শিরোনাম
হিট স্ট্রোক কি ও তার প্রতিকার
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালি প্রসারিত করে অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয় শরীর। ঘামের মাধ্যমেও তাপ কমায় শরীর। তবে প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হতে পারে হিট স্ট্রোক। শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণক্ষমতাও তখন নষ্ট হয়ে যায়।
হিট স্ট্রোক কি?
হিট স্ট্রোক হচ্ছে যখন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়ার্স বা তার চেয়ে বেশি হয় এবং একইসাথে মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা-যেমন অবচেতন হওয়া, অর্ধচেতন হওয়া কিংবা অজ্ঞান হওয়া। কারও এই অবস্থা সৃষ্টি হলে তাকে আমরা হিট স্ট্রোক বলি।
হিট স্ট্রোক এর ঝুঁকি বেশী কাদের?
সাধারণত দীর্ঘ সময় বাইরে কিংবা গরম পরিবেশে যারা কাজ করে থাকেন যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক,খেতমজুর ইত্যাদি, তাদের মধ্যে হিট স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা খুব বেশি। কেউ দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে আছে-তারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। এতে মাথাঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন অনেকেই। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাচ্চা, বয়স্ক ও যারা ওবেসিটিতে ভুগছে তারা হিট স্ট্রোকে সহজেই আক্রান্ত হয়।
হিট স্ট্রোক কিভাবে হয়?
একটানা রোদে থাকলে গরমে ঘামের সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। আমাদের শরীরের ভেতরে নানা রাসায়নিক ক্রিয়ার কারণে সব সময় তাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ঘামের সাহায্যে সেই তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয়। ঘামের সঙ্গে লবণ বেরিয়ে যাওয়াতে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরকে করে তোলে অবসন্ন ও পরিশ্রন্ত। যখন আমাদের শরীর বেশি গরম হয়ে যায় তখন এক পর্যায়ে দেখা যায় আর শরীর থেকে ঘাম বের হচ্ছে না।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কি কি?
হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে শরীরের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন:-
-তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়
-মাথা ব্যথা হয়
-দুর্বল লাগে
-ঝিমুনি
-বমি বমি ভাব হয়।
-এছাড়াও চামড়ার রং লালচে হয়ে যায়
-অনেক সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে -খিঁচুনি হতে পারে
-হৃদপিন্ডের গতি বেড়ে যায়
হিট স্ট্রোক হলে করণীয় কী?
যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বিষয়টিকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০০ জন হিট স্ট্রোক রোগীর মধ্যে ৩০ জন রোগী মারা যাচ্ছে। কারও হিট স্ট্রোক হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। তবে হিট স্ট্রোক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির আগে রোগীর জন্য প্রাথমিকভাবে যা করণীয় তা হচ্ছে:
-রোগীকে অপেক্ষাকৃত শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে
-ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বা বাতাস করতে হবে।
-ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে।
-মুখে যদি রোগী খেতে পারে সেক্ষেত্রে প্রচুর পানি বা খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।
-কাঁধে-বগলে অথবা কুঁচকিতে বরফ দিতে হবে
তারপর যতদ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
-হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক স্যালাইন দেয়াসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
হিট স্ট্রোক থেকে প্রতিরোধের উপায়:
গরমের দিনে কিছু নিয়ম মেনে চললে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচা যায়
● ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, হালকা রঙের সুতির কাপড় হলে ভালো
● যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন
● রোদে বাইরে যাওয়ার সময় টুপি, ক্যাপ অথবা ছাতা ব্যবহার করুন
● প্রচুর পরিমাণে পানি বা খাবার স্যালাইন অথবা ফলের রস পান করতে হবে
● রোদে দীর্ঘ সময় ঘোরাঘুরি করবেন না।
● গ্রীষ্মকালে তীব্র শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গেলে বেশির ভাগ হিট স্ট্রোকের রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।
লেখক: ডা. মো ফরিদ উদ্দিন, এমবিবিএস , সিসিডি (বারডেম), এমএসসি (ইউকে), ফেলোশিপ ইন ডায়বেটিস (ভারত)।
Inclusion of Law Education into Textbooks in Bangladesh
In modern times, introducing basic law education, into school and college textbooks, is a timely and highly gracious initiative in Bangladesh. An essential thing to understand is the rights, the responsibilities, and the structure of the legal system by the citizens of a realm where democracy has supremacy. Unfortunately, a large population in Bangladesh are not aware of fundamental laws, which often leads to exploitation, corruption, and denial of justice.
Inserting legal education at an early stage can accredit the youth with an understanding of human rights, constitutional rights, and civic duties. Moreover, it can also develop respect for the rule of law as well as shrink social injustices by making individuals more acquainted with licit recourse in times of need. Furthermore, the people who understand the law are more likely to actively take part in democratic affairs and contribute to the buildout of a just and accountable society. Foreign countries like Germany, Japan and the United Kingdom can be used as an example in this regard. People of those countries are considered to be very law abiding.
Despite that, the age-appropriate, unbiased, and practical content should be put in the books. The aim should not be to make legal resource persons but to foster capacity, responsible nationals.
Incorporating legal education into Bangladesh's school curricula requires a comprehensive strategy. The following measures can facilitate this integration:
Policy Reform and Curriculum Development: Legal education should be added as a core module at the secondary and higher secondary levels by the authorities of government. Such authorities can seek help by observing law education policies from other countries.
Teacher Training and Capacity Building: Teachers must be trained so that they can know legal concept and capacity to offer effective lessons to the students.
Development of Educational Materials: The materials and resources must be included with statutes, case laws, administrative regulations, expert opinions and hypotheticals to apply legal principles.
Monitoring and Evaluation: With appropriate mechanisms, regular assessment is necessary to ensure the effectiveness and sustainability of the implementation of legal education.
If these measures are carefully adopted, Bangladesh can incorporate legal education into its education system and it will be the utmost step towards developing a more concerned and law-abiding nation.
Mumtahina Mahmud, Advocate, Dhaka Judge Court.
Environmental Laws in Bangladesh Challenges and Prospects
Environmental laws in Bangladesh are vital for addressing the country's raising ecological issues and disputes. Although a legal frame exists, enforcement remains weak due to corruption, limited coffers, and poor governance. Major environmental challenges include wide artificial pollution, deforestation, shy waste operation, and the adverse goods of climate change — similar to rising ocean situations, erratic rainfall patterns, and frequent natural disasters like cyclones and cataracts.
The Environment Conservation Act of 1995, along with other regulations similar as the Environment Court Act( 2010) and the Bangladesh Environment Policy( 1992), provides legal grounds for environmental protection. still, the perpetration of these laws frequently falls short. Several diligence continue to operate in violation of environmental norms, discharging adulterants directly into gutters as well as the atmosphere. Political influence, weak monitoring mechanisms, and regulatory inefficiencies frequently enable violators to escape responsibility.
One of the most burning environmental issues in Bangladesh is artificial pollution, particularly water impurity. The limited discharge of poisonous waste from cloth, tannery, and chemical diligence into gutters like the Buriganga, Turag, and Karnaphuli has oppressively demoralized water quality, venturing submarine ecosystems and mortal health. numerous manufactories warrant effluent treatment shops( ETPs), and those that do frequently fail to operate them duly. The consequences include outbreaks of waterborne conditions, reduction in fish populations, and the destruction of livelihoods for seaside communities.
Deforestation is another growing concern, especially in the Chittagong Hill Tracts and littoral areas, where illegal logging and land encroachment hang biodiversity and contribute to soil corrosion. also, poor waste operation in civic areas like Dhaka and Chattogram has led to the accumulation ofnon-biodegradable waste, including plastic and medical waste, which clogs drainage systems and contributes to civic flooding.
Climate change poses an empirical trouble to Bangladesh, a low- lying deltaic country. Rising ocean situations hang to submerge large littoral areas, displacing millions and salinizing agrarian lands. According to transnational reports, Bangladesh is among the most vulnerable countries to climate- related disasters, yet adaption sweats are hampered by fiscal and institutional limitations.
To overcome these challenges, Bangladesh must borrow a multifaceted approach. Strengthening the enforcement of being laws is critical, as is reforming institutions to insure translucency and responsibility. The government should invest in environmental structure similar as ultramodern waste treatment installations, promote the use of clean technology in diligence, and apply stricter penalties for non-compliance.
Public mindfulness and civil society engagement also play a vital part. Environmental NGOs, youth movements, and the media have decreasingly pressured authorities and contaminating diligence to act responsibly. Grassroots activism, legal interventions, and environmental education juggernauts can enhance public participation and insure lesser scrutiny of environmental violations.
also, transnational cooperation and backing can help Bangladesh in erecting climate adaptability through technology transfer, capacity structure, and sustainable development enterprise. With a coordinated trouble among government, assiduity, civil society, and transnational mates, Bangladesh can move toward a more sustainable and environmentally secure future.
Sayed Abdullah Bari Rafi, LL.M, Dept. Of Law, Jagannath University
সকলের ঈদ যাত্রা নিরাপদ হোক
সামনেই ঈদুল ফিতর, ঈদের এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহর ছেড়ে মানুষ পাড়ি জমায় দূর-দূরান্তে। মানুষের এই ঈদ আনন্দের ভাগাভাগিতে ঈদের আনন্দ বেড়ে যায় আরো দ্বিগুণ হারে। ঈদে সবার সাথে সবার অনেক দিন বাদে দেখা হয়, কথা হয়, গল্প আড্ডা গান হয় এইতো ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। সকলে সকলের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, এক সাথে খাওয়া দাওয়া করা, মিলেমিশে কাজ করা, এক সাথে হৈচৈতে মেতে থাকা এই সবকিছুই ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি। কিন্তু এই সবকিছুর পরেও অনেক ক্ষেত্রে সড়ক পথে যাতায়াতের সময় অসচেতনতার কারণে ঘটে যায় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ও বিপদ। যা আমাদের সারাজীবনের জন্য কান্না ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যেটা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
মানুষের জীবন সর্বদা তার গ্রামের শেকড়ের কাছে এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা থাকে। যেমন করে বাঁধা থাকে হৃদয়ের সাথে আরেকটি হৃদয়ের সম্পর্ক। যেটা দৃশ্যমান চোখে দেখা যায় না কিন্তু ঠিকই হৃদয় দিয়ে, আবেগ দিয়ে অনুভব করা যায়। সেই শেকড়ের টানে মানুষ দীর্ঘ সময়ের পর ঈদের ছুটিতে প্রাণের মানুষ এবং নিজের ভিটের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাপক উৎসাহিত চিত্তে ছুটে চলে বাড়ির পথে। মনের ভেতর লুকোনো থাকে অজস্র আবেগ তাই কখনো কখনো কল্পনায় দেখতে থাকে সেই গ্রামের সকল মুখের প্রতিচ্ছবি। এই যখন ঈদ যাত্রার পরিস্থিতি ঠিক এমন অবস্থায় অনেক সময় ঘটে যায় নানান রকম দূর্ঘটনা। নিজেদের ভাবনার জগতে যখন নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফেরার আবেগমিশ্রিত কারণে ঘটে যায় অকল্পিত ও ভয়াবহ দূর্ঘটনা। যা মানুষের জন্য সারাজীবনের কষ্টের কারণে পরিনত হয়। অকালে ঝড়ে পড়ে অনেক প্রাণ।
বিশেষ করে রোজার ঈদে অসংখ্য মানুষ শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যায়। ফলে রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই ভিড় থাকে চোখে পড়ার মত। এই বিশাল মানুষের ভিড় সামলাতে প্রশাসনকে অনেক বেশি হিমশিম খেতে হয়। এর ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় এবং অনেক সময় বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায় এবং এতে করে অনেক মানুষের জীবন হানি ঘটে। কেউ কেউ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়। যে ক্ষতি একবার হয়ে যায় সে ক্ষতি আর পূরণ হয়না। এজন্য অবশ্যই নিজের আবেগকে সংযত রেখে পথে পথ চলতে হবে। রাস্তাঘাট দেখে রাস্তা পার হতে হবে। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে ঈদ যাত্রার সময় এবং সবচেয়ে বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় এই ঈদ যাত্রার সময়ই।
মূলত নিরাপদ ঈদযাত্রার জন্য চাই নিরাপদ সড়ক। সড়কে শৃঙ্খলা থাকলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে। আমাদের দেশের সড়কগুলো বেশিরভাগই গড়ে উঠেছে পরিকল্পনাহীনভাবে ফলে অনেক সড়কই এখন তেমন প্রশস্ত নয় ফলে একটা কিংবা দুই গাড়ি চলতে পারলেও অনেক সময় এগুলো রাস্তায় তাদের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনা ফলে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। তাছাড়া বেশিরভাগ সড়কে ঈদের সময় অপেক্ষাকৃত অদক্ষ চালক বা চালকের সহকারী দিয়ে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয় ফলে অনেকক্ষেত্রে এদের অবহেলার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। এর বাইরে ঈদের সময় চালকদের মধ্যে কার আগে কে গন্তব্যে পৌঁছাবে সে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় যার ফলে পথে দুর্ঘটনা ঘটে। এমন খুশির ঈদ যাত্রায় আমরা প্রত্যাশা করবো চালকরা যেনো যথাযথভাবে পেশাদারিত্বের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে এবং নিরাপদে যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
ঈদের আনন্দের এই যাত্রা যেন কারো জীবনে দুঃখের তীব্রতা নিয়ে না আসে। সে জন্য আমাদের এই যাত্রাপথে হতে হবে একটু বেশি কেয়ারফুল ও একটু বেশি সচেতন। ঈদের আনন্দ সবার জীবনকে প্রকৃতির ছোঁয়ার মত নিবিড় নিবিষ্ট চিত্তে উৎফুল্ল রাখুক এবং সেই আনন্দের ধারা অব্যাহত থাকুক মানুষের জীবনে সব সময়। ঈদ যাত্রা হোক সকলের জন্য মঙ্গলময়।
লেখক- ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম, কলামিস্ট।
ভ্যাট বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ
এইচ.এম. মশিউর রহমান: চারপাশে মানুষের জীবন যখন সার্বিক ভাবে বিপর্যস্ত। মানুষ যখন দুমুঠো আহারের জন্য হাড়-ভাঙা খাটুনির পরেও একপ্রকার হিমশিম খাচ্ছে। জীবনের কোন দিকদিগন্ত পাচ্ছে না। মানুষের ভাতের নিশ্চয়তা হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার মূল্য সংযোজন কর বৃদ্ধি করে মানুষের জীবন যাত্রাকে আরো বিপাকে ফেলে দিয়েছে। মানুষের এখন "মরার উপর খরার ঘা" অবস্থা। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে চারপাশের দরিদ্র মানুষের জীবন ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে সাধারণ মানুষ শঙ্কা প্রকাশ করছে। মানুষের আশ্রয় বলতে আর কোন জায়গা থাকলো কই। মানুষের জন্য ভাবার আর মানুষ থাকলো কই। অন্তর্বতীকালীন সরকারের হঠাৎ করেই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মানুষের দিশেহারা অবস্থা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপেই ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনে কিছু সংশোধন আনতে যাচ্ছে সরকার। এতে তৈরি পোশাক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁ, মিষ্টি, বিস্কুট, আচার, কয়েল ও টিস্যু পেপার, নন-এসি হোটেলসহ ৪৩ ধরনের পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বেড়ে ১৫ শতাংশ হতে পারে। ভ্যাট বাড়লে এসব পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বাজেটের আগেই এসব পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে। নতুন করে সংকটে পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য। ইতোমধ্যে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে শুরু করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো গেলে সবচেয়ে ভালো হতো।
এরই মধ্যে শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর ফলে আরেক দফা নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র অবস্থা তৈরি হয়েছে। পোশাক, মিষ্টি, টিস্যু, এলপি গ্যাস, সস, বিস্কুট, চশমার ফ্রেম ও গ্লাস, মোবাইল ফোনের কল রেট, ফল ও বিদেশ ভ্রমণের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক কর বৃদ্ধি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এতে মানুষের জীবন নির্বাহে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রভাব পড়ছে উৎপাদনেও। এর ফলে নিত্যদিনের খরচ আরও বেড়ে যাবে, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্সের জেরে জীবনযাত্রার ব্যয় আরেক দফা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষও এই ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপের কারণে কাহিল হয়ে পড়েছে। কারণ, মানুষের আয় বাড়ছে না, অথচ ব্যয় যখন বেড়েই চলছে, তখন সরকারের এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে এরই মধ্যে বলা শুরু হয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে। সামনে পবিত্র রমজান মাস। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এবারের রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও খরচ আরও বাড়বে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেছেন, ‘যেসব পণ্যে শুল্ক কমানো হয়েছে, তার কোনও প্রভাব পড়ছে না ক্রেতা পর্যায়ে। এর মধ্যে নতুন করে শুল্ক-কর বাড়ানোর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরেক দফা বাড়বে। এই ব্যয় অন্তত ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে।’
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় সরকারের ট্যাক্স-ভ্যাট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘ভ্যাট-সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর তালিকায় এমন অনেক পণ্যসেবা আছে, সেখানে সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’ তার মতে, বিরূপ প্রভাব শুধু গরিবের ওপরই পড়বে না, মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপরও চাপ পড়বে। এটা সাধারণ মানুষকে চাপের মধ্যে ফেলবে । তিনি বলেন, ‘সামর্থ্যবান অনেকেই সঠিকভাবে কর দেন না। সেখানে হাত দেওয়া উচিত ছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক আরোপিত কর ও ভ্যাট জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়াবে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপিও। শতাধিক পণ্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ সরকারের সিদ্ধান্ত ‘অপরিণামদর্শী’ অভিহিত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটি। রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপে সাধারণ মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেছেন।
তাহলে সকলেই যখন বুঝতে পারছে এবং অনুধাবন করছে যে এই মুহূর্তে ভ্যাট বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তাহলে উর্ধতনরা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণকে বিপাকে ফেলে দিলো।
এই মূহুর্তে সরকারের অবশ্যই উচিৎ যে কোন বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বসাধারণ শ্রেণীর কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে নেওয়া । আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই নিম্ন আয়ের মানুষ তারা কোন রকম দিন আনে দিন খেয়ে বেঁচে থাকে। এই মানুষ গুলোর জীবন অবস্থা সংকটে পড়েছে তাদের কথা চিন্তা করে যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের কাঁধে ভর করেই দেশ পরিচালিত হয়। আর সে জন্য যে কোন সিদ্ধান্তের আগে এই সকল মানুষের কথা চিন্তা করা সবচেয়ে জরুরি। তাদের কথা চিন্তা করেই যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্রের যে কোন সিদ্ধান্ত যেন জনগণ বান্ধব হয় এটা মাথায় রাখতে হবে সবার আগে।
লেখক : আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য