ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

যবিপ্রবির এক শিক্ষক ও এক প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৬
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
যবিপ্রবির এক শিক্ষক ও এক প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষক ও এক প্রকৌশলীকে পৃথক অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ড।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত যবিপ্রবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ১১১তম সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রিজেন্ট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোর কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে তথ্য পাঠানোর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেন, ড. ইঞ্জি.-কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ৩ জানুয়ারি ছুটিতে যাওয়ার পূর্বের নির্দেশনাও বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য রিজেন্ট বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলতাফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগনামার জবাব গ্রহণ ও শুনানি পরিচালনার জন্য রিজেন্ট বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ হাসানকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে রিজেন্ট বোর্ড সভায় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), মার্কেটিং এবং ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৯
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স

    রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ও লেকের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে 'রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স'। রাবিপ্রবি এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ আয়োজনে দুইদিনব্যাপী এই কনফারেন্সে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তির ভূমিকা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কনফারেন্সটি পর্যটন পেশাজীবী, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষাবিদদের এক মিলনস্থল হয়ে উঠেছিল, যা সহায়তা করবে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুন দিশা দিতে।

    কনফারেন্স শুরু হয় শুক্রবার দুপুর ৩:৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে। অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমানের বক্তব্য দিয়ে। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন।  

    প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, "এই কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটিতে পর্যটন পেশাজীবী এবং একাডেমিক মানুষদের নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ হয়েছে। আমরা কোলাবোরেশনের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে চাই।" তিনি রাঙ্গামাটির অপার পর্যটন সম্ভাবনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক হওয়ার আহ্বান জানান।

    রাবিপ্রবি উপাচার্য ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে পর্যটনের এই সম্মেলনের মাধ্যমে পর্যটন নিয়ে কাজ করা গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের এক মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে পাহাড় ও লেক সমৃদ্ধ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের পর্যটনের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র হবে। কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গামাটির মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনে এবং রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পকে আমূল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    বিশেষ অতিথি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর রাঙ্গামাটিকে ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ট্যুরিজমের জন্য উপযোগী বলে উল্লেখ করেন, সাথে চ্যালেঞ্জগুলো স্মরণ করিয়ে দেন।  

    প্লেনারি সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল হাসান এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম।  

    কনফারেন্স এর দ্বিতীয় দিনে টেকসই পর্যটন, পলিসি ও উন্নয়ন, পর্যটন খাতে প্রযুক্তি, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা ও উদ্ভাবন, কমিউনিটি, সংস্কৃতি, হালাল ট্যুরিজম ও পর্যটকদের আচরণ থিমে টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

    কনফারেন্সে অংশ নেন সী পার্ল হসপিটালিটি গ্রুপ, অক্সফোর্ড ইমপেক্ট গ্রুপ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়।

    এছাড়াও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, লিডিং ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকরা।  

    শনিবার বিকাল ৩:৪৫ ঘটিকায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি উপাচার্য ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। কনফারেন্স সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিনের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় অনুষ্ঠানের।  

    এই কনফারেন্সে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে টেকসইতা, প্রযুক্তি এবং কমিউনিটি অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটির মতো অঞ্চলকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদী গবেষকরা।

    উল্লেখ্য, রাবিপ্রবির আয়োজনে দেশের দ্বিতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স এর মিডিয়া পার্টনার ছিলো নতুন দিনের সংবাদ মাধ্যম দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুখবর

      অনলাইন ডেস্ক
      ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৯
      অনলাইন ডেস্ক
      দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুখবর

      বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ফ্রিল্যান্সারদের নিবন্ধন ও আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) দেবে সরকার। এ জন্য জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পন্ন হয়েছে।

      মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।

      নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আইডি কার্ড দিয়ে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা, সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে লাভ করতে পারবেন।

      বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জিত হলো। দেশের প্রথম জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd-এর ভালনারেবিলিটি এসেসমেন্ট এন্ড পেনেট্রেশণ টেস্টিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

      মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে।

      এই উদ্যোগটির মাধ্যমে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সংযোগ আরো শক্তিশালী হবে। যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আশা।

      মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তরুণ সমাজের আত্মকর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এটি একটি কৌশলগত জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাবিপ্রবিতে বিজয় দিবস উদযাপন

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:৪৮
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাবিপ্রবিতে বিজয় দিবস উদযাপন

        নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

        দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বিজয় র‍্যালী শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান এর নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

        এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  

        আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুনাইদ কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।

        আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘মহান বিজয় দিবস-২০২৫: সুযোগ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন। তিনি ১৯৪৭ সালের বিভাজন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন। শিক্ষায় বাজেট বৃদ্ধি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতি, কৃষিতে ড্রোন প্রযুক্তির বিপ্লবী ব্যবহার, বেসরকারি বিনিয়োগের উত্থান, দেশজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা এবং রপ্তানিমুখী ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বমানের উচ্চতায় তুলে নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেন তিনি। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সৎ নেতৃত্বের অভাবকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন, যা দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ।

        প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মোঃ আতিয়ার রহমান ওসমান হাদীর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। তিনি ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রূহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি উন্নত দেশগুলোর সফলতার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষার্থীদেরকে দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

        এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ছাত্র বন্ধুরা তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে দাঁড় করাবার জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। আমরা যেই অর্থে নেতৃত্ব বেছে নেবার কথা বলছি, সেই অর্থে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার নানা প্রলোভন থাকবে, গাড়ি, বাড়ি, বিদেশে সেটেল হওয়ার প্রলোভন থাকবে। সে সকল প্রলোভনকে জয় করে, সমাজের জন্য ইতিবাচক নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। সততার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। যদি তাই হয়, বাংলাদেশ যতবার পথ হারাবার উপলক্ষ পাবে, ততবারই ঘুরে দাঁড়াবার জন্যে যুবকরাই এগিয়ে আসবে।’ এছাড়াও তিনি দেশের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, নিবেদিতপ্রাণ, সৎ, যোগ্য, দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহিত করেন।

        মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা শেষে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে বার্ষিক এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

        উল্লেখ্য, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবনসহ সকল হলে আলোকসজ্জা করা হয়।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          একাডেমিক কারিকুলামে বায়োসেইফটি ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্তির দাবি রাবিপ্রবি উপাচার্যের

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:১৬
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          একাডেমিক কারিকুলামে বায়োসেইফটি ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্তির দাবি রাবিপ্রবি উপাচার্যের

          'ভবিষ্যৎ মহামারী থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোতে বায়োসেইফটি ও বায়োসিকিউরিটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে' এমন সোচ্চার বার্তা উঠেছে রাজধানীর আইসিডিডিআরবি’র সাসাকাওয়া অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক বায়োরিস্ক সম্মেলনে।

          শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯ ঘটিকায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

          "এএমআর নিয়ন্ত্রণ, জৈব-বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জৈব-নিরাপত্তা, জৈব-নিরাপত্তা এবং জৈবপ্রযুক্তি” শীর্ষক সম্মেলনে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।

          প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ফায়েজ বলেন, “কোভিড-১৯-এর মতো ভয়াবহ মহামারী থেকে আগামী দিনে বাঁচতে হলে গবেষণা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বায়োসেইফটি ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।”

          সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বাংলাদেশ বায়োসেইফটি ও বায়োসিকিউরিটি সোসাইটির (বিবিবিএস) গত ১৫ বছরের জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলামে বায়োসেইফটি ও বায়োসিকিউরিটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইউজিসি চেয়ারম্যানের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এসব নীতিমালা কঠোরভাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

          বিশেষ অতিথি আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ কলেরা ভ্যাকসিন ও খাবার স্যালাইন আবিষ্কারে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করিয়ে বলেন, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট নীতি কঠোরভাবে মানতে হবে এবং সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

          বন,পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. সাইফুর রহমান জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

          সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুল আলম, বিবিবিএস চেয়ারম্যান ড. আসাদুল গনিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক, গবেষক ও চিকিৎসক।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত