ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

রাবিপ্রবিতে ‘রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড প্যাটেন্ট’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৩
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
রাবিপ্রবিতে ‘রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড প্যাটেন্ট’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্যাটেন্ট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারটি বুধবার(২৮ জানুয়ারি)  সকাল ১১ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইনে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান । কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানী লিমিটেড (বিএসসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে সেমিনারকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে বলেন, “গোটা বিশ্ব এখন গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্যাটেন্ট নিয়ে কাজ করছে। আগামীর পৃথিবীতে ও জ্ঞানের জগতে নিজের মেধাস্বত্ব নিয়ে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে এখন থেকে এ বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে।”

কী-নোট স্পিকার ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান তাঁর উপস্থাপিত প্রবন্ধে প্যাটেন্ট সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, উদ্ভাবনী আইডিয়াকে স্টার্টআপ ও শিল্পখাতে রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিক থেকে এসব বিষয় উপস্থাপন করে অংশগ্রহণকারীদের উদ্বুদ্ধ করেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তালেব, আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ এবং আইকিউএসি (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) মাহবুব আরা।

উল্লেখ্য, সেমিনারের লক্ষ্য ছিল জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করা এবং গবেষণার ফলাফলকে প্যাটেন্টের মাধ্যমে বাণিজ্যিকীকরণ করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের পথ উন্মুক্ত করবে।

এই ধরনের উদ্যোগ রাবিপ্রবিকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নানা আয়োজনে যবিপ্রবির জন্মদিন পালিত

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    নানা আয়োজনে যবিপ্রবির জন্মদিন পালিত

    বর্ণিল পথ আল্পনা, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও কেক কাটা, পিঠা উৎসব, বিভিন্ন বিভাগীয় পিঠা স্টল ও আলপনা পরিদর্শন, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, জুলাই কর্ণার উদ্বোধন, দেশীয় লোকসঙ্গীত পরিবেশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও আমন্ত্রিত ব্যান্ড দলের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।


    সকাল ১০ টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ জাতীয় পতাকা এবং রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাকির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচীর শুভসূচনা করেন। সকাল ১০.৩০ মিনিটে প্রধান ফটক থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা, বেলুন উড়ানো ও কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য।

    এরপর যবিপ্রবি উপাচার্য ও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর সহ উপস্থিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ জুলাই কর্ণার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগের পিঠা উৎসবের স্টল, পথ আল্পনাসমূহ ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন পরিদর্শন করেন। স্টলগুলোতে নানা ধরণ, বাহারী আকৃতি ও ঋতু বৈচিত্র অনুযায়ী সুস্বাদু পিঠার পসরা দেখে সবাই চমৎকৃত হন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকার ও বয়স অল্প হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের অনেক প্রবীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অত্যাধুনিক গবেষণাগার, আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুন্দর পরিবেশ এবং ক্রীড়া চর্চার জন্য দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জিমনেসিয়াম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ক্রীড়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের জমি অধিকরণের বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে আমরা জমি অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বরাবর ডিপি জমা দিয়েছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির যে চাহিদা আছে সরকার সেই চাহিদা পূরণ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

    যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ আরোও বলেন, আজকে আমাদের ছেলে মেয়েরা রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে আলপনা, পিঠা স্টল, পিঠা বানানোসহ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস সফলভাবে পালনে যে ভূমিকা রেখেছে তাঁর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন কারুকার্যেও সৃজনশীলতার ছাপ রেখে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস তারই উদাহরণ।

    ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ রাফিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. আফরোজা খাতুন, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মোঃ কোরবান আলী, ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এস. এম. নূর আলম সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, দপ্তর প্রধানগণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহনূর রহমান। বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

    উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী মৌজায় ৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি অনুষদের অধীনে ২৭ টি বিভাগ রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে প্রায় ৪ হাজার ২৩১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ মোট ৩৪৫ জন শিক্ষক, বিভিন্ন গ্রেডের ১৬২ জন কর্মকর্তা এবং ৩৪৪ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      রুয়েটের ফলাফল প্রকাশ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:১৮
      অনলাইন ডেস্ক
      রুয়েটের ফলাফল প্রকাশ

      রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

      এর আগে ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রুয়েটের মূল ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ভর্তি পরীক্ষা রুয়েট ক্যাম্পাস এবং ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)—এই দুই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৮ হাজার ২৭৭ জন ভর্তি পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৫ হাজার ৫৬৭ জন। দুই কেন্দ্র মিলিয়ে উপস্থিতির হার ছিল ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে রাজশাহীর রুয়েট কেন্দ্রে উপস্থিতি ছিল ৬ হাজার ৮৭৮ জন (৮১ দশমিক ১৪ শতাংশ) এবং বুয়েট কেন্দ্রে উপস্থিতি ছিল ৮ হাজার ৬৮৯ জন (৮৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ)।


      এক শিফটে দুটি গ্রুপে সম্পন্ন হয়। ‘ক’ গ্রুপের পরীক্ষা সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং ‘খ’ গ্রুপের (স্থাপত্য) পরীক্ষা দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলে। ‘ক’ গ্রুপে চারটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন ছিল—পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত ও ইংরেজি। অপরদিকে ‘খ’ গ্রুপে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যবিপ্রবির এক শিক্ষক ও এক প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৬
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        যবিপ্রবির এক শিক্ষক ও এক প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

        যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষক ও এক প্রকৌশলীকে পৃথক অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ড।

        মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত যবিপ্রবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ১১১তম সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

        রিজেন্ট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোর কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে তথ্য পাঠানোর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেন, ড. ইঞ্জি.-কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ৩ জানুয়ারি ছুটিতে যাওয়ার পূর্বের নির্দেশনাও বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য রিজেন্ট বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলতাফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

        এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগনামার জবাব গ্রহণ ও শুনানি পরিচালনার জন্য রিজেন্ট বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ হাসানকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

        এদিকে রিজেন্ট বোর্ড সভায় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), মার্কেটিং এবং ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৯
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স

          রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ও লেকের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে 'রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স'। রাবিপ্রবি এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ আয়োজনে দুইদিনব্যাপী এই কনফারেন্সে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তির ভূমিকা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কনফারেন্সটি পর্যটন পেশাজীবী, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষাবিদদের এক মিলনস্থল হয়ে উঠেছিল, যা সহায়তা করবে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুন দিশা দিতে।

          কনফারেন্স শুরু হয় শুক্রবার দুপুর ৩:৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে। অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমানের বক্তব্য দিয়ে। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন।  

          প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, "এই কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটিতে পর্যটন পেশাজীবী এবং একাডেমিক মানুষদের নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ হয়েছে। আমরা কোলাবোরেশনের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে চাই।" তিনি রাঙ্গামাটির অপার পর্যটন সম্ভাবনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক হওয়ার আহ্বান জানান।

          রাবিপ্রবি উপাচার্য ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে পর্যটনের এই সম্মেলনের মাধ্যমে পর্যটন নিয়ে কাজ করা গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের এক মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে পাহাড় ও লেক সমৃদ্ধ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের পর্যটনের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র হবে। কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গামাটির মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনে এবং রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পকে আমূল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

          বিশেষ অতিথি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর রাঙ্গামাটিকে ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ট্যুরিজমের জন্য উপযোগী বলে উল্লেখ করেন, সাথে চ্যালেঞ্জগুলো স্মরণ করিয়ে দেন।  

          প্লেনারি সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল হাসান এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম।  

          কনফারেন্স এর দ্বিতীয় দিনে টেকসই পর্যটন, পলিসি ও উন্নয়ন, পর্যটন খাতে প্রযুক্তি, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা ও উদ্ভাবন, কমিউনিটি, সংস্কৃতি, হালাল ট্যুরিজম ও পর্যটকদের আচরণ থিমে টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

          কনফারেন্সে অংশ নেন সী পার্ল হসপিটালিটি গ্রুপ, অক্সফোর্ড ইমপেক্ট গ্রুপ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়।

          এছাড়াও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, লিডিং ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকরা।  

          শনিবার বিকাল ৩:৪৫ ঘটিকায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি উপাচার্য ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। কনফারেন্স সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিনের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় অনুষ্ঠানের।  

          এই কনফারেন্সে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে টেকসইতা, প্রযুক্তি এবং কমিউনিটি অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটির মতো অঞ্চলকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদী গবেষকরা।

          উল্লেখ্য, রাবিপ্রবির আয়োজনে দেশের দ্বিতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স এর মিডিয়া পার্টনার ছিলো নতুন দিনের সংবাদ মাধ্যম দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত