, সেখানে শিক্ষার্থীরাই নানা সময়ে আন্দোলন, সংস্কার দাবি, স্বেচ্ছাশ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের চেহারা বদলে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন, পাঠচক্র, এমনকি প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্মগুলোও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সচল থাকে, যা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত ও সচেতন রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মতামত, সমালোচনা ও পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।

তবে এখানেই চ্যালেঞ্জ—শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভাবেন, পরিবর্তনের দায়িত্ব কেবলমাত্র প্রশাসনের বা শিক্ষকদের। এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন, সৃজনশীল সমাধান এবং অংশগ্রহণমূলক মানসিকতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও মানবিক, গণতান্ত্রিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করতে হলে শিক্ষার্থীদের উচিত হবে

  • ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার থাকা
  • পরিবেশবান্ধব ও সহনশীল আচরণে অভ্যস্ত হওয়া
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রস্তাবনা ও প্রতিক্রিয়া দেওয়া
  • গবেষণায় আগ্রহী হয়ে জ্ঞানচর্চার সংস্কৃতি গড়ে তোলা

সবশেষে বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো যতই উন্নত হোক না কেন, যদি শিক্ষার্থীরা চিন্তাশীল, দায়িত্বশীল ও উদ্ভাবনী না হন, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান কখনো সত্যিকারের “বিশ্ববিদ্যালয়” হয়ে উঠতে পারে না।

লেখকঃ মোঃ আয়নুল ইসলাম 
শিক্ষার্থী,রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

মাৎস্য বিজ্ঞান পেশা: জলাশয়ের সীমানা পেরিয়ে ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত

অনলাইন ডেস্ক
২৬ মে, ২০২৫ ১৯:২৬
অনলাইন ডেস্ক
মাৎস্য বিজ্ঞান পেশা: জলাশয়ের সীমানা পেরিয়ে ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের মোট আয়তনের একটি সুবিশাল অংশ জুড়িয়ে রয়েছে জলাশয়। আর এই জলাশয়ে মৎস্য চাষের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের যোগান দিয়ে যাচ্ছে এই দেশের মৎস্য গ্রাজুয়েটগণ। এই মৎস্য সেক্টর দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, সুস্থ, উদ্যমী ও মেধাবী নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছে। মৎস্য গ্রাজুয়েটগণের অগ্রণী ভূমিকার কারণে দেশ আজ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০২২-'২৩ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ৪৯.১৫ লাখ মে. টন। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ ২য় (এফএও ২০২৪), তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় ক্রাস্টাসিয়া আহরণে ৮ম অবস্থানে রয়েছে। দেশের ১৪ লক্ষ নারীসহ প্রায় ২ কোটি অর্থাৎ ১২ শতাংশ লোক মৎস্য সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করে। ২০২২-'২৩ অর্থ বছরে চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে মোট ২.৭১ লক্ষ মে. টন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মৎস্য সেক্টর। ২০২৩-'২৪ অর্থবছরে মোট রপ্তানি হয় ৭৭৪০৭.৯৪ মে. টন; যার বাজার মূল্য ৪৪৯৬ কোটি টাকা।

মাৎস্য বিজ্ঞান (ফিশারিজ) বিষয়ক পড়াশুনা

সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে দেশ বরেণ্য জাতীয় অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মুহাম্মদ আমীনুল হক স্যার মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে মৎস্য সেক্টরকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ প্রতিষ্ঠা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ও বাস্তবতার প্রয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বর্তমানে প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাৎস্য বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান ও ডিগ্রি দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় মাৎস্য বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিও (পিএইচডি) প্রদান করছে।

ফিশারিজ -এ ভর্তির যোগ্যতা

ফিশারিজ-এ ভর্তি হতে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান, গণিতসহ বিজ্ঞান বিষয়গুলোতে ভালো ফলাফল করতে হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাক্রম এবং চয়েস এর সমন্বয় ঘটলে ফিশারিজে পড়তে পারবেন।

যে যে বিষয়ে পড়ানো হয়

[ফিশারিজ ফ্যাকাল্টিগুলিতে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি মেজর ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে “একোয়াকালচার (মৎস্য চাষ)” বিভাগে কোথায়, কখন ও কীভাবে মৎস্য চাষ করা হবে এবং পুকুর, নদী-নালা, খাল-বিলে পোনা ছেড়ে লালন-পালন করে বড় করা যায়, মাছের রোগবালাই, মৎস্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণ  প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায়। ‘বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস’ বিভাগে মাছের জিনতত্ব ও প্রজনন সংক্রান্ত বিষয়ে পড়ানো হয়। ‘ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে নদী-নালা, খাল-বিল, উন্মুক্ত জলাশয় সবকিছু কীভাবে সঠিক ব্যবস্থাপনা করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, মৎস্য খাদ্য প্রস্তুত ও মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পড়ানো হয়। ‘ফিশারিজ টেকনোলজি’ বিভাগে মাছ ধরা থেকে শুরু করে মাছ আহরণ, পরে এর গুণাগুণ সংরক্ষণ, বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি করা সংক্রান্ত বিষয়ে পড়ানো হয়। ‘মেরিন ফিশারিজ’  বিভাগে সামুদ্রিক মাছ ও মাছের স্টক এসেসমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে পড়ানো হয়। 

 

চাকরির ক্ষেত্র:
 

সরকারি খাত

বিসিএস (মৎস্য) ক্যাডার ও নন ক্যাডার এর মাধ্যমে মৎস্য অধিদপ্তরে চাকুরী (উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, খামার ব্যবস্থাপক, লিমনোলজিস্ট, মৎস্য সম্প্রসারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, গবেষণা কর্মকর্তা, মৎস্য পরিদর্শক, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য জরীপ কর্মকর্তা), বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-তে ব্যবস্থাপক পদে এই সাবজেক্টের নির্দিষ্ট চাকুরী রয়েছে। বিসিএস (সাধারণ) ক্যাডার চয়েসের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের সাধারণ ক্যাডারসমূহে চাকুরী করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ স্নাতক যোগ্যতা সম্পন্ন যে কোন সরকারী চাকুরীতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। কিছু সরকারী প্রজেক্ট ও প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে সহায়তাকারী বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তরসমূহে ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে, যেমন-পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় প্রভৃতি।

 

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান:

প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগে পাঠদান।

 

বেসরকারি খাত

বেসরকারি সংস্থাসমূহ
দেশের বিভিন্ন এনজিও -তে ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যেমন-বাংলাদেশ রুরাল এ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি (ব্রাক), প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, গ্রামীণ ব্যাংক, আরডিআরএস, বাঁচতে শেখা, টিএমএসএস, এসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল এডভান্সমেন্ট (আশা), জাকস, গাক প্রভৃতি । এছাড়াও মৎস্য চাষ ও রপ্তানি কোম্পানি-তে (ফার্ম ম্যানেজার বা হ্যাচারি ম্যানেজার, ফিশ প্রসেসিং প্ল্যান্ট ম্যানেজার, মান নিয়ন্ত্রণ ও মান যাচাইকরণ বিশেষজ্ঞ), এগ্রোভেট কোম্পানি: মৎস্য খাদ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানি (টেকনিক্যাল সাপোর্ট অফিসার, সেলস বা মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ), মৎস্য ওষুধ কোম্পানি (ফিল্ড অফিসার বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট), প্রাইভেট হ্যাচারি ও ফার্ম (উৎপাদন ব্যবস্থাপক, জলজ পণ্য ব্যবস্থাপক), মৎস্য চাষ ও প্যাকেজিং কোম্পানি ( উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ) প্রভৃতি।

 

উদ্যোক্তা হিসেবে

ব্যক্তিগত উদ্যোগে (নিজস্ব ফিশ ফার্ম বা অ্যাকুয়াপনিক সিস্টেম প্রতিষ্ঠা, হ্যাচারি ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসা, মৎস্যখাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয়), ফ্রিল্যান্সিং ও পরামর্শক (মৎস্য খাতের প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক পরামর্শ প্রদান, জৈবিক মৎস্য চাষ বা পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি নিয়ে কাজ)

 

আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন- ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টার, ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি), এফএও, ইউএনডিপি, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, কারিতাস বাংলাদেশ, নেচার, কনজারভেসন মুভমেন্ট, এশিয়ান ওয়েটল্যান্ড ব্যুরো, ডানিডা (ডিএএনআইডিএ), সোসাইটি ফর কনসারভেসন অব নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (এসসিওএনই), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেসন অব নেচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স (আইইউসিএন), সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ বাংলাদেশ (এসএপি), ইউএসআইডি প্রভৃতি।

 

বিদেশে উচ্চ শিক্ষা ও কর্মসংস্থান

বর্হিবিশ্বে মৎস্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক বাংলাদেশী ফিশারিজ গ্রাজুয়েট সুনামের সাথে কর্মরত রয়েছেন। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিসহ উচ্চশিক্ষা (যেমন- এম.এস., এম.ফিল., পি-এইচ.ডি. ইত্যাদি) গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষত আফ্রিকা অঞ্চলের দেশসমূহে মৎস্য চাষ ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে মৎস্য পেশাজীবীর চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন দেশে মৎস্য ও মৎস্য-জাত দ্রব্য আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠানেও কাজের সুযোগ রয়েছে।

 

ফিশারিজে চ্যালেন্জসমূহ:

জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জলাশয় ভরাট, মৎস্য খামারে বিদ্যুতের বাণিজ্যিক রেট, সরকারী চাকুরীতে পদোন্নতির ধীরগতি ও দূর্বল জনবল কাঠামো, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় লজিস্টিক সাপোর্টের অপ্রতুলতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

 

পরিশেষে, ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের জন্য বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই মৎস্য খাতের উন্নয়নে ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক। সঠিক পরিকল্পনা এবং দক্ষতার বিকাশের মাধ্যমে একজন ফিশারিজ গ্রাজুয়েট অত্যন্ত সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন। পাশাপাশি ‘আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি’ বাংলাদেশ সরকারের এই স্লোগানের যথার্থ বাস্তবায়ন তখনই হবে যখন আমরা মৎস্য সেক্টরের দক্ষ গ্রাজুয়েটদের এই বিশেষায়িত সেক্টরে যথাযথ চাকুরী প্রদানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে পারব। এটি অনুধাবন করতে হবে যে, নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য সময়োপযোগী গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মৎস্য বিজ্ঞানে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনবলের বিকল্প নেই।

 

লেখক- মো: আব্দুল হান্নান, সহকারী পরিচালক (রিজার্ভ), মৎস্য অধিদপ্তর ও পিএইচডি গবেষক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মন্তব্য

হিট স্ট্রোক কি ও তার প্রতিকার

অনলাইন ডেস্ক
১৩ মে, ২০২৫ ১৫:৪২
অনলাইন ডেস্ক
হিট স্ট্রোক কি ও তার প্রতিকার

মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালি প্রসারিত করে অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয় শরীর। ঘামের মাধ্যমেও তাপ কমায় শরীর। তবে প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হতে পারে হিট স্ট্রোক। শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণক্ষমতাও তখন নষ্ট হয়ে যায়।

হিট স্ট্রোক কি?

হিট স্ট্রোক হচ্ছে যখন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়ার্স বা তার চেয়ে বেশি হয় এবং একইসাথে মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা-যেমন অবচেতন হওয়া, অর্ধচেতন হওয়া কিংবা অজ্ঞান হওয়া। কারও এই অবস্থা সৃষ্টি হলে তাকে আমরা হিট স্ট্রোক বলি।

হিট স্ট্রোক এর ঝুঁকি বেশী কাদের?

সাধারণত দীর্ঘ সময় বাইরে কিংবা গরম পরিবেশে যারা কাজ করে থাকেন যেমন  কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক,খেতমজুর ইত্যাদি, তাদের মধ্যে হিট স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা খুব বেশি। কেউ দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে আছে-তারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। এতে মাথাঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন অনেকেই। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাচ্চা, বয়স্ক ও যারা ওবেসিটিতে ভুগছে তারা হিট স্ট্রোকে সহজেই আক্রান্ত হয়। 

হিট স্ট্রোক কিভাবে হয়? 

একটানা রোদে থাকলে গরমে ঘামের সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। আমাদের শরীরের ভেতরে নানা রাসায়নিক ক্রিয়ার কারণে সব সময় তাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ঘামের সাহায্যে সেই তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয়। ঘামের সঙ্গে লবণ বেরিয়ে যাওয়াতে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরকে করে তোলে অবসন্ন ও পরিশ্রন্ত। যখন আমাদের শরীর বেশি গরম হয়ে যায় তখন এক পর্যায়ে দেখা যায় আর শরীর থেকে ঘাম বের হচ্ছে না।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কি কি? 

হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে শরীরের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়,  যেমন:-
-তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়
-মাথা ব্যথা হয়
-দুর্বল লাগে
-ঝিমুনি 
-বমি বমি ভাব হয়। 
-এছাড়াও চামড়ার রং লালচে হয়ে যায়
-অনেক সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে -খিঁচুনি হতে পারে 
-হৃদপিন্ডের গতি বেড়ে যায়

হিট স্ট্রোক হলে করণীয় কী?

যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বিষয়টিকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০০ জন হিট স্ট্রোক রোগীর মধ্যে ৩০ জন রোগী মারা যাচ্ছে। কারও হিট স্ট্রোক হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। তবে হিট স্ট্রোক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির আগে রোগীর জন্য প্রাথমিকভাবে যা করণীয় তা হচ্ছে:

-রোগীকে অপেক্ষাকৃত শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে
-ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বা বাতাস করতে হবে।
-ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে।
-মুখে যদি রোগী খেতে পারে সেক্ষেত্রে প্রচুর পানি বা খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।
-কাঁধে-বগলে অথবা কুঁচকিতে বরফ দিতে হবে
তারপর যতদ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 
-হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক স্যালাইন দেয়াসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

হিট স্ট্রোক থেকে  প্রতিরোধের উপায়:

গরমের দিনে কিছু নিয়ম মেনে চললে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচা যায়

● ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, হালকা রঙের সুতির কাপড় হলে ভালো

● যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন

● রোদে বাইরে যাওয়ার সময় টুপি, ক্যাপ অথবা ছাতা ব্যবহার করুন

● প্রচুর পরিমাণে পানি বা খাবার স্যালাইন অথবা ফলের রস পান করতে হবে

● রোদে দীর্ঘ সময় ঘোরাঘুরি করবেন না।

● গ্রীষ্মকালে তীব্র শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।

দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গেলে বেশির ভাগ হিট স্ট্রোকের রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।

লেখক: ডা. মো ফরিদ উদ্দিন, এমবিবিএস , সিসিডি (বারডেম), এমএসসি (ইউকে), ফেলোশিপ ইন ডায়বেটিস (ভারত)।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    Inclusion of Law Education into Textbooks in Bangladesh

    অনলাইন ডেস্ক
    ১২ মে, ২০২৫ ১৮:২
    অনলাইন ডেস্ক
    Inclusion of Law Education into Textbooks in Bangladesh
    ছবি : সংগৃহীত

    In modern times, introducing basic law education, into school and college textbooks, is a timely and highly gracious initiative in Bangladesh. An essential thing to understand is the rights, the responsibilities, and the structure of the legal system by the citizens of a realm where democracy has supremacy. Unfortunately, a large population in Bangladesh are not aware of fundamental laws, which often leads to exploitation, corruption, and denial of justice.

    Inserting legal education at an early stage can accredit the youth with an understanding of human rights, constitutional rights, and civic duties. Moreover, it can also develop respect for the rule of law as well as shrink social injustices by making individuals more acquainted with licit recourse in times of need. Furthermore, the people who understand the law are more likely to actively take part in democratic affairs and contribute to the buildout of a just and accountable society. Foreign countries like Germany, Japan and the United Kingdom can be used as an example in this regard. People of those countries are considered to be very law abiding.

    Despite that, the age-appropriate, unbiased, and practical content should be put in the books. The aim should not be to make legal resource persons but to foster capacity, responsible nationals.
    Incorporating legal education into Bangladesh's school curricula requires a comprehensive strategy. The following measures can facilitate this integration:

    Policy Reform and Curriculum Development: Legal education should be added as a core module at the secondary and higher secondary levels by the authorities of government. Such authorities can seek help by observing law education policies from other countries.
     
    Teacher Training and Capacity Building: Teachers must be trained so that they can know legal concept and capacity to offer effective lessons to the students.

    Development of Educational Materials: The materials and resources must be included with statutes, case laws, administrative regulations, expert opinions and hypotheticals to apply legal principles.  
     
    Monitoring and Evaluation: With appropriate mechanisms, regular assessment is necessary to ensure the effectiveness and sustainability of the implementation of legal education.

    If these measures are carefully adopted, Bangladesh can incorporate legal education into its education system and it will be the utmost step towards developing a more concerned and law-abiding nation.

    Mumtahina Mahmud, Advocate, Dhaka Judge Court.

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    Environmental Laws in Bangladesh Challenges and Prospects

    অনলাইন ডেস্ক
    ১২ মে, ২০২৫ ১২:৩১
    অনলাইন ডেস্ক
    Environmental Laws in Bangladesh Challenges and Prospects

    Environmental laws in Bangladesh are vital for addressing the country's  raising ecological issues and disputes. Although a legal  frame exists, enforcement remains weak due to corruption, limited coffers, and poor governance. Major environmental challenges include  wide artificial pollution, deforestation, shy waste  operation, and the adverse goods of climate change —  similar to rising ocean  situations, erratic rainfall patterns, and frequent natural disasters like cyclones and  cataracts. 
     
    The Environment Conservation Act of 1995, along with other regulations  similar as the Environment Court Act( 2010) and the Bangladesh Environment Policy( 1992), provides legal grounds for environmental protection. still, the  perpetration of these laws  frequently falls short. Several diligence continue to operate in violation of environmental  norms, discharging adulterants directly into gutters as well as the atmosphere. Political influence, weak monitoring mechanisms, and regulatory inefficiencies  frequently enable violators to escape responsibility. 
     
    One of the most  burning environmental issues in Bangladesh is artificial pollution, particularly water  impurity. The limited discharge of  poisonous waste from cloth, tannery, and chemical  diligence into gutters like the Buriganga, Turag, and Karnaphuli has  oppressively  demoralized water quality, venturing submarine ecosystems and  mortal health. numerous manufactories warrant effluent treatment  shops( ETPs), and those that do  frequently fail to operate them  duly. The consequences include outbreaks of waterborne  conditions, reduction in fish populations, and the destruction of livelihoods for seaside communities. 
     
    Deforestation is another growing concern, especially in the Chittagong Hill Tracts and  littoral areas, where illegal logging and land encroachment hang  biodiversity and contribute to soil  corrosion. also, poor waste  operation in civic areas like Dhaka and Chattogram has led to the accumulation ofnon-biodegradable waste, including plastic and medical waste, which clogs drainage systems and contributes to civic flooding. 
     
    Climate change poses an empirical   trouble to Bangladesh, a low- lying deltaic country. Rising  ocean  situations hang  to submerge large  littoral areas, displacing millions and salinizing agrarian lands. According to  transnational reports, Bangladesh is among the most vulnerable countries to climate- related disasters, yet  adaption  sweats are hampered by  fiscal and institutional limitations. 
     
    To overcome these challenges, Bangladesh must borrow a multifaceted approach. Strengthening the enforcement of being laws is critical, as is reforming institutions to  insure  translucency and responsibility. The government should invest in environmental  structure  similar as  ultramodern waste treatment  installations, promote the use of clean technology in  diligence, and  apply stricter penalties for non-compliance. 
     
    Public  mindfulness and civil society engagement also play a  vital  part. Environmental NGOs, youth movements, and the media have decreasingly pressured authorities and  contaminating  diligence to act responsibly. Grassroots activism, legal interventions, and environmental education juggernauts can enhance public participation and  insure lesser scrutiny of environmental violations. 
     
    also,  transnational cooperation and backing can  help Bangladesh in  erecting climate adaptability through technology transfer, capacity  structure, and sustainable development  enterprise. With a coordinated  trouble among government, assiduity, civil society, and  transnational  mates, Bangladesh can move toward a more sustainable and environmentally secure future.

    Sayed Abdullah Bari Rafi, LL.M, Dept. Of Law, Jagannath University

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত