ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে মিলেছে ৩০ জনের সম্পৃক্ততা

অনলাইন ডেস্ক
২৬ জুন, ২০২৫ ১২:৪৮
অনলাইন ডেস্ক
শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে মিলেছে ৩০ জনের সম্পৃক্ততা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন। মিলেছে ৩০ জনের সম্পৃক্ততা আর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হতে পারে আজ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে

এর আগে ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। এ প্রতিবেদনে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে ৩০ জনের সম্পৃক্ততা মিলেছে বলে জানা গেছে।

এ মামলায় চার আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী।
 
এর আগে রোববার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত এক মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন। আগামী ১৪ জুলাই এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হযেছিল।

তবে তার আগেই তদন্ত শেষে প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নতুন মামলায় গ্রেপ্তার পলক-ইনুসহ চারজন

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৫ জুন, ২০২৫ ১৬:৬
    অনলাইন ডেস্ক
    নতুন মামলায় গ্রেপ্তার পলক-ইনুসহ চারজন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

    বুধবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

    গ্রেপ্তার দেখানো অপর আসামিরা হলেন- সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ।

    পশ্চিম রামপুরায় রমজান মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় হাসানুল হক ইনু ও পলককে, মিরপুরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান আলভী হত্যা মামলায় কামাল আহমেদ মজুমদার এবং ভাটারা থানায় শামিম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

    এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির দিন বুধবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। ১০টা ৪৩ মিনিটের দিকে শুনানি শেষ হয়। আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এসব তথ্য জানান।

    রমজান মিয়া হত্যা মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই পশ্চিম রামপুরা ওয়াপদা রোড এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন রমজান মিয়া। এদিন সকাল ১০টায় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে আহত হলে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় গত ২৬ মে হাতিরঝিল থানায় মামলা করা হয়।

    আলভী হত্যা মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট মিরপুর ১০ এ আন্দোলন অংশ নেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান আলভী। বিকাল ৪টায় গুলি এসে আলভীর বুকে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর মারা যান আলভী।

    শামিম মিয়া হত্যাচেষ্টা মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী মো. শামিম মিয়া রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে যাচ্ছিলেন৷ এসময় বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি৷ এসময় তার শরীরে চারটি গুলি লাগে। পরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। এ ঘটনায় গত ২২ জানুয়ারি ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন৷

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      যেসব কারণে নুরুল হুদার রিমান্ড চায় পুলিশ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৩ জুন, ২০২৫ ১৫:২৩
      অনলাইন ডেস্ক
      যেসব কারণে নুরুল হুদার রিমান্ড চায় পুলিশ

      প্রহসনের নির্বাচন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শেরে বাংলা থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।

      সোমবার (২৩ জুন) শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসএম) শামসুজ্জোহা সরকার এ আবেদন করেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

      আবেদনে যেসব কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে-

      ১. গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনকালে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি সেই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পন্ন করতে পারেন নাই এবং দেশকে গভীর সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত করেছেন।

      ২. প্রশাসনকে একটি পক্ষে ব্যবহার করেছেন। যাতে করে সংবিধান অমান্য করেছেন এবং শপথ ঠিক রাখতে পারেন নাই।

      ৩. দণ্ডবিধি আইনের ১৭১-ক ধারার সংজ্ঞা মতে নির্বাচনের ছদ্মবেশ ধারণ করিয়া দিনের ভোট রাতে সম্পাদন করার নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাধা দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করেন। সে নির্বাচন বডির প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি অন্যান্য কমিশনার এবং বিভাগীয় ও জেলা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

      ৪. ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারি আদেশ, সাংবিধানিক ক্ষমতা হ্রাস, দেশের জনগণের ভোটাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তরুণ সমাজের ভোট বিমুখ, ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।

      ৫. আসামি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকাবস্থায় কার পরামর্শে ও সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিতদের দিয়ে দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে মিথ্যা বিবৃতির মাধ্যমে একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং মিথ্যা গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করেন।

      ৬. তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করার লক্ষ্যে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে প্রহসনমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণ করে কত টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন তা উদঘাটন। যাতে করে কোটি কোটি নতুন প্রজন্মের ভোটাররা ভোট দিতে পারেন নাই। তাতে দেশে স্বৈরাচারের বীজ বপন করা হয়েছিল।

      ৭. নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া স্বত্ত্বেও গ্রেপ্তার আসামি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা কার ইন্ধনে ও কী স্বার্থে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

      ৮. গ্রেপ্তার আসামি একজন ফ্যাসিবাদী বডির মূল নায়ক। তার কাছ থেকে পাতানো নির্বাচনের কৌশল ও জড়িতদের উদঘাটন করা দরকার।

      ৯. গ্রেপ্তার আসামি কোন কোন সংসদ আমলে কার কার কাছ থেকে কত টাকা ঘুষ গ্রহণ ও ফলাফল পরিবর্তন করে গেজেটে সাজানো ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছেন তার তথ্য উদঘাটন করা দরকার।

      ১০. এজাহারনামীয় পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেপ্তার। 

      ১১. মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

      আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে মামলা করেছে বিএনপি। মামলায় মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার (২২ জুন) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

      মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালে তৎকালীন সামরিক শাসকদের সহায়তায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবৈধভাবে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তা পাকা-পোক্ত করার জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে সংসদ নির্বাচনী পদ্ধতি চালু ছিল তা বাতিল করান।

      ২০১৪ সালে শেখ হাসিনাসহ তার সরকার অবৈধভাবে শপথ নেওয়ার পর অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে তিনিসহ তার মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডাররা বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীদের অপহরণ, গুম, গুরুতর জখম, হত্যা ও বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন শুরু করে। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একে এম নূরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

      ২০১৮ সালে পুনরায় সংসদ সদস্যদের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদাসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের অবৈধ সরকারের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানায় এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে থাকে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেন যে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার, তাই তিনি করবেন। তার এই আশ্বাসে বিএনপিসহ সব দল ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপিসহ বিভিন্ন দল মিলে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি সহ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে গেলে অনেক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের বাধার সম্মুখীন হয়।

      বিএনপিসহ ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীরা প্রচারণায় বের হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডারদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন, গুরুতর জখম হন, গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং ভোটের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। নির্বাচনে দলীয় সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা মাঠে নামলে তাদের উপরও আক্রমণ, গুরুতর জখম, হত্যা, অপহরণ ও গুম শুরু হয়। একই কৌশলে সারা বাংলাদেশে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা তৈরি করে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়। কোনো প্রকারেই ভোট প্রচারণায় বের হতে না পারায় বিএনপি ও ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য এবং এসব ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে নুরুল হুদার কাছে আবেদন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে, নুরুল হুদাসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও সেই সময় কোনো প্রকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

      বাংলাদেশ সংবিধানের ৭(এ) এর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে কেবল এই সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্ব দ্বারা কার্যকর করা হবে।’ এর অর্থ হলো রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, তাদের ক্ষমতাই সংবিধানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। অথচ এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার মিলে সম্পূর্ণভাবে জনগণের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সংবিধানের পরিপন্থী কাজ করেছে এবং নির্বাচন সচিব ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিলে এসব ঘটনায় কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি এবং নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনেননি। তৎকালীন অবৈধ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাসহ নির্বাচন কমিশনাররা পূর্ণ সহায়তা করে অবৈধভাবে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন সমাপ্ত করার পরিকল্পনা করেন।

      নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.কে.এম. নুরুল হুদাসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সংবিধানের পরিপন্থী কাজ করে এবং নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিতদের দিয়ে দিনের বেলায় রাতে করে ব্যালট বক্স ভর্তি করে রাখে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকালে কিছু ভোট আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডারদের মাধ্যমে গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করে এবং বিএনপির ৬ জন সংসদ সদস্যকে বিজয়ী ঘোষণা করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে। নুরুল হুদা তার একক নির্দেশে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে। এই কাজের জন্য তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা গ্রহণ করেন।

      একইভাবে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আসামি নুরুল হুদার প্রত্যক্ষ মদদে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়ালসহ অন্যান্য আসামিরা আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        শেখ হাসিনার আদালত অবমাননার মামলায় অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৯ জুন, ২০২৫ ১৩:৫২
        অনলাইন ডেস্ক
        শেখ হাসিনার আদালত অবমাননার মামলায় অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

        বিচারের স্বচ্ছতার স্বার্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় একজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার আরেক আসামি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুল ওরফে মো. শাকিল আলম (৪০)।

        বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

        নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যামিকাস কিউরি হলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান।

        এর আগে গত ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ দুজনকে হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। পরদিন দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এর পরও তারা আদালতে হাজির হননি।

        সম্প্রতি ‘আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ বলে শেখ হাসিনার কণ্ঠে একটি অডিও ভাইরাল হয়। সিআইডি ফরেনসিক পরীক্ষায় এটি শেখ হাসিনার কণ্ঠ বলে নিশ্চিত করে। এরপর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দাখিল করে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও মুন্নী সাহাসহ ২০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

          অনলাইন ডেস্ক
          ৩ জুন, ২০২৫ ১৭:৩৭
          অনলাইন ডেস্ক
          সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও মুন্নী সাহাসহ ২০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

          দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলমান থাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তার স্ত্রী সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম, সাংবাদিক মুন্নী সাহাসহ ২০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

          মঙ্গলবার (৩ জুন) দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন।

          দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক মন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, তার স্ত্রী হাসু ইসলাম, তাদের সন্তান ধানাদ ইসলাম দীপ্ত, ফারাহ ইসলাম প্রভা ও শামা ইসলাম, ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (৬৭)

          যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহীন চাকলাদার, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন, সাংবাদিক মুন্নী সাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মো. কবির হোসেন, আপেল রানী সাহা, তপন কুমার সাহা ও প্রণব কুমার সাহা অপু, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও এস আলমের গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, মো. আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা খায়ের, আব্দুল আজিজ এবং মো. মাসুদুর রহমান শাহ।

          নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। এজন্য সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশন পৃথক সাতটি আবেদনে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করে। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন আদালত।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত