ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে ছাড়াল ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা

অনলাইন ডেস্ক
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১৫
অনলাইন ডেস্ক
স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে ছাড়াল ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ দফায় ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই মূল্য তালিকা আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ভরিতে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ভরিতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা।


বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সংগঠনের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দরে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, যা আগের তুলনায় ৪০৮ টাকা বেশি।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি মূল্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নারিকেলি হাঁস রান্না করবেন যেভাবে

    অনলাইন ডেস্ক
    ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৮
    অনলাইন ডেস্ক
    নারিকেলি হাঁস রান্না করবেন যেভাবে

    শীতের খাবারের তালিকায় হাঁসের মাংস অনেকেরই বেশ পছন্দের। এই মাংসের সঙ্গে আরেকটি উপকরণ খুব মানানসই, সেটি হলো নারিকেল। নারিকেলের দুধ দিয়ে রান্না করা হাঁস খেতে বেশ সুস্বাদু। তবে নারিকেল কুচি দিয়ে রান্না করা হাঁসও কিন্তু খেতে কম সুস্বাদু নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক নারিকেলি হাঁস রান্না করার রেসিপি-

    তৈরি করতে যা লাগবে

    হাঁস- ১টি

    নারিকেল কুচি- ২০০ গ্রাম

    পেঁয়াজ কুচি- ৩টি

    রসুন বাটা- ২ টেবিল চামচ

    জিরা গুঁড়া- পরিমাণমতো

    হলুদ, মরিচ, লবণ- পরিমাণমতো

    কাঁচা মরিচ- ১০/১২টি

    সরিষা বাটা- অল্প

    বাদাম বাটা- সামান্য

    তেল- পরিমাণমতো।

    যেভাবে তৈরি করবেন

    কড়াইতে তেল গরম করে তেলে পেঁয়াজ দিন। পেঁয়াজ একটু নরম হলে আদা রসুন লবণ সরিষা ঢেলে দিয়ে নাড়তে থাকুন। তারপর একটু ভাজা ভাজা হলে হলুদ, মরিচ, লবণ, জিরা ও গরম মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার কড়াইতে অল্প পরিমাণ পানি দিয়ে চামড়া ছাড়ানো হাঁসের মাংস ছোট ছোট টুকরো করে কড়াইতে ঢেলে দিন। মাংস সেদ্ধ হলে কাঁচা মরিচ এবং নারিকেল কুচি ঢেলে দিয়ে কড়াই ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। এবার চুলার আঁচ কমিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ১ টেবিল চামচ গুঁড়া দুধ পানিতে মিশিয়ে কড়াইতে ছড়িয়ে দিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। এবার গরম গরম পরিবেশন করুন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      শীতে কেন চুলকায় ত্বক

      অনলাইন ডেস্ক
      ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২২
      অনলাইন ডেস্ক
      শীতে কেন চুলকায় ত্বক

      শীত এলেই অনেকের ত্বকে অস্বস্তি শুরু হয়। চুলকানি, শুষ্কতা আর খসখসে ভাব যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা আবহাওয়া, বাইরে শুষ্ক হাওয়া আর ঘরের ভেতরে হিটার বা এসির ব্যবহার—সব মিলিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়।

      এর ফলেই দেখা দেয় শীতজনিত ত্বকের চুলকানি। যদিও এটি গুরুতর কোনো রোগ নয়, তবে অবহেলা করলে দৈনন্দিন জীবনে বেশ বিরক্তির কারণ হতে পারে। শীতকালীন ত্বকের চুলকানি আসলে কোনো সংক্রমণ বা সাধারণ র‍্যাশ নয়।

      ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বকে যে প্রদাহ তৈরি হয়, সেটাই এই সমস্যার মূল কারণ। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের উপরের স্তর থেকে পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ, টানটান এবং চুলকানিপ্রবণ।

      লক্ষণ
      শীতজনিত ত্বকের চুলকানিতে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা যায়।

      শীতে ত্বক কেন চুলকায়

      কীভাবে শরীর নিজে থেকেই ডিটক্স হয় জেনে নিন
      – ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যাওয়া

      – হালকা লালচে ভাব

      ,- খসখসে বা আঁশের মতো চামড়া ওঠা

      – চুলকানি

      – ত্বকে ছোট ছোট ফাটল, কখনো রক্তপাত

      এই সমস্যা বেশি দেখা যায় পা, হাঁটুর আশপাশ, উরু, গোড়ালি ও পায়ের পাতায়। তুলনামূলকভাবে হাত, মুখ বা মাথার ত্বকে কম হয়।

      কারা বেশি ঝুঁকিতে?

      সব বয়সের মানুষেরই এই সমস্যা হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক পাতলা ও শুষ্ক হয়ে যায়। এ ছাড়া যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক বা যাদের একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের সমস্যা আছে।

      কেন শীতে সমস্যা বাড়ে?

      শীতে অনেকেই খুব গরম পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করেন। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায় এবং শুষ্কতা আরও বেড়ে যায়। এ ছাড়া সুগন্ধিযুক্ত সাবান, কেমিক্যালযুক্ত বডি ওয়াশ বা ডিটারজেন্ট ত্বকের ক্ষতি করে। ঘরের ভেতরে এসি বা হিটারের শুষ্ক বাতাসও ত্বককে আরও রুক্ষ করে তোলে।

      প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়

      শীতজনিত ত্বকের চুলকানি এড়াতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা সবচেয়ে জরুরি। কিছু সহজ অভ্যাসেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

      – দিনে কয়েকবার ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

      – গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগান

      – খুব গরম পানির বদলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন

      – গোসল ৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন

      – বাইরে বের হলে হাত-পা ভালোভাবে ঢেকে রাখুন

      – রাতে ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা থাকে

      শীতকালে ত্বকের চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা এবং আবহাওয়া বদলালে অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যদি প্রতি বছর একই সমস্যায় ভোগেন, তাহলে আগেভাগেই ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং, সঠিক গোসলের অভ্যাস আর একটু সচেতনতা থাকলেই শীতকাল কাটতে পারে অনেক বেশি আরামদায়ক, চুলকানি আর অস্বস্তি ছাড়াই।

      সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        শীতে খাবার দীর্ঘক্ষণ গরম রাখার সহজ সমাধান

        অনলাইন ডেস্ক
        ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:৩৭
        অনলাইন ডেস্ক
        শীতে খাবার দীর্ঘক্ষণ গরম রাখার সহজ সমাধান

        শীতকালে ঠাণ্ডা খাবার খেতে কারোই ভালো লাগে না। কিন্তু অফিস বা স্কুলে গরম খাবার নিলেই তা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়ে যায়। যদি মাইক্রোওভেনের সুবিধা থাকে, তবে খাওয়ার সময় খাবার গরম করা সম্ভব। তবে সবসময় এই সুবিধা অনেক জায়গায়ই থাকে না। এছাড়া শীতে খাবার খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খাবার দীর্ঘক্ষণ গরম রাখার উপায় আছে।

        আসুন জেনে নেওয়া যাক শীতে দীর্ঘ সময় খাবার গরম রাখবেন যেভাব-

        ১. সঠিক টিফিন বাক্স বেছে নিন

        শীতকালে খাবার দীর্ঘসময় গরম রাখার জন্য বাজারে পাওয়া যায় অনেক ধরনের পাত্র। স্টিলের মোটা দেয়ালের, দ্বিস্তরীয় বা ইনসুলেটেড টিফিন বাক্স খাবারের উষ্ণতা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে পারে। এমন টিফিন বাক্সে ৪-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত খাবার গরম থাকে।

        প্লাস্টিক বা কাচের পাত্রে খাবার দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। স্টেনলেস স্টিলেও খাবার অনেকক্ষণ গরম থাকে। রুটি, পরোটার মতো শুকনো খাবার স্টেনলেস স্টিলে প্যাক করলে সবচেয়ে ভালো থাকে। ভাত, তরকারি, ঝোল ইত্যাদি ইনসুলেটেড স্টিলে রাখলে দীর্ঘক্ষণ গরম থাকে। বিশেষ থার্মাল টিফিন বাক্সে খাবার রাখলে তা প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা গরম থাকতে পারে।

        ২. অ্যালুমিনিয়াল ফয়েল ও থার্মাল ব্যাগ হ্যাক

        রুটি, পরোটা কিংবা স্যান্ডউইচ দীর্ঘক্ষণ গরম রাখতে চাইলে অ্যালুমিনিয়াল ফয়েল ব্যবহার করুন। খাবারটি ফয়েলে মুড়ে নিলে তা অনেক সময় গরম থাকে।

        আরও ভালোভাবে গরম রাখতে, ফয়েলে মুড়ে নেওয়ার পর সেই খাবারটি এয়ার টাইট কৌটো বা মোটা কাপড়ের ব্যাগে রাখুন। এতে খাবারের উষ্ণতা অনেকক্ষণ ধরে থাকে।

        তরকারি বা ঝোলের মতো খাবারও অ্যালুমিনিয়াল ফয়েলে মুড়ে রাখতে পারেন। আরও দীর্ঘক্ষণ গরম রাখতে চাইলে থার্মাল টিফিন ব্যাগ ব্যবহার করুন। এই ব্যাগ খাবারের তাপ ধরে রাখে এবং শীতের সময়ও খাবারকে গরম রাখে।

        ৩. গরম জায়গায় রাখুন

        শীতে রান্না করা খাবার দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। খাওয়ার আগে প্রতিবার খাবার গরম করাও সম্ভব নয়। তাই গরম খাবার রাখুন এমন জায়গায় যেখানে তাপমাত্রা বেশি।

        রান্না করা খাবার চুলার পাশেই রাখতে পারেন। এছাড়া সব খাবার এক জায়গায় রেখে এক বড় পাত্রে গরম পানি নিন। তার মধ্যে খাবারগুলো চাপা দিয়ে রাখলে, খাবারের তাপ অনেকক্ষণ ধরে থাকে। এভাবে আপনার রান্না করা খাবারও দীর্ঘসময় গরম থাকবে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়াই টার্নিং পয়েন্ট, এখন পড়ছেন অক্সফোর্ডে

          অনলাইন ডেস্ক
          ২ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:৩৬
          অনলাইন ডেস্ক
          পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়াই টার্নিং পয়েন্ট, এখন পড়ছেন অক্সফোর্ডে
          ছবি: সংগৃহীত

          রাকিবুল ভূঁইয়ার অক্সফোর্ডে পড়ার স্বপ্নের শুরুটা হয়েছিল একরকম হতাশা থেকেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়াটাই যেন তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। স্মৃতিচারণা করে বলছিলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার পর যখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চান্স পেলাম না, আইন বিষয়ে ভর্তি হলাম ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। তখন থেকেই ভেতরে–ভেতরে একটা দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম, মাস্টার্সের জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করব। প্রয়োজনে আবেদন করে রিজেক্টেড হব, কিন্তু চেষ্টা না করার আফসোস নিয়ে আমি থাকতে চাইনি।’

          আইন পড়ার পথে রাকিবুলের অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও অক্সফোর্ড থেকে ব্যাচেলর অব সিভিল ল ডিগ্রি অর্জন করা ড. কামাল হোসেন। আরও একটি নাম তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে—উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করাটা একসময় কেবলই স্বপ্নের মতো ছিল রাকিবুলের কাছে। সেই স্বপ্নকে তাড়া করার সাহস তিনি পান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ও স্বর্ণপদক পাওয়ার পর।

          অক্সফোর্ডে যাওয়ার পথে ছিল অসংখ্য ধাপ। আইইএলটিএস, রেফারেন্স লেটার, এসওপি (স্টেটমেন্ট অব পারপাস), ইন্টারভিউ, আরও কত কী! কিন্তু সবচেয়ে কঠিন ছিল এসওপি লেখা। রাকিবুলের মতে, ‘অক্সফোর্ডে যে প্রোগ্রামে আমি ভর্তি হয়েছি, সেটির জন্য যেই এসওপি লিখতে হয়, তার সর্বোচ্চ শব্দসংখ্যা ৩০০। এই ৩০০ শব্দের ভেতর আপনার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সব গুছিয়ে লিখতে হবে। মাত্র ৩০০ শব্দে সাত বছরের অভিজ্ঞতা কনভিন্সিং গল্প হিসেবে দাঁড় করানোটা প্রচণ্ড কঠিন একটা কাজ।’

          রাত জেগে অনেকগুলো খসড়া লিখতে হয়েছে। বারবার শিক্ষকদের দেখিয়েছেন, পরামর্শ নিয়েছেন, সংশোধন করেছেন। অবশেষে অক্সফোর্ড থেকে সুযোগ পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ উইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ অ্যান্ড লিডারশিপ (ডব্লিউএইচডি স্কলারশিপ) প্রোগ্রামে। এই বৃত্তি শুধু যে পড়ালেখার খরচ বহন করে তা নয়; বরং নেতৃত্বগুণ শেখায়, নৈতিক দর্শন গড়ে তুলতে সাহায্য করে, দেয় উদ্যোক্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ।

          রাকিবুল বলেন, ‘এই স্কলারশিপ মূলত “ভবিষ্যতের নেতৃত্ব” গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর মেয়াদি কঠোর একটি প্রশিক্ষণ দেয়। স্কলারশিপ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে বাংলাদেশ থেকে আমিই প্রথম অক্সফোর্ডের বিসিএল প্রোগ্রামে এই বৃত্তি পেয়েছি।’

          রাকিবুলের মতে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব ও সঠিক মেন্টরশিপ না থাকা। ‘আমরা অনেক সময় ভয় পাই, চান্স পাব না বা স্কলারশিপ পাব না। এই ভয়ই আমাদের আবেদন করা থেকে বিরত রাখে,’ বলেন রাকিবুল। এ ভয় জয় করতে তিনি নির্ভর করেছিলেন অনলাইন রিসোর্স ও নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর। ইউটিউব, লিংকড-ইন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তিনি তথ্য নিয়েছেন।

          অক্সফোর্ডে পৌঁছানোর পর রাকিবুলের অভিজ্ঞতা বেশ অন্য রকম। ‘এখানে ক্লাস হয় সেমিনার স্টাইলে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী একসঙ্গে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন। শিক্ষকেরা প্রত্যেকের মতামতকে গুরুত্ব দেন। সহপাঠীরা আসেন বিশ্বের নানা দেশ থেকে। তাঁদের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রতিদিনের মেলামেশা আমার শেখার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করছে।’

          রাকিবুল চান, তাঁর এ শিক্ষা যেন দেশের কাজে লাগে। বলছিলেন, ‘আমি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই, যেখানে মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে, বছরের পর বছর অপেক্ষার দিন শেষ হবে।’

           

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত