শিরোনাম
অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে রংপুর বিভাগে ৩০ লাখ টিকা সরবরাহ করবে এলআরআই
বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সরকার এর বিস্তার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে।
আজ রোববার (৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক রোগ, যা পশু থেকে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকাদান, পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উঠান বৈঠক, পথসভা, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিসত্বর প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) রংপুর বিভাগে প্রায় ৩০ লাখ অ্যানথ্রাক্স টিকা সরবরাহ করবে, যার মধ্যে রংপুর ও গাইবান্ধা জেলাতেই ২০ লাখ টিকা পাঠানো হবে।
রংপুর জেলার নয়টি উপজেলা—পীরগাছা (৫৩ হাজার ৪০০), কাউনিয়া (৩৪ হাজার), রংপুর সদর (২৬ হাজার ৫০০), মিঠাপুকুর (৩৪ হাজার ৫০০), গঙ্গাচড়া (৪ হাজার ৮০০), তারাগঞ্জ (৪ হাজার ৩০০), বদরগঞ্জ (৫ হাজার) ও পীরগঞ্জে (৫ হাজার) এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার গরুতে টিকা প্রয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া উঠান বৈঠক, পথসভা এবং প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৩৬টি কসাইখানায় গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৩৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া গবাদিপশুতে অ্যানথ্রাক্স টিকা প্রদানের জন্য ৩২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে (মিঠাপুকুর ১৭টি, পীরগাছায় আটটি ও কাউনিয়ায় সাতটি)।
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৬ হাজার ৪০০টি গরুতে টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গরু পুঁতে ফেলা, টিকাদান, মাইকিং, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং পাঁচটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
আপনার শিশকে টাইফয়েড টিকা দিন; ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন
টাইফয়েড জ্বর একটি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সরকারের এই ক্যাম্পেইন শুধু শিশুদের জীবন রক্ষা নয়, দীর্ঘমেয়াদে টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাংলাদেশে টাইফয়েড জ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব রোধে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করছে সরকার। ইপিআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এ উদ্যোগে শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ টিকা সাধারণ টাইফয়েড প্রতিরোধের পাশাপাশি দিন দিন বেড়ে চলা ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েডের বিস্তার রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মৃত্যু ঘটে প্রায় এক লাখ দশ হাজার মানুষের। আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার মানুষ। উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশেই কমেছে। তবে বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে এই সংক্রামক রোগ এখনো অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
দ্য গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজের বরাত দিয়ে বাংলাদেশে টাইফয়েডের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ভয়াবহ বিষয় হলো, মৃতদের ৬৮ শতাংশই শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বাস্তবতা বাংলাদেশে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টাইফয়েড টিকার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
টাইফয়েড কেন হয়: টাইফয়েড জীবাণু স্যালমোনেলা টাইফি দ্বারা সৃষ্ট। এটি মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। ঝুঁকি বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং যেখানে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভাব রয়েছে। আক্রান্ত হলে শুধু শারীরিক জটিলতাই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, টাইফয়েড চিকিৎসায় ব্যবহৃত বহু অ্যান্টিবায়োটিক আর কার্যকর থাকছে না। জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, ফলে ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েড ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় টিকা গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে টাইফয়েড রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একদিকে ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েডের ঝুঁকি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজের ওপর অর্থনৈতিক চাপও কমবে। একবার টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে শুধু চিকিৎসা খরচই নয়, দীর্ঘ সময় কর্মক্ষমতা হারাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়ে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই।
https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv -এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্ধারিত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৬২২
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬২২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সঙ্গে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৩১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৯৯ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫১ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে গত এক দিনে সারাদেশে ৫০৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৮৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৩৯ হাজার ৮১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৬১ জনের।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় ও পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৬৩৬ জন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে দুজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুজন আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৪ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সাতজন ও সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চারজন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের এ যাবত ৩৬ হাজার ৫২৮ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫৫। এছাড়া, এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৫২৭ জন।
মেডিকেল ভর্তিতে অটোমেশন : বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা সেক্টর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র
অটোমেশনের কারণে সিট খালি থাকছে দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে। সে কারণে এ পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, এটি খুবই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত আর ভর্তি হন না। শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এই দুশ্চিন্তায় অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকার পরও তারা অন্যত্র ভর্তি হয়। ফলে সিট খালি থাকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন সচেতন অভিভাবক ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। ফলে অটোমেশন পদ্ধতিতে ভর্তি পক্রিয়া বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষা বর্ষে সব মিলিয়ে ৪৬৭টি আসন ফাঁকা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষার্থী না পেয়ে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে লোকসান গুনতে গুনতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তারা বলছে, অটোমেশনের কারণে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হতে চার থেকে ছয় মাস লেগে যাচ্ছে। ২০২২-২৩ শিক্ষা বর্ষে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করলেও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কিংবা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। অটোমেশন চালু হওয়ার পর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২১৭ টি, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১৪২ টি আসন ফাঁকা ছিল। অটোমেশন পদ্ধতি চালুর আগে দেশের কোন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ফাঁকা থাকতো না।
বেসরকারি মেডিকেলে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব অর্থায়নে লেখাপড়া করেন, কিন্তু সেই শিক্ষার্থীদেরই পছন্দের মূল্যায়ন হয় না। এ কারণেও বেসরকারি মেডিকেলে কলেজে পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শুধু দেশীয় শিক্ষার্থী নন, বিদেশী শিক্ষার্থীরাও অটোমেশন জটিলতায় বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের দাবি, অটোমেশনের নামে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
অন্য দিকে অভিভাবকরা বলছেন, অর্থ খরচ করেন তারা, পছন্দ ঠিক করে দেয় সরকার- এটি হতে পারে না। অটোমেশনের কারণে অর্থ থাকলেও পছন্দের কলেজে অনেকেই ভর্তি হতে পারছেন না। অটোমেশন পদ্ধতি বাতিল করে আগের ব্যবস্থায় ফিরে গেলে শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সুবিধা হবে।
প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, এসব ছাড়াও বেসকারি মেডিকেল কলেজ রিকগনিশন কমিটি (বিএমএন্ডডিসি, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়) পৃথকভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনের নামে ঝামেলা করে। তাদেরকে উৎকোচ না দিলে ঝামেলা মেটানো যায় না, শেষ পর্যন্ত উৎকোচ দিতেই হয়।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো আরো অভিযোগ করছে, অটোমেশনের কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৈরি ‘ভর্তি হতে ইচ্ছুক’ তালিকায় শিক্ষার্থীদের পছন্দকে গুরুত্ব না দেয়ায় অনেকে শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস কোর্স শেষ করতে পারেন না, ঝরে পড়েন। যেমন রাজধানীতে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা রাজধানীতেই থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু যারা ঢাকার বাইরে গ্রামের দিকে চলে যেতে বাধ্য হন তারা অনেক সময় ঝরে পড়েন। তা ছাড়া নিজেদের পছন্দ উপেক্ষিত হয় বলেও শেষ পর্যন্ত মানিয়ে নিতে পারেন না বলে ঝরে পড়েন অনেকে।
এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চিকিৎসা শিক্ষা খাতে এক দেশে দুই নীতি। আর্মি মেডিকেল কলেজ গুলো অটোমেশনের বাইরে রয়েছে। তারা সরকারী নীতিমালার বাইরে থেকে মেডিকেল কলেজ পরিচালনা করছেন। সুতরাং অটোমেশনরে নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। আর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকার এই খাতে পৃষ্ঠপোষকতা না করে উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে সরকার। হঠাৎ হঠাৎ সরকারী নীতিমালায় উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সেক্টর ধ্বংস করার নীলনকশা করা হয়েছে। এতে বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকারীরা নিরুত্সাহিত হচ্ছে।
বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ সেক্টর ধ্বংস করার নীলনকশা করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে প্রতিষ্ঠান গড়া কঠিন, ধ্বংস করা সহজ। প্রাইভেট সেক্টরে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা নিজের চয়েজমতো ভর্তি হবেন। কিন্তু অটোমেশনের কারণে তারা তা পারছেন না। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবাই হতাশ। হাত-পা বেঁধে পানিতে সাঁতার কাটতে দেয়ার মতো অবস্থায় অটোমেশন। যার জন্য এই পেশায় আসতে শিক্ষার্থীরা নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। অটোমেশনের নামে এই সেক্টরকে ধ্বংস করার অপপ্রয়াস চলছে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আসন শূন্য থাকায় ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষা বর্ষে অটোমেশনে ৪ থেকে ৬ বার মেধা তালিকা পাঠানো হলেও অনেকেই তাদের পছন্দের কলেজ না পেয়ে ভর্তি হয়নি। এ ছাড়া প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল না পড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এমনকি বিনা খরচে দরিদ্র ও মেধাবী কোটায় থাকার পরও পছন্দমতো কলেজ না পেয়ে লেখাপড়া শেষ করেননি অনেকে। অটোমেশন চালু হওয়ায় ক্লাসও বিলম্বে শুরু করতে হয়। কয়েকবার মেধা তালিকা প্রকাশের পরও আসন খালিই থাকছে। আবার এই বার বার মেধা তালিকা প্রকাশের কারণে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বিদেশী শিক্ষার্থীরাও আগের মতো ভর্তি হচ্ছে না বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসন ৪৫ শতাংশ পূরণ হয়েছিল। কিন্তু ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষাবর্ষে ২৩ শতাংশ বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসন ফাঁকা রয়েছে। ফলে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষাখাতে সরকার কাঙিখত বৈদেশিক মুদ্রা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দীন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষায় বেসরকারি খাতের অবদান অপরিসীম। কিন্তু সরকার বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষার সহজীকরণে নজর না দিয়ে নতুন নতুন নীতিমালা তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকারী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে অটোমেশন চালু করেছে।
তিনি আরো বলেন, অটোমেশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। যা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বান্ধব না। এ কারণে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। যেমন চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী বরিশালে গিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চায় না। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিচ্ছুরা অধিকাংশ ধনী পরিবারের। তারা নিজেদের পছন্দ মতো মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চায়। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুতরাং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই অটোমেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করা প্রয়োজন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য