ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

কিট অপচয়ের ভয়ে ‘পরীক্ষা বন্ধ’

ঢাকায় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে চিকুনগুনিয়া

অনলাইন ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৫ ১৪:৫৮
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকায় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে চিকুনগুনিয়া

ঢাকার বাসাবোর গৃহবধূ জিনাত পারভিন গত ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ করে অস্থিসন্ধিতে ব্যথাসহ জ্বরে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান, ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরপর চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করাতে গিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কমপক্ষে দশটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরেও চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করাতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে বেসরকারি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রোগ নির্ণয় ছাড়াই চিকিৎসা নিতে হয়।

এমন অভিজ্ঞতা শুধু জিনাতের নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের অভাবে বহু রোগী এখন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ, সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ৮ বছর ধরে চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা এক প্রকার বন্ধ।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, চলতি জুন মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে রাজধানীতে জ্বর ও উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসা ১৭১ জন রোগীর মধ্যে ১৪০ জনের শরীরে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার প্রায় ৮২ শতাংশ। সংস্থাটি একে উচ্চ সংক্রমণের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে চিহ্নিত করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ঢাকায় প্রথম বড় আকারে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আইসিডিডিআরের হিসাবে সে বছর অন্তত ১৩ হাজার রোগী শনাক্ত হলেও বাস্তবে সংখ্যাটি লাখ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা গবেষকদের। এরপর একে ‘কম গুরুত্বের রোগ’ ঘোষণা করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে এর পরীক্ষার কিট সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন মৃত্যু প্রায় নেই বলে কিট কেনার প্রয়োজনীয়তা আর দেখা দেয়নি

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। 

আইসিডিডিআর,বি, কিল ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাজ্য) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল এই জরিপে ৩৯৪ জন উপসর্গধারী রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে, যাদের মধ্যে ১৩৮ জনের (৩৫ শতাংশ) রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই ১৩৮ জনের মধ্যে— ৯৮.৫ শতাংশ রোগী ঢাকার বাসিন্দা, যার মধ্যে ৫২ শতাংশ রোগী ঢাকা দক্ষিণে এবং ৪৬ শতাংশ ঢাকা উত্তরের। বাকি দুজন নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের। আক্রান্ত এসব রোগীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৫ শতাংশ নারী। এমনকি আক্রান্ত প্রায় ৮৩ শতাংশ রোগীর বয়স ৩০ বছরের বেশি।

জরিপে দেখা গেছে, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ৯৬ শতাংশ ভুগেছেন জয়েন্ট পেইনে। এ ছাড়া, ২৯.৪ শতাংশ রোগী ক্লান্তিতে ভুগেছেন, ১৯ শতাংশ রোগীর অস্থিসন্ধি ফুলে গিয়েছে। এমনকি আক্রান্ত প্রায় ৮১ শতাংশ রোগীর ২৮ দিন পরও উপসর্গ বিদ্যমান ছিল বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, এই রোগের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো— দীর্ঘমেয়াদী গিঁট ব্যথা, যা বহুদিন স্থায়ী হয় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।

জরিপের তথ্য বলছে, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের গড়ে একজন রোগী ১০ দশমিক ৫ কর্মদিবস হারাচ্ছেন, যার ফলে প্রতিজনের অর্থনৈতিক ক্ষতি গড়ে ৭৩ দশমিক ৩ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮ হাজার টাকা)।

গবেষকদের মতে, ঢাকায় বর্তমানে এডিস মশার বিস্তার ও আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মক হারে বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা কার্যক্রমের প্রধান সদস্য ও আইসিডিডিআর,বির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ বলেন, এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আমরা নিয়মিতভাবে পজিটিভ কেস পাচ্ছি। সামনের মাসগুলোতে, বিশেষ করে ডেঙ্গু মৌসুমে চিকুনগুনিয়াও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদে মানুষের দেশব্যাপী চলাচলের ফলে এটি সারা দেশে ছড়াতে পারে।

‘উপেক্ষিত’ ভাইরাস, জ্বরগুলো ফিরছে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা নিয়ে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন খান জানান, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকা ভাইরাস জ্বরগুলো আবারও ফিরে এসেছে এবং এদের অনেকগুলো রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের পর দেশে আবারও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ১৯ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ২২ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত সময়কালে দেশে মোট ৫২০ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬১ জনের দেহে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যদিও এই ভাইরাসে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম, তবে রোগ পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো— বিশেষ করে গিঁটে তীব্র ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ, দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা— রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে গভীর প্রভাব ফেলছে। তাই এটি কেবল সাধারণ ভাইরাস জ্বর হিসেবে বিবেচনা করে অবহেলা করা বিপজ্জনক।

ডা. আবেদ আরও বলেন, ডেঙ্গুও একইভাবে আবারও বড় হুমকির রূপ নিচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকহারে বাড়ছে। আগের বছরগুলোতে মূলত ঢাকা শহরে ডেঙ্গু বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে তা ছড়িয়ে পড়েছে বরিশাল, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৮৭৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে শুধুমাত্র বরিশাল জেলাতেই ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবার তিনটি ভিন্ন সেরোটাইপ (DEN-1, DEN-2, DEN-3) দ্বারা সংক্রমণ হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা রোগীদের জটিলতায় ফেলছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া— উভয়েরই মূল বাহক এডিস মশা। অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাবদ্ধতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী উদ্যোগের অভাব— এই রোগগুলোর বিস্তারের প্রধান কারণ। শুধুমাত্র চিকিৎসায় এই সমস্যা সমাধান হবে না। প্রয়োজন যথাযথ নগর পরিকল্পনা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

বন্দুক আছে গুলি নেই, মশা মারার কীটনাশক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো এডিস মশাবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঢাকায় ব্যবহৃত কীটনাশক (ইনসেকটিসাইড) কতটা কার্যকর— তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম ছারোয়ার বলেন, আপনার হাতে যদি বন্দুক থাকে, কিন্তু গুলি হয় খেলনার, তাহলে সেই গুলিতে কি আপনি শত্রু মারতে পারবেন?

ঢাকা পোস্টকে ডা. ছারোয়ার বলেন, সিটি করপোরেশনগুলো ইনসেকটিসাইড ছিটালেও সেটি কতটুকু কার্যকর, সেখানে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট (সক্রিয় উপাদান) সঠিক মাত্রায় আছে কি না— তা নিয়ে এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ নেই। অথচ এটাই হচ্ছে ভাইরাসবাহিত রোগ দমন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। একটি সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের আমি জিজ্ঞেস করেছি, তারা ইনসেকটিসাইড কোথায় ছিটায়। তারা বলছে, বাড়ির পাশে জমে থাকা পানিতে। প্রশ্ন হলো সেই পানিতে প্রাপ্তবয়স্ক (এডাল্ট) মশা থাকে নাকি কেবল লার্ভা থাকে? কারণ, লার্ভা ধ্বংসের জন্য ‘লার্ভিসাইড’ দরকার, আর এডাল্ট মশা নিয়ন্ত্রণে ‘এডাল্টিসাইড’। অথচ আমরা জানিই না কোন পর্যায়ে কী প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ওষুধের মান নয়, এর প্রয়োগ পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডা. ছারোয়ার বলেন, যে দূরত্ব থেকে ইনসেকটিসাইড ছিটানো উচিত, সে মানদণ্ডও আমরা অনুসরণ করছি না। ভুল দূরত্ব ও কোণে স্প্রে করলে কার্যকারিতা শূন্যে গিয়ে ঠেকে। এই অবস্থায় পুরো প্রক্রিয়াই অর্থহীন হয়ে যায়।

বাহকভিত্তিক কৌশলের অভাব উল্লেখ করে ডা. ছারোয়ার আরও বলেন, বর্তমানে এডিস মশার দুই প্রজাতি— এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস বাংলাদেশে বিস্তৃত। এদের মধ্যে একটি ছায়াযুক্ত আবাসস্থলে বেশি থাকে, অপরটি খোলা জায়গায়। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা— তিনটি ভাইরাসই এই মশা দ্বারা সংক্রমিত হলেও বাহকের আচরণ আলাদা হওয়ায় প্রতিরোধ কৌশলও আলাদা হওয়া প্রয়োজন।

মৃত্যু না হলেও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা রেখে যায় চিকুনগুনিয়া
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম হলেও রোগীর শারীরিক ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি তৈরি করে। এই ভাইরাসজনিত সংক্রমণে হঠাৎ করে জ্বর ওঠে, তারপর গিঁটে অসহনীয় ব্যথা দেখা দেয়, যা অনেক সময় মাসের পর মাস থেকে যায়। অনেক রোগীই স্বাভাবিক চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা হারান। এমনকি হালকা কাজ করতেও সমস্যায় পড়েন।

তিনি আরও বলেন, চিকুনগুনিয়ার এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসা বলতে মূলত লক্ষণ-উপসর্গের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ব্যথানাশক ওষুধ, বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও শরীরের পরিচর্যার মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হয়। কিন্তু এই লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার জন্য আগে রোগ নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে হয়। রোগ শনাক্ত না হওয়ায় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হয়, রোগী আরও বিপদে পড়ে।

তার মতে, চিকুনগুনিয়াকে ‘হালকা’ ভাইরাস জ্বর হিসেবে ধরে নেওয়া এক ধরনের ঝুঁকি। কারণ, এর প্রভাব ডেঙ্গুর মতো তীব্র না হলেও দীর্ঘমেয়াদে একজন মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে দিতে পারে এটি।

চিকুনগুনিয়া পরীক্ষায় ঘাটতির প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, চিকুনগুনিয়ার জন্য এখন সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে আইইডিডিআর ও রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব রোগীকে সন্দেহভাজন  হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্যাম্পল পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়ায় সাধারণত ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস বেশি কার্যকর। সব রোগীর ক্ষেত্রে আলাদা করে রক্ত পরীক্ষা করার দরকার পড়ে না। যদি সবকিছুই টেস্টের ওপর নির্ভর করে, তাহলে তো চিকিৎসকদের ভূমিকা থাকছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কনসালটেন্টরা রোগীর উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করতে পারেন।

কেন পরীক্ষা বন্ধ বা সীমিত, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. মঈনুল বলেন, বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালেই সব ধরনের টেস্ট থাকে না। এটা নির্ভর করে রোগীর চাহিদা বা প্রয়োজনের ওপর। ধরুন, আমি যদি এক হাজার কিট কিনি, আর সেই পরিমাণ রোগী না আসে, তাহলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। কোভিডের সময় এ রকম অনেক কিট শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়েছে। তখন আবার অভিযোগ ওঠে অপচয়ের।

তিনি আরও বলেন, চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু অনেকটাই কাছাকাছি, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাও প্রায় একই। তাই সবাইকে পরীক্ষা করতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা রোগপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে সন্দেহভাজন নমুনা সংগ্রহ করে নির্ভরযোগ্য ল্যাবগুলোতে পাঠাই।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ঢামেক, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ

    অনলাইন ডেস্ক
    ২১ জুন, ২০২৫ ১৬:১৩
    অনলাইন ডেস্ক
    অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ঢামেক, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছাত্র-ছাত্রীদের রোববার (২২ জুন) দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পেশাগত ও এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবেন।

    শনিবার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ অনুষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজের চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে কলেজের এমবিবিএস ছাত্র-ছাত্রীদের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

    উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আবাসিক ও একাডেমিক ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ও মিলন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

    তাদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল—

    • পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ছাত্রাবাসের বিকল্প ব্যবস্থা।

    • নতুন ছাত্রাবাস ও একাডেমিক ভবনের বাজেট পাস।

    • শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দাবিগুলো মানা না হলে তারা নিজেরাই একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেবেন। তবে তার আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলেজ বন্ধের ঘোষণা এলো।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৭ জুন, ২০২৫ ২২:৫৯
      অনলাইন ডেস্ক
      করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮

      সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

      এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। 

      নতুন করে ১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৬ জন। আর নতুন করে দুজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৫০৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

      আরও পড়ুন: সংসদ সদস্যগণ কেবলমাত্র অর্থবিল এবং আস্থাভোটে দলের প্রতি অনুগত থাকবেন: আলী রীয়াজ 

      গত সোমবার ২৫ জনের করোনা শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

      স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        সচেতনতা আবশ্যক

        একদিনে আরো ২৩৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৬ জুন, ২০২৫ ১৮:৫১
        অনলাইন ডেস্ক
        একদিনে আরো ২৩৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত
        ছবি : সংগৃহীত

        রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩৪ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।

        সোমবার (১৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

        এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এমন রোগী বরিশাল বিভাগে ১১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩২ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২৮ জন, খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন।

        চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৬ হাজার ২২২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।

        এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ১৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৮৯ জন।


        প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

        মন্তব্য

        করোনার নতুন ধরন নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৫ জুন, ২০২৫ ২০:১৯
        অনলাইন ডেস্ক
        করোনার নতুন ধরন নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

        দেড় বছর পর আবার করোনায় সম্প্রতি তিনজনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে বেড়েছে কিছুটা উদ্বেগ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবাইকে শুধু একটু সচেতন থাকতে হবে।

        ২০২৫ সালের ৫ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রবীণ এক ব্যক্তি, ১৩ জুন রাজধানী ঢাকায় একজন এবং চট্টগ্রামে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই তিনজনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জারি করা হয়েছে ১১টি নির্দেশনা।

        জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে যারা বয়স্ক, শারীরিকভাবে দুর্বল কিংবা আগে থেকে জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানাটা জরুরি। কেননা তাদের জন্য এই ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক হতে পারে।

        আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) তথ্যমতে, চলতি বছর সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো করোনার নতুন দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট এক্সএফজি এবং এক্সএফসি। যেগুলো ওমিক্রন জেএন. ১-এর একটি উপ-শাখা। সম্প্রতি যেসব নমুনা পাওয়া গেছে, তার প্রায় সবগুলোতে এক্সএফজি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি।

        স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, এখন পর্যন্ত দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা করোনা সংক্রমণের যে হার, তাতে উদ্বেগের কিছু নেই। অনেকদিন ধরে কোভিডের কোনো রোগী ছিল না। ফলে আমাদের হাসপাতালগুলোতে তেমন কোনো প্রস্তুতি রাখা হয়নি। এখন যেহেতু অল্প পরিমাণে সংক্রমিত রোগী পাওয়া যাচ্ছে, ফলে আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও কুর্মিটোলা হাসপাতালকে প্রস্তুত করেছি। আপাতত ৫০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশি শয্যা প্রস্তুত করে কী করব- হাসপাতালে তেমন রোগীর চাপ নেই।

        স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ায় নতুন করে পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সব রোগীদের করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র যাদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে এবং যারা জটিল অবস্থায় রয়েছে, তারাই করোনা পরীক্ষা করাবেন।

        ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে আবু জাফর বলেন, যাদের কখনোই ভ্যাকসিন দেয়া হয়নি তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে। বিশেষ করে ১৮ বছরের উপরে যারা, বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করেন, অন্তঃসত্ত্বা নারী তাদের ভ্যাকসিন দিতে হবে। আর পুরাতনদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি।

        তিনি বলেন, আশপাশের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণের হার কম। যেহেতু পাশের দেশগুলোয় কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তাই সরকারের দায়িত্ব হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

        জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইসিডিডিআরবির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক আহমেদ বলেন, শুধু বাংলাদেশই নয়; থাইল্যান্ড, চীন ও ভারতেও করোনার কিছু নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। যেগুলো দ্রুত সংক্রমিত করতে পারে। তবে বর্তমানে দেখা দেওয়া উপধরনগুলো আগের মতো প্রাণঘাতী নয়। সাধারণ জ্বর, সর্দি বা মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতো। রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে না। তাই ভাইরাস বহনকারী ব্যক্তিরা এখন আর পরীক্ষা করছেন না। কিন্তু এখন থেকেই স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে গুরুত্ব না দিলে এটি আরও বাড়তে পারে।

        স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষা চালু হয়েছে। যেসব হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব রয়েছে, শুধু সেখানেই শুরুতে এই সুবিধা মিলবে।

        তিনি জানান, স্থানীয় কোম্পানিগুলো থেকে পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও কিট আমদানির জন্য সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোকে (সিএমএসডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাদের উপসর্গ থাকবে, তারাই পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। সংক্রমণের হার যদি আরও বাড়ে, তাহলে পরীক্ষার পরিধিও বাড়ানো হবে।

        জনগণকে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ বলেন, ‘আমরা চাই না পরিস্থিতি আবার হাতের বাইরে চলে যাক। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

        হাসপাতালগুলোতে আলাদা করে কোভিড শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. মো. মঈনুল আহসান বলেন, দেশের সব হাসপাতালে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর মহাখালীর উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে সাধারণ ৫০ শয্যা ও আইসিইউর ১৫ শয্যা শুধু করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর মুগদা ও কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা রোগীর জন্য খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে।

        তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের স্থল ও নৌবন্দরগুলোর পাশাপাশি সবকটি বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। 

        ভারতসহ যেসব দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়েছে, ওইসব দেশে ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রয়োজন ছাড়া ওইসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

        এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের করণীয়তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ১১ নির্দেশনাও। এছাড়া প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে অথবা আইইডিসিআর (০১৪০১-১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩) নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

        এদিকে স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে করোনাবিষয়ক কলের সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়েছে। এ নম্বরে ফোন করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য বাতায়নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনায় মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই আমরা এ-সংক্রান্ত কল বেশি করে পাচ্ছি। যেটা আগে ছিল না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও করোনা বৃদ্ধির কথা বলছে। বিশেষ করে ভারতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে এ সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে দেখা যাচ্ছে।

        সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার এএফএম শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘আমাদের হাতে এখন ৩২ লাখ ফাইজারের তৈরি করোনার টিকা আছে। এর মধ্যে গত দুই মাসে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ ডোজ ফাইজারের টিকা সব জেলায় পাঠানো হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হবে ৬ আগস্ট। এর বাইরে আছে আরও ১৫ লাখ টিকা।’

        ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫০২ জনের। চলতি বছরে ১৪ জুন পর্যন্ত  তিনজন করোনায় মারা গেছেন। ২০২৪ সালে কেউ মারা না গেলেও ২০২৩ সালে ৩৭ জন এবং ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত